একচোখা সমাজে অনিশ্চয়তায় যে শিশু



কবির য়াহমদ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শাকিব খান ও শবনম বুবলি নিয়ে ব্যস্ত গণমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম। নানা রকমের ইঙ্গিতবহ সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আলোচনায় আসছে আরও অনেকের নাম। এসবের যতটা না সংবাদ, তার চেয়ে বেশি গল্প। সামাজিক মাধ্যমে যেহেতু ব্যবহারকারীরা নিজেই সর্বেসর্বা; সেহেতু স্বাভাবিকভাবেই নেই নিয়ন্ত্রণ। গণমাধ্যমে প্রতিবেদক, সম্পাদকের আলাদা জায়গা রয়েছে, রয়েছে পৃথক সম্পাদনা নীতি, দায়বদ্ধতা; কিন্তু সেখানেও প্রকাশিত নিয়ন্ত্রণহীনতা। জোয়ারে ভেসে যাওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা, কে কার আগে কীভাবে পাঠক ধরতে পারে সে প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। এর ফাঁকে যে শিশু নিপীড়ন হচ্ছে সে কথা কে বলবে তাদের, সে কথা কে শোনাবে তাদের!

নিপীড়ন মানে দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন; এখানে সীমিত থাকতে চলবে না। ছোট্ট অবুঝ একটা শিশু সন্তানের ছবি প্রকাশ করে একটা ভবিষ্যৎ যে আমরা অনিশ্চিত করে দিচ্ছি সে চিন্তার সময় বোধহয় আমাদের কারো নেই। তাই শিশুর ছবি প্রকাশে বেপরোয়া বেশিরভাগই। সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে যখনই শাকিব খান ও শবনম বুবলির আড়াই বছরের শিশু সন্তানের মুখ ভাসছে তখন একটা করুণ ভবিষ্যতের ছবি সামনে আসছে। একটা মায়াবি মুখের ভবিষ্যৎ কীভাবে অনিশ্চিত হতে যাচ্ছে সে চিন্তাই করছি এখন।

শেহজাদ খান বীর, শাকিব-বুবলির সন্তান। আড়াই বছর পর দুজন সামাজিক মাধ্যমে পৃথক পোস্ট দিয়ে সে তথ্য জানিয়েছেন। এরআগে বুবলি তার বেবি বাম্পের ছবি প্রকাশের পর সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছিল এই সন্তানের বাবা শাকিব খান।

এরআগে, অপু বিশ্বাসের একটা পুত্র সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে অনেক জল ঘোলা করে স্বীকার করেছিলেন শাকিব। অপু কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাইভে এসে তার সন্তানের কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় সন্তানের বয়স ছিল ছয় বছর। বুবলিকে অবশ্য কেঁদে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে হয়নি, জায়গায়-জায়গায় ধর্না দিতে হয়নি; তার আগেই মিলেছে পুত্রের স্বীকৃতি। এখানে শাকিব খান পুত্রের স্বীকৃতি দিতে গড়িমসি না করলেও তিনি যে সৎ বাবা, সৎ স্বামী, সর্বোপরি সৎ মানুষ নন সেটা বলাই বাহুল্য।

আব্রাহাম খান ও শেহজাদ খান পিতৃপরিচয় পেয়েছে। তবে তারা অন্যদের মতো কি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে ওঠার পরিবেশ পাবে? এ সমাজ কি এটা মেনে নিতে প্রস্তুত? মনে হয় না। তারা যখন বড় হতে থাকবে, যখন তারা বুঝতে শুরু করবে তখন সমাজের অঙুলিগুলো তাদের দিকেই আসতে থাকবে। মায়ের চরিত্রহনন থেকে শুরু করে তাদের নিজেদের চরিত্র নিয়ে নানা কথা ভাসতে থাকবে সমাজে, এমনকি তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। অথচ এমন পরিস্থিতির জন্যে তারা মোটেও দায়ী নয়। অন্য সবার মতো পৃথিবীতে তারা নিজেদের ইচ্ছায় আসেনি। তবু তাদেরকে সইতে হবে সামাজিক এই একচোখা নীতির চাপ!

আমাদের দেশে ভিকটিম নারী ও শিশুর ছবি প্রকাশে আইনি বাধ্যবাধকতা আছে। এটা যদিও সীমিত আকারে, আইনি প্রতিবিধানের পর্যায়ে। তবে সামগ্রিকভাবে শিশুর নিরাপত্তায় আইন ও আইনের প্রকাশ নাই দেশে। আজকের এই আব্রাহাম কিংবা শেহজাদ বুঝতে শেখার পর তাদেরকে নিয়ে বিগত-বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যে ইঙ্গিতবহ সংবাদ ও কথাবার্তা তার প্রতিবিধান কীভাবে চাইবে আইনের কাছে? এই বয়সে তারা মানহানি বিষয়ে জানে না, কিন্তু যখন এটা জানবে-বুঝতে পারবে তখন এই মানহানির জন্যে, তাদের ছবি বিনা-অনুমতিতে প্রকাশের কারণে কি ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে। অবশ্য শিশুরা যতক্ষণ শিশু ততক্ষণ তাদের নিজেদের নিয়েও সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা নাই, তাই অদ্যকার এই পরিস্থিতির প্রতিবিধান কীভাবে হবে?

আমাদের দেশে এ সংক্রান্ত আইন নেই। দ্য টেলিগ্রাফের একটা প্রতিবেদনে ফ্রান্সে এ সংক্রান্ত একটা আইন থাকার কথা জেনেছিলাম। ওই আইনের অধীনে শিশুর প্রাইভেসি লঙ্ঘনের দায়ে পিতা-মাতার এক বছর পর্যন্ত জেল এবং ৪৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। কয়েক বছরের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্করা শিশুকালের তাদের ছবি প্রকাশের কারণে পিতামাতার বিরুদ্ধে মামলা করে ক্ষতিপূরণ দাবিও করতে পারে। দেশটিতে এই আইন থাকার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এসব শিশুর ছবি নানা অপরাধীদের কাছে চলে যেতে পারে, এবং অপরাধের কাজে সেগুলো ব্যবহৃত হতেও পারে।

পৃথিবীর আর কোনো দেশে এমন আইন আছে কি-না এখনই বলতে পারছি না। এটা মনে পড়েছে কেবল ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে গিয়ে চোখে পড়ায় এবং চলমান বাস্তবতার কারণে। কারণ ওই একই, শাকিব-বুবলির সন্তান শেহজাদ খান বীর, যা ছবি ভাইরাল সামাজিক মাধ্যমে। এই ছবি তার মা-বাবাও প্রকাশ করেছেন। তারা প্রকাশ করেছেন সন্তানের পিতৃত্বের দাবি ও স্বীকৃতি প্রসঙ্গে। তবে আমাদের নিয়ন্ত্রণহীন সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের কারণে এখানে পোডোফাইলের যে বিপদ সংকেত সেটা কীভাবে আগ্রাহ্য করি, যেখানে সংবাদমাধ্যমে প্রায়শই আসে নানা খবর। বলতে দ্বিধা নেই, এটা অনলাইনে যেমন আছে, তেমনি আছে অফলাইনেও। এছাড়া এই বিপদের সঙ্গে আছে শিশুর প্রাইভেসি, যা এখনই হয়তো সে অনুধাবন করতে পারছে না, কিন্তু যখন পারবে তখন কী মানসিক অবস্থা হবে তার; ভাবা যায়!

আমাদের সমাজ ভিকটিমকে দায় দিতে আগ্রহী। নিপীড়নের ওপর আরেকদফা নিপীড়ন। এই মানসিকতা সর্বক্ষেত্রে। সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের অনেকেই আবার এসবে যে ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেখান তাতে অনেকের আবার লুঙ্গি খোলার অবস্থা! আক্রমণাত্মক সেই সব ব্যবহারকারীদের কারণে অনেক সময় নৈতিকতার পরাজয় দেখি আমরা। দিন দিন এই সংখ্যা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনোদন জগতের বাসিন্দাদের পারিবারিক সমস্যার এই প্রসঙ্গ আমাদেরকে অনলাইনে শিশু-নিরাপত্তার দিকটি নিয়ে গভীর ভাবনার দাবি রাখে।

এখানে কে দোষী, কে নির্দোষ সে তর্ক-বিতর্কে জড়ানোর উদ্দেশ্য নয়; উদ্দেশ্য একটাই শিশুর প্রাইভেসি-নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তা। এ সংক্রান্ত কোনো আইন থাকলে সে আইনের বহুল প্রচারের দাবি করি, আর আইন না থাকলে এনিয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তার কথাই বলি! এই একচোখা সমাজে আমরা শিশুর অনিশ্চিত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নয়, সার্বিক নিরাপত্তার দাবি করি।

কবির য়াহমদ: সাংবাদিক, কলাম লেখক।

ভূমিকা চাপ ও উত্তরণের উপায়



মো. বজলুর রশিদ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

একজন ব্যক্তির মধ্যে ভূমিকা চাপ (Role Strain) অনুভূত হয় তখনই যখন সে প্রত্যাশিত সামাজিক ভূমিকা পালনে সমস্যার সম্মুখীন হন। একজন ব্যক্তি ভূমিকার চাপ ও দ্বন্দ্ব উভয়ই অনুভব করতে পারে যখন একাধিক ভূমিকা পালনে তার প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি থাকে। ভূমিকার চাপকে আধুনিক সমাজে একটি সাধারণ অভিজ্ঞতা বলে মনে করা হয়, এবং ব্যক্তি ভূমিকার চাপের সাথে মানিয়ে নিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।

কেউ যখন সামাজিক ভূমিকার বাধ্যবাধকতাগুলি পালনে চাপ অনুভব করেন তখন সমাজবিজ্ঞানীরা এটিকে ভূমিকা চাপ বা Role Strain বলে অভিহিত করেন। ভূমিকার চাপ আসলে খুব সাধারণ। কারণ আমরা প্রায়শই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাস করতে গিয়ে একাধিক ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রও এটি প্রত্যাশা করে। ফলে একই সাথে আমাদের আচরণের ভিন্নতাও দেখা দেয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, নানা ধরনের ভূমিকার চাপ রয়েছে, পাশাপাশি তা মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি রয়েছে।

সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার একটি উপাদান হিসাবে ভূমিকা চাপকে দেখা হয়। যদিও গবেষকরা ব্যক্তির ভূমিকাকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তথাপি ভূমিকা সম্পর্কে চিন্তা করার একটি উপায় হল একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যক্তি কীভাবে আচরণ করে। আমাদের প্রত্যেকেরই অসংখ্য ভূমিকা রয়েছে যা আমরা পালন করি (যেমন মা- বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়, ছাত্র-ছাত্রী, বন্ধু, নেতা, কর্মকর্তা, কর্মচারী, ইত্যাদি)। এবং এইসকল ভূমিকা পালনে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ তার উপর নির্ভর করে আমরা ভিন্নভাবে আচরণ করি। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি কর্মক্ষেত্রে তার বন্ধুদের ক্ষেত্রে যে ভূমিকা পালন করেন তার চেয়ে ভিন্নভাবে আচরণ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কারণ প্রতিটি ভূমিকা (কর্মচারী বনাম বন্ধু) আচরণের একটি ভিন্ন ধরন নির্দেশ করে। এবং ব্যক্তি সে অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানী উইলিয়াম গুডের মতে, এই ভূমিকাগুলি পূরণ করার চেষ্টা করার ফলে ভূমিকা চাপ বা স্ট্রেন হতে পারে, যাকে তিনি "ভুমিকা পালনের দায়বদ্ধতা পূরণে অনুভূত অসুবিধা" হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেন। যেহেতু আমরা প্রায়শই বিভিন্ন সামাজিক ভূমিকায় নিজেকে খুঁজে পাই, গুড পরামর্শ দিয়েছেন যে ভূমিকার চাপ অনুভব করা আসলে স্বাভাবিক এবং সাধারণ।

গুড পরামর্শ দিয়েছেন এই ভূমিকার চাহিদা পূরণের জন্য লোকেরা বিভিন্ন ধরনের ট্রেড-অফ এবং দর কষাকষির প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকে, যেখানে তারা তাদের ভূমিকাগুলি সর্বোত্তম উপায়ে পূরণ করার চেষ্টা করে। এই ট্রেড-অফগুলি বিভিন্ন কারণের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, যেমন ভূমিকায় আমাদের জন্য সমাজের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়ে আমরা কতটা যত্নশীল (সমাজের "আদর্শ প্রতিশ্রুতি"র স্তর), কীভাবে আমরা মনে করি যদি আমরা আদর্শ প্রতিশ্রুতি পূরণ না করি তাহলে অন্য ব্যক্তি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে।  নির্দিষ্ট ভূমিকা পালনের জন্য সাধারণ সামাজিক চাপে কিভাবে তৈরি হয় সেটাও আমাদের দেখতে হয়।

অপরপক্ষে, ভূমিকা চাপের সাথে সম্পর্কিত ভূমিকার সংঘাত ঘটে যখন, ব্যক্তির সামাজিক ভূমিকার কারণে, ব্যক্তি একের অধিক ভূমিকা পালনের মুখোমুখি হয় যা পারস্পরিক একচেটিয়াভাবে একই সময়ে সম্পাদন করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।  উদাহরণ স্বরূপ, যদি একজন ঘুম-বঞ্চিত নতুন অভিভাবক সন্তান ধারণের চ্যালেঞ্জগুলো নেভিগেট করার সময় মানসিক চাপ অনুভব করেন তাহলে ভূমিকার চাপ হতে পারে। ভূমিকার সংঘাত ঘটতে পারে যদি একজন কর্মজীবী ​​পিতামাতাকে একই সময়ে নির্ধারিত একটি শিক্ষক-অভিভাবক মিটিং এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের মিটিং এর মধ্যে একটি বেছে নিতে হয়।

ভূমিকা চাপের আরও উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যেমন একজন ছাত্র পরীক্ষার জন্য অধ্যয়ন করার চেষ্টা করছে (একজন ছাত্রের ভূমিকা), ক্যাম্পাসের চাকরিতে কাজ করছে (একজন কর্মচারীর ভূমিকা), একটি ছাত্র সংগঠনের জন্য মিটিং পরিকল্পনা করছে (একটি গ্রুপ লিডারের ভূমিকা), এবং একটি ক্রিকেট বা ফুটবল দলের খেলায় অংশগ্রহণ করছে (একটি ক্রীড়া দলের সদস্যের ভূমিকা), ইত্যাদি।

গুডের মতে, বিভিন্ন উপায়ে ব্যক্তি একাধিক সামাজিক ভূমিকা নেভিগেট করার মাধ্যমে চাপ কমানোর চেষ্টা করতে পারে:

কম্পার্টমেন্টালাইজিং: ব্যক্তি দুটি ভিন্ন ভূমিকার মধ্যে দ্বন্দ্ব সম্পর্কে চিন্তা না করার চেষ্টা করতে পারে।

অন্যদের অর্পণ করা: ব্যক্তি হয়তো অন্য কাউকে খুঁজে পেতে পারে যে তার কিছু দায়িত্বে সাহায্য করতে পারে; উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যস্ত পিতামাতা তাদের সহায়তা করার জন্য একজন গৃহকর্মী বা শিশু যত্ন প্রদানকারীকে নিয়োগ করতে পারেন।

একটি ভূমিকা ছেড়ে দেওয়া: কেউ সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে একটি বিশেষভাবে কঠিন ভূমিকা অপরিহার্য নয় এবং ভূমিকাটি ছেড়ে দিতে পারে বা কম চাহিদা সম্পন্ন একটিতে স্যুইচ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কাউকে যদি দীর্ঘসময় ধরে কোন কাজ করতে হয় তাহলে সে ওই কাজটি ছেড়ে দিয়ে অন্য একটি কাজ নিতে পারে যা তার পারিবারিক ও কর্ম-জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।

একটি নতুন ভূমিকা গ্রহণ: কখনও কখনও, একটি নতুন বা ভিন্ন ভূমিকা নেওয়া ভূমিকার চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কর্মক্ষেত্রে একটি পদোন্নতি নতুন দায়িত্ব তৈরি করতে পারে এবং সেইসাথে নিচের স্তরের দায়িত্বের জবাবদিহিতা কমাতে পারে।

একটি ভূমিকায় কাজ করার সময় অপ্রয়োজনীয় বাধা এড়ানো: একটি নির্দিষ্ট ভূমিকায় ব্যক্তি সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করতে পারে এবং অন্যদেরকে সেসময় তার কাজে বিঘ্ন যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে অন্যদেরকে অবহিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোন ব্যক্তি একটি বড় প্রকল্পে কাজ করেন তখন সে বিষয়েই বেশি ফোকাস করবেন এবং অন্যদের বলতে পারে যে সে এই সময় পর্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন।

যদিও ব্যক্তি ভূমিকা চাপ ও ভূমিকা দ্বন্দ্ব এড়ানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন তথাপি আধুনিক নগর জীবনে এখন অনেকেই ভূমিকা চাপের স্বীকার হচ্ছেন। কেউ কেউ হয়ত সফলভাবে সেগুলো ম্যানেজ করতে পারছেন। আবার অনেকেই পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে ভূমিকা চাপ কমানোর জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে কাউন্সেলিং থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা রাখা দরকার বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

সমাজ সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন ক্রমান্বয়ে জটিল হচ্ছে। আর এই জটিলতায় তৈরি হচ্ছে ভূমিকা চাপ ও ভূমিকা দ্বন্দ্ব। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে এখন যে কথাবার্তা হচ্ছে তা ভূমিকা চাপ ও ভূমিকা দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতি বলে অনেকের ধারণা। সুতরাং এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলে সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন।

মো. বজলুর রশিদ: সহকারী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা।

;

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে



ড. মতিউর রহমান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর “আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস” হিসাবে পালন করা হয়। নারীর প্রতি যে কোনো ধরনের সহিংসতার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে সর্বস্তরের মানুষকে উৎসাহিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালন করা হয়। ১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৫ নভেম্বরকে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।

২৫ নভেম্বর, ১৯৬০-এ, ল্যাটিন আমেরিকার ডোমিনিকান রিপাবলিকের স্বৈরশাসক রাফায়েল ক্রুজিলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সময় তিন বোন, প্যাট্রিয়া, মারিয়া তেরেসা এবং মিনার্ভা মিরাকল শাসকদের দ্বারা নিহত হন। এই হত্যার প্রতিবাদে, ১৯৮১ সালে, লাতিন আমেরিকার একটি মহিলা সম্মেলনে ২৫ নভেম্বরকে নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৩ সালে, ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত মানবাধিকার সম্মেলনে ২৫ নভেম্বরকে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

কিন্তু জাতিসংঘ দিবসটিকে স্বীকৃতি দিতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে। অবশেষে, ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৫ নভেম্বরকে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে ঘোষণা করে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী এবং সমাজের উন্নয়নে তাদের অবস্থান অনস্বীকার্য। কিন্তু তারপরও নারীরা শান্তি, নিরাপত্তা ও অধিকারের দিক থেকে পুরুষের সমান নয়। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন হচ্ছে, সভ্যতা গড়ে উঠছে। বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনধারা। কিন্তু বাস্তবতা হলো নারী নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি তিন জনের একজন নারী তার জীবনের কোনো না কোনো সময় শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হন। প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে দুজন তাদের স্বামী বা বন্ধু বা বিপরীত লিঙ্গের পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন। নির্যাতনের শিকার নারীদের অধিকাংশই নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রকাশ্য লজ্জার ভয়ে মুখ খোলে না।

নারীর প্রতি সহিংসতা সমতা, উন্নয়ন, শান্তি অর্জনের পাশাপাশি নারী ও কন্যাদের মানবাধিকার বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বোপরি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) প্রতিশ্রুতি -কাউকে পিছিয়ে না রাখার - নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ না করে পূরণ করা যাবে না। এ দিন থেকেই শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষেরও। ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পর্যন্ত পৃথিবীর দেশে দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ পক্ষ পালিত হবে।

বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যেগে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে। এ বছর দিবসটির থিম বা প্রতিপাদ্য হল “একত্রিত হও! নারী ও কন্যাদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে সক্রিয়তা!” (UNITE! Activism to End Violence against Women & Girls).

নারীর প্রতি সহিংসতা একটি প্রধান সামাজিক সমস্যা। বিভিন্ন উপায়ে ও আকারে প্রতিনিয়তই এটি বাড়ছে। এটি একটি দুঃখজনক সত্য যে এই ধরনের সহিংসতার কারণে প্রতি বছর অসংখ্য নারী নিহত হচ্ছেন। কারণ তারা খোলাখুলি কথা বলতে পারে না, বা তাদেরকে কথা বলতে দেওয়া হয় না। নির্যাতনের পরও তাদের চাপের মধ্যে থাকতে হয়।

দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অশিক্ষাসহ নানা কারণে নারীরা নির্যাতিত হয়। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে অনেক নারীর জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। যৌতুক, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত বিষয়ে বিদ্যমান আইনগুলি পর্যাপ্তভাবে প্রয়োগ করা হয় না। তাছাড়া সাধারণ মানুষ এসব আইন সম্পর্কে অবগত নয়।

নারীর প্রতি সহিংসতার আরেকটি কারণ তাদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক মনোভাব। নারীরা নিজ পরিবারেও নির্যাতিত হচ্ছেন এবং পরিবারের বাইরেও নির্যাতিত হতে হচ্ছে। অনেক নারী চাইলেও তাদের পরিবারের কাছে সহিংসতার কথা বলতে পারে না। দেখা যায়, অনেক সময় নির্যাতিত নারীকে দায়ী করে পরিবার। বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায় সহিংসতার শিকার অনেক নারী চাইলেও আইনি আশ্রয় নিতে পারে না। পরিবার ও সন্তানের কথা ভেবে এসব নির্যাতন সহ্য করতে বাধ্য হন অনেক নারী।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদ্য প্রকাশিত এক জরিপ দেখায় যে ২০২১ সালে ৮১০ টি ধর্ষণ, ২২৫টি সংগঠিত ধর্ষণ, ১৯২টি ধর্ষণের চেষ্টা, ৯৬টি শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানির ঘটনা এবং ১১৪টি যৌতুক সংক্রান্ত ঘটনা ও মামলা সংঘটিত হয়েছে। বিগত বছরের মতো এ বছরও ধর্ষণের শিকার নারী (১৮ বছরের ওপরে) এবং কন্যাশিশু (১৮ বছরের নিচে) সংখ্যা বেশি এবং নারীদের তুলনায় কন্যাশিশুরা বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

অন্যদিকে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী ১৮, ১১ এবং ৩১ শতাংশ কন্যাশিশু যথাক্রমে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী ২২ শতাংশ কন্যা শিশুরা শ্লীলতাহানি এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী মহিলারা সাধারণত যৌতুকের ক্ষেত্রে বেশি সহিংসতার শিকার হয়েছেন এবং এই হার ২২ শতাংশ। মেয়েদের মধ্যে ষষ্ঠ-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এই হার ধর্ষণের ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ, গণধর্ষণের জন্য ৫২ শতাংশ এবং শ্লীলতাহানির জন্য ৬৭ শতাংশ।

কর্মজীবী নারীদের তুলনায় গৃহিণীরাই বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যৌতুকের জন্য ৮৩ শতাংশ,ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, উত্ত্যক্তকরণ, ধর্ষণের চেষ্টায় যথাক্রমে ৩৬ শতাংশ, ৩৭ শতাংশ, ১৭ শতাংশ এবং ৪৬ শতাংশ গৃহিণী নির্যাতনের শিকার হন। এই গবেষণায় ১৮ বছরের কম বয়স্কদের কন্যা এবং ১৮ বছরের বেশি বয়স্কদের নারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও উক্ত প্রতিবেদনে নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ধরন ও সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, অক্টোবরে দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ৩৬৮টি ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ধর্ষণের ৬১টি ঘটনা রয়েছে। চলতি মাসে ৪ শিশু, ২২ কিশোরী ও ৪৫ জন নারীসহ ৭১ জন আত্মহত্যা করেছেন। অপহরণ করা হয়েছে চার শিশু-কিশোর ও এক নারীকে। অন্যদিকে নিখোঁজ রয়েছে ১ শিশু, ৭ কিশোরী ও ৩ নারী। এছাড়াও, ১৪ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ ৮৯ শিশু, কিশোরী ও মহিলা নিহত
হয়েছে।

উপরোক্ত তথ্যগুলো বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ সম্ভব। প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত সভা, সেমিনার এবং কর্মশালার আয়োজন করে জনমত গড়ে তোলা সম্ভব । তাছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতা বিশেষ করে শিশুদের ওপর প্রভাব সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার পদক্ষেপ নিতে হবে। সুশীল সমাজ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য সচেতন ব্যক্তিদের উচিত নারীর প্রতি সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এনজিওগুলো নারীর প্রতি সহিংসতা কমাতে পথনাটক, বিকল্প মাধ্যম এবং গণশিক্ষা প্রচার/প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করতে পারে।

সরকারি, বেসরকারি এবং অন্যান্য সুশীল সমাজ সংস্থার উচিত নারীর মানবাধিকার ও শিক্ষার উপর জোর দেওয়া। সহিংসতার শিকারদের যথাযথভাবে আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং অতিরিক্ত সহায়তা পেতে সহায়তা করা। নারীদের মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে পুরুষদের জন্য কাউন্সেলিং ও শিক্ষা সেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। টেলিভিশন মিডিয়ার মাধ্যমে স্টিরিওটাইপ সম্পর্কের পরিবর্তে নারী-পুরুষের মধ্যে

ভারসাম্যপূর্ণ ও সুস্থ সম্পর্ক সম্প্রচার করতে হবে। যৌতুক নিরোধ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। মেয়েদেরকে জীবন দক্ষতার প্রশিক্ষণ দিতে হবে যাতে তারা দাম্পত্য জীবনে নিজেদের বাঁচাতে পারে।

নারীর প্রতি সহিংসতা কমাতে দারিদ্র্য ও বৈষম্য নিরসন ও শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। পরিবারে ও সমাজে পুরুষ সদস্যদের মানসিকতা ও আচরণ পরিবর্তনের জন্য যথাযথ কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের ভিকটিমের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া উচিত।

সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের মানসিকতা এবং আচরণ পরিবর্তনের জন্য একটি ব্যাপক অ্যাডভোকেসি প্রোগ্রাম গ্রহণ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তাদের ঘোষণাপত্র এবং নির্বাচনী ইশতিহারে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা। নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি, বেসরকারি ও তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জোট গঠন করা।

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী `সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থা' গড়ে তোলা অপরিহার্য। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে যৌন হয়রানি এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবহিত করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে অনলাইন হয়রানির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অনলাইন হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ দায়ের সহজ এবং আরও বেশি নারী-বান্ধব করা অপরিহার্য। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুদের প্রতি অনলাইন সহিংসতা প্রতিরোধে একাধিক প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে একটি প্ল্যাটফর্ম নির্দিষ্ট করা উচিত। অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা এড়াতে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা প্রয়োজন।

এছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে উপরোক্ত উদ্যোগগুলো নিতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। নারীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যই নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করতে পারে। এর মাধ্যমে নারীরা সহিংসতার প্রতিকার পাবে। হিংসামুক্ত সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে। তাই নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ও নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার, সমাজসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ড. মতিউর রহমান: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী।

;

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্থিতিশীল হওয়া প্রয়োজন



মো: মাজেদুল হক
মো: মাজেদুল হক

মো: মাজেদুল হক

  • Font increase
  • Font Decrease

এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংখ্যা ১৫ মিলিয়নের কাছাকাছি। বাংলাদেশের শ্রমশক্তির বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশে চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সর্বাধিক জনশক্তি বাংলাদেশ থেকে প্রেরণ করা হয়। বিদেশে কর্মরত মোট জনশক্তির মধ্যে ৩৬ শতাংশ সৌদি আরবে, ১৭ শতাংশ আরব আমিরাতে অবস্থানকরছে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও কিছুসংখ্যক শ্রমশক্তি বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয়। এ সংখ্যা এত বেশি নয়। মালয়েশিয়া হল দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার একটি দেশ যেখানে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো মোট শ্রমশক্তির ৭ শতাংশ কর্মরত আছে।

মালয়েশিয়া সরকার বিভিন্ন সময়ে অভিবাসন নীতি পরিবর্তন করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। এক সময় ‘লেবার রিকলিব্রেশন’ প্রোগ্রাম চালু করে প্রায় ২৬,০০০ বাংলাদেশি শ্রমিকদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। বলা প্রয়োজন যে, যাদের কোন বৈধ কাগজপত্র ছিলনা তাদেরকে এ প্রোগ্রামের আওতায় আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া সরকার ‘ব্যাক ফর গুড’ প্রোগ্রাম চালু করে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিকের দেশে পাঠানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমশক্তি নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি। ২০১৮ সাল থেকে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ভিসা বন্ধ করে দিল। পরে ২০২১ সালের শেষের দিকে এ দুই দেশের মধ্যে আরো একটা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকার ৫ লাখ লোক বাংলাদেশ থেকে নিবে। এখন দীর্ঘ ৪৫ মাস পর আবার মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশিদের জন্য দরজা খুলে দিল। । কিছুদিন আগ থেকে কিছু লোক যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের সাথে মালয়েশিয়া যেটা করেছিল আমার কাছে মনে হচ্ছে একটি ব্যবধান তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সেই ব্যবধান সৃষ্টি হওয়ার কারণে মালয়েশিয়া ‘ব্যাক ফর গুড পলিসি’ চালু করেছিল। এই পলিসি চালুতে কিছু লোকজন মালয়েশিয়া থেকে ফেরত এসেছে। সেটা করোনাভাইরাসের সময় তারা বেশি করে এ সুযোগ নিয়েছে। ব্যাক ফর গুড প্রোগ্রাম এর আওতায় মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক চলে আসে। তখন বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর একটা চাপ বেড়ে যায়। আমি বলবো, মালয়েশিয়ার যে ‘ব্যাক ফর গুড প্রোগ্রাম’ সে প্রোগ্রামটা বাতিল করে দেয়া উচিত। এটা এখনো চালু আছে। এটা যতক্ষণপর্যন্ত বাতিল না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিক ফেরত পাঠানোর সুযোগ থেকে যাবে। মালয়েশিয়াতে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে যে সিন্ডিকেটের কথা বলা হচ্ছে মালয়েশিয়াতে সিন্ডেকশন যে এতো শক্ত সেটা সরকারও তাদের কাছে নতি স্বীকার করছে। সমস্যাগুলো আজও সমাধান হয়নি।

তাদের যারা ‘মিডলম্যান’ হিসেবে কাজ করছে ওটাতো ভাঙ্গতে পারেনি। সুতরাং মালয়েশিয়া লোক পাঠানোর যে চুক্তি ছিল সেটা তো এজেন্সির সাথে চুক্তি ছিলনা। সেটা তো সরকারের সাথে চুক্তি ছিল। জিটুজি পদ্ধতিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কর্মী নেয়া বন্ধ করার পেছনে শক্তিশালী যুক্তি ছিলনা। পরে বাংলাদেশের ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়ে ‘জিটুজিপ্লাস’-এর মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের দেড় হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তখন বাইরে রাখা হয়। এতে সিন্ডিকেট ও অনিয়মের অভিযোগে পুরো প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়। এখন যে শ্রমিক যাচ্ছে নতুন চুক্তি হয়নি। সেই চুক্তিতে আবার নতুন করে লোক পাঠানো শুরু হয়েছে। ওই চুক্তিটি যেন বস্তাবায়ন করে সেটা দেখতে হবে। আমাদের সমস্যাটা কোন জায়গায়? সুদানে যখন লেবারের ডিমান্ড বাড়লো তখন ইন্ডিয়া সাথে সাথে লোক পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার তিন বছর পরে সুদানে লোক পাঠানোর জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। তিন বছর পরে বাংলাদেশ সরকার সেখানে লোক পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। যেটা ইন্ডিয়া তিন বছর আগে পাঠিয়েছে। আমাদের মার্কেট অ্যাসেসমেন্ট করার ক্ষেত্রেও ঘাটতি আছে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেয়ার একটি নতুন প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে। এটি হবে সরকারের সহযোগিতায় (জিটুজি) বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের একটি প্রকল্প। বাংলাদেশ থেকে নির্ধারিত ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে কাংখিত কর্মীপাঠাতে না পারায় দেশটি নতুন এই প্রকল্পের নামে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চাইছে। বোয়েসল- এর মাধ্যমে স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে এই সংখ্যক কর্মী যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ফলে দেখা যাচ্ছে-মালয়েশিয়ায় কাংখিত জনশক্তি রফতানি করতে হলে ঘুরে ফিরে-জিটুজি চুক্তিটিই বাস্তবায়ন করতে হবে। না হয়, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে কাংখিত শ্রমিকপাঠানো সম্ভবপর হবে না।রাতারাতি রফতানিতে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব নয়। কারণ নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করাতে শুল্ক সুবিধা দিবে কিনা দেখতে হবে।

কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর দেশগুলো থেকে যে শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে, সেটাতো অন্য দেশ থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং সেটাতো গর্ভমেন্ট তো গর্ভমেন্ট চিন্তা করতে হবে। সুতরাং আমার কথা হচ্ছে যে, আমাদের নির্ভর করতে হচ্চে ফরেন রেমিট্যান্সের ওপর। এটা দিয়ে রাতারাতি ফরেন রিজার্ভকে বড় স্কেল করা সম্ভব।

মালয়েশিয়াতে প্রবাসীদের অভিবাসন ফি হিসেবে ৫০০ ইউএস ডলার জমা দিতে হয়। ব্রনাইতে জমা দিতে হয় ১৬০০ ইউএস ডলার। সুতরাং ব্রনাইয়ের সুলতান যে বাংলাদেশে আসলেন সেখানে কথা হয়েছে। ব্রনাই যে শ্রমিক যাচ্ছে সে ১৬০০ ডলার জমা দিচ্ছে। সুতরাংমালয়েশিয়ায় এই বিষয়ে মানবিক । সৌদি আরব বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি প্রবাসীদের উপর বিভিন্ন ধরনের ফি বাড়িয়ে দিচ্ছে । এত করে অনেক শ্রমিক দেশে ফিরে আসছে। এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যেও অনেক দেশের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এর কাছে অনেক বকেয়া আছে । যা তারা দিচ্ছে না। নারী শ্রমিকদের কর্ম পরিবেশ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। মালয়েশিয়ায় নারী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। নারী শ্রমিকসবচেয়ে বেশি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে।

শুধু শ্রমিক পাঠালে হবে না। দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে না পারলে কাংখিত সাফল্য আসবেনা। বিদেশে বর্তমানের শ্রমবাজারগুলোতে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হলে ফরেণ রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকবে। এর পাশাপাশি শ্রমিক পাঠানোর জন্য নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। বর্তমানে ফিজিতে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন সে দেশে সম্প্রতি গেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো যে বিদেশে যাওয়া খরচ কমাতে হবে। বাংলাদেশ থেকে যে কোন দেশে খরচ লাগছে ৬ থেকে ৮ লাখ। যা নিকটবর্তী দেশ থেকে অর্ধেক। প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ বা বিনিয়োগের ব্যবস্থা বাড়িয়ে দিতে হবে। সিন্ডিকেট বন্ধ করতে না পারলে বিদেশে জনশক্তি সরবরাহ থমকে যাবে যা অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। শুধু মালয়েশিয়ায় নয় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ- ব্রুনাইতে শ্রমিক সরবারহ বাড়ানোর অনেক সুযোগ আছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

লেখক: অর্থনীতি বিশ্লেষক

 

;

স্বাগতম-সুস্বাগতম এয়ারএ্যাস্ট্রা



মো. কামরুল ইসলাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় নয় বছর পর নতুন একটি এয়ারলাইন্স পেখম তুলে বাংলাদেশের আকাশ পরিবহনকে স্বস্থির আবহাওয়ায় ভরিয়ে দিচ্ছে। ১৭ জুলাই ২০১৪ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এর পর বাংলার আকাশে বিচরণ করতে যাচ্ছে দেশের নবীনতম বিমানসংস্থা এয়ারএ্যাস্ট্রা। বাংলাদেশ এভিয়েশনে আসছে ২৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখকে স্মরণীয় করে রাখতে এয়ারএ্যাস্ট্রা ঢাকা থেকে কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে দেশের আকাশপথকে রঙিন করে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

বাংলাদেশের আকাশ পরিবহন শিল্পের ইতিহাস অম্ল মধুর। নানারকম উচ্ছ্বাস আর আবহ নিয়ে দেশের আকাশথে বিচরণ করার জন্য বেসরকারি বিমান সংস্থা জিএমজি এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজসহ ৮/৯টি এয়ারলাইন্স এর শুভাগমণ ঘটেছিলো কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আজ সেসব এয়ারলাইন্স ইতিহাসের পাতায় স্থান নিয়েছে।

প্রায় ২৬ বছর যাবত বেসরকারি বিমানসংস্থাগুলো নানাভাবে বাংলাদেশ আকাশ পরিবহনকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। বারবার বন্ধুর পথে হোঁচট খেতে হয়েছে। বন্ধ হওয়ার মিছিলকে সমৃদ্ধ করেছে, যা কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না। এয়ারএ্যাস্ট্রার আগমনে এই বন্ধ হওয়ার মিছিলের পরিবর্তে এগিয়ে যাওয়ার মিছিলে রূপান্তরিত হবে এই প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ এভিয়েশন।

একটি এয়ারলাইন্সের আবির্ভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা বাংলাদেশের মতো অধিক জনবহুল দেশে বেকারত্ব দূরীকরণে ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। একটি দেশের আকাশ পথের গতিশীলতা থাকলেই অন্যান্য সকল শিল্পের গতিশীলতা বজায় থাকে। এয়ারএ্যাস্ট্রার আগমনে প্রত্যাশা অনুযায়ী অন্যান্য সকল শিল্পের গতিশলীতা আরো বেশি বেগবান হবে।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প মূলত দেশীয় পর্যটকদের উপরই নির্ভরশীল। দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও বেশি বিকশিত করার জন্য এয়ারএ্যাস্ট্রার আগমনে যেন এই শিল্পে সুবাতাস বয়ে যাচ্ছে। শীতের প্রারম্ভে সারা বিশ্বের জনপ্রিয় নিউ জেনারেশন এয়ারক্রাফট এটিআর ৭২-৬০০ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে এয়ারএ্যাস্ট্রা।

কোভিড ১৯ এর কবলে পড়ে সারা বিশ্বের এভিয়েশন শিল্প চরম দোদুল্যমান অবস্থায় পড়েছিলো। অনেক সুখ্যাত সম্পন্ন এয়ারলাইন্স করোনা মহামারির করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হয়ে প্রি-কোভিড অবস্থায় পৌঁছাতে পারেনি। সেখানে এয়ারএ্যাস্ট্রার আগমণ বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের অগ্রগতির পরিচায়ক বহন করছে, সঙ্গে দেশের অর্থনীতি পজিটিভ সূচককে নির্দেশিত করছে।

বাংলাদেশ এভিয়েশনে করোনা মহামারিতে বিপরীত চিত্রও দেখতে পাই, প্রায় দশ বছরের অধিক সময় ধরে সেবা দেয়া এয়ারলাইন্স রিজেন্ট এয়ারওয়েজ কোভিড ১৯ এর শুরুতে বন্ধ করে দিতে হয়েছিলো রিজেন্ট এয়ারওয়েজকে। যা আজ অবধি আর ব্যবসায় ফিরে আসতে পারেনি।

বর্তমানের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা দিয়ে ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত রাখা প্রত্যেকটি ব্যবসায় সেই নীতি বহন করা উচিত। শুধুমাত্র বর্তমানকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে ভবিষ্যত ব্যবসাকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে দেখা গেছে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে। অনির্ধারিত মহামারি এভিয়েশন শিল্প কিংবা এর সাথে সংশ্লিষ্ট পর্যটন শিল্প কিংবা হোটেল ইন্ডাস্ট্রি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

করোনা মহামারির কারণে হাজার হাজার কর্মক্ষম লোক বেকার হয়ে গেছে। করোনা পরবর্তীতে এয়ারএ্যাস্ট্রার আগমনে প্রায় তিন শতাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে যা বেকার সমস্যা দূরীকরণে ভূমিকা রাখছে। প্রাথমিকভাবে দু’টি এয়ারক্রাফট দিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে এয়ারএ্যাস্ট্রা। ঢাকা থেকে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম রুটে ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন নতুন এয়ারক্রাফট, নতুন নতুন রুট, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্প পজিটিভিটি নিয়ে এগিয়ে যাবে।

এয়ারএ্যাস্টার আগমনের কারণে দেশের জিডিপিতে অংশীদারিত্ব বাড়বে বাংলাদেশ এভিয়েশন ও পর্যটন শিল্পের। একটি নতুন এয়ারলাইন্স কিন্তু প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফসহ অভিজ্ঞতায় ভরপুর একটি পরিচালনা পর্ষদ এয়ারএ্যাস্ট্রাকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা থাকছে একজন এভিয়েশন কর্মী হিসেবে।

এয়ারএ্যাস্ট্রা বাংলাদেশের আকাশ পরিবহনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার সহ জাতীয় বিমানসংস্থার সাথে উন্নত সেবা আর সাশ্রয়ী ভাড়ায় দেশীয় যাত্রীদের আস্থা অর্জন করবে এই প্রত্যাশা সকলের। প্রত্যাশার পারদ ক্রমান্বয়ে উর্ধ্বগতির কারণে আশা করছি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক রুটের মার্কেট শেয়ারে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করে শেয়ার বৃদ্ধি করে দেশীয় এভিয়েশনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এয়ারএ্যাস্ট্রা।

এয়ারএ্যাস্ট্রার আগমনে একজন এভিয়েশন কর্মী হিসেবে জানাই স্বাগতম, সুস্বাগতম।

লেখক: মোঃ কামরুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক-জনসংযোগ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

;