করোনায় পৌনে ৩৮ হাজার কোটি টাকার পুঁজি উধাও

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে পুঁজিবাজারের মহাধস নেমেছে। এ ধসে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের ৩৭ হাজার ৮৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা পুঁজি অর্থাৎ বাজার মূলধন নেই হয়ে গেছে।

গত ০৮ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত কার্যদিবসে এ টাকা হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

০৮ মার্চ (রোববার) বাংলাদেশে প্রথম তিনজনের করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার কথা জানায় আইইডিসিআর। এতে ওই দিন সূচক কমে ৯৭ পয়েন্ট। এরপর দিন সোমবার হয় ভয়াবহ ধস। সূচক কমে ২৭৯ পয়েন্ট। এভাবে সাত দিনের মধ্যে পাঁচ দিন সূচক কমে ৬১১ পয়েন্ট।

সূচক কমে সাড়ে ছয় বছর পেছনে ফিরে গেছে দেশের পুঁজিবাজার। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা, করোনাভাইরাস আরও ব্যাপকভাবে ছড়াবে। আর তাতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। তাই পুঁজি তুলে নিতে ১০ টাকার শেয়ার ৫ টাকায় বিক্রি করার হিড়িক পড়েছে।

একের পর এক বৈঠক শেষে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (বিএসইসি) কমিশনসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বাজার স্থিতিশীলতার আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু বিনিয়োগকারী এবং ব্রোকারেজ হাউজ কর্তৃপক্ষ কেউ আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তারা আতঙ্কিত ও হতাশাগ্রস্থ রয়েছেন। নতুন করে পুঁজি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। দ্রুত এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চান তারা।

পুঁজিবাজারের পার্যালোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে পুঁজিবাজার নিয়ে সবাই আতঙ্ক ও হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, তারল্য ও আস্থার সংকট কাটিয়ে পুঁজিবাজার ভালো হতে শুরু করেছিল। সূচক ও ৫ হাজার পয়েন্টে চলে গিয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস জোরেসোরে হানা দেওয়ার কারণে পুঁজিবাজারের সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দুশ্চিন্তায় ১০ টাকার শেয়ার ৫ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে সব সাধারণ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সার্বিক বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনাটা সাময়িক। করোনা সাময়িক সময়ের জন্য এসেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য, পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। কিভাবে বাজার থেকে স্থিতিশীল রাখা যায় সে চেষ্টা করছি।পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন তিনি।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন,তফসিল ব্যাংকগুলো বিশেষ ফান্ড গঠন করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

বুধবার(১৮মার্চ) থেকেই ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শুরু করবে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম বলেন, সবগুলো ব্যাংকই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সবাই যেন একসাথে বিনিয়োগ না করে সে বিষয়টি খেয়াল রাখা হবে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়টিও মনিটরিং করা হবে।

ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার বলেন, বিশেষ ফান্ড গঠনে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। তবে কিছু ক্ষেত্রে শর্ত শিথিলের কথা বলেছি।

আপনার মতামত লিখুন :

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস