‘স্বপ্নের দিনে’ চলে গেলেন পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি (১৯০৩৯-২০২০)

পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি (১৯০৩৯-২০২০)

  • Font increase
  • Font Decrease

রূপালি পর্দায় তিনি স্বপ্নের ছবি আঁকতেন। প্রেম ও রোমান্টিক আবহে সাধারণ, মধ্যবিত্ত মানুষের আটপৌরে জীবনসংগ্রামের কঠিনতম প্রান্তরে আনতেন স্বপ্নের ছোঁয়া। স্বপ্ন নিয়েই তিনি বেঁচে ছিলেন। তার একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র 'হঠাৎ বৃষ্টি'তে নচিকেতার কণ্ঠে গাওয়া 'একদিন স্বপ্নের দিন, বেদনার বর্ণবিহীন' গানের রেশ ধরে ‘স্বপ্নের দিনে’ চিরতরে চলে গেলেন পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি (জন্ম: ১০ জানুয়ারি ১৯৩০, মৃত্যু: ৪ জুন ২০২০)।

করোনার সামাজিক দূরত্বের পরিস্থিতিতেও তার মৃত্যু বোম্বে চলচ্চিত্র জগত ও সিনেমাবোদ্ধাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে সামাজিক সিনেমার লিজেন্ডারি পরিচালক হিসেবে। 'মিডল ক্লাস আরবান' তথা নাগরিক মধ্যবিত্তের রোমান্টিক জীবনের চাওয়া-পাওয়া, সফলতা-ব্যর্থতাকে এতো স্পষ্টভাবে নান্দনিক পরিসরে খুব কম পরিচালকই ধরতে পেরেছেন।

তার মৃত্যু সংবাদ শুনতেই তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো ভিড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়। বোম্বের হিন্দি চলচ্চিত্রের আজগুবি জগতে আলাদা ঘরানার এই পরিচালক বাসু চ্যাটার্জির ছবি যারা দেখেছেন, তারা সহজেই তাকে ও তার কাজকে ভুলতে পারবেনা।

বিশেষত সামাজিক ও রোমান্টিক চলচ্চিত্র নির্মাণে তার দক্ষতা প্রবাদপ্রতিম। বাংলাদেশের নায়ক ফেরদৌসকে নিয়ে তার নির্মিত 'হঠাৎ বৃষ্টি' ছবিটি যারা দেখেছেন, তাদের মনে আছে রোমান্টিক কাহিনির চিত্রায়ণে তিনি কতটুকু পারঙ্গম।

সারা জীবন মধ্যবিত্তের আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম-বিরহ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি। বোম্বের বাঘা-বাঘা পরিচালকের ক্রাইম, অ্যাকশন, ভায়োলেন্সভিত্তিক ম্যাগাফিল্মের সঙ্গে নিটোল নির্মাণশৈলী ও কাহিনির জোরে লড়াই করেছেন তিনি। একজন শিল্পিত নির্মাতা হিসেবে তার কদর ছিল সর্বজনবিদিত।

বাসু চ্যাটার্জি গুরুত্ব দিতেন কাহিনি ও নির্মার্ণকলায়। গভীর অনুভূতিসূচক কাহিনিকে তিনি সিনেমাটোগ্রাফি, সংলাপ, চিত্রনাট্য ও নেপথ্য সঙ্গীতের আবহে জমিয়ে দিতেন। তার অধিকাংশ ছবির সঙ্গীত পরিচালনায় সঙ্গত কারণেই ছিলেন বিখ্যাত সলিল চৌধুরী।

পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি (১৯০৩৯-২০২০)

খুবই স্নিগ্ধ আর হৈচৈ-হট্টগোল ছাড়া ছবি করতেন বাসু চৌধুরী। অল্প কয়জন অভিনেতাকে নিয়েই তার ছবি উতরে গেছে। প্রতিটি চরিত্রকে গভীরভাবে ফোকাস করার মাধ্যমে তিনি একই সঙ্গে কাহিনি ও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জীবন্ত করে তুলতেন।

চলচ্চিত্রের গ্রামার তিনি এতোটাই ভালো বুঝতেন যে, বিশাল স্টেজ, বড় ক্যানভাস, সুপার হিরো-হিরোইন, অনেক কাস্টিং ও রং-বেরঙের কস্টিউমস ছাড়াও তার ছবি নান্দনিক সুষমায় উজ্জ্বল ও জনপ্রিয়। শিক্ষিত, পরিশীলিত, রুচিশীল দর্শকদের পছন্দের তালিকায় তিনি সব সময়ই ছিলেন।

বাসু চ্যাটার্জি প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়, বোম্বে তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রে বাঙালির অবদান নেহাৎ কম নয়। চলচ্চিত্র শিল্পের উত্থানপর্বের ঐতিহাসিক ধারায় অনেক বাঙালি শিল্পী, পরিচালক, কলাকুশলীর নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে তেমনি নামজাদা পরিচালক ছিলেন হৃষীকেশ মুখার্জি ও বসু ভট্টাচার্য।
গত শতকের ৬০ ও ৭০ দশকে বোম্বের চলচ্চিত্র জগতে উল্লেখযোগ্য আলোড়ন তৈরি করেছিলেন এ দুজন বাঙালি পরিচালক।

চলচ্চিত্রে বাসু চ্যাটার্জির বিকাশ হৃষীকেশ মুখার্জি হাত ধরে। পরিচালক বসু ভট্টাচার্যর পৃষ্ঠপোষকতাও তিনি পেয়েছিলেন। তিনি হৃষীকেশ মুখার্জি এবং বসু ভট্টাচার্যের সহকারী হিসাবে চিত্রনির্মাণ করেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ছিল তিসরি কসম। রাজ কাপুর ও ওয়াহিদা রহমান অভিনীত তিসরি কসম চলচ্চিত্রটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছিল।

মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রেম, ভালোবাসা নিয়ে সিনেমা বানানোর দিকেই ছিল বাসু চ্যাটার্জির বিশেষ প্রবণতা ও ঝোঁক। সামাজিক আখ্যানভিত্তিক ছবিই প্রধানত তিনি নির্মাণ করেছে। বাসু চ্যাটার্জির প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র সারা আকাশ (১৯৬৯)। এই ছবিটির জন্য ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

চিত্রনাট্য, সংলাপ রচয়িতা , কাহিনিকার, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি কিছু বাংলা সিনেমা ও টিভি সিরিয়াল পরিচালনা করেন। তার বিখ্যাত কিছু ছবির মধ্যে রয়েছে সারা আকাশ, রজনীগন্ধা, ছোটি সে বাত, স্বামী, গোধূলি, ত্রিশঙ্কু ইত্যাদি।

বাঙালি বাবু হলেও বাসু চ্যাটার্জি হিন্দি চলচ্চিত্রে সাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। কারণ তিনি জন্ম নেন হিন্দিভাষী অঞ্চলে, ১৯৩০ সালের ১০ জানুয়ারি ভারতের রাজস্থান প্রদেশের ঐতিহাসিক আজমির শহরে। তার বহু ছবিতেই উত্তর ভারত তথা জন্মস্থান রাজস্থানের প্রকৃতি, পরিবেশ ও নিসর্গের ব্যবহার রয়েছে।

বিশেষত 'হঠাৎ বৃষ্টি' ছবিতে প্রত্নঐতিহ্য ও মরুময় জয়সলমীর চমৎকারভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থানের থর মরুভূমির মাঝখানে পাকিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষা জয়সলমীরের বিরাণ ও ঊষর প্রান্তরে বাঙালি যুবকের (ফেরদৌস) প্রেম ও বিরহ ছবিটিকে দর্শকপ্রিয় করেছে। অচেনা ও নবাগত ফেরদৌসকেও এই ছবি বিখ্যাত করেছে। এমন অনেকেই লাইম লাইটের আলোয় এনেছেন মেধাবী পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি।

বাসু চ্যাটার্জিকে লড়তে হয়েছে পর্বত-সদৃশ্য রাজ কাপুর এবং দিলীপ কুমারের ইমেজের বিরুদ্ধে সাধারণ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে। তাকে লড়তে হয়েছে বিখ্যাত নায়কের মিছিলের বিরাট বাজেটের চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধেও, যেখানে ছিলেন সুনীল দত্ত, অমিতাভ, ধর্মেন্দ্র, বিনোদ খান্না, শত্রুঘ্ন সিনহার মতো সুপারস্টার। তবু তিনি নতুন ও অচেনাদের দিয়ে বিকল্প জগৎ নির্মাণ করতে সফল হয়েছেন। যেখানে দর্শকরা নিজের স্বপ্নের অদেখা জগতকে রূপালি পর্দায় পেয়েছে।

বোম্বের অন্য পরিচালকের মতো বাসু চ্যাটার্জি স্বপ্ন ও ফ্যান্টাসির তোপ দেগে দেননি দর্শকদের মগজে। বরং দর্শকের সুপ্ত মনস্তাত্ত্বিক স্তরের অবচেতনে যে অসফল বা চাপা পড়া স্বপ্ন আছে, তাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ ও তাদের দৈনন্দিন স্বপ্ন-সংগ্রামই ছিল তার উপজীব্য।

নায়ক অনিল কাপুর তার অভিনয় জীবনে বাসু চ্যাটার্জির ভূমিকা স্বীকার করে বলেছেন, তিনি ছিলেন সময়ের চেয়ে এগিয়ে। চলতি পথের বাইরে। বিকল্পের উদ্ভাবক। মেধা ও স্বকীয়তায় অগ্রগামী।

বিশিষ্ট পরিচালক মাধুর ভাণ্ডারকার মনে করেন, বাসু চ্যাটার্জির নাম চিরস্মরণীয় থাকবে এইজন্য যে তিনি সিরিয়াস সামাজিক ইস্যুকে হালকা চালে ও হাস্যকৌতুকের সঙ্গে তুলে ধরতে পেরেছেন। মানুষের জীবনের সীমাহীন অপ্রাপ্তির পরেও তার ভেতরে লুক্কায়িত রোমান্টিক স্বপ্নটিকে তিনি বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। শত বেদনা ও হতাশায় আকীর্ণ সামাজিক মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সুপ্ত সৌন্দর্যকে তার মতো সফলতায় খুব কম পরিচালকই তুলে ধরতে পেরেছেন।

বোম্বের বহু চলচ্চিত্রজন শোকবার্তায় এমনটিই জানিয়েছেন যে, চলচ্চিত্র মাধ্যমকে মানুষের হৃদয়স্পর্শী করার কৃতিত্ব তার। সাধারণ টেকনিক ও সরল উপস্থাপনায় তিনি সেটা করেছেন। কঠিন কঠিন সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ইস্যুকে সহজে ধারণ করেছেন। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত চলচ্চিত্র নির্মাতা, যিনি সেলুলয়েডে স্বপ্ন বিনির্মাণ করতে পারতেন।

৯০ বছরের সুদীর্ঘ জীবন চলচ্চিত্রের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকলেও বাসু চ্যাটার্জী মুম্বাই থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ট্যাবলয়েড Blitz-এ অঙ্কনশিল্পী এবং কার্টুনিস্ট হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তবে জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে সিনেমার স্বপ্নময় রূপালি জগতকেই তিনি আপন করে নেন। মৃত্যুর উড়ালপথে তিনি সিনেমার স্বপ্নময় জগত থেকে চলে গেলেন চিরকালের স্বপ্নের দিনে।

   

বগুড়ায় সিনেমা হলে দর্শক টানতে বিরিয়ানি বিতরণ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া।
সিনেমা হলে দর্শক টানতে বগুড়ার অভিনব পন্থা অবলম্বন

সিনেমা হলে দর্শক টানতে বগুড়ার অভিনব পন্থা অবলম্বন

  • Font increase
  • Font Decrease

সিনেমা হলে দর্শক টানতে বগুড়ার ধুনটে অভিনব পন্থা অবলম্বন করেছে হল কর্তৃপক্ষ। উপজেলা সদরে ঐতিহ্যবাহী ঝংকার সিনেমা হলে ১০০ টাকার প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে দর্শকের হাতে বিনামূল্যে এক প্যাকেট বিরিয়ানি তুলে দেয়া হচ্ছে।

রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে দর্শক টানতে সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই খাবারের আয়োজন করেন। এই উদ্যোগ বিনোদন প্রিয় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

দেশে এক সময় বিনোদনের বড় মাধ্যম ছিল সিনেমা। আর হলে গিয়ে সিনেমা দেখা ছিল আনন্দ উদযাপনের অন্যতম অংশ। কালের বিবর্তনে আর অপ সংস্কৃতির প্রভাবে  সিনেমা হলগুলো প্রায় বিলুপ্ত হওয়ায় সেই জায়গা দখল করেছে স্মার্টফোন, ট্যাব। 

ধুনট শহরে ঈসা খানের মালিকানাধীন ঝংকার সিনেমা হলটি ১৯৮৪ সালে স্থাপিত হয়। ভালো ছবি নির্মাণ না হওয়ার কারণে সিনেমা হলের দর্শক কমতে থাকে। এক পর্যায়ে দর্শক শূন্যতায় সিনেমা হলটিতে ছবি প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ এক দশক পর ২০ এপ্রিল থেকে আবারো ঝংকার সিনেমা হলে ছবি প্রদর্শন শুরু করেছেন হল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে হলে প্রদর্শন হচ্ছে আদর আজাদ ও পূজা চেরি অভিনীত সিনেমা ‘লিপস্টিক’। ঝংকার সিনেমা হলে দর্শকের জন্য ৫০০ আসন রয়েছে। প্রতিটি টিকিটের মূল্য ১০০ টাকা। এবার টিকিটের সঙ্গে প্রত্যেক দর্শকের হাতে ফ্রি এক প্যাকেট বিরিয়ানি তুলে দেওয়া হচ্ছে। আগামী একমাস খাবারের এই ব্যবস্থা চালু থাকবে। সিনেমা হলে প্রতিদিন দুপুর ১২টা, বিকেল ৩টা, সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৯টায় ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছে। কিন্তু প্রচণ্ড গরমের কারণে প্রতিদিন দুপুর ১২টা ও বিকেল ৩টায় দর্শকের উপস্থিতি কম থাকে। তবে সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৯টায় হল ভর্তি দর্শক পাওয়া যায়। প্রতিদিন গড়ে আশানুরূপ দর্শকের সাড়া মিলেছ। এক্ষেত্রে লাভের মুখ দেখছেন হলের পরিচালক।

হলের দর্শকরা জানান, সিনেমা হলে টিকিটের সাথে বিরিয়ানি ফ্রি পাওয়ার বিষয়টি এবারই প্রথম। হলে বসে ভালো ছবি দেখার পাশাপাশি বিরিয়ানির স্বাদ পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি। এই ব্যবস্থা চালু রাখলে সিনেমা হলে দর্শক ফিরে আসবে বলে মনে করেন দর্শকরা।

ধুনটে ঝংকার সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেন বলেন, সিনেমা হলে যতদিন দর্শক আসবে ততদিন টিকিটের সঙ্গে বিরিয়ানি ফ্রি দেওয়া হবে। দর্শক টানতেই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নির্মাতারা ভালো ছবি তৈরি করলে আবারও সিনেমা হলমুখী হবেন দর্শক। পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা পেলে এ ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।

;

এফডিসিতে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
এফডিসিতে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা

এফডিসিতে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শতাধিক সংবাদকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই ঘটনার সূত্রপাত।

কে বা কারা এ হামলা করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন শিল্পী সমিতির নব নির্বাচিত সভাপতি মিশা সওদাগর।

জানা যায়, এদিন বিকেলে ২০২৪-২৬’র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি শপথ গ্রহণ করে। সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরকে প্রথমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার খোরশেদ আলম খসরু শপথ পাঠ করান। এরপর বাকি সদস্যরা মিশা সওদাগরের নেতৃত্বে শপথ গ্রহণ করেন।

শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে মিশা-ডিপজল পরিষদ। সভাপতি পদে মিশা সওদাগর পেয়েছেন ২৬৫ ভোট নিকটতম প্রার্থী মাহমুদ কলি পেয়েছেন ১৭০ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে মনোয়ার হোসেন ডিপজল পেয়েছেন ২২৫ ভোট, একই পদে ২০৯ ভোট পেয়েছেন নিপুণ আক্তার।

;

‘সন্ধ্যা নামিল শ্যাম’ গানে তোরসা



বিনোদন ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহ আবদুল করিম ও হাসন রাজার ভাটির দেশ থেকে ইট-পাথরের ঢাকা, প্রেম-বিচ্ছেদের সুখ কিংবা বেদনা থেকে রাজপথের মিছিল—সবকিছুর মেলবন্ধন ঘটায় যে মানুষ, সেই মানুষের গান গাওয়ার সংকল্প তুহিন কান্তি দাসের। প্রথমবারের মতো এই সঙ্গীত শিল্পী নিয়ে এলেন একক অ্যালবাম। এর নাম রেখেছেন ‘সন্ধ্যা নামিলো শ্যাম’।

এতে রয়েছে মোট চারটি গান। এগুলো হলো ‘সন্ধ্যা নামিল শ্যাম’, ‘আসমানেরও চাঁদ’, ‘দরদিয়া’ ও ‘হারিয়ে টের পাই’। তার মধ্যে ‘সন্ধ্যা নামিল শ্যাম’ গানটি সম্প্রতি ভিডিও আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এতে মডেল হয়েছেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-২০১৯’ মুকুট জয়ী রাফাহ নানজিবা তোরসা। তার সঙ্গে ছিলেন খালিদ মাহমুদ সাদ। ফরিদপুরের বিভিন্ন নানন্দিক লোকেশনে ভিডিও নির্মাণ করেছেন সৈয়দা নীলিমা দোলা। এরই মধ্যে গান-ভিডিও শ্রোতামহলে সাড়া ফেলেছে।

এ প্রসঙ্গে মডেল তোরসা বলেন, মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার আগে বেশকিছু মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছিলাম। তারপর অনেক প্রস্তাব এসেছিল কিন্তু করিনি। ‘সন্ধ্যা নামিল শ্যাম’ গানের নির্মাণ পরিকল্পনা, গান সবকিছু বেশ ভালো লাগে তাই আগ্রহ নিয়ে কাজটি করেছি। গানটি প্রকাশের পর সবাই বেশ প্রশংসা করছে। আশা করছি, সব শ্রেণির মানুষের গান-ভিডিওটি ভালো লাগবে।

;

শাকিবের ‘তুফান’-এ বিশেষ চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গত বছরের শেষের দিকে বেশ ঘটা করে ঘোষণা দেয়া হয় বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘তুফান’র। অভিনেতা শাকিব খান ও নির্মাতা রায়হান রাফি জুটির এই সিনেমা আসন্ন ঈদে মুক্তি প্রস্তুতি চলছে। মাঝে ঘোষণা দেয়া হয় এ সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে আছেন কলকাতার নায়িকা মিমি চক্রবর্তী ও বাংলাদেশের নাবিলা।

এবার তুফান’র আরেকটি তথ্য নিয়ে হচ্ছে আলোচনা। কেননা তুফান সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী।

এই সিনেমায় নিজের উপস্থিতি নিয়ে চঞ্চল বলেন, ‘তুফান সিনেমায় আমাকে বিশেষ একটা চরিত্রে দেখা যাবে। রায়হান রাফী এই সময়ের প্রতিভাবান একজন পরিচালক। সেই সাথে শাকিব-এর সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা একদম অন্যরকম। তাদের সাথে এক সঙ্গে কাজ করতে পারলে ভালো লাগবে। আর এতো বড় তিনটা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এক হয়েছে অবশ্যই ভালো কিছুই হবে।’

‘তুফান’ সিনেমাটি প্রযোজনা করছে এসভিএফ বাংলাদেশ, আলফা আই ও চরকি। এই তিন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘তুফান’ এর আগে আরেকটি বড় সিনেমার ঘোষণা দেয়। সিনেমাটির নাম ‘দম’। আর পরিচালনা করবেন রেদওয়ান রনি। ‘দম’ সিনেমার মূল ভূমিকায় দেখা যাবে চঞ্চল চৌধুরীকে।

পরিচালক রায়হান রাফীর এখন সময় যাচ্ছে সিনেমার শুটিং-এর শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে। রাফী বলেন, ‘চঞ্চল ভাই আমাদের দেশের শক্তিমান অভিনেতা। তুফান-এ শাকিব ভাইয়ের সাথে সাথে উনাকে পাওয়াটা আমার জন্য আনন্দের।’

এসভিএফ-এর ডিরেক্টর ও কো-ফাউন্ডার মহেন্দ্র সোনি বলেন, ‘চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে এর আগে ওটিটি কনটেন্টে কাজ হয়েছে। অনেকদিন ধরে তাকে নিয়ে বড় পর্দায় কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। আমি নিশ্চিত তিনি তুফান-কে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।’

আলফা-আই স্টুডিওজ লি.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল বলেন, ‘তুফানে শাকিব খান অন্যরকম, সম্পূর্ণ ভিন্নরপে ধরা দিবে দর্শকদের সামনে। এমন একটি শক্তিশালী চরিত্রের বিপরীতে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করতে পারে এমন একজন শক্তিমান অভিনেতা দরকার ছিল আমাদের। আমি মনে করি, চঞ্চল ভাইয়ের কারণে চরিত্রটির প্রতি জাস্টিস হবে তাই তুফানে উনার সম্পৃক্ততা।’

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি, ‘চঞ্চল ভাইকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তিনি আমাদের জন্য গর্ব। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বাইরেও তার কাজের সুখ্যাতি রয়েছে। তার সঙ্গে আমার বেশ কিছু কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে। তুফান সিনেমায় তার এই উপস্থিতি অন্যরকম মাত্রা যোগ করবে বলে আমি মনে করি।’

;