৬ শতাধিক গার্মেন্টস চালু, সোমবার খুলবে আরও ৫ শতাধিক

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কয়েক দফায় বাড়ানোর পর সরকার ঘোষিত দেশব্যাপী সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৫ মে পর্যন্ত। এ ছুটির মধ্যে রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রথম দফায় রফতানিমুখী ৬ শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা চালু করেছেন মালিকরা।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) নতুন করে আরও ৫ শতাধিক কারখানা চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব গার্মেন্টস খোলা হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে কয়েক দফা বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বিভিন্ন কৌশল ও তদবিরের মাধ্যমে ‘অর্থনীতির চাকা সচল’ রাখার দোহাই দিয়ে কারখানাগুলো চালু করেছেন মালিকরা।

তার জন্য শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) থেকেই কর্মচারী ও শ্রমিকদের ডেকে আনা হয়েছে গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে। তবে ৫ মে পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শনিবারও (২৫ এপ্রিল) অনেক শ্রমিকই কর্মস্থলে ফিরেছেন বিকল্প উপায়ে।

তৈরি পোশাক কারখানা বা রেডিমেড গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমএইএ) তথ্য মতে, রোববার তাদের সদস্যভুক্ত ৫০২টি পোশাক কারখানা খুলেছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ১৮টি, সাভার-আশুলিয়ার ১২৯টি, ঢাকার ২৫টি, গাজীপুরের ২৩৮টি ও চট্টগ্রামের ৯২টি কারখানা খোলা হয়েছে। আর দেশের বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) মতে, রোববার তাদের ১০ থেকে ১২টি কারখানা খোলা ছিল।

এছাড়া বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) শতাধিক কারখানা চালু করা হয়েছে রোববার। তবে তার আগে থেকেই মাস্ক ও পিপিই উৎপাদনকারী প্রায় শতাধিক কারখানা চালু ছিল।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, পোশাকশিল্পের ৮৬৫টি কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি আছে। এ পর্যন্ত তিন বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ডলারের অর্ডার বাতিল হয়েছে। আমাদের ওপর কারখানা খুলে দেওয়ার চাপ আছে। অনেকের অর্ডার আছে। এলাকাভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দিনক্ষণ বেধে, সীমিত আকারে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কারখানা খুলে দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে তিনি সবার সহযোগিতা চান।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোতে যদি অর্ডার চলে যায়, তাহলে তা ফেরত আনা কঠিন হবে। তাই সীমিত শ্রমিক নিয়ে সীমিত আকারে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

এ কারণে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমইএ ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে কারখানা বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা দেয়নি।

বরং শনিবার বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গার্মেন্টস মালিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে অঞ্চলভিত্তিক পোশাক কারখানা চালু করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সদস্যদের উদ্দেশে কারখানা খোলা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিজিএমইএ’র ওয়েবসাইটে এক বার্তা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য সামগ্রিক বিবেচনায় বিজিএমইএ আপনাকে জোনভিত্তিক, সীমিত পরিসরে কারখানা খোলার পরামর্শ দেবে সরাসরি। এর আগে শ্রমিকদের ঢাকায় না আনার জন্যও সদস্যদের পরামর্শ দেওয়া হলো।

বার্তায় বিজিএমইএ সদস্যদের উদ্দেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সেইসব কর্মীদের নিয়ে কারখানা চালু করুন, যারা কারখানার নিকটবর্তী স্থানে বসবাস করেন।

বিজিএমইএ’র বার্তায় আরও বলা হয়েছে, মানবিক কারণে শ্রমিকদের ছাঁটাই না করার জন্য সদস্যদের অনুরোধ করা যাচ্ছে। অনুপস্থিত শ্রমিককে এপ্রিল মাসের বেতন পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিকে পোশাক কারখানা খোলায় সতর্কতা অবলম্বন বিষয়ে রোববার (২৬ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিবের কাছে আবার চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ)। গার্মেন্টস খোলার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে সংগঠনটির পক্ষে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক কারখানায় চল্লিশ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যারা এখনও দারিদ্র সীমার নিচে বাস করেন, স্বল্প শিক্ষিত এবং করোনার সংক্রমণের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তত সচেতন নন। এদিকে পবিত্র মাহে রমজান মাস চলছে, সামনে পবিত্র ঈদ। এ সময়ে শ্রমজীবী মানুষের বিশাল একটি অংশের জন্য নিরাপদ কর্ম এলাকা, কর্মস্থলে অসংক্রমিত যাতায়াত, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা দরকার। এসব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে একাধিক শিফট চালু করা যেতে পারে।

ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ শ্রম শিল্পে শ্রমিক ও অন্যান্য কর্মীকে সুস্থ রাখার স্বার্থে পরীক্ষামূলকভাবে প্রশাসনের নজরদারিতে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় প্রথমে কারখানা খোলা রাখা যেতে পারে। শ্রমজীবী মানুষের সুস্থতা ও নিরাপত্তা শুধু কারখানা মালিকের ওপর ছেড়ে দেওয়া সঙ্গত হবে না। সেজন্য প্রশাসন, স্বাস্থ্য অধিদফতর, পরিবহন, শ্রম পরিদর্শক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবার নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় বিগত সময়ের বিভিন্ন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে এবং বিদেশে পোশাক রফতানিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় তৈরি পোশাক কারখানায় সংক্রমণ নিরোধ ব্যবস্থা, শ্রমিকের নিরাপত্তা, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সচেতনতা, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই। এ সতর্কতা শিল্প কারখানার জন্য একান্ত আবশ্যক বলে মনে করেন সংগঠনটির সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস