বিদায় ফুটবল বিশ্বায়নের দূত



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বিদায় ফুটবল বিশ্বায়নের দূত

বিদায় ফুটবল বিশ্বায়নের দূত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বায়নের নামও কেউ তখন জানতো। স্নায়ুযুদ্ধে আকীর্ণ বিশ্ব ছিল বিভাজিত ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত। তখন লাতিন আমেরিকার এক 'কালো মানিক' ফুটবল পায়ে তাবৎ দুনিয়া একাকার করেছিলেন। বিদায় ফুটবল বিশ্বায়নের দূত এদসোঁ আরাঁচ দু নাসিমেঁতু পেলে (১৯৪০ - ২০২২) ।

সাফল্যের মূল মন্ত্র সম্পর্কে তিনি বলতেন, 'কাজের প্রতি ভালোবাসা'। ফিফা’ ম্যাগাজিনের পাঠক এবং জুরি বোর্ডের বিচারে তিনিই বিংশ শতাব্দীর ‘শ্রেষ্ঠ’ ফুটবলার। তবে ইন্টারনেটে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের ভোট গিয়েছিল দিয়েগো মারাদোনার পক্ষে। ফিফা শেষ পর্যন্ত যুগ্ম ভাবে শতাব্দীসেরা ঘোষণা করে দু’জনকেই। মারাদোনা ২০২০ সালে ৬০ বছর বয়সে প্রয়াত হন আচমকাই। এ বার ২০২২ সালের অন্তিমকালে পেলেকেও হারাল বিশ্ব।

পেলের জন্ম ১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর। বাবার দেওয়া নাম এডসন আরান্তেস দি নাসিমেন্তো। সে নামে অবশ্য বিশ্ব তাঁকে চেনেনি। ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ। পর পর চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন। তার মধ্যে তিন বার চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বিশ্বের আর কোনও ফুটবলারের তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের নজির নেই।

বিশ্ব ফুটবলের প্রথম মহাতারকা পেলের জীবনাবসান হয়েছে ৮২ বছর বয়সে। তিন বারের বিশ্বকাপ জয়ী বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার প্রয়াত হলেন ২০২২ সালের বিশ্বকাপের পরেই। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন।

কারিগরি দক্ষতা, টিম স্পিরিট, টোটাল ফুটবল বা পাওয়ার ফুটবলের উত্থানের আগে খেলাটি ছিল ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নির্ভর। মাঠে বাইশ জন খেলতেও তারকার দীপ্তিতে দর্শকদের টেনে নিতো এক বা দুইজন খেলোয়াড়। পেলের অসামান্য দক্ষতা শুধু মাঠ নয়, পুরো বিশ্বের নজর কেড়েছিল।

তখন যেমন ছিল না বিশ্বায়ন, তেমনি ছিল না লাইভ সম্প্রচার। তথাপি স্টিল ক্যামেরার স্থির চিত্রে অক্ষয় হয়ে আছে পেলের ছন্দময় খেলা। কবিতার কিংবা শিল্পকর্মের মতো ঝলঝল করছে তার প্রতিটি গোল।

মাঝমাঠ থেকে একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ধূমকেতু হয়ে পেলে প্রতিপক্ষে জালে গোল করেছেন। দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে সরাসরি বল পাঠিয়ে দিয়েছেন গোলে। ড্রিবলিং, ট্যাকলিং, পাস, ভলি, ব্যাক-ভলি দিয়ে বল নিয়ে দেখিয়েছেন জাদুকরী খেলা। আস্ত কয়েকটি দশক পেলে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন বিশ্বফুটবলের লক্ষ-কোটি দর্শককে।

পেলের কারণে আটলান্টিক পেরিয়ে বিশ্বকাপ পৌছে গিয়েছে ইউরোপ থেকে লাতিন আমেরিকার ব্রাজিলে। তার আগে কেউ এক মহাদেশে আসর থেকে অন্য মহাদেশে কাপ নিতে পারে নি। বিশ্বকাপের আদি রূপ 'জুলে রিমে কাপ' পেলের অজেয় দাপটের কারণে চিরদিনের জন্য ব্রাজিলের হয়ে আছে।

বিশ্বফুটবলের অনেক তারকা ছিল, আছে, থাকবে। কিন্তু সর্বকালে সেরা হয়েছেন মাত্র কয়েকজন। যাদের মধ্যে নাম করা হয় আর্জেন্টাইন মেসি এবং দিয়াগো ম্যারাডোনার। তালিকায় নাম রয়েছে ব্রাজিলের রোনালদো, ফ্যান্সের কিংবদন্তী জিনেদিন জিদান, হলান্ডের ইয়োহান ক্রুইফ, রাশিয়ার লেভ ইয়াসিন, ইংল্যান্ডের লিনেকার এবং জর্জ হার্স্ট, ইতালির পাওলো রসি এবং সাম্প্রতিক আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ক্রিস্টিয়ানো রোনারদো। এসব নানা কিসিমের তালিকার শীর্ষে পেলে থাকেন অবধারিত ভাবে।

ফুটবল যতদিন থাকবে, পেলে থাকবেন ততদিন। ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকার সৌভাগ্য সকলের হয় না, পেলের হয়েছে। বিশিষ্টতায় তিনি থাকবেন বিশ্বফুটবলের অবিচ্ছেদ অংশ হয়ে।

   

ইতিহাসের পাতায় আজ ২২ ফেব্রুয়ারি



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হ্যাম্পশায়ারের অ্যাল্ডারশট শহরে বোমা হামলা হয়েছিল ২২ ফেব্রুয়ারি

হ্যাম্পশায়ারের অ্যাল্ডারশট শহরে বোমা হামলা হয়েছিল ২২ ফেব্রুয়ারি

  • Font increase
  • Font Decrease

আজকের এই সময়ে পৌঁছাতে মানুষ হাজার হাজার বছর পার করেছে। দীর্ঘ এই সময়ে সৃষ্টি হওয়া মানব ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। সূর্য প্রদক্ষিণ করার সাথে সাথেই বছর ঘুরে তারিখের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ইতিহাসের পাতা ঘাটলে দেখা যায় এইসব দিনে ঘটেছে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা। 

ক্যালেন্ডারের আবর্তনে এসেছে নতুন দিন। তার সাথে ইতিহাসের গল্পগুলোও পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে স্মরণ করছে পুরানো নানা কথা। আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। আজকের তারিখে যেসব ঘটনা ঘটেছিল, তা জানতে ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক!

হ্যাম্পশায়ারের অ্যাল্ডারশট শহরের বোমা হামলায় ৭ জনের মৃত্যু

আইআরএ ১৯৭২ সালে হ্যাম্পশায়ারের অ্যাল্ডারশট শহরে মার্কিন সেনাবাহিনীদের হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা হামলা করা হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৫ জন রাঁধুনিসহ মোট ৭ জন। এছাড়াও দুর্ঘটনায় আহত হন ১৯ জন। বিস্ফোরণটি ঘটেছিলো শহরের কেন্দ্রবিন্দু থেকে প্রায় ১ মাইল দূরে। দুপুরের খাবারের জন্য তারা গাড়ি পার্ক করে অফিসার মেসে গেলে সেই গাড়িতেই বোমা বিস্ফোরণটি ঘটে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ১৯৯১ সালে ইরাককে কুয়েতের মাটি ছাড়ার নির্দেশ দেয়। ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে এই নির্দেশ দেন বুশ। ইরাককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ স্থগিত এবং বন্দীদের মুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। যদি তা না করা হয়, তাহলে পশ্চিমা দেশগুলোর মিত্র বাহিনী ইরাকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়। তাদের বিরুদ্ধে ভূমিযুদ্ধ শুরু করারও হুমকি দেয় বুশ।

প্রথম সফল ক্লোন ভেড়া ডলি

১৯৯৭ সালে সারা বিশ্বের মানুষ জানতে পারে সফল ক্লোন ভেড়া ডলির কথা। যদিও তার জন্ম ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই হয়েছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক কোষ থেকে জন্মানো সুস্থ এবং সফল ক্লোন হিসেবে ডলিকে প্রকাশ করা হয় ২২ ফেব্রুয়ারি।

ক্যালেন্ডারের প্রতিটি পাতাই কোন না কোন দিনের বিশেষ ঘটনা বা ইতিহাসের কথা বয়ে বেড়ায়। সময়ের সাথে সব কিছু পাল্টালেও বদলায় না ইতিহাসের গল্প।

;

বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী নীলগিরি মার্টেন



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নীলগিরি মার্টেন

নীলগিরি মার্টেন

  • Font increase
  • Font Decrease

গভীর অরণ্যে গাছের আড়াল থেকে শোনা যায়, পাখির কিচির-মিচির শব্দ। দেখা-অদেখার সে জগতে ঘুরে বেড়ায় বৈচিত্র‌্যময় হরেক রকমের প্রাণী! তাদের কিছু কিছু আমাদের পরিচিত; অনেক কিছুই আবার অপরিচিত। বনে বাস করা প্রাণীদের জীবনযাত্রা আমাদের খুব কাছ থেকে দেখা হয় না। কিন্তু, প্রকৃতির পরিবর্তনের প্রভাব পৃথিবীতে বাসকারী প্রাণীর ওপর পড়ে।

কেউ কেউ হয়ত কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায়, পরিবেশ ও সময়ের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে না পেরে। খাদ্যের অভাব, বাসস্থানের জায়গা কমে যাওয়া,  নগর উন্নয়ন, বিরূপ পরিবেশে অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যায়। কারণ যাই হোক, প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিটি প্রজাতিই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দিন দিন বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকা ক্রমে বেড়েই চলেছে। 

তেমনি লম্বা লেজওয়ালা বিড়ালের মতো ছোট লোমশ একটি প্রাণী, নাম- নীলগিরি মার্টেন। দক্ষিণ ভারতে একসময় যাদের হরহামেশাই দেখা যেতো, ছোট ছোট পায়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দৌড়ে বেড়াতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বিলুপ্ত হতে চলেছে।

নীলগিরি মার্টেন

ভারতীয় বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা আইএএস (ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার) কর্মকরাত সুপ্রিয়া সাহু সম্প্রতি এই মজাদার প্রাণীর দুরন্তপনার একটি ভিডিও মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) আপলোড করেছেন। সেখানে একটি ক্ষুদেবার্তায় কিছু কথাও লেখেন তিনি। তিনি লেখেন, অনেকেই হয়ত নীলগিরি মার্টেনের কথা শোনেননি। চকলেট রঙের পশমধারী এই প্রাণীটির গলার কাছের অংশ সর্ষে হলুদ রঙের। ছোট এই জীব এখন সংখ্যায় অত্যন্ত অল্প। তামিলনাড়ু সরকার পরিকল্পনা করেছে, বিলুপ্ত হওয়ার হাত থেকে এদের রক্ষা করার।

তিনি আরো বলেন, আগে কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ুতে সহজেই এদের দেখা মিলতো। বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় হওয়ার কারণে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনভার্সেশন অব নেচারের (আইউসিএন) বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকায় আছে এই নীলগিরি মার্টেন। বিলুপ্তপ্রায় এরকম প্রাণীদের তালিকা তৈরি করছে সরকার। সে কারণে এসব প্রাণী সংরক্ষণে তহবিলও গঠন করা হয়েছে।

ভারতীয় আইপিএস অফিসার সুপ্রিয়া সাহুর প্রকাশ করা ভিডিও

ভিডিও দেখার পর অনেকেই মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, জীবজগতের এক অনন্য রত্ন- নীলগিরি মার্টেন। কেউ বলেছেন, বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের এক হয়ে এদের রক্ষা করতে হবে।      

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

;

বৈচিত্র্যে বর্ণময় বইমেলা



আশরাফুল ইসলাম, পরিকল্পনা সম্পাদক, বার্তা২৪.কম
ছবি: নূর এ আলম/বার্তা২৪.কম

ছবি: নূর এ আলম/বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলা এখন বহু বৈচিত্র্যে এক বর্ণময় মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতির উৎকর্ষে এই বইমেলা আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার মনে যে নতুন প্রাণের জোয়ার এনেছে, তা মেলা প্রাঙ্গণে পা দিলেই তা টের পাওয়া যায়।

এই মিলনমেলায় সমাজের বিভিন্ন মেরুর মানুষদের এমন এক সৌহার্দ্যের বাতাবরণে শামিল করেছে যে, এ মেলা শুধু প্রাণেরই সঞ্চার করেনি, সম্প্রীতির ঔদার্যই বহন করে এনেছে।

জাতীয় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পাঠক, লেখক, দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়ে বইমেলার প্রান্তর ঘুরে বৈচিত্র্যময় প্রাণোচ্ছ্বল কিছু দৃশ্য তুলে এনেছেন বার্তা২৪.কমের ফটো এডিটর ও জ্যেষ্ঠ আলোকিচিত্রী নূর-এ আলম। লেখা: পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম

ছবি: নূর এ আলম

পছন্দের নানা অনুষঙ্গে ভরপুর অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ। এক শিশুর মুখ দেখে চিত্রপটে তাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা শিল্পীর। চারুকলার এমন অনেক নবীন শিক্ষার্থীই পুরো বইমেলা জুড়ে বাড়তি আনন্দের অনুষঙ্গ যোগ করেছে!

'আঙ্কেল, ওই বইটি দিন’ ব্যাকুলতা নিয়ে বলছে শিশুটি। স্কুলের একগাদা বইয়ের বোঝা বয়ে নিতে নিতে ক্লান্ত শিশুরা বইমেলায় এসে ফের আগ্রহী হচ্ছে বইয়ে। পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞানের বিরাট সমুদ্রে তাদের এই পরিচয় জ্ঞানভিত্তিক এক প্রজন্ম গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে!

ধর্ম প্রচারে এসে ঢাকার অদূরে কালিগঞ্জের নাগরী র্গিজায় বসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রথম খণ্ডিত ব্যাকরণ রচনা করেন পাদ্রী মানুয়েল দ্য আস্‌সুম্পসাঁউ, যা প্রকাশিত হয় পর্তুগালের লিসবন থেকে। খ্রিস্টান মিশনারীর এই ভগনিগণের বইমেলায় পদচারণা ঐতিহ্যিক সেই পরম্পরাকেই মনে করিয়ে দিলো! 

শিশুদের এলোমেলা চুলের মাঝে ‘পুষ্পবন্ধনী’তে এক নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উঁকি দিচ্ছে!

টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ অশনা হাবিব ভাবনার লেখা ‘কাজের মেয়ে’ বইটি এসেছে এবারের বইমেলায়। পছন্দের অভিনেত্রীর অটোগ্রাফসহ বইটি পেতে মরিয়া অনুরাগীরা!

তিল ধারণের ঠাঁই নেই! তবু নেই সামান্য অভিযোগমাত্র! বইয়ের অনুরাগী পাঠকদের ঘা ঘেঁষে এই এগিয়ে যাওয়া পদযুগলগুলো যেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমরত্বের বার্তাই বহন করে চলেছে!

ছবিঃ নূর এ আলম

অভিনেত্রী ফারজানা এবারের বইমেলায় হাজির হয়েছেন "জলছবি" নামের একটি উপন্যাস নিয়ে!

;

বাঙালি ছাড়াও বাংলা ভাষায় কথা বলে যারা



প্রমা কোয়েল, ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সিয়েরা লিওয়নের শিশুদের কণ্ঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’

সিয়েরা লিওয়নের শিশুদের কণ্ঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসের সুবর্ণক্ষণ আজ। ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির 'জাতীয় শহীদ দিবস 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বিশ্বে। একদিকে, যেমন এই দিন আমাদের জয়ের প্রতীক, অপরদিকে স্মরণ করিয়ে দেয়, ভাই হারানোর বেদনা! তবে স্বস্তি এই যে, বাঙালি সন্তানদের বুকের রক্ত বৃথা যায়নি। তাদের সম্মান আজ বিশ্বব্যাপী!

২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠেছে বাংলার ইতিহাস। কথা বলার ভাষা যে, ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার মর্মার্থ অনুধাবন করে আজকের দিনে বিশ্বের সব মানুষ তাদের মাতৃভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। দিন দিন বাংলা ভাষার প্রচার বেড়েই চলেছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে অন্যান্য বিদেশি ভাষার সঙ্গে বাংলা নিয়েও পড়াশোনা করছেন শিক্ষার্থীরা।   

ছোটবেলায় মায়ের কাছে শেখা প্রথম বুলি হিসেবে মুখে ফুটে ওঠে মাতৃভাষা। প্রথম সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িত কত আবেগ, কত ভালোবাসা! আধো আধো ভাষায় প্রথম কথা বলার যে স্মৃতি, তা বড়ই আবেগের! মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করে কথোপকথনের মাধ্যমে। বিভিন্ন দেশের মানুষ ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলেন। নিজের মায়ের থেকে আয়ত্ত করা ভাষার মতো স্বাচ্ছন্দ্য অন্য কোনো ভাষায় পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই বাংলা ভাষায় কথা বলেন। এছাড়া দেশে রয়েছে ৪৫টি নৃ-ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ। তারা নিজেদের মাতৃভাষা ছাড়াও বাংলা ভাষায় কথা বলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ সংলগ্ন ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও বাংলা বা একই গোত্রীয় ভাষায় কথা বলেন অনেকেই। শুধু তাই নয়, ত্রিপুরা, আসাম, আন্দামান-নিকোবর  দ্বীপপুঞ্জ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, মেঘালয়, মিজোরাম, উড়িষ্যার মতো রাজ্যগুলোতেও অনেকেই বাংলা ভাষায় কথা বলেন।

 

যেমন, আসাম রাজ্যের দক্ষিণাংশেও বাংলায় কথা বলার প্রবণতা দেখা যায়। ভারতীয় কয়েকটি দ্বীপে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অধিকাংশ অধিবাসী বাংলা ভাষায় কথা বলে থাকেন। এর মধ্যে অন্যতম আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।

উড়য়া এবং অসমিয়া ভাষা সরাসরি বাংলা ভাষা না হলেও এসব ভাষাকে ভগিনী বা বোন বিবেচনা করা হয়। কারণ, এই সব ভাষা একই উৎস, ইন্দো-ইউরোপ থেকে এসেছে। সময়ের বিবর্তনে প্রথমে উড়িয়া এবং পরে অসমিয়া বাংলা থেকে আলাদা হয়ে যায়। তবে এখনো এদের মধ্যে পর্যাপ্ত সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

এই সব ভাষাভাষীর লোক অনায়াসে বাঙালিদের সাথে কথোপকথন করতে পারেন। কোনো পক্ষেরই অন্য পক্ষের মন্তব্য বুঝতে বিশেষ অসুবিধা হয় না। এই জন্যই মানুষ বিশ্বাস করেন, বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে পুরনো নিদর্শন ‘চর্যাপদ’-এর ভাষা থেকে অন্যান্য ভাষার সূত্রপাত হয়েছে। অসমিয়া এবং উড়িয়া ভাষা সাহিত্যের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয় 'চর্যাপদ'কে। 

তবে বাংলায় কথা বলা মানুষ শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সূত্রে বাঙালি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ভাষারও বিস্তার বেড়েছে। বিশ্ববাসী জেনেছে বাংলা ভাষা এবং এর ইতিহাস। অনেকেই এ ভাষার প্রতি মুগ্ধ হয়ে আকৃষ্ট হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হরহামেশাই দেখা যায়, অবাঙালিদের বাংলা দক্ষতা।

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই নিজের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে আজকের দিনে। তবে এশিয়ার বাইরেও একটি দেশে বিশেষ করে বাংলা ভাষার প্রতি অশেষ শ্রদ্ধার নিদর্শন মেলে। অনেকেই হয়ত জানেন না, সূদূর পশ্চিম আফ্রিকার এক দেশের মানুষও বাংলাকে ভালোবাসেন।

সিয়েরা লিওনে অনেক মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। দূরত্ব মাপতে গেলে অঙ্কের হিসাবে বাংলাদেশ থেকে ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরে তাদের বসবাস। তবে সম্মানের সীমানা পরিমাপ করতে গেলে দেখা যায়, কোনো দূরত্বই দূরত্ব নয়! আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন ভাষার দিক থেকে বাঙালিদের অনেক কাছের। একই ভাষায় কথা বলায় একে অপরের প্রতি ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়।

এর ইতিহাস বাঙালি হিসেবে আমাদের জন্য গর্বের! ১৯৯১ সাল থেকে ২০০২ অবধি দরিদ্র এই দেশে গৃহযুদ্ধ চলছিল। তাদের সেই করুণ সময়ে জাতিসংঘ থেকে শান্তিবাহিনী পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে সিংহভাগই ছিলেন বাঙালি। নিজেদের জীবন বাজি রেখে বাঙালি সৈন্যদের প্রাণপণ চেষ্টায় সামলে ওঠে সিয়েরা লিওন। একই সঙ্গে বাংলা ভাষার ইতিহাস সম্পর্কে অবগত হয় সে দেশের সাধারণ জনগণ। সেই থেকেই তাদের মুখেও ফুটে ওঠে বাংলা বুলি।

ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ভাষার হওয়া সত্ত্বেও বাংলাকে আপন করে নিয়েছে, এই দেশের জনগণ। ভাষা তাদের কণ্ঠে ফুটে ওঠে মধুর ধ্বনির, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো, একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি?’     

;