মৃত্তিকা

তানিয়া চক্রবর্তী
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

শরতের মেঘ আর নীলচে আকাশ দুয়ে মিলে কী সুন্দর লাগছিল! মৃত্তিকা দেখছিল বাসের জানলা দিয়ে। একটু পরেই তার বাড়ির সামনের স্টপেজ এসে যাবে। ওড়নাটা ভালো করে বুকে জড়িয়ে নিল। আবার সেই অস্বস্তি! প্রতিদিন এই বাড়ি ফেরার সময়টা শান্তির হবে উল্টে আরো জ্বালা!

বাড়িও তো নয় একটা দু-কামরার ভাড়া বাড়ি! গ্রাম ছেড়ে এই কলকাতায় শুধু চাকরির জন্য! বাস থেমে গেল। মৃত্তিকা একটা গলিতে ঢুকল। কারখানার পেছনে একটা ছোট্ট ঠাকুর দালানের সামনে ছেলেগুলো ক্যারাম খেলে ঠিক এই সময়টায়। ওরা কেমন করে তাকায়,আর কী সব অশ্লীল কথা—মুখখানা দেখো পুরো মাখন, আর বুকখানা দেখো...। মৃত্তিকা বাড়ি ফিরে মুখটা আয়নায় দেখে, ভাবে আজ কি ওড়নাটা ঠিকঠাক ছিল কিম্বা একটু কী বেশি সেজেছিল! আর কী সবসময়ই তো ওরা তাকায়। যদি কোনোদিন এই একা বাড়িতে ওরা দলবেঁধে আসে! ওরা সবসময় এত বুকের দিকে তাকায় কেন! ওই ঠাকুর দালানে ঠাকুরের বুকও ওরা দেখে নিশ্চয় অথচ পূজোর সময় প্রণামও করে! সারারাত ভাবে মৃত্তিকা, ওদের গিয়ে কিছু বলবে। আবার ভাবে এদের কি কেউ কিছু বলে কিন্তু আর কতদিন! স্লিভলেস টাইট টপ পরে মৃত্তিকা। ফেরার সময় ছেলেগুলোর চিৎকার, শিস। সব্বাই যেন কেমন হা-ঘরের মতো তাকিয়ে আছে। মৃত্তিকা ওদের দিকে এগিয়ে যায়। ক্যারামের সামনে গিয়ে বলে আমার সঙ্গে করবে? আমার ডান বুকে একটা কালো তিল আর বাঁ বুকে লাল। তোমরা একসঙ্গে এসো না, এক এক করে এসো। আমায় যদি করার পর মেরে ফেলো, মদের পিকনিকে রেঁধে খেও। তোমাদের মেয়ের ঠিক আমার মতো বুক আর মুখ হবে। ছেলেগুলো চুপ করে থাকে! মৃত্তিকা বাড়ি ফিরে আসে হঠাৎ ভীষণ আওয়াজ আসে কারখানার দিক থেকে। মৃত্তিকা ছুটে যায়। কারখানায় বিস্ফোরণ হয়েছে ছেলেগুলোর কালো শরীর ভাঙা ক্যারামসুদ্ধ পড়ে আছে আর মা দূর্গার বুক-মুখ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। চোখহীন তিনি তাকিয়ে আছেন...

অ্যালার্মের আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায় ওর। স্বপ্ন দেখছিল, ভোরের স্বপ্ন নাকি...। অফিসের সময় হয়ে গেছে হাসতে হাসতে মৃত্তিকা একটা কালো স্লিভলেস সালোয়ার বার করল। মাসি বলত এটা টাইট হয়ে গেছে পড়িস না, বুকটা চোখে লাগে…

আপনার মতামত লিখুন :