কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১১)



জিনি লকারবি ।। অনুবাদ: আলম খোরশেদ
বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

  • Font increase
  • Font Decrease

এখানে আপনাদের বেতারকেন্দ্র স্থাপন করা যাবে না

[পূর্ব প্রকাশের পর] আমাদের প্রথম দলের মিশনারিরা নিরাপদে দেশ ছেড়ে বেরিয়ে গেলে, আমরা বাকিদের জরুরি নির্গমন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বসি, যদি তার প্রয়োজন পড়ে কখনো। আমাদের একাধিক সভার শেষে নিচের চারটি সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করা হয়।
• যারা যেতে চায় তাদেরকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হবে, এই প্রত্যাশায় যে, সামনের দিনগুলোতে সমুদ্র কিংবা আকাশপথে দেশত্যাগের আরো কোনো সুযোগ আসবে।
• একটা ট্রাক ভাড়া করা হবে নব্বই মাইল দূরে পাকিস্তান-বার্মার সীমান্ত শহর টেকনাফে যাওয়ার জন্য। সেখান থেকে আমরা নৌকায় নাফ নদী অতিক্রম করে বাসে চড়ে আকিয়াব যাব।
• যদি সড়কপথে চলাচল একবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাহলে আমরা হাসপাতাল থেকেই সরাসরি নৌকা করে আকিয়াব রওনা হব।
• নৌকা বা সাম্পানে করে আমরা চট্টগ্রাম বা আশেপাশে অপেক্ষমাণ কোনো উদ্ধারকারী জাহাজে গিয়ে উঠব।

প্রত্যেকটি পরিকল্পনারই সীমাবদ্ধতা ছিল। আমরা শত হলেও বাইশজন প্রাপ্তবয়স্ক ও পঁচিশটি বাচ্চা নিয়ে কাজ করছি। ট্রাকযাত্রার ব্যাপারটা মোটামুটি বিবেচনা করা গেলেও, এই পঁচিশটি বাচ্চাকে সাম্পানের অমসৃণ তলদেশে গাদাগাদি করে বসিয়ে পাঁচদিনের সমুদ্রযাত্রার ভাবনাটি দুঃস্বপ্নের মতোই ছিল, যদি তা কেউ কল্পনা করতে চান আদৌ।

বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিকল্পনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করার জন্য আমরা একটি কমিটি গঠন করি। আমরা এর নাম দিই ‘আতঙ্ক কমিটি’। তারা ব্যাগ, জলপাত্র, টিনের খাদ্য, বাসনপত্র ইত্যাদি যোগাড়ে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দেয়। সাত বছর আগে, আমাদের হাসপাতাল নির্মাণের সময় এর কন্ট্রাক্টরদ্বয়, পল গুড্‌ম্যান ও টম ম্যাক্‌ডোনাল্ড, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুই যোদ্ধা, সামরিক কে-রেশনের শুকনো খাদ্যের টিন এনেছিল কিছু। এগুলোকেও আমাদের জরুরি রসদের তালিকায় যোগ করা হয়।

আমাদের পুরো দলটাকে তিনভাগে ভাগ করে প্রতি দলে সমানভাবে ছোটবাচ্চা, বড় বাচ্চা, স্বাস্থ্যকর্মী, নতুন ও পুরনো মিশনারিদের বণ্টন করে দেওয়া হয়। দলগুলোকে লাল, নীল আর হলুদ রঙের রিবন দিয়ে আলাদা করা হয়। (হলুদ দল অভিযোগ করে যে, দলগঠনের আগেই নাকি তাদের বিরুদ্ধে একটা আঘাত আসে।)

আমাদের নিজেদের প্রস্তুতির ব্যাপারে আমরা আমাদের দেশি কর্মীবৃন্দ ও চট্টগ্রামের শরণার্থীদেরকেও একটা সুচিন্তিত পলায়ন-পরিকল্পনা ভেবে রাখতে বলি। তারা ভুলভাবে বিশ্বাস করেছিল যে, যতক্ষণ আমরা আছি ততক্ষণ তাদের কোনো বিপদ হবে না।

“তা আপনারা কী করবেন যদি মিলিটারি এসে আপনাদেরকে গুলি করা শুরু করে?” আমরা জিজ্ঞাসা করি।

“আমরা দৌড়ে আপনাদের বাসায় চলে আসব,” তারা সরলভাবে জবাব দেয়।

গুড ফ্রাইডের রাত তিনটার দিকে, লিন ও বেকি তাদের বাসার পাশ দিয়ে একটা গাড়ি যাওয়ার শব্দে ঘুম থেকে জেগে ওঠে। তারা খুব সাবধানে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আবাসিক এলাকায় ঘুরতে থাকা গাড়ির শব্দটাকে অনুসরণ করতে চেষ্টা করে। কয়েক মিনিটের মধ্যে জে ওয়াল্শ তাঁর সাইকেলে চেপে আসেন, বন্দুকহাতে। রাতের বাতাস তাঁর কণ্ঠকে দূরে দাঁড়ানো মেয়ে দুজনের কাছে বয়ে নিয়ে আসে।

“এটা হাসপাতাল; আর আমরা ডাক্তার,” তিনি বলছিলেন।

পরদিন সকালে এই রহস্যের সমাধান হয়। গাড়িতে ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতারা, যারা আসলে হসপাতাল অঙ্গনে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের নতুন অফিস স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। তাঁরা পুরো জায়গাটা ঘুরে দেখেছেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নার্সদের আবাসন ভবনটাই হচ্ছে সবচেয়ে অবাধ স্থাপনা। তাঁরা এর একটি অংশ নিয়ে নেবেন, এই বলে ধন্যবাদও জ্ঞাপন করেন।

চারজন মিশনারি পুরুষ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদেরকে এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁরা অটল। জে নিশ্চিত ছিলেন যে, তাঁরা আবার ফিরে আসবে, তাই আমরা এই সমস্যাটা নিয়ে আলাপ করছিলাম। আমরা সবাই অনুভব করছিলাম, তাঁদেরকে জোর গলায় বলে দিতে হবে, এই হাসপাতালের মাঝখানে তাঁরা রেডিও স্টেশন বসাতে পারেন না, যদি না তাঁরা সেটা গায়ের জোরে করতে চান। আমরা একটা আপোস প্রস্তাব দিই যে, তাঁদেরকে আমরা একটা ছোট্ট, বহনযোগ্য জেনারেটর দেব, যেটাকে তাঁরা গাড়ির মধ্যে বসিয়ে জঙ্গলের ভেতর থেকেই তাঁদের গোপন বেতারকেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবেন।

জে ঠিকই ভেবেছিলেন। তাঁরা ফেরত আসেন আবার। প্রথমে একবার সন্ধ্যা নাগাদ আসেন একজন বন্দী ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে। তাঁরা এসে আমাদেরকে তাদের অনুকূলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলে চলে যান। রাত সাড়ে নয়টায় তাঁরা আবার আসেন। ডা. ওল্সেন এবং জে ওয়াল্শ যখন তাঁদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, আমরা তখন প্রার্থনা করছিলাম ও প্রার্থনাসংগীত গাইছিলাম। ঈশ্বর কি প্রার্থনার জবাব দেন? জে এবং ভিক ওল্সেন চকচকে মুখে ফেরত আসেন। তাঁরা হাসপাতালকে তাঁদের বেতারকেন্দ্র বানানোর ভাবনা থেকে সরে এসেছেন। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, এখান থেকে রেডিও’র বেতার-তরঙ্গ শনাক্ত করা সহজ হবে এবং পাকিস্তানিরা তখন বোমা মেরে তা উড়িয়ে দেবে। বেতারেকেন্দ্র প্রকল্প বিষয়ে সেবারই শেষ শুনি আমরা তাঁদের কাছ থেকে।

ইস্টার সানডে ১৯৭১

দিনটা শুরু হয় সকাল ছয়টার প্রার্থনা দিয়ে। দিনভর ক্লাস ও প্রার্থনাসভার ভেতর দিয়ে খ্রিস্টবিশ্বাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিককে আমরা স্মরণ করছিলাম। বিকেলে মেয়েদের বাইবেল ক্লাসের পরে এক গাড়ি আওয়ামী লীগের নেতা হাসপাতালে এসে হাজির হন। গাড়ি থেকে নেমেই তাঁরা তাঁদের কাহিনী শুরু করেন। ক্যাপ্টেন হারুন, মুক্তিবাহিনীর একজন উঁচু অফিসার চিটাগাংয়ের উপকণ্ঠে কালুরঘাট সেতুর কাছে যুদ্ধে ভীষণভাবে আহত হয়েছেন। তাঁরা তাঁকে পটিয়ায় তাঁদের ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে ডাক্তাররা তাঁর পেটে অপারেশন করেছে। অজ্ঞান না করে স্রেফ একটি ডেমেরল দিয়েই অপারেশন করে তাঁরা তাঁর পেটের দুই ফুটের মতো বুলেটজর্জর অন্ত্র বার করে ফেলে দেন। তারপর তাঁরা ঘোষণা দেন, “অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তিনি এখন খুবই দুর্বল।”

সঙ্গে সঙ্গে ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান বব আডল্‌ফ গাড়িতে-বসা একজনের শরীর থেকে কিছু রক্ত নিয়ে তাঁদেরকে দিলে তাঁরা তা নিয়ে দ্রুতবেগে যেপথে এসেছিলেন সেপথে ফিরে যান। ডা. ডন কেচাম তাঁদেরকে বলে দেন, ক্যাপ্টেনকে সেই সাময়িক আশ্রয় থেকে বার করে এনে এই হাসপাতালে নিয়ে আসতে। কয়েকদিন পরে তাঁরা সেই অসম্ভব দুর্বল রোগীটিকে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। তাঁর শরীরে আবারও মেরামতি অপারেশন করা হয়, এবং তিনি চট্টগাম থেকে আসা একজন ব্যাংক ম্যানেজার হিসাবে সেরে উঠতে থাকেন। তাঁর সন্ধানে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাদের আমাদের হাসপাতালে আগমনের আগেই ডা. কেচাম তাঁকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সেই দিনগুলোতে আমি ও লিন আমাদের চট্টগ্রামের শরণার্থীদের জন্য একধরনের বিশেষ দায়িত্ব বোধ করছিলাম। আমরা মিশনারিদের বাগান তন্ন তন্ন করে, শাকটা, শিমটা কুড়িয়ে আনছিলাম তাদের জন্য। (আপনারা কি জানতেন যে পুরনো, তেতো লেটুস পাতার রান্নাও বেশ স্বাদের হয়?) আমরা প্রত্যেকদিন সকালে এইসব শাকসব্জি বহন করে ওদের বাড়ি যেতাম এবং সবাইকে সেসব ভাগ করে দিতাম। আমরা বাচ্চাদের ব্যাপারেও খেয়াল রাখছিলাম। এতখানি খোলা মাঠ দৌড়ঝাঁপ করার জন্য! আর সেইসব সাইকেল! এটা শহরের বাচ্চাদের জন্য অনেক বড় লোভনীয় বিষয়, বিশেষ করে যারা অস্থির সময়টায় পুরোপুরি ঘরবন্দী ছিল।

সেখানে অধিকাংশ সময়ই লিন মিশনারিদের ভাষা শেখানোর এবং হাসপাতালে কাজ করছিল। আমার কাজ ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর বাচ্চাদের পড়ানো, যারা তাদের শিক্ষকদের ও আমাদের বার্ষিক শিশুশিবিরের জন্য সংগৃহীত লেখার সরঞ্জামাদি হারিয়ে ফেলেছিল।

আমরা সময় কাটানোর জন্য সবাই মিলে ডায়রিও লিখছিলাম, যদি কখনো কিছু মনে করতে হয়, কিংবা কাউকে এই দিনগুলোর গল্প করতে হয়, একথা ভেবে। এই রইল ডায়রির কয়েকটি পাতা।

শুক্রবার, এপ্রিল ১৬, দুপুর ২.২০

সবাই দিবানিদ্রা উপভোগ করছিলেন, এমন সময় শোর উঠল, “মিলিটারি এসেছে।” হাসপাতালের ভেতরে অবস্থানরত পরিবারসমূহ, ঘরের কাজের লোকেরা, এবং অন্যান্যরা তাড়াতাড়ি যার যার ঘরে ঢুকে যেতে শুরু করে। আমরা জানতে পারি যে, পটিয়া ও আমিরাবাদে (মালুমঘাট থেকে যথাক্রমে ৪৫ ও ২৫ মাইল দূরে) বোমা পড়েছে। তখন পর্যন্ত অবশ্য রাস্তা দিয়ে কোনো সৈন্য আসেনি।

মালুমঘাটে বোমা বর্ষণ করলে কী করব সে-নিয়ে কথা বলার জন্য মিলিত হই আমরা। সিদ্ধান্ত হয়: জঙ্গলের দিকে চলে যেতে হবে এবং সেখানে তখনও বিদ্যমান দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালীন ট্রেঞ্চগুলোতে ঢুকে পড়তে হবে। মলি বিল্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ট্রেঞ্চগুলোকে খুঁজে বার করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখার। লিন আর আমার দায়িত্ব ছিল নার্সদের হোস্টেলের ছাদ থেকে প্লেন আসছে কিনা সেটা দেখা। কোনো প্লেন দেখা যাওয়ামাত্র সেখানকার বিশাল ঘণ্টাটি বাজিয়ে দিতে হবে।

আমরা রাতের খাবার শেষ করামাত্র রিড মিনিখ তিনজন আমেরিকানকে নিয়ে হাজির হন।

রাত সোয়া আটটায় আরেকটা সভা বসে।

সেই তিনজন হলেন: যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং ঢাকা থেকে আসা ইউ এস এইডের দুজন প্রতিনিধি। চারজনই চট্টগাম থেকে এসেছেন গুর্‌গানসের স্টেশন ওয়াগনে করে, আমাদের দুটো বিশাল আমেরিকান পতাকা লাগিয়ে।

তাঁরা এসেছেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সম্ভাব্য সবচেয়ে কড়া সাবধানবাণীটি জানাতে, যেন আমরা অবশ্যই দেশত্যাগ করি। তারা বলেন, এর আগের দিন সন্ধ্যায় ভয়েস অভ আমেরিকায় নাকি বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থানরত আমেরিকানদের বার্মার ভেতর দিয়ে দেশ ছাড়তে। আমরা কেউই অবশ্য সেই ঘোষণা শুনিনি। (আমরা একটা মিটিংয়ে ছিলাম।)

আমরা তাঁদেরকে অনেক প্রশ্ন করি। তাঁদের অধিকাংশ তথ্যই আশাব্যঞ্জক ছিল। তাঁরাও মনে করেন না যে, আমরা সত্যিকার যুদ্ধের ডামাডোলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছি, যদি না অওয়ামী লীগের নেতারা হাসপাতাল দখল করে প্রতিরোধ শুরু করেন। তাঁরা এও ভাবেন, আমরা যতদিন এখানে আছি ততদিন দেশি নাগরিকেরাও নিরাপদ। শুধু হিন্দুরাই সত্যিকারের বিপদের মধ্যে ছিল। তাঁরা আমাদের ওপরই চরম সিদ্ধান্ত নেবার ভার দিয়ে যান, কারা থাকবে আর কারা চলে যাবে সেটা ঠিক করতে। পরদিন সকাল দশটার মধ্যে তাঁদের চট্টগ্রাম ফিরে যাবার কথা। তাঁরা চাচ্ছিলেন মিলিটারির সঙ্গে দেখা করে তাদেরকে দুদিনের জন্য বোমা ও গুলি বর্ষণ থেকে বিরত রাখতে, যাতে করে আমরা নিরাপদে এই পথটুকু পেরিয়ে যেতে পারি। পরিকল্পনাটা ছিল, আমেরিকান গাড়ির একটা বাহিনী আমাদেরকে নিয়ে চট্টগাম যাবে এবং সেখান থেকে আমরা একটা বড় বিমানে করে ঢাকায় চলে যাব।

দেশত্যাগের বিষয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পর সবাই প্রার্থনা, ও যার যার মতো বোঝাপড়া করতে চলে গেলে আমি ও লিন রিডকে বলি, শহরত্যাগের পর সেখানে কী কী ঘটেছে আমাদেরকে তা জানাতে? তিনি যে-বর্ণনা দিয়েছিলেন তা মোটেও আশাজাগানিয়া ছিল না। [চলবে]


কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১০)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৯)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৮)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৭)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৬)

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;