গুজবের পেছনে ষড়যন্ত্র?

প্রভাষ আমিন
প্রভাষ আমিন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রভাষ আমিন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পেঁয়াজ সঙ্কটের সময় লিখেছিলাম, এই সঙ্কট থেকে আমরা কিছু শিখবো কিনা। শেখার চেয়ে আমার শঙ্কা ছিলো বেশি পেঁয়াজ হয়তো কারো কারো টেস্ট কেস। পেঁয়াজ সঙ্কট সৃষ্টি করে একটি মহল তাদের সক্ষমতার প্রমাণ রেখেছে। যে সবজি না হলেও চলে সেই সবজি দিয়ে তারা পরীক্ষাটা চালিয়েছে এবং সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা চাইলে অনেক কিছু করতে পারে।

তবে পেঁয়াজ সঙ্কটের পেছনে স্পষ্টতই সরকারের খামখেয়ালী ছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতার সুযোগ নিয়েছে একটি মহল। কথায় বলে না, সময়ের এক ফোড়, অসময়ের দশ ফোড়। যে পেঁয়াজ গরুর গাড়িতে আনলেও এতদিনে পৌঁছে যেতো, সেই পেঁয়াজকে ভিআইপি মর্যাদায় বিমানে উড়িয়ে আনতে হয়েছে।

পেঁয়াজ নিয়ে অনেক রকম রাজনীতি হয়েছে। তবে পেঁয়াজেও ভারত-পাকিস্তানকে টেনে আনা হয়েছে। এটা ঠিক, বাংলাদেশের পেঁয়াজ সঙ্কটের সাথে ভারতের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশের আমদানি করা পেঁয়াজের ৯৯ ভাগ আসে ভারত থেকে। কিন্তু বন্যার কারণে ভারতে এবার পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয়েছে।

ভারতের রাজনীতিতে পেঁয়াজ খুব স্পর্শকাতর ইস্যু। তাই ভারত কোনো ঝুঁকি নেয়নি। প্রথমে ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দেয়, পরে ২৯ সেপ্টেম্বর রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। রপ্তানি বন্ধ করেই বসে থাকেনি ভারত, সাবধানতা হিসেবে কিছু পেঁয়াজ আমদানিও করে রাখে। ভারত যেখানে অতি সতর্ক, বাংলাদেশ সেখানে অতি উদাসীন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আচরণ রীতিমত গণ্ডারের মত। সেপ্টেম্বরের সঙ্কট তারা টের পেয়েছে মধ্য নভেম্বরে।

এখন কিছু লোক বলছে, বন্ধু রাষ্ট্র ভারত পেঁয়াজ রফতানি করেছে আর শত্রু রাষ্ট্র পাকিস্তান পেঁয়াজ দিয়েছে। কথা শুনে মনে হয়, ভারত ইচ্ছা করে, বাংলাদেশে সঙ্কট সৃষ্টির জন্য পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে। আর পাকিস্তান বিনা পয়সায় পেঁয়াজ দিচ্ছে। হিসাব পরিষ্কার, সব দেশই নিজেদের স্বার্থটা আগে দেখবে। নিজের দেশের সঙ্কট না মিটিয়ে কেউ রপ্তানি করবে না। ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদন কম হওয়ার সুযোগে পাকিস্তান একটু ব্যবসা করে নিয়েছে। পেঁয়াজ ইস্যুতে ভারত বিদ্বেষ বা পাকিস্তান প্রেম দেখানোর সুযোগ নেই। পেঁয়াজ বলে নয়, কোনো ইস্যুতেই অপর দেশ মাথা ঘামানোর দরকার নেই। আমাদের কাজ হলো, বাংলাদেশকে আরো বেশি করে ভালোবাসা। আর বাংলাদেশের স্বার্থেই বিবেচিত হবে, অন্য দেশের সাথে আমাদের সম্পর্ক।

পেঁয়াজের সঙ্কট কেটেছে, লবণের সঙ্কট সৃষ্টির চেষ্টা সফল হয়নি। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু থেমে নেই। থেমে থাকবেও না। তারা পেঁয়াজ দিয়ে শুরু করেছে, লবণ দিয়ে চেষ্টা করেছে। এরপর চাল, আটা, তেল দিয়ে চেষ্টা করতে পারে। শুধু ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করলেই হবে না; ষড়যন্ত্রকারীদের ধরতে হবে। সরকার নিশ্চয়ই জানে, ষড়যন্ত্রকারী কারা। তাদের ধরতে হবে। সাধারণ মানুষ রাজনীতি বোঝে না; তারা চায় নিশ্চিন্তে থাকতে। কারা লবণ নিয়ে ফেসবুকে গুজব ছড়িয়েছে, এটা চিহ্নিত করা কঠিন কিছু নয়। পরবর্তী সম্ভাব্য গুজব সামাল দিতে এদের চিহ্নিত করা ও ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

 

প্রভাষ আমিন: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

আপনার মতামত লিখুন :