Alexa

অ্যাপল সাইডার ভিনেগার সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ধারণা

অ্যাপল সাইডার ভিনেগার সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ধারণা

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল

অন্যান্য সকল ধরণের ভিনেগারের মাঝে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার (এসিভি) সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও প্রাকৃতিক গুন সমৃদ্ধ।

অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পূর্ণ এই ভিনেগারের স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে অগনিত। এসিভির অ্যাসিডিক উপাদান শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। ফলে যে কোন ধরণের ইনফেকশন কিংবা ফাংগাসের ক্ষেত্রে দারুণ উপকারী এই ভিনেগার।

তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, অতি পরিচিত অ্যাপল সাইডার ভিনেগার সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ও ভুল ধারণা রয়েছে মানুষের মাঝে। জেনে নিন কী সেই সকল ভুল ধারণা।

এসিভি ও আপেলের গুণাগুণ একই

নামের মাঝে অ্যাপল (আপেল) থাকলেও আপেলের মতো একই পুষ্টি গুণাগুণ নেই এসিভিতে। আপেলকে পচিয়ে অর্থাৎ ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয় অ্যাপল সাইডার ভিনেগার। যার ফলে আপেলে থাকা আঁশ ও ভিটামিন-সি অনুপস্থিত থাকে এই ভিনেগারে।

আরো পড়ুন: নাকের রক্তপাত নিয়ে অবহেলা নয়

ত্বকের জন্য ক্ষতিকর এসিভি

অ্যাসিডিক উপাদান ও তীব্র গন্ধের জন্য অনেকেই এসিভিকে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর উপাদান হিসেবে ভেবে থাকেন। যা আদতে একেবারেই ভুল একটি ধারণা। বরং পানির সাথে এসিভি মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে খুবই উপকার পাওয়া যায়। টোনার ও মেকআপ রিমুভার হিসেবে এসিভি অনন্য।

এই ভিনেগার শুধুই খাওয়ার জন্য

প্রচুর শারীরিক উপকারিতার জন্য অনেকেই ভেবে থাকেন এই ভিনেগার শুধুমাত্র খাওয়ার উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যায়। চমৎকার ব্যাপার হচ্ছে, খাওয়ার পাশাপাশি এই ভিনেগার পরিষ্কারক উপাদান হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ঘরের দুর্গন্ধ দূর করার পাশাপাশি বিভিন্ন আসবাবপত্র পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও এসিভি খুব ভালো কাজ করে।

এই ভিনেগার একেবারেই ক্ষতিকর নয়

অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের প্রচুর উপকারী অনেক। তার মানে এই নয় যে এর কোন ক্ষতিকর দিক কিংবা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই। এসিভির প্রবল অ্যাসিডিক ন্যাচার দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে। যে কারণে এসিভি খেতে হয় পানি অথবা অন্য কোন উপাদানের সাথে মিশিয়ে। এছাড়া নিয়মিত বেশি এসিভি পান করার ফলে শরীরে পটাসিয়ামের মাত্রাও কমে যায়।

আরো পড়ুন: শির রোগ যদি হয়, পানের রসে হবে ক্ষয়!

সকল এসিভিই একই রকম

সকলের ধারণা এসিভির মাঝে কোন রকমভেদ নেই। অর্থাৎ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের যত প্রকারেরে এসিভি পাওয়া যায়, সকলই একই রকম। কিন্তু এই ধারণা মোটেও সঠিক নয়। এসিভি মূলত এই ধরণের হয়ে থাকে। ফিল্টার্ড ও আনফিল্টার্ড এসিভি। যারা এসিভি নতুন খাওয়া শুরু করবেন তাদের আনফিল্টার্ড এসিভি খাওয়া প্রয়োজন।

এসিভির স্বাদ খুবই বাজে

পানি কিংবা অন্য কোন উপাদান না মিশিয়ে এসিভি খাওয়া সম্ভব নয়। শুধু এসিভির গন্ধ ও স্বাদ কটু মনে হলেও, কোন সালাদ কিংবা পানীয়ের সাথে মিশিয়ে এসিভি পান করলে তার কটু গন্ধ অনেকটাই ঢাকা পড়ে যায়। ফলে এসিভি খাওয়া যায় খুব সহজেই। বিশেষত মধুর সাথে এসিভি মিশিয়ে খেলে এসিভির স্বাদ অনেকটাই বদলে যায়।

ডায়বেটিসের সমস্যা ভালো করে

অনেকেই দাবী করেন যে, এসিভি পানে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে ফলে ডায়বেটিস বৃদ্ধি পায় না। কিছুক্ষেত্রে এসিভি নিয়মিত পানে ইতিবাচক ফলাফল লক্ষ্য করা যায়। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, এর কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমান ও ভিত্তি নেই। বিজ্ঞান জানায়, নিয়মিত সঠিক ওষুধ ও ইনসুলিনের ব্যবহারেই ডায়বেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

লাইফস্টাইল এর আরও খবর