বাংলাদেশের আবাসিক পাখি



অধ্যাপক ড. আ ন ম আমিনুর রহমান. পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ
বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল। ছবি: লেখক।

বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল। ছবি: লেখক।

  • Font increase
  • Font Decrease

মহান সৃষ্টিকর্তার তিন সুন্দর সৃষ্টি হলো ফুল, প্রজাপতি ও পাখি। ফুল দেখে আমরা যেমন মুগ্ধ হই তেমনি মুগ্ধ হই উড়ন্ত প্রজাপতি ও পাখি দেখে। তবে পাখির সৌন্দর্য্য ও ওড়াউড়িই যে শুধু আমাদের মুগ্ধ করে, তা কিন্তু নয়। বরং পাখির গানও দেয় অনাবিল আনন্দ। তবে, এর পাশাপাশি ওরা আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ব্যাপক অবদান রাখে। সত্যিই বর্নিল পাখিগুলোর মতো এমন সুন্দর প্রাণী পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। নানা আকার, রং ও ঢঙের পাখিগুলো যখন ওদের ডানায় ভর করে নীল আকাশে উড়ে বেড়ায় তখন দেখতে কতই না ভালো লাগে? পুরো পৃথিবী জুড়ে প্রায় ১০,০০০ প্রজাতির (Species) পাখির বাস। আর অনুমান করা হয়, বিভিন্ন প্রজাতির পাখিগুলোর মোট সংখ্যা ২০ থেকে ৪০ হাজার কোটি। ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় ১২শ প্রজাতির কিছু বেশি পাখি বাস করে। জানামতে, বাংলাদেশের পাখির তালিকায় এ পর্যন্ত কম-বেশি ৭২২টি প্রজাতি রেকর্ড করা হয়েছে। 

চাঁপাইনবাগঞ্জের রহনপুরে দেশের বৃহত্তম পাখি মদনটাক। ছবি: লেখক

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, বিগত কয়েক শতকে দু’শতাধিক প্রজাতির পাখি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ১২শ প্রজাতির পাখি নানা কারণে হুমকির মুখোমুখি অবস্থান করছে। অদূর বা দূর ভবিষ্যতের যে কোনো সময় এরা হয়তো পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। 

এবার আসা যাক পাখি কি সে কথায়। পাখি হলো বিভিন্ন আকার, ওজন ও আকৃতির উষ্ণ-রক্তবিশিষ্ট মেরুদণ্ডি প্রাণী যাদের দেহ পালকে আচ্ছাদিত, চোয়ালের উপর রয়েছে দাঁতবিহীন শক্ত ঠোঁট বা চঞ্চু (Beak), হৃৎপি- চার প্রকোষ্ঠে বিভক্ত, যাদের স্ত্রীরা শক্ত খোসাযুক্ত ডিম পাড়ে, দেহের বিপাকীয় হার উচ্চ, হাড় ফাঁপা ও কঙ্কাল হালকা এবং যারা সাধারণত উড়তে পারে।

জীবাস্ম বা ফসিল (Fossil) রেকর্ড থেকে জানা যায় পাখিরা থেরোপড (Theropod) দলের পালকযুক্ত পূর্বপুরুষ থেকে উৎপত্তিলাভ করেছে যারা প্রথাগতভাবে সরিসিয়ান ডায়নোসরদের (Saurischian dinosaurs) অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বর্তমানে অনেক বিজ্ঞানীই মনে করেন যে, এরা অরনিথোসেলিডা-এর (Saurischian dinosaurs) অর্ন্তভুক্ত। যদিও একসময় জার্মানিতে প্রাপ্ত মধ্য জুরাসিক যুগের (Mid Jurassic Era - প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন বছর আগের) আর্কিওপটেরিক্স লিথোগ্রাফিকা (Archeopteryx lithographica)-কে পাখির সবচেয়ে পুরনো জীবাশ্ম মনে করা হতো- যাদের চঞ্চুর পরিবর্তে ছিল চোখা দাঁতযুক্ত শক্ত চোয়াল, শক্ত হাড়যুক্ত লম্বা লেজ ও যারা ভালোভাবে উড়তে পারত না। এদের মধ্যে সরীসৃপ ও পাখির এক চমৎকার যোগসূত্র ছিল। কিন্তু বর্তমানে নানা গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে যে, চীনে প্রাপ্ত ক্রিটাসিয়াস যুগের(Cretaceous Era- প্রায় ১২৫ মিলিয়ন বছর আগের) কনফুসিয়াসওরনিস স্যাঙ্ককটাস (Confuciusornis sanctus) হলো সত্যিকারের চঞ্চুযুক্ত পাখির সবচেয়ে পুরনো জীবাশ্ম। আধুনিক কালের পাখিগুলো এসব ডায়নোসর যুগের পাখি (থেরোপড) থেকে যুগ যুগ ধরে বিবর্তিত হয়েছে।

রাজশাহী শহরের একটি বটগাছে দেশের ক্ষুদ্রতম পাখি ফুলঝুরি। ছবি: লেখক

পাখি, প্রজাপতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর বিস্তৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে সাতটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। যেমন- ১. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল - রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ। ২. উত্তরাঞ্চল- ময়মনসিংহ বিভাগ। ৩. উত্তর-পূর্বাঞ্চল - সিলেট বিভাগ। ৪. কেন্দ্রীয় অঞ্চল- বৃহত্তর ঢাকা, কুমিল্লা ও টাঙ্গাইল জেলা। ৫. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল- বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা। ৬. দক্ষিণাঞ্চল- বৃহত্তর নোয়াখালি জেলা ও বরিশাল বিভাগ। ৭. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল- খুলনা বিভাগ ও বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা।

বাংলাদেশের পাখির তালিকায় কমবেশি যে ৭২২ প্রজাতির পাখি রয়েছে তাদের মধ্যে প্রায় ৩৪০ প্রজাতি স্থায়ীভাবে বসবাস করে, অর্থাৎ এরা সারাবছর এদেশে থাকে, ডিম পাড়ে ও ছানা তোলে। এরাই হলো এদেশের আবাসিক পাখি (Resident Bird)। বাদবাকি প্রজাতিগুলো পরিযায়ী (Migratory - অর্থাৎ বছরের কোনো একটি নির্দিষ্ট সময় এদেশে আসে, বসবাস করে ও সময়মতো মূল আবাসে ফিরে যায়), পন্থ-পরিযায়ী ও ভবঘুরে বা যাযাবর। এসব পাখি এদেশের মানুষের কাছে আগে, এমনকি এখনও, ‘অতিথি পাখি’ নামেই পরিচিত। এদেরই এক বিশাল অংশ এদেশে আসে শীতকালে যারা শীতের পরিযায়ী পাখি (Winter Migrant) নামেও পরিচিত। এরা এদেশে বংশবিস্তার করে না। এছাড়াও কিছু পাখি গ্রীষ্মেও পরিযায়ন করে, যেমন- বিভিন্ন প্রজাতির কোকিল (Cuckoo) ও হালতি বা সুমচা (Pitta)) পাখি। এরা গ্রীষ্মের প্রজনন পরিযায়ী (Summer Breeder) পাখি নামে পরিচিত। এছাড়াও বেশকিছু প্রজাতির পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি এদেশে অনিয়মিত। হয়তো এক বছর এল, এরপর আবার ৫ বা ১০ বছর পর এল, অন্যদের মতো প্রতি বছর এল না। এদেরকে তাই যাযাবর বা ভবঘুরে বা অনিয়মিত পরিযায়ী পাখি বলে। আর এদের সংখ্যাও নেহাত কম না, এদেশে আসা সকল পরিযায়ী পাখির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এরা। আবার কোনো কোনো প্রজাতির পাখি অন্য কোনো দেশে পরিযায়নের এক পর্যায়ে এদেশে স্বল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নিতে আসে, যেমন- বাদামি চটক (Asian Brown Flycatcher), বন খঞ্জন (Forest Wagtail)ইত্যাদি। এরা পন্থ-পরিযায়ী (Passage-migrant) পাখি নামে পরিচিত।

শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলের উপর দিয়ে উড়ছে একঝাঁক বালিহাঁস। ছবি: লেখক

আবাসিক, পরিযায়ী, ভবঘুরে ও পন্থ-পরিযায়ী পাখি মিলে এদেশে কমবেশি যে ৭২২ প্রজাতির পাখি রয়েছে সেগুলো ২৩টি বর্গ ও ৯৩টি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। আশ্চর্যের বিষয় হলো এদেশের মোট পাখির অর্ধেকই একটি বর্গ প্যাসারিফরমেস বা শাখাচারী-এর ১৯টি পরিবারের সদস্য। আমাদের আবাসিক পাখিগুলোর মধ্যে আকার, ওজন ও রঙে যেমন ভিন্নতা রয়েছে, তেমনি ভিন্নতা রয়েছে এদের জীবণযাপন, আবাস, খাদ্যাভাস ও আচার-আচরণে। আবাসিক পাখিগুলোর মধ্যে যেমন আছে জলা বা সৈকতের পাখি, তেমনি আছে লোকালয় ও বনজঙ্গলের পাখি। এই পাখিগুলোর সবগুলোকেই যেমন একই জায়গায় বা একই মৌসুমে দেখা যায় না, তেমনি সমান সংখ্যায়ও দেখা মেলে না। তাছাড়া ৯৩টি গোত্রের মধ্যে ১৮টি গোত্রের কোনো পাখিই এদেশের আবাসিক পাখি নয় যার মধ্যে সারস (ক্রেন), বিভিন্ন প্রজাতির চা-পাখি, খোঁয়াজ, রামঠেঙ্গি, বিভিন্ন প্রজাতির ওয়ার্বলার, রোজফিঞ্চ ও বান্টিং উল্লেখযোগ্য।

ঢাকার দিয়াবাড়িতে অতি সুন্দর পুরুষ লাল মুনিয়া। ছবি: লেখক

এদেশের আবাসিক পাখিগুলোর মধ্যে অনেকগুলো প্রজাতিই দেখতে বেশ সুন্দর, যেমন- লালশির ট্রোগন (Red-headed Trogon), দুধরাজ (Paradise Flycatcher), পাতা বুলবুলি (Leafbird), আলতাপরী ((Scarlet Minivet), মৌটুসি (Purple-rumped Sunbird), নীলটুনি (Purple-rumped Sunbird), শ্বেতাক্ষী (Oriental White-eye), লাল মুনিয়া (Red Avadavat) ইত্যাদি। তবে এদের মধ্যে কোনটি বেশি সুন্দর তা হয়ত অনেকেরই জানা নেই। আসলে পাখির রাজ্যে কোনটি সবচেয়ে সুন্দর তা বলা কঠিন। কারণ, একেকটি পাখি একেক দিকে সুন্দর। একেকজনের দৃষ্টিতে একেক পাখিকে সুন্দর মনে হতে পারে। কিন্তু প্রকৃত সুন্দর পাখিটিকে কারো কাছেই অসুন্দর লাগবে না। সৌন্দর্য বিবেচনায় এদেশের পাখিগুলোর মধ্যে পুরুষ নীলটুনি বা দুর্গাটুনটুনিই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। যদিও লম্বালেজের পুরুষ ময়ূর (বর্তমানে বিলুপ্ত) এবং দুধরাজও অত্যন্ত সুন্দর। তাছাড়া টকটকে লাল পুরুঘ লাল মুনিয়াও কম সুন্দর নয়।

 

সাভারের জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসের বট গাছে বটকল। ছবি: লেখক

এবার এদেশের বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম আবাসিক পাখি প্রসঙ্গে আসছি। উচ্চতা-দৈর্ঘ্য-ওজনের ভিত্তিতে বর্তমানে এদেশের বৃহত্তম আবাসিক পাখির নাম মদনটাক (Lesser Adjutant Stork) যার উচ্চতা ১১৫-১২০ সেমি, দৈর্ঘ্য ৮৭-৯৩ সেমি ও ওজন ৪.৫ কেজি। আর ক্ষুদ্রতম পাখির নাম ছোট ফুলঝুরি (Pale-billed Flower-pecker) যার দৈর্ঘ্য মাত্র ৮ সেমি ও ওজন মাত্র ৬.৩ গ্রাম। অন্যদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম পাখির নাম উটপাখি (Ostrich- দৈর্ঘ্য ২৭৫ সেমি ও ওজন ১০০-১১৫ কেজি) ও ক্ষুদ্রতম পাখির নাম মৌগুঞ্জন পাখি (Bee Hummingbird- দৈর্ঘ্য মাত্র ৫-৬ সেমি ও ওজন মাত্র ১.৯৫-২.৬০ গ্রাম)। 

এদেশের আবাসিক পাখিগুলোর মধ্যে যেমন রয়েছে নদী, জলা ও সৈকতের পাখি, তেমনি রয়েছে লোকালয়, বনজঙ্গল, মাঠ, ঘাসবন, নলবন ও ঝোপঝাড়ের পাখি। কোনো কোনো পাখিদের কেবল বনেই দেখা যায়, যেমন- বনমোরগ (Red Jungle Fowl), মথুরা (Kalij Pheasant), কাঠময়ূর (Grey Peacock Pheasant), ধনেশ (Hornbill), কালো বাজ (Black Baza), পাহাড়ি নীলকন্ঠ (Oriental Dollarbird), মদনা টিয়া (Red-breasted Parakeet) ইত্যাদি আরও কত কী? কিছু কিছু পাখি শুধু মানুষের আবাস এলাকা বা আশেপাশে থাকে, যেমন- চড়ুই (Houuse Sparrow), টুনটুনি (Tailor Bird), ভাত শালিক (Common Myna), কাক (House Crow) ইত্যাদি।

সুন্দরবনের কটকায় ওড়ার মুহূর্তে একটি বড় সাদা বক। ছবি: লেখক

আবার কোনো কোনো পাখিদের শুধু খাল-বিল, নদী-নালা ও বিভিন্ন ধরনের জলাশয়েই দেখা যায়, যেমন- বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস (Ducks), বক (Heron), সারস (Stork), কাস্তেচরা (Black-headed Ibis), ডুবালু বা ডুবুরি (Grebe)ইত্যাদি। কিছু পাখি আছে যারা শুধু সুন্দরবনেই বাস করে, অন্য কোথাও না, যেমন- সুন্দরী হাঁস (Masked Finfoot), সুন্দরী সুমচা (Mangrove Pitta), লাল মাছরাঙা ((Ruddy Kingfisher), সিন্ধু ঈগল (White-bellied Sea Eagle)  ইত্যাদি।

কিছু কিছু পাখিকে বনজঙ্গল, লোকালয় বা বাদা বন (Mangrove Forest) প্রভৃতি সব পরিবেশেই দেখা যায়, যেমন- বিভিন্ন প্রজাতির হরিয়াল (Green Pigeon), তিলা ঘুঘু (Spotted Dove), দোয়েল (Magpie Robin), বুলবুলি (Bulbul), নীলটুনি, ফুলঝুরি (Flowerpeckers)  ইত্যাদি। মাঠের বা ক্ষেতখামারের পাখিদের মধ্যে রয়েছে হট্টিটি (Lapwings), খরমা (Indian Thick-knee), নীলকন্ঠ ((Roller), কসাই (Shrike), ফিঙে (Drongo), ভরত (Lark), ইত্যাদি।

ঘাসবনের পাখিদের মধ্যে রয়েছে নাগরবাটই (Barred Buttonquail), টেকটেকি (Striated Grassbird), মুনিয়া, ধানটুনি (Zitting Cisticola), কালোবুক বাবুই (Black-breasted Weaver) ইত্যাদি। ঝোপঝাড়ের পাখির মধ্যে রয়েছে কানাকুক্কা (Coucal), টুনটুনি ইত্যাদি। একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, সব প্রজাতির পাখি যেমন একই জায়গায় বা একই মৌসুমে দেখা যায় না, তেমনি সমান সংখ্যায়ও দেখা মেলে না।

বাইক্কা বিলে বালিহাঁসের ছবি তোলায় ব্যস্ত লেখক। ছবি: ড. জীবন চন্দ্র দাস

E-mail:[email protected], [email protected]

   

ইতিহাসের পাতায় ৪ মার্চ



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মুকাভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের নাইট উপাধি প্রাপ্তি

মুকাভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের নাইট উপাধি প্রাপ্তি

  • Font increase
  • Font Decrease

বছর ঘুরে তারিখগুলো যেমন ফিরে আসে, তেমনি ফিরে আসে সেই তারিখের সাথে সম্পর্কিত ঘটনাগুলো। স্মৃতিচারণ করিয়ে সুখে-দুঃখে ঘেরা পুরানো স্মৃতিগুলো। তেমনভাবেই ইতিহাসও প্রতিবছর তারিখের সাথে ফিলে আসে অতীতের গল্পগুলো শোনাতে। 

আজ ৪ মার্চ, ২০২৪। আজকের দিনে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো জেনে নিই! 

কিংবদন্তী মুকাভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন

বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনকে ‘স্যার চার্লস’ নাইট উপাধি দেওয়া হয়। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি ব্যাপক সম্মান অর্জন করেন। মৃত্যুর মাত্র ২ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাকিংহাম প্যালেসে ধুমধাম অনুষ্ঠানে অভিনেতাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। 

অ্যানি ম্যাগুইয়ার

১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডে এক আয়ারল্যান্ড বংশোদ্ভুত নারীকে তাদের লন্ডনের বাড়িতে বিস্ফোরণের দায়ে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তদন্ত করে জানা যায় ৪০ বছর বয়েসি অ্যানি ম্যাগুইয়ার নামের সেই নারীর সাথে তার পরিবারের ৫জন এবং ১ জন ঘনিষ্ট বন্ধুও জড়িত ছিল। তার কাছে নাইট্রো-গ্লিসারিন পাওয়া গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে আইআরএ-র সন্ত্রাসীদের কাছে বোমা তৈরি করার জন্য সরবরাহ করা হতো। ৪ মার্চ অ্যানির ১৪ বছরের শাস্তি হয়েছিল।

যমজ সন্ত্রাসী রনি এবং রেজি

১৯৬৯ সালে যমজ ভাই রোনাল্ড ক্রে এবং রেজিনাল্ড ক্রে-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জ্যাক ম্যাকভিটি নামক  এক ব্যক্তিকে খুনের দায়ে শাস্তি হয় তাদের।  এই দুই ভাইকে কুখ্যাত ইস্ট এন্ড গ্যাংস্টার বলা হয়।

জিম্বাবুয়ের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রধানমন্ত্রী রবার্ট মুগাবে
 

১৯৮০ সালের ৪ মার্চ রবার্ট মুগাবে জিম্বাবুয়ের নির্বাচনে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নেতা হিসেবে জয়লাভ করেন। দীর্ঘ ১০ বছর নির্বাসন কাটানোর পর নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দেশে ফেরেন মুগাবে। তারপরও ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করে মুগাবের কট্টপন্থী ‘জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়ন’ বা জানু।          

 

তথ্যসূত্র: বিবিসি

;

ইতিহাসের পাতায় ৩ মার্চ



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
১৯৭৪ সালের ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনা

১৯৭৪ সালের ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনা

  • Font increase
  • Font Decrease

সময় এক সোনার হরিণ! তাকে কিছুই বাগে রাখা যায় না। সময় চলে গেলেও, রেখে যায় তার স্মৃতি। ইতিহাসের পাতাও লিখে রাখে তার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা।

আজ ০৩ মার্চ, ২০২৪। আজকের তারিখে বিশ্বে ঘটেছিল বিভিন্ন ঘটনা। তাতে চোখ বুলিয়ে দেখে স্মৃতিচারণ করে নেওয়া যাক!  

প্রায় সাড়ে ৩শ লোকের প্রান যায় তুর্কির বিমান ক্র‌্যাশে

১৯৭৪ সালে তুর্কিতে জেট বিমান ‘ডিসি১০’ প্যারিসের কাছাকাছি ক্রাশল্যান্ড করে। সেখানে ২০০শ যাত্রীসহ ৩৪৫ জন নিহত হন। প্যারিসের পথ ধরেই আঙ্কারা থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল জেটপ্লেনটি। এই ঘটনাটিকে এখনো অবধি বিশ্বের সবচেয়ে দুঃখজনক বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮৫ সালে খনি শ্রমিকরা বছর ব্যাপী ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত ত্যাগ করেন। গ্রেট ব্রিটেনের ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মাইনওয়ার্কার্স বা ‘এনইউএম’- এর সদস্যরা  শান্তিচুক্তি ছাড়াই নির্বাচন করে এই সিদ্দান্ত নেন। তাদের নেতা আর্থার স্কারগিল জানান, তাদের শ্রমিকরা অনেক কঠিন সময় পার করেছেন। তাই তারা কাজে ফিরবেন, তবে চাকরি হারানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন।  

মহাত্মা গান্ধী

১৯৩৯ সালের ৩ মার্চ ভারতের মুম্বাইতে মহাত্মা গান্ধী অনশন শুরু করেন। ইংরেজদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে তিনি এই পদক্ষেপ গ্রহন করেন।

১৯৪৩ সালে বিসমার্ক সাগরে ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। অস্ট্রেলিয়ান এবং আমেরিকান বিমান বাহিনী ৩ মার্চ জাপানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে ধ্বংস করে।  

;

বদলে গেছে বুড়িগঙ্গা, বদলায়নি আহসান মঞ্জিল



রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়া, নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বদলে গেছে বুড়িগঙ্গা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কত স্রোত বয়ে গেছে এ নদী দিয়ে। বদলে গেছে নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা। হারিয়ে গেছে বুড়িগঙ্গার সেই খরস্রোতা রূপ। নেই সেই ভরা নদীর সৌন্দর্য, নেই মোঘল নবাবদের সেই বিচরণও!

তবু কালের সাক্ষী হিসেবে রয়ে গেছে মোঘল আমলের বাকরখানি। রয়েছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেই শাহী বিরিয়ানি। সেইসঙ্গে বুড়িগঙ্গার তীরে এখনো মাথা উঁচু করে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল।

কালের সাক্ষী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এই নিদর্শনকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল রয়েছে পর্যটনপ্রেমী মানুষদের।


রাজধানী ঢাকাকে বলা হয়- যাদুর শহর। রাজধানী ঢাকার কর্মব্যস্ত ভ্রমণপিপাসু বাসিন্দারা একটু অবসর পেলেই ছুটে আসেন বুড়িগঙ্গার তীরে, আহসান মঞ্জিলে।

আহসান মঞ্জিল

দোতলা ভবন। ভবনের দেওয়ালে নান্দনিক কারুকার্য। দোতলা থেকে একটি বড় সিঁড়ি নেমে এসে মিশে গেছে সবুজ মাঠের সঙ্গে। সামনেই রয়েছে চমৎকার ফুলের বাগান। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা। দোতলা এই প্রাসাদের প্রতিটি কক্ষ অষ্ট-কোণ বিশিষ্ট। ভবনের ভেতরে রয়েছে খাবার ঘর, দরবার হল, বিলিয়ার্ড খেলার ঘর এবং জলসাঘর। মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রাসাদের বারান্দা ও মেঝে। এই প্রাসাদের দ্বিতীয়তলায় গেলে দেখা যাবে, অতিথিদের থাকার কক্ষ, বৈঠকখানা, গ্রন্থাগার, নাচঘর এবং বসবাসের আরও কিছু কক্ষ।

ছবি: নাইমুল হাসান মাসুম

আহসান মঞ্জিল মূলত দুটি অংশে বিভক্ত। পূর্ব পাশের গম্বুজযুক্ত অংশ হলো—প্রাসাদ ভবন বা রঙমহল আর পশ্চিমাংশের ভবনকে বলা হয়—অন্দরমহল।

আহসান মঞ্জিল ঢাকা শহরের প্রথম ইটপাথরের ভবন বলে মিথ রয়েছে। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়, ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে আর শেষ হয় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে। ২৩টি গ্যালারিসহ এই ভবনে প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রদর্শনীর জিনিসপত্র রয়েছে।

বর্তমানে আহসান মঞ্জিল ঢাকার ইতিহাসের ‘জাদুঘর’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে—নবাব আমলের ডাইনিং রুম, আলমারি, সিন্দুক, নবাব আমলের বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কৃত রূপা ও ক্রিস্টালের তৈরি চেয়ার-টেবিল, বড় বড় আয়না, কাচ ও চীনামাটির থালা-বাসন, হাতির মাথার কঙ্কাল, বিভিন্ন ধরনের তৈলচিত্র, আতরদানি, ফুলদানি, পানদানসহ আহসান মঞ্জিলের মডেল।

ছবি: ফোরকান হোসাইন আরমান

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার মোগল সূত্রীয় নবাবের প্রতিনিধি নায়েবে নাজিম বংশের বিলুপ্তি ঘটে। তখন মুসলমানদের সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে শূন্যতা দেখা দেয়। এই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে আসে কুমারটুলীর খাজা পরিবার। এই পরিবার প্রায় শতবর্ষ ধরে নেতৃত্ব দেয়।

আর্থিক ও বিবিধ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন ধরনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটিশ সরকার খাজা পরিবারকে 'নবাব' উপাধি ব্যবহারের অধিকার দেয়। এর ফলে পরবর্তীতে ঢাকার নবাব পরিবার হিসেবে তারা পরিচিতি লাভ করে।

ঐতিহাসিকদের মতে, প্রাক মোগল সুলতানি আমলে এলাকার নামকরণ করা হতো সাধারণত ওই এলাকার বাসিন্দাদের পেশা অনুযায়ী। রাজধানীর তাঁতিবাজার, শাখারী বাজারসহ প্রভৃতি মহল্লা আজও সেই বাসিন্দাদের পেশার পরিচিতি বহন করছে।

ছবি: ফোরকান হোসাইন আরমান

মোগল সুবেদার ইসলাম খান ঢাকায় এসে বুড়িগঙ্গার তীরে প্রথম পদার্পণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তার নামানুসারে এই এলাকার নামকরণ করা হয় ইসলামপুর।

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জামালপুর পরগনার জমিদার শেখ ইনায়েতউল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থান রঙমহল নামে একটি প্রমোদভবন তৈরি করেন। পরে তার ছেলে শেখ মতিউল্লাহ এটি ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করেন। তারপর থেকে রঙমহলটি দীর্ঘদিন বাণিজ্য কুঠি হিসাবে পরিচিত ছিল।

পরবর্তীতে ১৮৩০ সালে বেগমবাজারে বসবাসকারী নওয়াব আবদুল গণির পিতা খাজা আলীমুল্লাহ রঙমহলটি কিনে নেন। ১৮৫৯ সালে আবদুল গণি প্রাসাদটি নির্মাণ শুরু করে কাজ শেষ করেন ১৮৭২ সালে। নির্মাণের পর তিনি তার প্রিয় ছেলে খাজা আহসানুল্লাহর নামানুসারে প্রাসাদটির নামকরণ করেন আহসান মঞ্জিল।

ছবি: ফোরকান হোসাইন আরমান

টিকিট

আহসান মঞ্জিলে ঢুকতে হলে জনপ্রতি ৪০ টাকা করে টিকিট কেটে নিতে হয়। অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জনপ্রতি ২০ টাকা। সার্কভুক্ত নাগরিকদের জন্য প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৩০০ টাকা। অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০০ টাকা। আহসান মঞ্জিল বন্ধের আধঘণ্টা আগ পর্যন্ত টিকিট পাওয়া যায়।

সময়সূচি

আহসান মঞ্জিল প্রতি বৃহস্পতিবারসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ থাকে। শীতের সময়ে (অক্টোবর থেকে মার্চ) শনি থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত, শুক্রবার দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর) শনি থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার খোলা থাকে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

ছবি: ফোরকান হোসাইন আরমান

যেভাবে যাবেন

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ যেকোনো বাহনে করে প্রথমে ঢাকায় আসতে হবে। বাসে সায়েদাবাদ/যাত্রাবাড়ী আসার পর সেখান থেকে রিকশা বা ট্যাক্সিক্যাব উবারে করে আসতে পারেন। এছাড়াও বাহাদুর শাহ পরিবহনের মিনি বাসে করে আসতে পারেন বাহাদুর শাহ পার্ক/জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। পরে রিকশা বা পায়ে হেঁটে ১০-১৫ মিনিটে আহসান মঞ্জিলে আসা যাবে।

ছবি: নাইমুল হাসান মাসুম

রাজধানীর মহাখালী থেকে আসলে স্কাইলাইন ও আজমেরী পরিবহন বাসে করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আসা যাবে।

গাবতলী থেকে এলে সাভার পরিবহন বাসে আসা যাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। তারপর রিকশায় অথবা হেঁটে আসা যাবে।

ট্রেনে এলে কমলাপুর থেকে উবার কিংবা রিকশা নিয়ে আসা যাবে। লঞ্চে এলে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে ১০ মিনিট হাঁটলেই আহসান মঞ্জিল।

;

ইতিহাসের পাতায় ২ মার্চ



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
১৯৯১ সালে তামিল টাইগারের বোমা হামলায় ১৯ জন শ্রীলঙ্কানের মৃত্যু

১৯৯১ সালে তামিল টাইগারের বোমা হামলায় ১৯ জন শ্রীলঙ্কানের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

বছর পার হলে বার বার ফিরে আসে তারিখগুলো। সময়ের সাথে সাথে বর্তমান হয় অতীত, অতীত হয় ইতিহাস। মানবজাতির সেসব ইতিহাস, প্রতিবছর তার তিথিলগ্নে এসে স্মরণ করিয়ে দেয় ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো। 

আজ ২ মার্চ ২০২৪। ইতিহাসের পাতায় আজকের তারিখে কি ঘটেছিল, জেনে নেওয়া যাক!

স্বাধীন বাংলার পতাকা

বাংলাদেশ পাকিস্তানের অধিনে থাকাকালে তাদের বৈষম্যে বিরক্ত হয় এবং স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়। তখন দেশপ্রেমিক বাংলার ছাত্রনেতারা নিজস্ব পতাকা উত্তোলন করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে প্রথমবার উম্মোচিত হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা।  

৯০ দশকে শ্রীলঙ্কার উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন রঞ্জন উইজেরাত্নে 

শ্রীলঙ্কায় ১৯৯১ সালে তামিল টাইগাররা রাজধানী কলম্বোতে উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রঞ্জন উইজেরাত্নেকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়িবহরে বোমা হামলা চালায়। নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় রিমোট নিয়ন্ত্রিত সেই বোমায় নিহত হন ৫৯ বছর বয়সী রঞ্জনসহ আরও ১৯ জন।

রোডেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ান স্মিথ

৮০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে ব্রিটেন রাজতন্ত্র থেকে রোডেশিয়াকে সম্পূর্ণ পৃথক করে ফেলেন ইয়ান স্মিথ। ১৯৭০ সালে রোডেশিয়াকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটেনের থেকে রোডেশিয়া স্বাধীনতা চায়নি। বরং তাদের উপর তা চাপিয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্বের ত্রুটিমুক্ত সবচেয়ে গতিশীল বিমান কনকর্ম প্রথম আকাশে উড়েছিল। ১৯৬৯ সালের ২ মার্চ সুপারসনিক সেই বিমানটি প্রথমবার চালিয়ে পরীক্ষা করা হয়, যা ২৭ মিনিট শূন্যে ভেসেছিল। অ্যাংলো-ফরাসি নির্মিত এই বিমানের গতি শব্দের গতির প্রায় দ্বিগুণ। মানে প্রতি ঘণ্টায় গতি ছিলো ২১৮০ কিলোমিটার।

নেপোলিয়ান বোনাপোর্টকে ১৭৯৬ সালে ইতালিতে থাকা ফরাসি সেনাবাহিনীর কমান্ড-ইন-চিফ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ফ্রান্স থেকে নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করে মরোক্কো

প্যারিসে সাক্ষর করা শান্তিচুক্তি অমান্য করে মরক্কো ফ্রান্স থেকে নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করে ২ মার্চ ১৯৫৬।

দিন যায়, বছর গত হয়। তবে তারিখগুলো বার বার আসে, তার  ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো স্মরণ করাতে। 

;