পীরগাছায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ভার্মি কম্পোস্ট



আমিনুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পীরগাছা (রংপুর)
পীরগাছায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ভার্মি কম্পোস্ট

পীরগাছায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ভার্মি কম্পোস্ট

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের পীরাগাছায় রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে কেঁচো সারের (ভার্মি কম্পোস্ট) দিকে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে। কেঁচো সার ব্যবহারে কৃষকদের ইতিবাচক সাড়া মিলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের ফকিড়া বড়দরগা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামের ফজলু মণ্ডল স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। বর্তমানে আশেপাশের কৃষকরা ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সার ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। বিকল্প হিসেবে কেঁচো সার ব্যবহার করছেন।

ফজলু মণ্ডল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রতিকেজি ভার্মি কম্পোস্ট ৮-১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রতি মাসে ১২-১৪ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। আবর্জনা, গোবর ও কচুরিপানা মিশিয়ে বস্তায় ভরে ১০ থেকে ১৫ দিন রাখা হয়। পরে বস্তা থেকে বের করে সিমেন্টের রিং স্লাবে রেখে সেখানে কেঁচো ছেড়ে দেওয়া হয়। এভাবেই কয়েক দিন পর ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি হয়ে যায়।’

ভার্মি কম্পোস্ট

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও উপজেলার কৃষকরা ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাসায়নিক সার ছেড়ে কেঁচো সারের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন তারা। কেঁচো সার ব্যবহারে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। কেঁচো সার মাটির জৈবশক্তি বৃদ্ধি করে। ফসলে পানি সেচ কম লাগে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফসল উৎপাদনে কৃষকের চাষ খরচ অনেক কম হয়। ফসলের ফলন বৃদ্ধিসহ পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে।

বাজারে কেঁচো সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উৎপাদনে নেমেছে। এ ক্ষেত্রে নারীরাও পিছিয়ে নেই। কৃষকরা কেঁচো সার দিয়ে ফসল উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন। রাসায়নিক সার ছাড়াই ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ ও টমেটোসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করছেন কৃষকরা।

কৃষক মতিয়ার রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কেঁচো সার ব্যবহারে আগের তুলনায় ফলন বৃদ্ধি হয়েছে। রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হচ্ছে।’

উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘উপজেলায় এখন বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন হচ্ছে। কেঁচো সার মাটির পুষ্টিমান বৃদ্ধি করে ও মাটিকে সমৃদ্ধ করে।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা লোকমান আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ভার্মি কম্পোস্ট একটি উৎকৃষ্টমানের জৈব সার যেখানে অন্যান্য কম্পোস্ট সারের তুলনায় প্রায় ৭-১০ ভাগ পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে। এর প্রস্তুত প্রণালীও তুলনামূলক সহজ। এই কম্পোস্ট ব্যবহারে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে, গুনগত মান বাড়ায় এবং গুদামজাত শস্যের সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।’

পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বাণিজ্যিক ভাবে কেঁচো সার উৎপাদনে উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে। ফলে কেঁচো সার উপজেলায় বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বর্তমানে রাসায়নিক সারের ব্যবহার আগের তুলনায় কমেছে।

গড়াই নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি প্রতীকী

ছবি প্রতীকী

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার খোকসায় গড়াই নদীতে ডুবে সুমন (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে খোকসা উপজেলার গনেশপুর অংশে গড়াই নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত সুমন কুমারখালী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

খোকসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, সকালের দিকে গড়াই নদীতে মাছ ধরতে যান সুমন। মাছ ধরার এক পর্যায়ে নদীতে ডুবে যান তিনি। বিকেলের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

;

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে সাফায়েত হোসেন (১৯) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সালাউদ্দিন (২২) নামের আরেক যুবক গুরুতর আহত হন।

রোববার (৫ এপ্রিল) এই বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাকসামের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ি দক্ষিণপাড়া স্কুল বাড়ির আবদুল আউয়ালের ছেলে সাফায়াত হোসেন এদিন বিকেলে সহপাঠীদের সাথে পার্শ্ববর্তী ঘোড়াময়দান গ্রামের একটি মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। বিকাল ৫টার দিকে খেলা চলা অবস্থায় আকস্মিক বজ্রপাতে সাফায়েতের পুরো শরীর ঝলসে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে উদ্ধার করে লাকসামের একটি ক্লিনিকে নেয়া হলে সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া বজ্রপাতে ওই ঘোড়াময়দান গ্রামের নুরুল হকের ছেলে সালাউদ্দিন (২২) গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব ঘটনার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

;

লক্ষ্মী ভাইয়েরা বাসায় যান, নিজেসহ দেশকে বাঁচান



নাহিদ রেজা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ওসি তানভিরুল ইসলাম।

ওসি তানভিরুল ইসলাম।

  • Font increase
  • Font Decrease

আমার লক্ষ্মী ভাইয়েরা দয়া করে বাইরে ঘোরাঘুরি না করে বাসায় যান। নিজে বাঁচেন, পরিবারকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান। সচেতন হোন।

ঠিক এসব কথা বলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে এভাবে সচেতন করায় সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমি ওষুধ কেনার জন্য স্থানীয় বাজারে এসেছিলাম। কিছুক্ষণ পর থানার একটি গাড়ি বাজারের সামনে এসে দাঁড়ায় এবং ওসি তানভিরুল সবাইকে বাসায় থাকার জন্য অনুরোধ করেন। এর আগে কখনো জনগণের সঙ্গে পুলিশের এমন ভালো আচরণ দেখি নাই।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চৌড়াস্তা মোড়ে কথা হয় জয়নাল নামে এক পথচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জেলার পুলিশ সাধারণ জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে। তাদের ভাই বলে বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে। ওসিসহ পুলিশের সদস্যরা নিজেদের কথা চিন্তা না করে আমাদের জন্য এ কাজটি করে যাচ্ছেন। তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

স্থানীয় সাহাদত হোসেন নামে একজন বলেন,‘তানভিরুল ভাই একজন মানবিক পুলিশ অফিসার। তার জন্য শুভকামনা ও দোয়া রইল।’

ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকার যেসব দিক নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো মেনে চলতে হবে। জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করে তাদের সচেতন করা হচ্ছে। এতে কাজও হচ্ছে।’

;

ডিবি পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই, যুবক গ্রেফতার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
গ্রেফতার আবেদ আলী।

গ্রেফতার আবেদ আলী।

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার অপরাধে আবেদ আলী (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবেদ আলী সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া গ্রামের খয়রাত হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলা সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামে মোকছেদুল ইসলামসহ কয়েক যুবক মোবাইলে ভিডিও গেম খেলছিলেন। এ সময় আবেদ আলী নিজেকে সৈয়দপুর থানার ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক পরিচয় দিয়ে ওই যুবকদের কাছ থেকে মোবাইলটি নিয়ে যান। পরে এ বিষয়ে মোবাইলের মালিক মোকছেদুল ইসলাম সদর থানায় অভিযোগ করেন।

এরপর রোববার ভোরে আবেদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি খেলনা পিস্তল ও ওয়্যারলেস সেট, একাধিক মোবাইল সিম এবং দুটি পরিচয়পত্র জব্দ করে পুলিশ।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার সত্যতা স্বীকার করেছেন আবেদ আলী। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

;