চোখের ওপর চাপ কমাবেন কীভাবে?

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল
দীর্ঘসময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে আইস্ট্রেইন দেখা দেয়, ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘসময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে আইস্ট্রেইন দেখা দেয়, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

খেয়াল করে দেখবেন, একটানা অনেকক্ষণ কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে, বই পড়লে বা দৃষ্টিশক্তি স্থির রেখে গাড়ি চালালে চোখে ক্লান্তি ভর করে।

চোখে জ্বালা করে অথবা ব্যথাভাব দেখা দেয়। সহজ ভাষায় এটাকেই বলা হয়ে থাকে আইস্ট্রেইন (Eyestrain) বা চোখের ওপর চাপ।

আইস্ট্রেইন খুবই কম ও সাধারণ একটি উপসর্গ। বিশেষত বর্তমান ডিজিটাল সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই সমস্যাটি অহরহ দেখা যায়। হাতে হাতে মোবাইল ফোন, ট্যাব নয়তো কম্পিউটারের স্ক্রিনে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থাকা। এখানে আরও একটি বিষয় বলে রাখা ভালো, আইস্ট্রেইনকে ‘কম্পিউটার ভিশন’ অথবা ‘ডিজিটাল আইস্ট্রেইন’ বলা হয়ে থাকে।

আইস্ট্রেইনের ক্ষেত্রে কী লক্ষণ দেখা দেয়?

এ সমস্যায় লক্ষণগুলো খুবই সাধারণ হয়ে থাকে। চোখে ক্লান্তিভাব দেখা দেওয়া, চোখে ব্যথাভাব দেখা দেওয়া, ঘাড় ও পিঠে ব্যথাভাব ছড়িয়ে পড়া, ঘোলা দৃষ্টি, দ্বিগুণ দেখা, চোখ লালচে হয়ে যাওয়া, চোখের ভেতর কাঁটার খোঁচা লাগার মতো ব্যথা বোধ হওয়া, অক্ষিকোটরে চোখ একদিক থেকে অন্যদিকে ঘোরানোর সময় ব্যথাভাব ও শুষ্কভাব অনুভূত হওয়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/24/1563960116162.JPG

আইস্ট্রেইনের প্রতিকার কী?

চোখের এই বিরক্তিকর ও ব্যথাদায়ক সমস্যাটি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইলে কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলাই যথেষ্ট। তেমন কয়েকটি নিয়ম জানানো হলো।

২০-২০-২০ রুল

আইস্ট্রেইন প্রতিকারে ও দূর করতে সবচেয়ে প্রচলিত ও জনপ্রিয় নিয়মটিকে বলা হয়ে থাকে ২০-২০-২০ রুল। এ নিয়মে কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফিট দূরের কোন বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হবে। এতে করে দৃষ্টিশক্তি কিছুটা শিথিল হয় ও চোখ আরাম পায়।

কম্পিউটার স্ক্রিনের অবস্থান ও দূরত্ব

যে কম্পিউটার স্ক্রিনে সারাদিন কাজ করা হচ্ছে, সে স্ক্রিনটি অবশ্যই নিজের সাথে বসার স্থান থেকে সুবিধাজনক দূরত্বে ও অবস্থানে রাখতে হবে। যদি স্ক্রিনের দিকে কষ্ট করে তাকাতে হয়, তবে তা চোখের উপরে বাড়তি চাপ তৈরি করবে। একই বিষয় বই পড়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। হাতে ধরা বইটিকে এমনভাবে চোখের সামনে রাখতে হবে যেন সহজেই ছাপার হরফগুলো দৃষ্টিগোচর হয়।

সঠিক আলোতে কাজ করা

যে স্থানে দীর্ঘসময় কাজ করা হবে, সেখানকার আলো যেন চোখের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আলো যদি খুব বেশি উজ্জ্বল বা নিভু নিভু হয় তবে চোখের উপর বাড়তি চাপ পরে কাজ করা বা পড়ালেখার ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে নিজের চোখের সুবিধাজনক পরিমাণে আলো বাড়িয়ে বা কমিয়ে নিতে হবে।

মাল্টিটাস্কিং করতে হবে সঠিকভাবে

অনেক সময় জরুরী কাগজপত্র থেকে কোন কিছু টাইপ করে কম্পিউটারে নথিবদ্ধ করে রাখতে হয়। এমন ধরনের মাল্টিটাস্কিংয়ের ক্ষেত্রে কাগজ, কি-বোর্ড ও কম্পিউটার স্ক্রিন এমনভাবে অবস্থান করাতে হবে যেন ঘাড় ও হাতে চাপ তৈরি না করে। নতুবা এ কাজ থেকেও চোখের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনা

হিসেব করে দেখুন প্রতিদিন কতটা সময় কাটাতে হয় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। হিসেব অনুযায়ী চেষ্টা করুন প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য স্ক্রিন টাইম কম করতে। পাচ-দশ মিনিট স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনার চেষ্টা থেকে শুরু করে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনতে পারলে আইস্ট্রেইন কমে যাবে অনেকটা।

আরও পড়ুন: দাঁতে নখ কাটার ৭ স্বাস্থ্য ঝুঁকি

আরও পড়ুন: কীভাবে দূর হবে অবসাদ?

আপনার মতামত লিখুন :