বার্তা২৪ বয়ে আনুক নতুন দিনের বারতা

প্রভাষ আমিন
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সময় যেন থমকে আছে। বার, তারিখ, মাস, সময় যেন অর্থহীন। দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা ক্যালেন্ডার বা ঘড়িগুলো থাকা না থাকাও সমান। এখন ৮টা বাজে না ১০টা, এখন বিকাল ৩টা না রাত ৩টা; কারো কিছু যায় আসে না। আজ শুক্রবার না রোববার তাতেও কোনো ফারাক নেই। এখন মার্চ মাস না ডিসেম্বর, বৈশাখ না মাঘ; তাতে কী আসে যায়? কারো কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই। সময়ের থমকে থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান ট্রল হয়। সেদিন দেখলাম একটা ঘড়ির ডিজাইন, তাতে একটাই কাটা, ঘণ্টা-মিনিট বা সেকেন্ড নয়, সেখানে ৭ দিনের নাম। আরেকটা ক্যালেন্ডার দেখলাম- তাতে জানুয়ারি মাস, ফেব্রুয়ারি মাস, করোনা মাস; এই তিনটাই মাস।

কিন্তু ঘড়ি বা ক্যালেন্ডার তো আর জানে না বিশ্বে এখন করোনা দুর্যোগ চলছে। তাই যথারীতি ঘড়ির কাটা চলে, দিন ফুরায়, মাস ফুরায়; ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টায়। আসে ১৮ মে, আসে প্রিয় বার্তা২৪-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। কিন্তু শুভ জন্মদিন যে সে উপায়ও নেই। চারদিকে এত অশুভের আনাগোনা, শুভর বড্ড আকাল। তবুও আমাদের শুভ ইচ্ছাগুলো, শুভ আকাঙ্ক্ষাগুলো বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নিশ্চয়ই একদিন আসবে, আমরা আমাদের উপলক্ষগুলো উদযাপন করতে পারবো।

বাংলাদেশে কোনো অনলাইনের আগমন কোনো কৌতূহল সৃষ্টি করে না। মনে মনে ভয় হয়, নিশ্চয়ই কোনো ধান্ধা বা সাংবাদিকতার নামে ব্ল্যাকমেইলিং এর আরেকটি দোকান খুলছে। নতুন অনলাইন মানেই আরও কিছু কার্ডধারী সাংবাদিকের সৃষ্টি, যারা প্রতিদিন পেশার অবমাননা করবে। ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠে শত শত অনলাইন তাই অন্তর্জালে আবর্জনাই শুধু বাড়ায়। আর সত্যিকারের অনলাইন নিউজপোর্টালের কাজগুলো আরও কঠিন করে দেয়। বাংলাদেশে কয়টা মানসম্মত অনলাইন আছে? আপনি কয়টাকে বিশ্বাস করেন? আমার ধারণা ১০টার বেশি হবে না। ধরে নিলাম ২০টা। কিন্তু বাংলাদেশে অনলাইন আছে কয়টা? এই প্রশ্নের উত্তর আপনিও জানেন না, আমিও জানি না, আমার ধারণা তথ্যমন্ত্রীও জানেন না। তাই নতুন কোনো অনলাইন আসার খবর আমাকে কৌতুহলী করে না। কিন্তু বার্তা২৪-এর আসার খবর আমাকে কৌতুহলী করেছে, কারণ এর সম্পাদক আলমগীর হোসেন। আলমগীর ভাইয়ের সাথে আমার চেনাজানা আমার ক্যারিয়ারের সমান বয়সী। ৮৯/৯০ সালে আমি যখন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি টুকটাক লেখালেখির চেষ্টা করি আলমগীর হোসেন তখন ইত্তেফাকের জাদরেল রিপোর্টার। এরপর বিচিন্তা-প্রিয় প্রজন্মের অ্যাডভেঞ্চারকালেও আলমগীর ভাইয়ের দেখা পেয়েছি। তিনি অত বড় হয়েও আমাদের মত পুচকেদের দূরে ঠেলে দেননি। বন্ধুর মত কাছে টেনে নিয়েছেন, প্রশ্রয় দিয়েছেন। আলমগীর ভাইদের লাই, প্রশ্রয়, স্নেহ পেয়েই এই নিষ্ঠুর ঢাকায় টিকে গেছি। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই যে আলমগীর ভাইয়ের অনলাইন নিয়ে কৌতুহল তা কিন্তু নয়। আলমগীর হোসেন হলেন বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার পথিকৃত। বিডিনিউজ, বাংলানিউজের সাফল্যের পথ ধরেই আলমগীর হোসেন নিজস্ব উদ্যোগে বার্তা২৪.কম নিয়ে এসেছেন।

আলমগীর ভাই উদ্যোগ আর উদ্যম কিন্তু পুরোনো। ৯১ সালে সেগুনবাগিচায় প্রিয় প্রজন্ম অফিসের একটি রুমে তিনি শুরু করেছিলেন একটি উদ্যোগ। সেই উদ্যোগ হয়তো সফল হয়নি, কিন্তু আরও নতুন উদোগের তৃষ্ণা জাগিয়েছিল তার মনে। সেই তৃষ্ণাই তাকে টেনে এনেছে আজকের অবস্থানে। একজন সংবাদকর্মীর সংবাদতৃষ্ণা আসলে ফুরায় না কখনো।

অপরিচিত নম্বর থেকে প্রিন্স নামের একজন একদিন ফোন করে বললেন, তাদের অনলাইনের জন্য লিখতে। এমন অনুরোধ মাঝে মধ্যেই পাই। বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দেই। একে তো ব্যস্ততা, দ্বিতীয়ত যে কোনো অনলাইনে লিখতে আমার আপত্তি। আমি চাই যেখানে আমার লেখা ছাপা হবে, সেটি যেন পাঠক বিশ্বাস করে। সেই অনলাইনের বিশ্বাসযোগ্যতার সাথে আমার লেখার বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপার আছে। প্রিন্স যখন বললেন, তিনি বার্তা২৪.কমে কাজ করেন। আমি আর কোনো প্রশ্ন করিনি। সেই থেকে নিয়মিত লিখছি। সেই অপরিচিত এরশাদুল আলম প্রিন্সের সাথে এখন আমার নিত্য যোগাযোগ। বার্তা২৪.কমে এখন আমার 'যেমন ইচ্ছা লেখার কবিতার খাতা'। বার্তা২৪.কম এর কাছে আমি অবাধ স্বাধীনতা পেয়েছি এবং সেই স্বাধীনতার কোনো অপব্যবহার করিনি।

আরেকটা খুব জরুরি বিষয় পেয়েছি, দ্রুততা। লেখার বিষয় সমসাময়িক হলে রাত-বিরাত যখনই পাঠিয়েছি, দ্রুততম সময়ে পোস্ট হয়েছে। সংবাদের দুনিয়ায় বস্তুনিষ্ঠতা যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি গতিও। তবে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে যেন তথ্যের ঘাটতি না থাকে, বস্তুনিষ্ঠতার কমতি না হয়। মাঝে মধ্যে আলসেমির কারণে লম্বা গ্যাপ হয়, আবার কোনো কোনো সপ্তাহে একাধিক লেখাও ছাপা হয়।

দুই বছরে বার্তা২৪.কম বাণিজ্যিকভাবে কতটা সফল হয়েছে, হিট কত হয়েছে, অ্যালেক্সা রেটিং কী বলে জানি না। তবে আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে বার্তা২৪.কম পাঠকের বিশ্বাস অর্জন করেছে। এটাই একটা অনলাইনের সবচেয়ে বড় অর্জন, সবচেয়ে বড় সাফল্য। মহামারির এই সময়ে সবাই যখন ঘরে বন্দী, তখন গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। মহামারির সময়ে তথ্যের পাশাপাশি অনেক গুজবও ছড়ায়। কিন্তু তথ্যের মত দেখতে গুজব খুবই ভয়ঙ্কর। তাই জনগণকে নিরাপদ রাখতে সঠিক তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যের স্রোতে যাতে গুজব ভেসে যায়। এখানেই গণমাধ্যমের দায়িত্ব।

একদিন নিশ্চয়ই এই দুঃসময় শেষ হবে। আতঙ্কের দীর্ঘতম রাত শেষ হয়ে নিশ্চয়ই নতুন ভোর আসবে। সেই দিন বার্তা২৪.কমও নিশ্চয়ই শুভ বারতা নিয়ে হাজির থাকবে।

প্রভাষ আমিন: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

আপনার মতামত লিখুন :