করোনা নয়, ডাকছে জীবন

তুষার আবদুল্লাহ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

তথ্য উপাত্তের দিকে আর চোখ রাখছি না। কোভিড-১৯ কতো গতিবেগে চলছে কান পাতছি না সেই খবরে। কিছুদিন আগেও বিশ্বজুড়ে করোনার তাণ্ডব নিয়ে উদ্বিগ্ন থেকেছি। গোলকের কোন প্রান্তে কে করোনার কাছে পরাজিত হয়ে চলে গেল, সেই খবরের দিকে চোখ ছিল। এখন আর এ নিয়ে ভাবছি না। করোনা কালে আছি। অনিশ্চিত অপরিচিত সময়ের টানেলে ঢুকে পড়েছি। কোভিড-১৯ এর আগের জীবনের অপচয়ের টালিখাতা নিয়ে দুই একবার বসে দেখলাম –বিস্তর ভুলে ভরা জীবন। কাটাকুটি করে সেই জীবনকে অনবদ্য করার আপাতত সুযোগ নেই। প্রকৃতি হয়তো সেই সুযোগ আর দেবে না। পরম্পরায় করে আসা ভুল, অপরাধগুলোর দায় নেবার মতো চওড়া কাঁধ আমার নয়। তবুও দায় আমাকে ছাড়ে না। অপরাধের ভারে নুয়ে পড়ছিলাম ঠিক, কিন্তু সেখান থেকেই আবার ঘুরে দাঁড়ানো। আমিতো কোন কাঁচ পোকাকেও বিরক্ত করিনি। ঢিল ছুঁড়িনি আয়েশি জলে। কালবৈশাখীর দিকেও আমি কেমন মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকি। কমলা রঙের আকাশ আমাকে আজো বিস্মিত করে। এখনো আমি সভ্য হতে পিপীলিকার শিষ্যত্ব মেনে নিতে রাজি। তবে কেন অদৃশ্য দু ফোঁটা জল ওজনের জীবাণু আমাকে নির্মূল করতে উদ্ধত?

পাপ করেছে পশ্চিম। পূর্বকে দিতে হবে খেসারত। অপচয় করেছে বিত্তবান, ক্ষুধায় ভস্ম হচ্ছে বিত্তহীন। অদৃশ্য জীবাণু মুচকি হাসে। কেন? বিত্তহীন দাসেরা শুধু হাততালি দিয়েই তৃপ্তির ঢেকুর দিয়ে গেল শতকের পর শতক। জমিন তাদের হলো না। অরণ্য তাদের হলো না। জলাশয়ও তাদের নয়। সবকিছু বিত্তবানের মুঠোর ভেতরে চলে গেছে। না যায়নি। চলে গেলে এই ধারণা মিথ্যে করে দিতেই বুঝি অদৃশ্য জীবাণু করোনার আর্বিভাব। ধরিত্রীর আধিপত্য, রাজত্বের লাগাম আসলে কার হাতে, কোভিড -১৯ তা বুঝিয়ে দিচ্ছে। মানুষ কতোটা বুঝতে পারছে বোঝা যাচ্ছে না। আমার কাছে কেবল মনে হয়, মানুষ ওঁত পেতে আছে। সুযোগের অপেক্ষায় আছে, কোভিড-১৯কে পরাভূত করতে পারলে, কিংবা নিজে থেকেই যদি বিদায় নেই এই অদৃশ্য শক্তি। তাহলে মানুষ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। করোনাকালের লোকসান সুদে আসলে পুষিয়ে নেবার বীভৎস খেলায় মেতে উঠতে পারে মানুষ। জানি না করোনাকাল স্থায়ী হবে নাকি প্রবেশ করতে পারবো করোনা পরবর্তী সময়ে। আপাতত করোনাকাল এবং তার পূর্ব সময় নিয়েই ভাবছি। বদলাতে গিয়ে মোটেও বদলাতে পারছি না। জীবাণু নাশক দিয়ে না হয় হাতের করতল ধুয়ে ফেলা যায়, কিন্তু দূষিত মনকে কী করে পরিশোধিত করি? মুখোশের ওপর মুখোশ দিয়ে কীভাবে আটকে রাখবো আগামীতে বীভৎস হবার নকশা।

পৃথিবীর প্রতি কোন অভিমান রাখছি না। ও আমার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে কখন অজানা সেটাও। অদৃশ্য এবং অজানাকে টপকে যেতে চাইছি আমি। তাই যতক্ষণ আছি পৃথিবীতে, ততক্ষণ তিলাঘুঘুর জন্যে ছুটবো মরিয়া হয়ে। শ্যাওলা ঢাকা দেয়ালে দেখবো শামুকের হণ্টন। কমলারঙা রোদে প্রিয়তমার মুখে এলিয়ে পড়া চুলে সাদা জবা ঝুলিয়ে দেবার কাঙালীপনা থাকুক। কন্যাকে কাঁধে নিয়ে ছুটবোই যাদু কাঁটার পথে। পুত্র তালগাছের মতো দীর্ঘ হবে, রইবো সেই অপেক্ষাতেও। জীবন হেরে যাবার নয়। দিনের আলো আর রাতের আঁধারের হাহাকারের সুর এখন এক। বিসমিল্লাহ খাঁ’র সানাইরের সুর যেন বিদায়ের সুর ভাঁজতেই জানে। তারপরও আমি বাশিঁওয়ালার পেছনে আছি। উদযাপনে মেতে ওঠার সন্তুর এবার নিজেই বাজিয়ে যেতে চাই।পদ্মপাতার শিশির বিন্দু যে জীবন, সেই জীবনকে অনন্তের স্বাদ দিতে পারি আমি, আমরাই। তাই আতঙ্ক নয়, চলুন রোদে যাই –জীবন ডাকছে।

আপনার মতামত লিখুন :