Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

যে তিনটি সময়ে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি

যে তিনটি সময়ে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি
দীর্ঘসময় রোদের নিচে থাকা থেকে বিরত থাকতে হবে, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বিরক্তিকর বৃষ্টি শেষে বাইরে এখন রোদ হাসছে।

বৃষ্টি মানেই যেমন রাস্তায় কাদা-ময়লার ঝক্কি-ঝামেলা, ঠিক তেমনই বাইরে রোদ মানেই হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা। রোদের হাত থেকে বাঁচার জন্য সানস্ক্রিন, ছাতা, পানির বোতল সাথে রাখা হলেও দুঃখের সাথে জানাতে হচ্ছে, এরপরেও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থেকেই যায়।

হিটস্ট্রোক আসলে কী?

হিটস্ট্রোককে সান স্ট্রোকও বলা হয়। দীর্ঘসময় রোদে থাকার ফলে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা যখন অতিরিক্ত বেড়ে যায় তখনই হিটস্ট্রোকের মতো সিরিয়াস কন্ডিশন দেখা দেয়। সাধারণত অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতার যোগফলে দেখা দেয় হিটস্ট্রোক।

কার্ডিওলজিস্ট পল মনটানা ডে লা কায়ডেনা, এমডি হিটস্ট্রোক সম্পর্কে জানান, হিটস্ট্রোকে শরীরের অভ্যান্তরিন তাপমাত্রা কমানোর জন্য একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ককে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন প্রত্যাঙ্গের কাজকে বন্ধ করে দেয়।

হিটস্ট্রোক দেখা দেওয়ার পূর্ব লক্ষণগুলোর মাঝে রয়েছে- অতিরিক্ত গরম বোধ হওয়া, ত্বক লালচে হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরানো, বমিভাব, অস্থিরতা ও জ্ঞান হারানো।

কোন সময়গুলোতে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি থাকে?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563522061165.JPG

হিটস্ট্রোকের ফলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এমনকি গুরুত্বর অবস্থা হলে এবং হিটস্ট্রোক দেখা দেওয়ার পর লম্বা সময় কোন ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করা না হলে মৃত্যুর ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

ডাঃ মনটানা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ও সচেতন হতে তিনটি বিষয় ও সময় সম্পর্কে জানিয়েছে, যে সময়গুলোতে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি।

বাইরে খেলাধুলা করা

গ্রীষ্মকালে বাইরে খেলাধুলা করার ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। বিশেষত যাদের নিয়মিত বাইরে উন্মুক্ত স্থানে অনুশীলন করতে হয়। জুলাই-আগস্ট মাসে একইসাথে তাপমাত্রা ও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। যার দরুন খুব সহজেই গরম আবহাওয়ায় অতিরিক্ত ঘাম হয় এবং দীর্ঘসময় বাইরে থাকার ফলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বাইরে কাজ করা

যাদের প্রতিদিন বাইরে ঘুরে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিটা থাকে সবচেয়ে বেশি। বিশেষত ভারি যন্ত্র বহন করা, দীর্ঘসময় হাঁটাহাঁটি করা, ছায়াযুক্ত স্থানের অভাব, শারীরিক পরিশ্রম বেশি করতে হয়- এমন কাজের ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে বেশি।

শরীর পানিশূন্য হয়ে যাওয়া

শিশু ও বৃদ্ধ ব্যক্তিরা খুব সহজেই পানি শূন্যতায় ভোগেন। তারা যদি দীর্ঘসময় রোদের নিচে থাকেন ও অতিরিক্ত ঘামেন তবে তাদের হিটস্ট্রোক দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় বহুগুণ।

হিটস্ট্রোক দেখা দিলে কী করতে হবে?

অসাবধানতায় যদি হিটস্ট্রোক দেখা দেয় তবে রোগীকে দ্রুত ফ্যানের বাতাসযুক্ত স্থানে আনতে হবে এবং পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। সেই সাথে রোগীর বগল, ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে আইসপ্যাক দিতে হবে। এ সকল স্থানের ত্বকের খুব কাছাকাছি রক্তনালীকা থাকে। ফলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাবে। তবে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে আইসপ্যাক ব্যবহার এড়িয়ে যেতে হবে।

এ সকল ধাপের পর রোগী কিছুটা ধাতস্থ হলেচ পানি পান করাতে হবে এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রচণ্ড গরমেও এড়িয়ে চলুন ঠাণ্ডা পানি!

আরও পড়ুন: ঘরের পরিবেশ থাকুক দূষণমুক্ত

আপনার মতামত লিখুন :

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?
কেএফসির ফ্রাইড চিকেন

গরম মুচমুচে কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার যেন আর হয় না।

অন্যান্য রেস্টুরেন্টের ফ্রাইড চিকেন যতই মজাদার হোক না কেন, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনে সবসময়ই ভিন্নতা বজায় থাকে। কিন্তু কেন কেএফসির চিকেন অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চিকেনের চাইতে আলাদা ও ভিন্ন? এর প্রধান কারণ, মুরগির মাংস প্রস্তুতে মসলার ব্যবহার। ব্যতিক্রমী ও অন্য ধাঁচের মসলার নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক ব্যবহারের ফলে, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ সহজেই আলাদা হয়ে ওঠে।

১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637051338.jpg

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ঘরে বসে পেতে চাইলে, বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে কাছাকাছি স্বাদ তৈরি করা যেতে পারে ১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহারে। মসলাগুলো হলো-

১. ২/৩ টেবিল চামচ লবণ।

২. ৩ টেবিল চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া।

৩. ১ টেবিল চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া।

৪. ১/২ টেবিল চামচ বাসিল।

৫. ১ টেবিল চামচ সেলেরি সল্ট।

৬. ১ টেবিল চামচ শুকনো সরিষা।

৭. ২ টেবিল চামচ গার্লিক সল্ট।

৮. ১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়া।

৯. ১/৩ টেবিল চামচ অরিগানো।

১০. ৪ টেবিল চামচ প্যাপরিকা।

১১. ১/২ টেবিল চামচ থাইম।

চিকেন ফ্রাই করার কৌশল আছে কী?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637102106.jpg

ব্যাটার তৈরি করে মুরগির মাংসে মিশিয়ে তেলে গড়িয়ে নিলেই যদি কেএফসির চিকেন ফ্রাই হয়ে যেতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। ফ্রাইড চিকেন তৈরির মসলা নয়, চিকেন ফ্রাই করার কৌশলেও থাকে ভিন্নতা। ফলে অন্যান্য ফ্রাইড চিকেনের তুলনায় কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ও চিকেন ক্রাস্ট হয় আলাদা। কয়েকটি কৌশল জেনে রাখুন।

দ্রুত ভেজে ফেলা

অনেকেই চিকেন ব্যাটার ও ময়দায় মাখিয়ে বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেলে ভাজেন। কিন্তু কেএফসির ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে উল্টো। ‘ফ্রম ফ্লাওয়ার টু ফ্রায়ার’ এই নীতিতে কাজ করে কেএফসি। অর্থাৎ ময়দায় মুরগির মাংস গড়িয়ে সরাসরি ফ্রায়ারে ছেড়ে দেওয়া। এতে করে বাইরের আবরণ অতিরিক্ত শক্তও হবে না আবার মুচমুচে থাকবে এবং ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার সময় সহজেই চিকেন থেকে খুলে আসবে।

ফ্রায়ারে ভিন্নতা

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের এক্সট্রা ক্রিস্পিভাব তৈরি করা হয় বিশেষ ইনডাস্ট্রিয়াল-স্ট্রেনথ প্রেশার ফ্রায়ার ব্যবহারে। কেএফসির মতো ফ্রায়ার ঘরে পাওয়া সম্ভব না হলেও, গভীর কোন পাত্রে ৩৫০-৩৬০ ডিগ্রীতে তেল গরম করে প্রতিটি মুরগির পিস ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট ভাজলে কেএফসির কাছাকাছি ফ্রাইড চিকেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

সাথে সাথেই না খাওয়া

কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ভাজার পর অন্তত বিশ মিনিট ১৭৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ওভেন সেটে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তেল থেকে ওঠানোর সাথে সাথে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন পরিবেশন করা হয় না। ২০ মিনিট ওভেন সেটে রাখার ফলে মাংসের ভেতরের অংশ গরম থাকে এবং বাইরের অংশ থাকে মুচমুচে। এছাড়া মাংসে বাড়তি তেল থাকলে সেটাও ঝরে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: মাংসের ঝোলের ঘ্রানে কেএফসি’র সেন্টেড ক্যান্ডেল

আরও পড়ুন: কেএফসি যে কারণে নাম পরিবর্তন করেছিল!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র