করোনা আতঙ্কের মধ্যেই তিন আসনে উপ-নির্বাচন শনিবার

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

ইসমাঈল হোসাইন রাসেল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিনটি সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচন।

চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তের সমালোচনাকে তোয়াক্কা না করেই শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন।

এ তিন আসনের মধ্যে ঢাকা-১০ আসনের সবকটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হবে। যদিও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা বলেছেন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। কেননা ফিঙ্গারপ্রিন্টযুক্ত ইভিএমে ভোটদানে ভাইরাস বিস্তারের ঝুঁকি আছে।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইচ্ছা করলে নির্বাচন ৩ মাস পিছিয়ে দিতে পারেন। যদিও কমিশন ভোটারদের করোনাভাইরাসের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে সতর্কীকরণ ব্যানারসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, টিস্যু পেপারের ব্যবস্থা রেখে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। একই সাথে ভোটারদের ভোট প্রদান করে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছে। হাত ধুয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

তিনটি সংসদীয় আসনে ভোটার রয়েছেন প্রায় সাড়ে ১০ লাখ। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা রয়েছেন প্রায় সাত হাজার। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন ২০ হাজারের বেশি। একই দিনে নির্বাচনী আসনগুলোতে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বড় হুমকি বলে মনে করছেন ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঢাকা-১০ আসন:
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড (ধানমন্ডি ও লালবাগ থানা) নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ সংসদীয় আসন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১২ হাজার ২৮১ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি এবং ভোটকক্ষ ৭৭৬টি। নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন— আওয়ামী লীগের মো. শফিউল ইসলাম (নৌকা), বিএনপির শেখ রবিউল আলম (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি-জাপার হাজী মো. শাহজাহান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান (ডাব), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী (হারিকেন) ও পিডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী আব্দুর রহিম (বাঘ)।

২৯ ডিসেম্বর ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে তাপস পদত্যাগ করায় তার আসন শূন্য হয়।

গাইবান্ধা-৩:
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) সংসদীয় আসনের ভোটগ্রহণের জন্য শুক্রবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদেরকে বিতরণ করা হয় নির্বাচনের সরঞ্জাম। গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে।

একটি পৌরসভা ও ১৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে ভোটার ৪ লাখ ৩৫ হাজার ২১১ জন ও ভোট কেন্দ্র ১৩২টি। ভোটগ্রহণের জন্য ১৩২ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৭৮৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ১৫৭২ পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন সহকারী পরিদর্শকসহ ৫ জন পুলিশ ও ১২ জন আনসার দ্বায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া দুই উপজেলায় ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক র্যাব সদস্যের মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে।

আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার ২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর মারা যাওয়ায় এ আসনটিতে উপ-নির্বাচন হচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, বিএনপির দলীয় প্রার্থী গাইবান্ধা জেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক ও জাপার প্রার্থী মইনুল রাব্বী চৌধুরী।

এদিকে গত বুধবার জাসদের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম খুদি নৌকার সমর্থনে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

বাগেরহাট-৪:
বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের উপ-নির্বচনে দুটি উপজেলার ১৪৩টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৫১০ জন ভোটার রয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা এলাকায় এলাকায় টহল দিচ্ছেন। শুক্রবার সকাল থেকে নির্বাচনী এলাকার ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করে ইসি।

এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন এবং জাতীয় পার্টি-জাপার সাজন কুমার মিস্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও বাগেরহাট-৪ আসনের রিটার্নিং কর্মকতা মো. ইউনুচ আলী বলেন, ভোট নির্বিঘ্ন করতে দশ প্লাটুন বিজিবি, দুই প্লাটুন কোস্টগার্ড, র্যাবের ১০টি টহল টিম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্বাচনে ২৩ জন নির্বাহী, দুইজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের ২১টি ভ্রাম্যমাণ টিম এবং দশটি স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।

১৪৩টি ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট ব্যাক্স, সিলসহ সব সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোট উপহার দিতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পাঁচজন করে পুলিশ সদস্য এবং ১২ জন আনসার সদস্য থাকবেন। নির্বিঘ্নে ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে আহ্বান জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

গত ১০ জানুয়ারি বাগেরহাট-৪ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেনের মৃত্যু হলে আসনটি শূন্য হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস