রণজিৎ দাশের কবিতা



তানিয়া চক্রবর্তী
গ্রাফিক: বার্তা২৪.কম

গ্রাফিক: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রান্তিকতাকে পেরিয়ে কবিতার মুহূর্তের মধ্যে ঢুকে গেলে, হাঁটা শুরু করলে যে সমস্ত আক্রমণ পুরো গ্রাস করে নেয় সেখানে নতজানু হতে হয়, আসলে সচেতন মানুষের মানবিক স্তর অতিক্রম করেই সে আক্রান্ত হয়, সচেতন পরাবর্তের ওপরে যখন সে চলে যায় তার আর ব্যবচ্ছেদ হয় না। ব্যক্তিসাপেক্ষ অনুভূতিকে ধরেই ভীষণভাবে ভালোলাগার কবি রণজিৎ দাশের কবিতা প্রসঙ্গে আসব। কবি রণজিৎ দাশ প্রসঙ্গে শ্রদ্ধাবনত বা বিনীত হওয়ার প্রাকমুহূর্তে যেটা সত্য তা হলো, তিনি আমার কাছে এমন একজন কবি, যার কবিতা বিছানায় শুয়ে শুয়ে পড়তে পড়তে উঠে বসতে হয়! কবিতা এসে বলে আমার ভেতরে ঢোকো, আমি তোমাদের সংলগ্ন যাপনের শিকড় বুনে দিচ্ছি, আরো ভেতরে ঢোকো, পাখির একনেত্র দৃষ্টির মতো কবিতার ভেতর দিয়ে নিজেকে ভক্ষণ করিয়ে নিতে পারি, তাঁর কবিতা আমার কাছে এভাবেই প্রতিভাত হয়।

কবিতা তার আকাঙ্ক্ষায় সেই মনোযোগকে ভেতরে নিয়ে নেয়। সবচেয়ে বেশি তাঁর কবিতার যে অভিব্যক্তি শরীরে, মনে জার্ক দেয় তা হলো দৃঢ়তা, যে চয়ন বিহ্বল করে তোলে সেই যেন বিহ্বলতাকে থাপ্পড় মেরে সোজা তাকাতে সাহায্য করে। অভয়ারণ্যের ঠিক কোর এরিয়া যেখানে নিষেধ ও আকর্ষণ একমাত্রিক সেখানেই যেন সমস্ত ভ্রমণ বিলাসিতা সত্যের মুখে এসে চেতন থেকে অবচেতন সমস্ত অন্ধকারকে নাড়িয়ে দেয়।

কবি বলছেন, “মানুষ দুর্বোধ্য প্রাণী। কখনো সাপের মুখে/ কখনো ব্যাঙের মুখে চুমু খায়; বেহালা বাজায়।/ —কবিতা দুর্বোধ্য হলে তবু সে কেন যে ক্ষেপে যায়!” (মানুষ দুর্বোধ্য প্রাণী, কাব্যগ্রন্থঃ সমুদ্র সংলাপ)

হ্যাঁ এটি সেই সত্যিকারে জার্ক বা ঝাঁকুনি। ঝাঁকুনির আগে ও পরে মনে হতে পারে দর্শন, দ্রষ্টার ভাব ও গতি, অনুকূলে-প্রতিকূলে ক্রিয়াশীলভাবে বদলায় কিন্তু দৃঢ়তার যদি নিজস্ব নাবিক ভঙ্গিমা থাকে তার দিক তার কাঠামোকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। তাৎক্ষণিকের দর্শন সর্বজনীনের মতো সিদ্ধান্ত হয়ে যায়। একটি জীবন একটি জোর প্রত্যাশা করে—দর্শনও বদলায় কিন্তু জোর প্রান্তিকতাকেও যুগপোযোগীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

“আমাদের শরীরে প্রতিটি ফুটোয়/ জেগে আছে ঈশ্বরের চোখ/ ভিতরে চক্রান্ত, চাঁদ, নিহত বন্ধুর রক্ত, ক্রিমি, কীট, উলঙ্গ রাক্ষস/ ভিতরে মুখোশ, জুয়া, নাচ, মদ, বেশ্যাদের হাসি/ তিনি দেখছেন, ঠিক যেভাবে বালক তার/ পিতৃঘাতকের সঙ্গে নিজের মায়ের/ অবৈধ সঙ্গমদৃশ্য দেখে” (ঈশ্বরের চোখ, কাব্যগ্রন্থঃ ঈশ্বরের চোখ)

কীর্ণধর্ম থেকে প্রেক্ষকের দৃষ্টি, সমস্ত সমাজ বৈষম্যতে একক ধ্রুবকে বসে আছেন ঈশ্বর অপারগ হয়ে, তেমনি সে নিরুপায় বালক তার মায়ের সঙ্গে পিতৃঘাতকের সঙ্গম দৃশ্য দেখছে—এ এক সহ্যাতীত সহ্যের ইতিহাস, সম্মোহনের বাস্তবতাকে চেপে ধরে ছিবড়ে করা। কবির অনুভব বিন্দুর আতিথেয়তা ধরে সম্মোহনকে অতিক্রম করে, কবি জীবনগ্রাহী হয়ে পাঠকের একান্ত হয়ে ওঠেন। একদিকে জল ফুঁসে ওঠে বলে, সে ভাসিয়ে দিতে চাইলে তাকে রহিত করি, অন্যদিকে জল খরা দিলে তাকে আদর আলিঙ্গনে ডাকি। অতএব জলের কোনো ধর্ম থাকলেও, ব্যবহারকারীর আতিশয্যে তার ধর্ম নিরূপিত হতে থাকে, এখানেও সেই দৃঢ়তার অভিমুখ ধরে ধরে সিঁড়ি বেয়ে উঠি।

পিয়ানো কবিতার প্রথম লাইনে কবি বলছেন—
“তোমার শরীর, আমি জানি,এক গভীর পিয়ানো”
শেষ লাইনে কবি বলছেন
“তোমার শরীর, আমি জানি, এক বিলুপ্ত পিয়ানো”

যেখানে নশ্বরকে বিলীন হতে দেখলেন, জানলেন নশ্বর তবু হাতড়ালেন অত্যাশ্চর্যের জন্য, চমকের জন্য, অথচ নশ্বর—এর স্থিতিস্থাপকতায় দাঁড়িয়ে কবি বললেন, “অন্ধঘড়িনির্মাতার ভাই আমি, তুমি কি তা জানো?” কবি/ দ্রষ্টা/ প্রেক্ষক দেখলেন ভঙ্গুর বাস্তব, ফুটিয়ে তুললেন চিত্রবিচিত্রতার দৃঢ়তায়। কবি আবার ‘ইচ্ছা’ কবিতায় বলছেন রাত্রিদিন চুমু খাব, বুকে জাপটে, মুখ থেকে মুখে/ ভরে দেবো অক্সিজেন, মধু, মদ, সিংহীর কামনা/ আমার কঙ্কালটিকে দুহাতে জড়িয়ে রেখে,/ তুমি থাকবে অনন্ত যৌবনা!

প্রেম এইখানে সর্বকালীন মুহূর্তজয়ী হতে চাইছে অর্থাৎ জীবন তার ইচ্ছা ও মুহূর্তমাফিক এক তাৎক্ষণিকের অভিঘাত সহ্য করে বড় হতে থাকে।

‘সামুদ্রিক পরামর্শ’ কবিতায় কবি বলছেন, “সমুদ্রে যেও না তুমি, যদি না সঙ্গে থাকে/ কোনো শক্ত সমর্থ যুবতী”। উপরিউক্ত একই কবিতায় কবি আবার বলছেন, “সমুদ্রে যেও না তুমি, সঙ্গে নিয়ে/ কোনো শক্ত-সমর্থ যুবতী”। আবার শেষে, “তবুও সমুদ্রে যেও, সঙ্গে নিয়ে একটি শক্ত-সমর্থ যুবতী/ সন্ধ্যাবেলা চাঁদ উঠলে বিনীত প্রস্তাব দিও, পেয়ে যাবে/ চুম্বন, সম্মতি!”

কাউন্টার স্ট্রেনের মতো ক্রিসক্রস খেলছে সময় তাঁর কবিতায় অথচ জীবনের গঠন তাই দাবি করছে এইভাবে ক্রমশ কবিতা এত দৃঢ় হচ্ছে যে সে পাঠকের স্থিতিহীন সময় আয়নার সামনে প্রগাঢ় হয়ে উঠছে, তাকিয়ে দেখছে এই তো আমি, আমিই আমার অর্ন্তযামী! এখানে প্রতি সময়, যাপনের নিয়মাবলী, উপাদান, সারবত্তা, প্রেম ও যা কিছু মুখর ও অনুভূতিশীল তারা সূত্র প্রতিষ্ঠা করে, সমস্ত সূত্রের মতোই সূত্র সূত্রকে ভাঙ্গে—কবি এই সময়ের মূর্ছনাকে দক্ষভাবে তুলে ধরেছেন, আমার কাছে কবি রণজিৎ দাশের কবিতা চূড়ান্ত ব্যাপ্তিময় অথচ তাঁর কবিতার কাঠামো একটি যারপরনাই সংসক্তি ও আসঞ্জনের পূর্ণ গঠনে গঠিত।

ক্রোমোজোম থেকে প্রাণবিন্দু, রস থেকে রসাতল সব কিছুর মধ্যে লুকিয়ে আছে ক্রিসক্রস, এই ক্রিসক্রস না থাকলে জীবনের অতৃপ্তি হারিয়ে যায়, আর জীবন শেষ হতে থাকে, পাওয়া আর না পাওয়া, বোঝা আর না বোঝা, ত্বরণ ও মন্দন মিলনকে, সম্পর্ককে, প্রাপ্তিকে ত্বরান্বিত করে—এই অনুভবের দৃঢ়তা থেকে কবি রণজিৎ দাশ।

“দেখেছি শিল্পের ভিক্ষা, ফুটপাতে, গুমোট সন্ধ্যায়/ রঙিন খড়িতে আঁকা কালীর বিশাল স্তনে ছড়ানো মুদ্রায়।/ দেখেছি সে শিল্পীকেও, উদাসী, ভ্রূক্ষেপহীন,হাতে নীল চক/ পথের কুকুর আর আকাশের সন্ধ্যাতারা—এই তার নীরব দর্শক।” (ভিক্ষা,কাব্যগ্রন্থঃ ঈশ্বরের চোখ)

কবি রণজিৎ দাশ

প্রতিটি ভিক্ষার মধ্যে লুকিয়ে থাকে চরম ব্যর্থতার হাসাহাসি। একটা দীর্ঘ না পাওয়া ক্ষুদ্র পাওয়ার দিকে যেন সর্বস্ব দিয়ে ডাকতে চায়, শ্রোতারা বেশিরভাগ বধির, যারা প্রকৃত শ্রোতা তারা অপারগ, দু-একটা ব্যতিক্রমের আশায় ভিক্ষা/ শিল্প চলতেই থাকে—উপরিউক্ত কবিতাটির প্রতিটা সংশ্লেষ যেন গলায় আটকে থাকা যন্ত্রণার দৃঢ়তাকে বোঝায়, একটি মুহূর্তজয়ী মুহূর্ত থেকে অনন্তের দিকে ধাবিত হচ্ছে কবির বার্তা। কবি লিখছেন, ‘মেট্রো রেল’ কবিতায়—

“স্নানরত যুবতীর/ অবচেতনের মতো/ সুন্দর এই সুড়ঙ্গ”
“সূর্য ও সংযমহীন/ বাসস্টপের বিষণ্ন প্রতীক্ষা হীন/ এই পাতালপথ, তেত্রিশ মিনিটে/ লজ্জা থেকে লিবিডো-অব্দি যাবে।”—লজ্জা থেকে লিবিডো, তেত্রিশ মিনিট, বাসস্টপের প্রতীক্ষাহীন, অবচেতনের মতো সুড়ঙ্গ কী তীব্র ব্যঞ্জনায় মাধ্যমহীন মাধ্যমের পথ, সংহারের পূর্ব পথ—লজ্জা থেকে লিবিডো অবধি, শুরু থেকে গন্তব্য অবধি কী দ্রুত অপেক্ষাহীন পর্যায়বৃত্তি। গমন আর অবগাহনের মধ্যসময়—যান্ত্রিক রূপকময় শরীরী প্রেম, যেখানে সময়ের দূরত্ব এত গরীব যে কিছুই সম্পূর্ণ হয় না! এ কি কেবলই দর্শন! এটি একটি ঘর্ষণ, একটি ঝাঁকুনি, সিদ্ধান্তে পৌঁছোনোর গেঁড়ি-গুঁগলি আবেদন নয়, এখানে দৃঢ়তা স্থায়িত্ব একপ্রকারেই আদর ও অপমান করে কম্পিত করে দিয়ে, চমকিয়ে অস্তিত্বসচেতন করে। শিল্পী, কবি এঁদের দৃঢ়তার কাছে হেঁট হয়ে যাওয়া মানে আত্মসমর্পণ এবং সেটাই জাগরণের সত্যি।

কবির ‘কবন্ধ মিথুন’ কবিতাটি পড়ে কবিতার চোরাবালিতে ঢুকে যাচ্ছিলাম—
“যে স্ত্রী-পতঙ্গ তার সঙ্গী পুং-পতঙ্গের/ মুণ্ডচ্ছেদ করে নেয়, অতর্কিতে, সঙ্গমের আগে—/ এবং মিলিত হয় মগজের রাশমুক্ত শুদ্ধ দেহটির সঙ্গে,/ কবন্ধের উন্মুক্ত আগুনে;/ উদ্গীর্ণ মৃত্যুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সম্ভোগের, বীজনিক্ষেপের/ চূড়ান্ত কম্পনগুলি উপভোগ করে,/ ছিন্নমস্তা উল্লাসের প্রত্যক্ষ বিস্ময় সেই/ পতঙ্গের তৃপ্তি, তার গর্ভ, অবসাদ/ জীবনের ক্ষুদ্র সত্য; কল্পনার অন্তিম প্রবাদ।” (কবন্ধ মিথুন, কাব্যগ্রন্থ- সময়,সবুজ ডাইনি)

একটি তীব্র সত্য ও দৃঢ় শিখনের কবিতা এটি, অশ্রুতপূর্ব এক লেখনী। এক প্রজাতির পতঙ্গের আক্ষরিকই এপ্রকার সঙ্গমরীতি আছে কিন্তু বিষয় হলো এই যে রীতি যাই হোক না কেন এটিই শাশ্বত সত্যি নারী-পুরুষ সৃষ্টি-সঙ্গমে, এক বিন্দুতে সমাহিত দুটি বিপরীত অনুভবের সীমান্ত। প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি দুটি ভিন্ন বিন্দু ধরে উঠতে উঠতে যেন গ্রাফের একটি বিন্দুতে মিলিত হলো সেখানেই সৃষ্টি ও বিনাশ যুগপৎ হলো, তৃপ্তি, গর্ভ, অবসাদ—
“গৌতম বুদ্ধকে আমি আর্শীবাদ করি—, জোড়া রাজহাঁস—এই কোমল শিল্পের চাপে যেন তাঁর নির্বাণের মোহ ভেঙে যায়।”(জোড়া রাজহাঁস, কাব্যগ্রন্থ-আমাদের লাজুক কবিতা)

শিল্প, কামনা, লিপ্সা, উৎপাদন ও জন্মরং, সবুজ এগুলো সৃষ্টিপথের মূল কারক, যে সৃষ্টিকে রক্ষার জন্যই কোনো পুরুষ সৃষ্টিপন্থা ত্যাগ করেছেন, কবি তাকে এই বার্তা দিয়ে সমস্ত মহাত্মা কে জুড়ে দিয়েছেন সৃষ্টির কাজে—নারী, মোহ, স্তন সকলের দ্বারা নির্বাণ পরাজিত হোক, সবুজের আরো উৎকৃষ্ট, কচি জন্ম, সৃষ্টিকে স্বপ্নসান্নিধ্যে ভরে দিয়েছেন কবি তাঁর আর্শীবাদের নেপথ্যে। এটি কোনো ভাঙন নয়, সার্বিককে সার্বিক সারবত্তার দিকে মুখ ঘুরিয়ে দেওয়া যেন সৃষ্টির আগমনী ধ্বনিকে জন্মের প্রকৃত সত্য দেখিয়ে দৃঢ় করছেন অধিক ও অনধিকের ফাঁকে গড়ে ওঠা সাযুজ্যকে।

‘আমাদের প্রেম’ কবিতার শেষ দুই পঙক্তি এক ভুক্ত সত্যের সামনে এসে দাঁড় করায়, তবে কি এই খেলুড়ে গাঠনিক মহিমা ধরে ধরে এত গম্ভীর যাপন করছি নাকি করছি না! একটি জাতীয় ঘোরে গিয়ে মিশে যাচ্ছি না তো সেই ‘পারফিউম’ ছবির শেষদৃশ্যের মতো—
“কখনো ভেবেছো, কেন প্রকৃতির সত্যগুলি
দৃশ্যত ভৌতিক, কিন্তু আসলে স্বয়ংসিদ্ধ, আবেগবর্জিত?”
‘বন্দরে কথ্যভাষা’ কাব্যগ্রন্থের ‘রজনীগন্ধা’ কবিতাটি একটি মাধ্যমের উচ্চ বিকিরণ যেন—
“মৃত্যুর পর একটা অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে যায়। শরীর পচতে শুরু করে, বেরুতে
থাকে দুর্গন্ধ। ....
তাহলে প্রাণ মূলত এক গোপন সুগন্ধ, যা আজীবন শরীরের ভিতর বাসা বেঁধে
থাকে, এবং মৃত্যুর পর মুহূর্তে শরীরকে ছেড়ে চলে যায়?”

কবিতা কি একটি সূত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইল! হ্যাঁ চাইল, একে দর্শন তো বলতেই পারি, তার চেয়েও যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো সমস্ত জীবন কোন এককের সামনে এসে বসছে বা কবি তাঁকে এনে বসিয়েছেন! এককের সঙ্গে লেগে থাকে রাশি, এখানে গন্ধ রাশি আর একক যেন শরীর, কবি উন্মুক্ত বাস্তবকে আরো খুলে দিচ্ছেন, খুলে দিচ্ছেন নশ্বরতাকে—যেখানে চূড়ান্তরা পরিবর্তনের সামনে এসে হোঁচট খাচ্ছে না কারণ রূপান্তরই সর্বজনীন ও গ্রাহ্য।

‘ছেলেকে বলা রূপকথা’ কবিতায় অতিপ্রাকৃত ভঙ্গিমায় বাস্তবকে রচনা করায় ,কবি ছেলেকে রূপকথা বলার ভঙ্গিমাতে নিজেই আস্ত রূপকথা হয়ে যান যার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে সম্মোহনী নিরুপায় বাস্তবতার ছায়া...
“নার্সকে পছন্দ হলে অর্ধেক অসুখ সেরে যায়
শূন্যতা, ডেটলগন্ধ , ভাতে মাছি—সব ভালো লাগে

পুরোপুরি সেরে উঠলে ডিসচার্জড—
সেই ভয়ে ভয়ে
বাকিটা জীবন তাই
অর্ধেক অসুখ নিয়ে হাসপাতালে থেকে যেতে হয়” (নার্স, কাব্যগ্রন্থঃ জিপসীদের তাঁবু)

একটা গোটা জীবন অনুভূতির দ্বৈত রূপ নিয়ে ভেতরে ক্ষয়ে যায় কেবল আকাঙ্ক্ষার আহ্লাদে। ‘অর্ধেক অসুখ’ এখন দৃঢ়তা, যা সেরে যেতে পারে অর্ধেক মাত্রায় যার জন্য, তারই জন্য অর্ধেক অসুখ নিরাময়হীনভাবে থেকে যায়, উৎস থেকে সমাপ্তি অবধি কবিতাটি মূল সিদ্ধান্তে অটুট, কেবল মাধ্যমে ধাক্কা খেয়ে নিল পাঠকের অস্থিরতায়, জীবনের জৈব বাহুল্যে ও বাস্তবে। এইখানে কবি চূড়ান্তের হয়ে ওঠেন।

কবি জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যে গোপন আকাঙ্ক্ষাগুলি যেন সত্যিই নিঃশব্দে বহন করছেন, তার গঠন এত মজবুত যে তার আওয়াজ হয় না, গতির দৃঢ়তায় বাস্তবের বশবর্তী হতে থাকে, কবি রণজিৎ দাশ আমার কাছে দৃঢ়তার কবি, যার মূর্ছনা থমকাতে সাহায্য করে, ভুক্ত মুহূর্তকে জার্ক দেয়, কারণ এটি পূর্বে ঘটেছে বা ক্রমে ঘটছে অথচ প্রকাশভঙ্গি জানে না সেই অবয়বকে ব্যপ্তি দেন কবি, গতিকে গতির মধ্যে বড় হতে দেন সেখানে ঘটে যায় পর্যায়বৃত্তি , আমার স্বল্প মুহূর্তের কবিতা যাপন যা কেবল ব্যাক্তিগত উপলব্ধি দিয়ে তাই তুলে ধরার চেষ্টা মাত্র... তাঁকে নিয়ে এ আলোচনা অবশ্যই সম্পূর্ণ নয়! কবিকে আমার শ্রদ্ধা, প্রণাম ও শুভেচ্ছা। তাঁর এই প্রগাঢ় সৃষ্টির ত্বরার প্রতি আরো তাকিয়ে থাকলাম, তাকিয়ে থাকতে বাধ্য, কেবল সে কারণেই...

ভ্রমণগদ্য হোক সৃজনশীল চর্চার গন্তব্য



জাকারিয়া মন্ডল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণ বিষয়ক লেখা সাহিত্য কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস, চৈনিক ফা হিয়েন ও হিউয়েন সাং, আরব পর্যটক সুলেমান ও আল মাসুদি, পারস্যের পর্যটক আল বিরুনি, ইতালির মার্কো পোলো, মরক্কোর ইবনে বতুতা প্রমুখ বিশ্বখ্যাতরা সাহিত্য করেননি। তারা করেছিলেন ডকুমেন্টেশন। যা দেখেছিলেন তাই লিখেছিলেন। ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন। মুঘল, নবাবী, এমনকি ব্রিটিশ আমলের পর্যটকদের বিবরণেও ওই ধারাটাই বজায় ছিলো। এখনও অনেক পর্যটক এ ধারার চর্চা করে চলেছেন।

তবে পৃথিবী আধুনিকতার পথে ধাবিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্নধারার চর্চার চলও শুরু হয়ে যায়। যেমন, সৈয়দ মুজতবা আলীকে আমরা ডকুমেন্টেশনের চেয়ে রম্যরসে অধিক মনোযোগ দিতে দেখি। পরবর্তীতে আরও অনেকে এমন চর্চার অনুসারি হয়ে ওঠেন। ফলে ভ্রমণের বিবরণ সাহিত্যঘেঁষা হয়ে উঠতে শুরু করে। ভ্রমণের বেসিক বিবরণ ও সাহিত্যের মধ্যে ব্যবধান কমতে শুরু করে। এখন অনেকেই ভ্রমণ লেখাকে সাহিত্যে আত্তীকরণ করতে আগ্রহী। সাংবাদিক ও কবি মাহমুদ হাফিজ ভ্রমণগদ্য নামে যে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি বের করে চলেছেন, তাতে পত্রিকার নামের সঙ্গে লেখা রয়েছে ‘ভ্রমণ সাহিত্যের কাগজ’।

‘ভ্রামণিক’ নামে ভ্রমণ লেখকদের নতুন একটা পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করারও অন্যতম পুরোধা বলা যায় মাহমুদ হাফিজকে। সদালাপী ও বিনয়ী মানুষটির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় বছর কয়েক আগে, এয়ার এশিয়ার কুয়ালালামপুরগামী এক ফ্লাইটে। অল ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (আয়েবা) নামে একটি সংগঠন তখন মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সম্মেলন আয়োজন করেছিলো। সেখানে আমন্ত্রণ ছিলো ঢাকা শহরের বাঘা বাঘা সম্পাদক ও সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার জনক আলমগীর হোসেন তখন তারই জন্ম দেওয়া বাংলানিউজ২৪.কমের এডিটর ইন চিফ। তারও আমন্ত্রণ ছিলো আয়েবা সম্মেলনে। কিন্তু, তিনি নিজে না গিয়ে তার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকার সাংবাদিক অতিথিদের একই ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর নেওয়া হচ্ছিলো।

প্লেন আকাশে ওঠার পর মাহমুদ হাফিজ ভাই আমাকে খুঁজে বের করলেন। ওটাই যে প্রথম পরিচয়, কথা শুরুর পর সেটা ভুলেই গেলাম। এরপর গত কয়েক বছরে বহুবার হাফিজ ভাই এর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কখনোই ভ্রমণ ছাড়া আর কোনো বিষয়ে তাকে কথা বলতে শুনিনি।

ঢাকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ লেখকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ভ্রমণ নিয়ে কথা বলেন। নিজে লেখেন। অপরকে লেখতে উৎসাহিত করেন। তার উৎসাহে অনেক ভ্রামণিক লেখক হয়ে উঠেছেন। ভ্রমণ লেখকদের নিয়ে নিয়মিত ‘প্রাতরাশ আড্ডা’ আয়োজনেরও প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। ভ্রমণ লেখকদের যেমন সংগঠিত করেছেন, তেমনি লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন ‘ভ্রমণগদ্য’ পত্রিকায়। যে পত্রিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রবাসী লেখকদের লেখা নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছেন তিনি।

এরই মধ্যে পঞ্চম বছরে এগিয়ে চলেছে ভ্রমণগদ্য। প্রকাশিত হয়েছে ৯টি সংখ্যা। সর্বশেষ সংখ্যাটি প্রকাশ পেয়েছে এ বছরের বইমেলায়। এ সংখ্যায় ভ্রমণগদ্যের পাশাপাশি কবিতাও দেখা গেছে।

যেহেতু যোগাযোগ ও যাতায়াত সহজ হওয়ার জন্য দিন দিন ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সেহেতু ভ্রমণ লেখকের সংখ্যাও বাড়ছে। ঘুরে এসে অনেকেই কিছু না কিছু লিখতে চান। তাই মাহমুদ হাফিজের ভ্রমণগদ্য প্রতিষ্ঠিত ভ্রমণ লেখকদের পাশাপাশি নতুনদের জন্যও নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া প্ল্যাটফর্ম। এমন উদ্যোগের সমালোচনা চলে না। তবু দুএকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক বৈকি।

ফেসবুকীয় যুগের লেখকদের সাহস পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের চেয়ে অনেক বেশি। ভ্রমণগদ্যের কোনো কোনো লেখাতেও আমরা এমন সাহসী হঠকারিতার ছাপ পাচ্ছি। কেউ কেউ যা ইচ্ছা তাই লিখে দিচ্ছেন। ভ্রমণস্থলের চেয়ে ঢের বেশি আমিময় হয়ে উঠছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভ্রমণের গল্প পড়ছি, নাকি লেখকের ভাবনা, ইচ্ছা, অনিচ্ছা, পছন্দের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি তা বুঝে ওঠা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ছবিতে বিষয়বস্তু, স্থান বা স্থাপনার চেয়ে নিজেই অধিক প্রকট হচ্ছেন লেখক। লেখার টেবিলে সময় কম দেওয়ার কারণে কাউকে কোট করার ক্ষেত্রে বই এর নাম, এমনকি লেখকের নামেও ভুল রয়ে যাচ্ছে। এমন উদাহরণ যতো এড়ানো যায় মতোই মঙ্গল।

মনে রাখতে হবে, ভ্রমণ লেখা হলো সরেজমিন প্রতিবেদনের মতো, যা অকাট্য দলিল হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে। প্রকাশনার এই সঙ্কটকালে লেখালেখি চর্চার যে প্লাটফর্ম ভ্রমণগদ্য তৈরি করে দিয়েছে, সেটা যেনো নষ্ট না হয়। আমরা আশা করবো, মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য ভ্রামণিকদের সৃজনশীল চর্চার প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠবে।

জাকারিয়া মন্ডল: প্রধান বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আমাদের বার্তা

;

ভ্রামণিক কবি কাজল চক্রবর্তী ১২ দিনের সফরে বাংলাদেশে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কবি কাজল চক্রবর্তী

কবি কাজল চক্রবর্তী

  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমবঙ্গের আশির দশকের স্বনামখ্যাত ভ্রামণিক, কবি ও সাংস্কৃতিক খবর সম্পাদক কাজল চক্রবর্তী এখন বাংলাদেশে। ভ্রমণ ও দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি শনিবার (১৪ মে) বিকেলে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকার কবি সাবেদ আল সাদ। আজ (১৫ মে) থেকে দেশজুড়ে কাজল চক্রবর্তীর সাহিত্যসফর শুরু হচ্ছে।

রোববার বিকালে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে স্বরচিত কবিতাপাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। কলকাতার কবি কাজল সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন। টাঙ্গাইল পাবলিক লাইব্ররি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মুখ্য উদ্যোক্তা কবি মাহমুদ কামাল। সভাপতিত্ব করবেন কবি সাবেদ আল সাদ।

সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্ত্বরে মৃদঙ্গ লিটল ম্যাগাজিন আয়োজন করেছে ‘মতিহারের সবুজে’ শীর্ষক কবিতা আড্ডা। কবি অনীক মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত আড্ডার কবি কাজল চক্রবর্তী। প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ।

রাজশাহী থেকে পরদিন মঙ্গলবার কাজল চক্রবর্তী ছুটবেন বগুড়ায়। সেখানে ইসলাম রফিকের পরিচালনায় আয়োজিত হবে বগুড়া লেখক চক্র কর্তৃক সাহিত্য অনুষ্ঠান। কাজল চক্রবর্তী থাকবেন মুখ্য অতিথি। কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত কবির ঢাকাবাসকালে আয়োজিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান। ২০ মে শুক্রবার ভোরে মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য লিটল ম্যাগাজিন ঢাকায় ভ্রামণিক-কবিদের এক প্রাতঃরাশ আড্ডার আয়োজন করেছে। কবি ও ভ্রামণিক কাজল চক্রবর্তী আড্ডার অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই আড্ডাটি শুধু আমন্ত্রিতদের জন্য।

এদিন বিকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র্রে কবি আনোয়ার কামালের ‘এবং মানুষ’ আয়োজিত ‘এবং উৎসব’কবিতাসন্ধ্যায় কাজল চক্রবর্তী মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

২১ মে শনিবার বিকালে কাটাবনের কবিতা ক্যাফেতে ‘বিন্দু বিসর্গ’ পত্রিকা কাজল চক্রবর্তীকে সংবর্ধনা দেবে। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। পরদিনই কাজল রওনা হবেন চট্টগ্রাম। ২২ মে রোববার চট্টগ্রামের হাটখোলা ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে কথা ও কবিতা অনুষ্ঠানের। আবৃত্তি ও কবিতাপাঠের অনুষ্ঠানটি হবে চট্টগ্রাম মোহাম্মদ আলী সড়কে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীতে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের কার্যালয়ে।

পরবর্তী চারদিন কাজল চক্রবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও বান্দরবানের ভ্রমণস্থানগুলো ভ্রমণ করবেন। ২৬ মে তার কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে।

;

আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে



সহিদুল আলম স্বপন
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃষ্টি ঝড়া মিষ্টি চোখে ভালোবাসার

এক ঝিলিক রোদের
আকাশ হলে তুমি,
ইলোরার রংধনুরা পালিয়ে গেল
অমিষেয় ভীষন ল্জ্জায়,
এ বুঝি স্বপ্নের ভেলায় দিগন্ত পাড়ে
লাজুক প্রেমের লুকোচুরি লুকেচুরি খেলা।

আবিরের ঐ আলতা মেশানো গোধূলিরা
যেন মেঘ হতে চায়
নিজের রং বিকিয়ে;
আনমনে শুনি আমি সুখের
রিনিঝিনি তোমার চিরায়ত ভালোবাসার সপ্তসুরে।

ম্যাকব্যাথের উচ্চাভিলাষী সুখের কাছে
ট্রয়ের ধ্বংস বড়ই বেমানান,
যেখানে প্রেমের ফেরিওয়াল চিৎকার করে
প্রেম সওদা নিয়ে ঘুড়েনা
জীবনের বাঁকে বাঁকে
প্রেমের সিন্দাবাদ হয়ে তুমি সাঁতরে বেড়াও
আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে।


--জেনেভা, সুইটজারল্যান্ড।

;

মনোহারী মধুকর



শরীফুল আলম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি তাঁকে আজও দেখিনি
অথচ আমি তাঁর প্রেমে পড়ে আছি
বোঝা গেল প্রেমে পড়ার জন্য
দেখাটা খুব জরুরি নয়
তবে অনিবার্য কিনা তা বলতে পারবনা
তবুও ক্রমশ নীল ডানা মেলে
বেগচ্যুত বাতাস মায়াবী রোদের পানে যায়
অতল পিয়াসি এই মন সমর্পণ করে নূহের প্লাবন
বিরামচিহ্নহীন ভাবে আমি তাঁর পানে চেয়ে থাকি
হৃদপিণ্ডে ক্রমশই বাড়ে হৈচৈ ,
আমি তাঁর জ্যোৎস্না লুটে নেই
হিমু সেজে আড়ালে দাঁড়াই
ঠিক তাঁর লাবণ্য রেখা বরাবর।

জানি তুমি দিগন্তের চাইতেও বহু দূরে
কখনো তাঁতের শাড়ি, গায়ে আলতা, হাতে রেশমি চুড়ি ,
প্রিয়ন্তি, ওটি আমার দেয়া নাম
তাঁর খুব পছন্দ হয়েছিল
তবুও মাঝেমধ্যে আমরা তর্কে জড়াতাম ,
তিনি ছিলেন সেক্যুলার
আর আমি?
সময়ের ক্রীতদাস
আজও রোদের হলুদ মেখে বসে থাকেন তিনি
সমান্তরাল শব্দ শুনবে বলে
আমি তাঁর নীল মুখ দেখে পরাজয় মেনে নেই
তাঁর বাদামি শরীরে তখনও জ্যোৎস্নার প্লাবন
অশান্ত বারিধারা মনোহারী মধুকর
অথচ অজস্র দ্বিধা আমারও আছে
আমরাও আছে আদর্শের খসড়া, বসন্তের নির্দয়,
আমি তাঁর লুকোনো হারেম আজও দেখিনি
তবুও অজানা মেলোডি বুকে নিয়ে
নির্বিকার স্বপ্ন দেখি
লোভীর মতই তাঁকে ভালবাসতে চাই।

;