সিলেটের মাধবপুরের যুদ্ধ



সার্জেন্ট (অব.) সৈয়দ জহিরুল হক
গ্রাফিক : বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গ্রাফিক : বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের স্মৃতি ১জয়দেবপুরের গণ বিক্ষোভ
ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের স্মৃতি ২আশুগঞ্জের বিমান হামলা


এরপর ক্যাপ্টেন নাসিম সাহেব তেলিয়াপাড়া থেকে আমাদেরকে সিলেটের মাধবপুরে নিয়ে আসেন। সেখানে আসার পর আমাদের সাথে বিডিআর, পুলিশ, আনসার এবং আমাদের নিজেদের হারিয়ে যাওয়া কিছু সৈনিক এসে যোগ দেয়। মাধবপুরের দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম পূর্বপাড় পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সিলেট রাস্তা নিয়ে ডিফেন্স লাগিয়ে দেন। আমাকে এবং ল্যান্স নায়েক আব্দুল মান্নানকে যে স্থানটি নির্বাচন করে দেন সেটি অন্যান্য ভূমি থেকে কিছুটা উঁচু মাঠ এবং তার উত্তর দিয়ে একটি ক্যানেল পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়। আমরা উভয়ই ছিলাম নতুন সৈনিক। আমাকে উত্তর পাশে রাস্তা সংলগ্ন একটি বট গাছের নিচে বাংকার করতে বলেন। এবং আমার থেকে ৫০০/৬০০ গজ দূরে পশ্চিম দিকে আর একজন এলএমজি ম্যান ল্যান্স নায়েক আব্দুল মান্নানকে বট গাছের নিচে বাংকার করতে বলেন। এবং আমাদের এ দুই এলএমজির সাপোর্টের জন্য একজন এইচএমজি সৈনিক কেরামত আলীকে আমাদের ঠিক মাঝামাঝি ৩০০ পেছনে অবস্থান নিতে বলেন।

আমাদের ৮০০ গজ সামনে ঘনবসতি গ্রাম ও গাছপালা ছিল। একটি ক্যানেল উত্তর পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে রাস্তা পার হয়ে দক্ষিণ পূর্ব দিকে চলে গিয়েছে। গ্রামগুলো থেকে পূর্ব দিকে আমার সামনে নিচু আবাদি ভূমি ছিল। নাসিম সাহেব আমাকে বললেন, তুমি রাস্তা কভার করে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিক থেকে যদি কোনো পাক আর্মি আসে তাদেরকে আক্রমণ করবে। এবং আব্দুল মান্নানকে বলেন, তুমি পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে গ্রামগুলো কভার করে ফায়ার দিবা। তোমরা দুজনে একে অপরকে ক্রস ফায়ার দিবে। আর তোমাদের পেছন দিক থেকে এইচএমজি ফায়ার দেবে। আমাদের কোম্পানির প্রত্যেক লোকের পজিশন দেখিয়ে দিয়ে নির্দেশনা দিয়ে দেন। আমরা এক রাতের ভিতরেই সিভিল লোকদের সহায়তা নিয়ে শেল্টারসহ বাংকার তৈরি করে ফেলি। পরের দিন সকালে বাংকার দেখে নাসিম সাহেব সন্তুষ্ট হন। বলেন, যদি দেখি পরিস্থিতি খারাপের দিকে তখন আমি ভেরিলাইট পিস্তলের রেডওভার গ্রিন ফায়ার দিলে তোমরা উইড্রল করবে। তার আগে তোমরা ডিফেন্স থেকে উইড্রল করবে না। সম্ভবত যতটা মনে পরে, পরদিন নাসিম সাহেব আমাদের প্রত্যেককে ২০ টাকা করে বেতন দেন। আমরা তাতেই খুশি। কেননা, এ ২০ টাকা খরচ করার মতো কোনো দোকানপাট নেই। আনুমানিক এর দুই/তিন দিন পর পাক আর্মির সম্ভবত একটি ব্রিগেড আমাদেরকে আক্রমণ করার জন্য অগ্রসর হয়।

প্রথমেই তারা অবিরাম আটিলারি গোলা নিক্ষেপ করতে থাকে। ওদিকে তাদের পদাতিক বাহিনী আমাদের ডিফেন্সের পশ্চাৎদিক থেকে আক্রমণ শুরু করে দেয়। এত বড় আক্রমণ শুরু করে যে, এ বিশাল আক্রমণের মুখে আমাদের ক্ষুদ্র বাহিনীর কোনো ক্রমেই টিকে থাকা সম্ভব নয়। সম্ভবত আধাঘণ্টা উভয় পক্ষের গোলাগুলির পর নাসিম সাহেব উইড্রল সিগন্যাল দিয়ে দিলেন। কিন্তু আমরা দুই এলএমজি ম্যান ছাড়া বাকি সকলকে পেছনের দিকে হটানোর সাহায্যে আমরা উভয়ই ফায়ার দিতে থাকি। শত্রু আমাদের খুবই নিকটে ৭/৮শ গজের মধ্যে ছিল। তারা ঐ গ্রামের ভিতরে জড়ো হচ্ছিল। সম্ভবত তাদের উদ্দেশ্য ছিল, পাকা রাস্তা অতিক্রম করে আমাদের পেছন দিক থেকে ঘেরাও করবে। কিন্তু আমাদের দুটি এলএমজির জন্য বিশেষ করে আমার এলএমজি পাকা রাস্তা সংলগ্ন থাকার জন্য এবং সামনে খোলা জায়গা থাকায় তারা পাকা রাস্তা দখল করতে পারে নাই।

শত্রুপক্ষ ও আমাদের মাঝে প্রচণ্ড গোলাগুলি চলছিল। এরই এক ফাঁকে কেরামত ভাই তার লোকসহ এইচএমজি নিয়ে উইড্রল হোন। আমরা তখন এলএমজি ফায়ার দিয়ে পাক বাহিনীকে আটকে রেখে আমাদের কোম্পানির লোকদের সম্পূর্ণভাবে পেছনে যেতে সাহায্য করতে থাকি। শত্রুপক্ষ আমাদের উপর অবিরাম গোলা নিক্ষেপ করছিল। আমাদের কোম্পানি উইড্রল হবার আধাঘণ্টা পর নাসিম সাহেব যখন দেখলেন আমরা উইড্রল হতে পারছি না তখন তিনি আমাদের বিকিউএমএইচ ফরাজ সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে, আমাদের যেখানে এইচএমজি পজিশন ছিল তার কাছে একটি ছোট ঘর ছিল, সেই ঘরকে আঁড় করে আমাদেরকে ডাকতে শুরু করলেন এবং বললেন, তোমরা জলদি উঠে এসো। আমরা তোমাদেরকে ওভারহেড ফায়ার দিচ্ছি। তখনও মুষলধারে শত্রুপক্ষের গুলিবর্ষণ চলছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা কিভাবে বাংকার থেকে উঠব। বাংকার থেকে উঠতে গেলে আমাদের গায়ে গুলি অথবা শেলের টুকরা লাগতে পারে। আমার চিন্তা ছিল, আমার কাছে যতক্ষণ বুলেট আছে ততক্ষণ আমি যুদ্ধ চালিয়ে যাব। সর্বশেষে ২টি বুলেট রেখে দেব নিজের জন্য। যাতে শত্রুপক্ষ আমাকে জীবিত ধরতে না পারে। বুলেট শেষ হয়ে গেলে তখন মৃত্যুকে স্বীকার করে বাঁচার জন্য উইড্রল হতে চেষ্টা করব। নাসিম সাহেব ব্যর্থ হয়ে আমাদের না নিয়ে ফিরে গেলেন। উনি আমাদের উঠে আসার জন্য আমাদের ব্যাটালিয়ানের মর্টারকে আমাদের থেকে দুই মাইল পেছনে প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। তিনি চলে যাবার পর আমরা পাক বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করতে থাকি। আমাদের গুলি যেহেতু সীমিত সেহেতু চেষ্টা করছি হিসাব করে গুলি খরচ করে শত্রুকে হত্যা করতে। এবং শত্রু পক্ষকে আটকে রাখতে। আর মনে মনে আল্লাহকে ডাকছি। একমাত্র তার কাছেই সর্বপ্রকার সাহায্য চাচ্ছি।

স্যার চলে যাবার ১৫/২০ মিনিট পর হঠাৎ ল্যান্স নায়েক মান্নান তার এলএমজি দিয়ে লং ব্রাশফায়ার শুরু করে। আমি বাংকারের মুখ দিয়ে চেয়ে দেখি আমার বাংকারের সামনে ক্যানেলের ভেতর দিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে পাকা রাস্তা পর্যন্ত অনেকগুলো পাক সৈনিক একত্রিত হচ্ছে। আমিও তৎক্ষণাৎ কালবিলম্ব না করে আমার এলএমজিকে শক্ত করে ধরে শত্রুর দিকে লক্ষ্য করে ডানে বামে ব্যারেল ঘুরিয়ে এলএমজির লং ব্রাশফায়ার করতে থাকি। ঐ সময় ল্যান্স নায়েক মান্নান তার এলএমজি নিয়ে দ্রুত বাংকার থেকে উঠে পাকা রাস্তা পার হওয়ার সময় আমাকে ডাক দিয়ে বলে, জহির ভাই দ্রুত চলে আসুন। এ কথা বলেই সে রাস্তা পার হয়ে নিচে ক্ষেতে নেমে গেল। আমি যখন লং ব্রাশফায়ার করি তখন ক্যানেলে দিকে চেয়ে দেখি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে বহু পাক সেনা নিহত এবং আহত হয়ে আর্তনাদ করছে। এবং ক্যানেলের পানি রক্তে লাল হয়ে গেছে। আব্দুল মান্নান চলে যাবার পর আমি সম্পূর্ণ একা হয়ে যাই। তখন আমি খেয়াল করে দেখি, আমার গুলির বাক্স প্রায় শেষ। আমি একবার ক্যানেলের দিকে আরেকবার গ্রামগুলোর দিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে যাচ্ছি। ঐ স্থানে আমরা দুজনে সম্ভবত ১০০/১৫০ পাক সেনাকে হত্যা করি।

আব্দুল মান্নান চলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর আমি চিন্তা করে দেখলাম, এখন আর আমার পক্ষে এখানে থাকা সম্ভব নয়। পাক সেনাদের এতগুলো লাশ দেখে আমি অনেকটাই আত্মতৃপ্তি অনুভব করলাম। এ মুহূর্তে শত্রুর হাতে আমার মৃত্যু হলেও আমার কোনো আফসোস নেই। শুধু চিন্তা ছিল আমার এলএমজি নিয়ে। কেননা, এ এলএমজিটা পাকসেনাদের দখলে চলে যাবে। আমি ভালো করেই জানি, এ যুদ্ধে আমার নাম নিশানা চিহ্নও থাকবে না। যেভাবে ওরা গণহত্যা করে যাচ্ছে। কার হিসাব কে রাখে। লক্ষ লক্ষ নিরীহ জনগণকে নির্বিচারে হত্যা করে যাচ্ছে। তার মধ্যে আমার মতো একজন নতুন সাধারণ সৈনিকের মৃত্যুর খবর কেই বা রাখবে। এটাই স্বাভাবিক। সত্যি বলতে কী, জেনারেল নাসিম সাহেব, আমাকে শত্রুর মুখ থেকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনকে বাজি রেখে পরপর ২/৩ বার এগিয়ে এসছিলেন। তাই আমি তাঁর মতো কমান্ডারের অধীনে থেকে নিজেকে গর্বিত মনে করি। যুদ্ধের ময়দানে আমি সর্বদা তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করে মুনাজাত করতাম। আর এখনো আমি তাঁর জন্য দোয়া করি। সত্যি বলতে কী, জেনারেল নাসিম সাহেব আমাদের প্রত্যেক সৈনিককে তাঁর প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। আমি শুনেছি, তিনি এখনো তখনকার দ্বিতীয় বেঙ্গল ও ১১ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের পেলে প্রাণ খুলে কথা বলেন, কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন।

আমি মাধবপুরের ডিফেন্স থেকে ওঠার জন্য এলএমজিকে ভালো করে কাপড় দিয়ে পেঁচালাম। সমস্ত খালি বাক্সগুলো প্যাকেটে করে কাঁধে ঝোলালাম। মৃত্যুর চিন্তা না করে মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েই বাংকার থেকে বের হলাম। আল্লাহর নাম নিয়ে কালেমা পড়তে পড়তে দৌড় দিলাম। কোনোমতো পাকা রাস্তায় উঠে এলএমজি নিয়ে রোলিং করে রাস্তার পূর্ব পাশে নিচে ক্ষেতে পড়ে গেলাম। ঐ সময় আমার বাম হাতে বড়ো ধরনের ব্যথাও পেলাম। কিন্তু মৃত্যুর ভয়ে সেই ব্যথাকে ব্যথা মনে না করে জীবন বাঁচানোর জন্য দৌড়াতে লাগলাম। কিছু দূর দৌড়াবার পর সেই ক্যানেলটি আমার চোখে পড়ল। অধিক পিপাসা লাগায় আমি সেই ক্যানেল থেকে হাতে পানি উঠিয়ে পান করি। এমন সময় ক্যানেলের অদূরে চেয়ে দেখি পানির সাথে রক্ত ভেসে আসছে। এ দেখে আমি আর পানি পান করি নাই। খাল পার হয়ে দক্ষিণ পুব দিকে দৌড় দিলাম। তারপর দেখলাম, কতগুলো ছোট ছেলেমেয়ে স্মরণার্থী ক্যাম্প থেকে এসে পানি জগ গ্লাস হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বুঝতে পারলাম, ইতোপূর্বেও আমাদের লোকগুলো এ পথেই এসেছিল। তাদের কেউ ওরা পানি পান করিয়েছে। আমি দৌড়াতে দৌড়াতে এত ক্লান্ত এবং তৃষ্ণার্ত হয়েছিলাম যে, আমি মনে করেছিলাম, পানির অভাবে আমার জীবন এখনই বের হয়ে যাবে। আমি একটি ছোট মেয়ের কাছ থেকে একগ্লাস পানি নিয়ে পান করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম ঠিক ঐ মুহূর্তে নাসিম সাহেব ধমকের সুরে আমাকে পানি পান করতে মানা করলেন। আমার আর পানি পান করা হলো না। আমি ক্ষেতের ওপর শুয়ে পড়ি।

একটু বিশ্রামের পর আমাকে লবণের পানি পান করতে দেওয়া হলো। পানি পান করার পর আমি আব্দুল মান্নানকে দেখতে পেলাম। সে আমার কাছেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। চেয়ে দেখি, ওর দু হাতের চামড়া এলএমজির ব্যারেলের সাথে আটকে রয়েছে। ওর হাতের দিকে তাকালে গা শিউরে ওঠে। শুধু হাতের তালুর ও আঙুলের হাড়গুলো দেখা যাচ্ছে। জেনারেল নাসিম সাহেব ওকে তৎক্ষণাৎ আগরতলা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এ সময়ে আমদেরকে দেখার জন্য বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ আর্মি অফিসাররাও সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। সম্ভবত জেনারেল সফিউল্লাহ সাহেবও সেখানে উপস্তিত ছিলেন।

মাধবপুরের আক্রমণের পর আমরা আর স্থায়ী ডিফেন্স তৈরি করিনি। এর পর থেকে অস্থায়ী ডিফেন্স নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হতাম। দিনের বেলা যার যার অবস্থানে থাকতাম। রাতের বেলা নিজেদের সুবিধা মতো জায়গা বেছে নিয়ে হাইড-আউট-এ অবস্থান করতাম। এ অবস্থার মাঝেও আমাদেরকে মাঝে মাঝে ছোট ছোট দল তৈরি করে রাতের বেলা রেড, এম্বুসসহ বিভিন্ন অপারেশন করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দিতেন। [চলবে]

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;