Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সাঙ্গ হলো বাঙালির প্রাণের বইমেলা

সাঙ্গ হলো বাঙালির প্রাণের বইমেলা
অমর একুশে গ্রন্থমেলার শেষ দিনে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ/ ছবি: সৈয়দ মেহেদী
মানসুরা চামেলী
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দুই দিন আগে যেখানে বিদায়ের সুর উঠেছিল, সেই সুর টেনে নিয়ে আজ শেষ হলো বাঙালির প্রাণের আসর ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯’। তবে মেলার বিদায় লগ্নে ভিড় ছিলো না তেমন। উপস্থিত লেখক, পাঠক, প্রকাশক- সবার মাঝে ছিল বিদায়ের সুর,  ছিল এক বছর অপেক্ষার ক্ষণগণনা।  

মাসব্যাপী লেখক-পাঠক-ক্রেতা-প্রকাশকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল বাংলা একাডেমির মেলা প্রাঙ্গণ। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে জমে উঠেছিলো আড্ডা, আলোচনা জমজমাট আসর।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/02/1551542326430.jpg

বর্তমানের এই সাইবার যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বুদ হয়ে থাকা মানুষের মাঝে প্রাণের সঞ্চার এনেছিলো এই বইমেলা। পুরো মাস জুড়ে ছিলো নতুন বইয়ের পাতা উল্টে ঘ্রাণ নেওয়ার উন্মাদনা।

স্বাধীনতার পর থেকে ভাষা আন্দোলনের অমর স্মৃতিকে স্মরণ করতে ও বাংলা ভাষার সৃজনশীল ধারাকে ছড়িয়ে দিতে বাংলা একাডেমি নিয়মিতভাবে আয়োজন করে আসছে এ মেলার।

পুরো ভাষার মাস জুড়ে সারাদেশে অনুষ্ঠিত হয় বাঙালির প্রাণের এ উৎসব। তবে এবারের মেলা বৃষ্টির কবলে পড়ায় লেখক-প্রশাসকদের দাবির প্রেক্ষিতে দুই দিন সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/02/1551542397645.jpg

মাসব্যাপী এই বইমেলায় শুরু থেকে তরুণদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। যেখানে সবার বদ্ধমূল ধারণা, তরুণদের মধ্য থেকে বই পড়ার অভ্যাস উঠে গেছে।  তরুণরা রাত-দিন মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে গেমস নিয়ে পড়ে থাকে। সেই তরুণদের পদচারণায় মুখরিত ছিলো মেলা প্রাঙ্গণ। বন্ধুদের নিয়ে হই-হুল্লোড় করে ঘুরে বেরিয়েছেন বইমেলায়, হাতে করে ফিরেছেন পছন্দের লেখকের বইটি নিয়ে।

মেলা শেষ হওয়ায় আজ সেই তরুণ পাঠকটির মনেও প্রস্থানের সুর। শেষ দিনে মেলায় এসেছেন সিটি কলেজের শিক্ষার্থী জাকিয়া সিথি। বললেন, তার বই মেলার অনুভূতি।

‘বন্ধুদের সঙ্গে তিনবার মেলায় এসেছি। বেশ কয়েকটি বই সংগ্রহ করেছি। বইমেলায় আসলে কেন জানি প্রাণ খুলে ঘুরে বেড়াতে পারি। সারাবছর পাঠ্যবই ছাড়া বই তেমন পড়া হয় না। কিন্তু বইমেলা আসলে আমি অনেক বই পড়ে ফেলি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/02/1551542416001.jpg

বিদায় বেলায় লেখক-প্রকাশকদের দাবি, আগামী বছর আবারও এ মেলা নতুন নতুন প্রকাশনা নিয়ে ফিরে আসবে। বাড়বে পরিসর। মেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হবে নতুন নতুন পাঠক। প্রযুক্তি দুনিয়া থেকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও বই হাতে নেবে মানুষ।

মেলার শেষদিনে ভিড় তেমন না হলেও যারা এসেছিলেন তাদের মধ্যে ছিল শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার তাড়াহুড়া। স্টলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিক্রয়কর্মীদের মাঝেও ছিল ব্যস্ততার ছাপ। আর তরুণ লেখকরাও ব্যস্ত সময় পার করেছেন নিজের বইটি পাঠকদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে।

গ্রন্থমেলার শেষদিন শনিবার (২ মার্চ) সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সকাল ১১টায় খুলে যায় মেলার দ্বার। এরপর থেকেই বইপ্রেমীরা ভিড় জমাতে শুরু করেন মেলার দুই প্রাঙ্গণেই। শিশু প্রহর হওয়ায় বাবা-মা ও বড়দের সাথে মেলায় এসেছিলো ছোট্ট শিশুরা। তাদের কলতানে মুখরিত ছিলো শেষ শিশু প্রহরটি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/02/1551542549319.jpg

প্রযুক্তির যুগে এসেও কাগজের মলাটের বইয়ে মানুষের রয়েছে প্রাণের টান। বই এখন আর কেউ পড়ে না- এমন আক্ষেপ থাকলেও প্রতিবছর কিন্তু বইমেলাকে কেন্দ্র করে যেমন নতুন ছাপা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নতুন লেখকও। এ বছর নতুন বই এসেছে চার হাজার ৮৩৪টি। সবচেয়ে বেশি এসেছ কবিতার বই। প্রবীণ-নবীন কবি মিলিয়ে কবিতা এসেছে ১৬০৮টি, উপন্যাস ৬৯৮টি, গল্প ৭৫৭টি।

এছাড়া প্রবন্ধ ২৭২, ছড়া ১৪৮, গবেষণা ৮০, শিশুতোষ ১৫০, জীবনী ১৬২, ভ্রমণ ৮৫, বিজ্ঞান ৭৭, ইতিহাস ৭৭, মুক্তিযুদ্ধ ১১০, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ৪৫, রম্য/ধাঁধা ২৮, ধর্মীয় ২৫, নাটক ৪৩, কম্পিউটার ৫, অনুবাদ ৩৮, রচনাবলী  ১৫,  অভিধান ৬, রাজনীতি ৩৩টি এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর এসেছে ৩৩০টি নতুন বই।

আপনার মতামত লিখুন :

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও কল্পনা
বাংলায় ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়

দক্ষিণ এশিয়ার বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আছে। নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস কতটুকু রচিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয় মাঝেমধ্যে। কবির কল্পনা না প্রকৃত ইতিহাস সত্য, এই দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয় না।

কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ ইতিহাস জেনেছে গল্প, উপন্যাস, নাটকে। শাহজাহান, সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম সম্পর্কে তথ্যনিষ্ঠ ইতিহাস মানুষ যত কম জানে, তারচেয়ে ঢের বেশি জানে নাটকের আবেগাপ্লুত সংলাপ। ঐতিহাসিক সত্য চাপা পড়ে সাহিত্যিক কৃতকৌশল ও কল্পনার স্তূপের তলে।

ফলে সৃজনে অগ্রাধিকার কার? কবি যা রচিবে তাই কি সত্য? নাকি স্রষ্টাকে ইতিহাসের সত্যের কাছে নতজানু হতেই হবে? এসব প্রশ্ন বারবার গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ইতিহাস প্রসঙ্গে।

দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, ঔপনিবেশিক বাংলায় পণ্ডিত সমাজের চিন্তা-চেতনার আবহে এসব প্রশ্ন খুব বড় হয়ে উঠেছিল। বিশেষত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রচিত নাটকগুলোকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার সূত্রপাত ঘটেছিল।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ছিলেন ঐতিহাসিক নাটকের আদিগুরু। তিনি নিজেকে মনে করতেন, ইতিহাসের সত্য-প্রতিষ্ঠার একনিষ্ঠ সাধক। এ বক্তব্যের দৃষ্টান্তও তিনি রেখেছেন। সিরাজদ্দৌলা (১৩০৪ বঙ্গাব্দ) ও মীর কাসিম (১৩১২ ব.) বই দুটিতে তিনি তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই নবাব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিতে সচেষ্ট হন।

ইংরেজগণ এই দুই দেশপ্রেমিক নায়কের প্রতি যে মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন করেছিলেন, অক্ষয়কুমার সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে গবেষকের নিবিষ্টতায় প্রকৃত সত্য উপস্থাপন করেন। তবে তিনি ইতিহাস রচনা করেননি, নাটক লিখেছিলেন। এবং সাহিত্যে ঐতিহাসিক সত্যের সন্নিকটে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এমনকি, সমকালীন সাহিত্যিকদেরকেও সত্যানুসন্ধানী হতে প্রণোদিত করেছিলেন।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র, মীর কাসিম ও তকি খাঁর চরিত্রচিত্রণে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছেন বলে তীব্র ভাষায় অভিযোগ করতেও দ্বিধা করেননি অক্ষয়কুমার। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় যে বিতণ্ডা শুরু হয়, তাতে রবীন্দ্রনাথ অক্ষয়কুমারের সমর্থনে কলম ধরেন।

তবে কৌশলী রবীন্দ্রনাথ এ কথাও বলেন যে, “ইতিহাসের রসটুকুর প্রতিই ঔপন্যাসিকের লোভ, তার সত্যের প্রতি তাঁর কোনো খাতির নেই।”

রবীন্দ্রনাথের এ কথায় ঔপন্যাসিক কল্পনার অধিকার পেলেও ‘ইতিহাসের মূল রসটুকু’ বা নির্যাস এড়িয়ে যাওয়ার এখতিয়ার পান না। এটাই মোটামুটি মানদণ্ড হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ইতিহাসের নির্যাসটুকু নিয়ে কল্পনার আশ্রয় নিয়ে সাহিত্য রচনা করা যেতে পারে। তবে সেটা সাহিত্য নামেই চিহ্নিত ও ব্যক্ত হতে হবে, ইতিহাস নামে নয়।

অক্ষয়কুমারের যুগ পেরিয়ে শতবর্ষ অতিক্রান্ত হলেও ইতিহাস ও সাহিত্যের মিশ্রণ থেমে থাকেনি। বরং আরো বেড়েছে। অতি সাম্প্রতিক লেখকদের কথা উহ্য রেখে একটু পুরনো হিসেবে দৃষ্টান্ত দেওয়া যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের। তার ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘প্রথম আলো’ ইত্যাদি উপন্যাস মানুষকে আলোড়িত করেছে। বই আকারে বের হওয়ার আগে ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রকাশের সময় লেখাগুলোর তথ্য ও সত্যাসত্য নিয়ে এন্তার চিঠি ও ভিন্নমত ছাপা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563451116521.jpg

একজন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমরা এত পরিশ্রম করে, কত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে ইতিহাস রচনা করি। কিন্তু মানুষ সেগুলো খুব একটা পড়ে না। ইতিহাসের বই জনপ্রিয় হয় না। আর আপনি ইতিহাসকে উপন্যাসের মধ্যে নিয়ে এত জনপ্রিয় হলেন কেমন করে?’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খুব সুন্দর উত্তর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘মানুষ ইতিহাসের মূল গল্পটি শুনতে চায়। আমি আমার মতো করে গল্পটি বলি।’

মানুষ যত দিন ইতিহাসের মধ্যে শুধু গল্পটি শুনতে চাইবে, ততদিন ইতিহাসের নির্জলা সত্যটি তার কাছে আসতে পারবে না। ইতিহাস আর কল্পনার মাখামাখি চলতেই থাকবে। এটাই সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ঐতিহাসিক অদৃষ্ট বা হিস্টরিকাল ফেট!

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

আরো হাঁস

এইরূপ কান্দে কন্যা নিরালা বসিয়া
হাঁসের লাগিয়া কন্যা ধুড়িল শহর

কান আশে হইছে বিয়া স্বপ্নের ভিতর
ঘটকালি করে আপন মামতো ভাই

হাঁসের সহিত হইল বিয়া স্থায়ী ঘর
কারা পানখিলি খাইয়া গপ মারে তাই

সজিনার তলে বসি কান্দিল তামাম
এর কিবা মানে শুন কান খাড়া করি
চিক চিক করে মনে এ বিয়ার জরি।

হেমন্তের হাঁস

আমার হয়নি ধোয়া ওগো শিশিরের তলে
আমার হয়নি নাচা মিশি যাওয়া ঊর্মিদলে।

আমার মিটিনি নেশা অলিকোলে শোয়া বাকি
আমায় ঢালিনি মৌন নূর বধির জোনাকি!

আমারে চিনিয়া চিনে নাই হেমন্তের হাঁস
আমার পানের পাত্রে বাদ গেছে শ্যামা ঘাস।

আমার ইউসুফ শোনে নাই ভাইদের শোকর
বকুল তলায় আসি হাঁপায় প্রকৃত ভোর।

হাঁসের জলেরা

হাঁসের পায়ের জল
শুকায়, তাই তারা ফের জলে নামে।
একটা কথা আমি ভুলি যাই
হাঁসের কোনো ইচ্ছা নাই।
হাঁসের জলে আমি ভাসি
হাঁসের পায়ের জলে
আমি মুখ ধুইছি,
আমার নিজের মুখ কেন মোর যেনতেন মোকাম ন রে!
আমার চোখে এই ফেরেবি জল ধরা দেয়
যেন বখিল আমি তার কিছু নির্ভরতাময় তর্জমা করি!
দাদি যেই ছাড়ে হাঁস
তারা আমার মরা দাদির জইফ হাঁস!
স্বপ্ন তারা আমার নিকট
তাদের নিকট
আমি তেমন বাস্তব ন রে!

এই বাড়িতে

দেয়ালের পর কাঠবিড়ালির দৌড় দেখি
যেন রইদ নাকফুল হয়,
তারপর সারা সকালটা গড়ায় দেয়াল ধরি,
একটা দোয়েল ডিম জারি হইলে
অনেক দোয়েল চিল্লায়ে ধরে বা গান,
একদিন আসে আসে করি শেষে আসে,
তারার মতন গোল চোখ ঘুঘু তার
চোখের বর্ডার আলতার রঙ পাছে
পায়ের রঙের সাথে মিশিবার চায়,
এ বাড়িতে আসি যেই হাঁসগুলি দুলি দুলি ও বাড়ি ত যায়,
ওদের ঘ্রাণের ভিতর ঘুরি ঘুরি থামি,
বাতাস হবেনে আসল শরিক
আডিয়াকলার ঝাড়ের নিকটে আসি,
আমি শুনি জলের মর্মর কলপাড়ে তড়পায়,
তারে ঢাকিবার আরো মিহি ধ্বনি আছে
এ বাড়ির অনেক অ-বাক কণ্ঠস্বর আছে!


প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
(কবি আল মাহমুদকে)

ভাইয়ের ডাক শুনি উঠি রাতদুপারে স্বপ্নের ভিতর। যেন
বাতাসের ডাক শুনি ঢেউ উঠে তৎপর।
দেখি আব্বা আগেই উঠছেন, নিজ হাতে আতাফল, গাছপাকা তরমুজ
পরম আদরে ছেনি দিই কাটি কাটি ফালি ফালি করি খাওয়াইতেছেন,
খা, আহারে কতদিন খাস নাই!
আম্মা তজবিহ হাতে এক হাতে ভাইরে বাতাস করতেছে, আয়েশা ফুল তোলা
একটা রুমাল দিই কইলো, এইটা দিয়া মুখ মুইছো, মাথা মুইছো, চোখের কান্দন মুইছো না গো ভাই!
অথচ ভাই মারা গেছে তার চল্লিশাও পার হয় নাই। উনি কবরতে উঠি আসছেন, উনার চোখ দুইটা
তারার নিভু নিভু, এট্টু সর্দি লাগছে ক্যাল, ভাই হাঁকি কইলো, বকনা বাছুরটারে খ্যাতের আইলে
বান্ধিলি অইডা তো দড়ি ছিড়ি সব পাকাধান সাবাড় করবেনে!
আম্মা কান্দে আর ইশারা করে, ঠোঁট টিপে আঙুলে, কন, একদম চুপ!
ভাই যে মারা গেল শুক্রবার, ভাই নিজেই জানে না!
তাই আমাদের সংসারে কাঁঠাল পাতার নারকেল ছায়ার লোভে
পড়ি ঝোঁকে ঝোঁকে আইস্যে আগের মতো ধমক দিতেছে আমাদের সংসারে
জায়গা মতো, আব্বা কইলেন, খবরদার তোরা চুপ থাক,
ও যেন না জানে পাছে, ও মরি গেছে, পাছে বেচারা কষ্ট পাবে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র