কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বগুড়ার মৃৎশিল্প



মাহবুবা পারভীন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া পালপাড়া গ্রামে প্রবেশ করতেই মাটির মিষ্টি পোড়া ঘ্রাণে মন ভরে যায়। আর গ্রামের রাস্তার দুই পাশে দেখা মেলে মাটির ঢিপি, আর চারিধারে সাজিয়ে রাখা বাহারি মাটির তৈজসপত্র।

গ্রামের নারী, শিশু, বৃদ্ধ বয়সী নারী পুরুষও মৃৎশিল্পের কাজ করেন। সাংসারিক কাজের ফাঁকে তারা বিভিন্ন তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কেউ মাটি কাটছেন, কেউ মাটির গোলা তৈরি করছেন। কেউবা তৈরি করা তৈজসপত্রগুলো চুল্লিতে পোড়াচ্ছেন, আবার কেউ রং করছেন। তবে দই এর সরা গ্লাস, বাটি, খুটিই তাদের বাপ দাদার আমলের পেশাকে টিকিয়ে রেখেছে।


আড়িয়া পালপাড়া গ্রামের মৃৎকারিগর বিশু পাল বলেন, আজ থেকে প্রায় দুই যুগ আগেও তার এখানে তৈরি হতো বড়-ছোট পাতিল, কলসি, সানকি প্রভৃতি। কিন্তু এগুলো আর ক্রেতারা কিনতে আগ্রহী নন বলে তৈরি করা হয় না। তবে দই ব্যবসায়ীদের জন্য তারা এখনও টিকে আছেন। তিনি জানান, এ গ্রামের ১২০টি পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত। এখানকার দইয়ের জন্য তৈরি সানকি, সারা ও ছোট কাপ বগুড়াসহ গাইবান্ধা এবং কুমিল্লায় বিক্রি করা হয়। একটি পরিবারের প্রায় পাঁচজন মিলে প্রতিদিন এক হাজার দইয়ের গ্লাস তৈরি করা যায়। বিক্রি করা যায় প্রায় এক হাজার ৩০০ টাকায়।

প্লাস্টিক, সিরামিক, মেলামাইন, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন ধরণের পণ্যের ভিড়ে কমে গেছে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের কদর। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবুও বাপ-দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতে এখনও অনেকেই কাজ করছেন মৃৎশিল্পী হিসেবে। আল্পনা পাল নামের এক নারীকে দেখা যায় মাটির তৈরি তৈজসপত্র রোদে শুকিয়ে দিতে। আল্পনা বলেন, ' আমার স্বামীর বাপ, দাদা এই মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত ছিলেন। আমার স্বামীও মৃৎশিল্পী।'

কল্পনার তিন মেয়ে আর দুই ছেলে। কল্পনার স্বামী মাটির তৈজসপত্র তৈরি করেন আর কল্পনা ও তার ছেলেমেয়েরাও একইভাবে এই কাজ করেন। এই শিল্প ছাড়া তারা অন্য কাজ করতে পারেন না।

সংসারের কাজের পাশাপাশি এই এলাকার অনেক নারীকেই দেখা যায় দই এর হাঁড়ি তৈরি করতে। সুমন নামের এক মৃৎশিল্পী বলেন, ‘মাটির হাঁড়ি পাতিল এখন আর চলে না। ছোটকাল থেকে বাপ দাদার সঙ্গে কাজ করছি। এক সময় মাটির জিনিস খুব ব্যবহার হতো। দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের জিনিস বের হওয়ায় এখন মাটির জিনিস চলে না। এই শিল্পের সঙ্গে যারা আমরা রয়েছি তাদের চলা খুবই কষ্ট।' 

মাটির যেকোনো পাত্র তৈরিতে কাদা প্রস্তুত করতে হয় প্রথমে। এরপর নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য প্রস্তুতকৃত কাদা গোল্লা বা চাকা তৈরি করতে হয়। পরে তা চাকার মাঝখানে রাখা হয়। চাকা ঘুরতে ঘুরতে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটি হয়ে ওঠে আকর্ষণীয় তৈজসপত্র। এরপর তা শুকিয়ে স্তুপ আকারে সাজিয়ে চুল্লিতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পোড়ানোর পর পণ্যের গায়ে রঙ করতে হয়। বিলুপ্ত প্রায় এই পেশাটি বেশ যত্নের সাথে আগলে রেখেছেন মৃৎশিল্পীরা।

মৃৎশিল্পীদের ভাষ্যমতে, মাটির তৈরি অন্যান্য পণ্যের কদর এখন তেমন না থাকলেও দইয়ের সরা ও হাঁড়ি-পাতিলের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দইয়ের জন্য বিখ্যাত হওয়ায় বগুড়ায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বলা যায়, এই দইয়ের পাত্রের চাহিদার উপর নির্ভর করেই জেলার মৃৎশিল্প টিকে আছে।


তারা বলেন, দই-এর পাত্র তৈরি করেই টিকে আছে আমাদের পাল পাড়ার দুই হাজার পরিবার। সনাতন পাল নামের একজন মৃৎশিল্পী বলেন, 'এখন সব জিনিসের দাম বেশি। মাটির দাম বেশি, লাকরি, খরির দাম বেশি তাই আমাদের খুব বেশি লাভ হয়না। তবুও এই বাপ, দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।' 

জানা যায়, প্রতিদিন শত শত মণ দই তৈরি হয় এ জেলায়। দই সাধারণত মাটির তৈরি পাত্রেই রাখা হয়। বগুড়া জেলার চাহিদা মিটিয়ে এই দই এবং এর পাত্রও বিভিন্ন জেলায় যায়। আর সে কারণেই জিবীকা নির্বাহের জন্য এখনও এই পেশাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন জেলার অনেক মৃৎশিল্পী।
মৃৎশিল্পীরা বলেন, একটি দইয়ের পাতিল বানাতে ৩০ টাকা, সড়া বানাতে ৬ টাকা ও কাপ বানাতে ৪ টাকার মতো খরচ হয়। স্থানীয় বাজারে এসব দইয়ের পাতিল ৫০ টাকা, সড়া ৮-১০ টাকা ও কাপ ৯ টাকায় বিক্রি করা হয়।


বগুড়া সদরের নন্দীগ্রাম, শেখেরকোলা ও গাবতলী উপজেলায় গিয়েও দেখা মেলে এই পাল পাড়া। এইসব গ্রামে ঘুরে জানা গেল, মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িতদের জীবন ধারণের কথা। তারা জানালেন, মাটির কলস, হাঁড়ি, দইয়ের সড়া, বাসন, পেয়ালা, সুরাই, মটকা, পিঠা তৈরির নানা ছাঁচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আগে বাসাবাড়িতে গ্রহণযোগ্য ছিল। বর্তমানে এসব তৈজসপত্রের ব্যবহার গ্রামে চললেও শহরে ব্যবহার বিলুপ্ত প্রায়। তাই তাদের আয়-রোজগারও এখন কমে গেছে। তবে দইয়ের সড়া ও হাঁড়ির ব্যবহার এখনও আছে। ফলে এ শিল্পটিকে আঁকড়ে টিকে থাকার আশার আলো এখনো দেখেন তারা।

এই মৃৎশিল্পকে ধরে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া বিসিক উপ-মহাব্যবস্থাপক এ কে এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে যাওয়ার পথে এই শিল্পটি। এই শিল্প হারিয়ে গেলে মৃৎশিল্পীরা বিপদগ্রস্ত হবেন। তাই মৃৎশিল্প টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।' 

   

স্বাস্থ্য গড়তে কয়েন গিলে ফেলা, কে এই ব্যক্তি!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
রোগীর অন্ত্র থেকে ৩৯ টি কয়েন এবং ৩৭ টি চুম্বক উদ্ধার

রোগীর অন্ত্র থেকে ৩৯ টি কয়েন এবং ৩৭ টি চুম্বক উদ্ধার

  • Font increase
  • Font Decrease

‘সুস্থ শরীরে সুন্দর মন!’ কেবল প্রচলিত প্রবাদ নয়, ডাক্তাররাও বলেন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা সবচেয়ে জরুরি। কারণ, শরীর সুস্থ না থাকলে কোনো কাজই করা যায় না। তাই সকলেই চেষ্টা করেন, সুস্বাস্থ্য ধরে রাখার। 

দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে হলে, শরীরের জন্য ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। অনেকেই সখের বশে বা প্রয়োজনে বডি বিল্ড করেন। পেশাগত ট্রেইনারের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন-যাপন করেন। তবে সঠিক উপদেশ বুঝতে পারলে কত বড় বিপদ হতে পারে, মিললো তার প্রমাণ!      

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতাল। সেখানে ২৬ বছর বয়েসি এক ব্যক্তি পেটে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন। তার পেটে প্রচণ্ড অস্বস্তিসহ ব্যথা ছিল এবং বমি হচ্ছিল। এই কারণে তিনি কিছুই খেতে পারছিলেন না।

তার আত্মীয়রা জানান, রোগী বেশ কিছুদিন ধরে চুম্বক আর কয়েন খাচ্ছিলো। এই তথ্য জানার পর চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন। রোগীর পেটে রয়েছে অনেকগুলো মুদ্রা এবং চুম্বক জমা হয়েছিল। চিকিৎসকরা তার পেট থেকে ৩৯টি কয়েন এবং ৩৭টি চুম্বক উদ্ধার করেন।  

রোগীর পরিবারের লোকজন প্রথমে এক্সরে করিয়েছিলেন। সেখানে কয়েন এবং চুম্বকের আকার দেখা যায়। তারপর তারা রোগীর সিটি স্ক্যান করান। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, কয়েন এবং চুম্বকের স্তূপ পেটে জমে আছে।

ক্ষ্রদ্রান্তে জড়ো হয়েছিল বিভিন্ন আকৃতির ভারী বস্তু। দুইটি ভিন্ন সারিতে একত্রিত হয় মুদ্রা এবং চুম্বক। চুম্বকের আকর্ষণের কারণে এই চক্র তৈরি হয় এবং সবগুলো বস্তু একত্রে ছিল। অপারেশন শেষ হওয়ার পর চিকিৎসকরা একটি এক্স-রে করে নিশ্চিত হয়েছেন যে পেটে আর কোনো অংশ অবশিষ্ট নেই।  

সেই রোগীর অন্ত্রে জমে থাকা ভারী বস্তুর কারণেই অসহনীয় যন্ত্রণায় ভুগছেন তিনি। কয়েন এবং চুম্বক খাওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, রোগী স্বাস্থ্য গঠন করতে সেগুলো গিলেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন শরীর তৈরিতে জিংক ভালো কাজ করবে। আর মুদ্রাগুলোতে জিংক রয়েছে। তাছাড়া কয়েনগুলোকে দীর্ঘ সময় পেটে ধরে রাখতেই তিনি চুম্বক খেয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, এতে শরীর বেশি করে জিংক পাবে।     

রোগীর পরিবার নিশ্চিত করেছেন, সেই ব্যক্তি মানসিকভাবে সুস্থ নন। এর আগেও তার চিকিৎসা চলছিল।  

তথ্যসূত্র: খালিজ টাইমস

;

ইতিহাসের পাতায় ৪ মার্চ



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মুকাভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের নাইট উপাধি প্রাপ্তি

মুকাভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের নাইট উপাধি প্রাপ্তি

  • Font increase
  • Font Decrease

বছর ঘুরে তারিখগুলো যেমন ফিরে আসে, তেমনি ফিরে আসে সেই তারিখের সাথে সম্পর্কিত ঘটনাগুলো। স্মৃতিচারণ করিয়ে সুখে-দুঃখে ঘেরা পুরানো স্মৃতিগুলো। তেমনভাবেই ইতিহাসও প্রতিবছর তারিখের সাথে ফিলে আসে অতীতের গল্পগুলো শোনাতে। 

আজ ৪ মার্চ, ২০২৪। আজকের দিনে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো জেনে নিই! 

কিংবদন্তী মুকাভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন

বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনকে ‘স্যার চার্লস’ নাইট উপাধি দেওয়া হয়। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি ব্যাপক সম্মান অর্জন করেন। মৃত্যুর মাত্র ২ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাকিংহাম প্যালেসে ধুমধাম অনুষ্ঠানে অভিনেতাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। 

অ্যানি ম্যাগুইয়ার

১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডে এক আয়ারল্যান্ড বংশোদ্ভুত নারীকে তাদের লন্ডনের বাড়িতে বিস্ফোরণের দায়ে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তদন্ত করে জানা যায় ৪০ বছর বয়েসি অ্যানি ম্যাগুইয়ার নামের সেই নারীর সাথে তার পরিবারের ৫জন এবং ১ জন ঘনিষ্ট বন্ধুও জড়িত ছিল। তার কাছে নাইট্রো-গ্লিসারিন পাওয়া গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে আইআরএ-র সন্ত্রাসীদের কাছে বোমা তৈরি করার জন্য সরবরাহ করা হতো। ৪ মার্চ অ্যানির ১৪ বছরের শাস্তি হয়েছিল।

যমজ সন্ত্রাসী রনি এবং রেজি

১৯৬৯ সালে যমজ ভাই রোনাল্ড ক্রে এবং রেজিনাল্ড ক্রে-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জ্যাক ম্যাকভিটি নামক  এক ব্যক্তিকে খুনের দায়ে শাস্তি হয় তাদের।  এই দুই ভাইকে কুখ্যাত ইস্ট এন্ড গ্যাংস্টার বলা হয়।

জিম্বাবুয়ের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রধানমন্ত্রী রবার্ট মুগাবে
 

১৯৮০ সালের ৪ মার্চ রবার্ট মুগাবে জিম্বাবুয়ের নির্বাচনে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নেতা হিসেবে জয়লাভ করেন। দীর্ঘ ১০ বছর নির্বাসন কাটানোর পর নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দেশে ফেরেন মুগাবে। তারপরও ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করে মুগাবের কট্টপন্থী ‘জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়ন’ বা জানু।          

 

তথ্যসূত্র: বিবিসি

;

ইতিহাসের পাতায় ৩ মার্চ



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
১৯৭৪ সালের ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনা

১৯৭৪ সালের ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনা

  • Font increase
  • Font Decrease

সময় এক সোনার হরিণ! তাকে কিছুই বাগে রাখা যায় না। সময় চলে গেলেও, রেখে যায় তার স্মৃতি। ইতিহাসের পাতাও লিখে রাখে তার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা।

আজ ০৩ মার্চ, ২০২৪। আজকের তারিখে বিশ্বে ঘটেছিল বিভিন্ন ঘটনা। তাতে চোখ বুলিয়ে দেখে স্মৃতিচারণ করে নেওয়া যাক!  

প্রায় সাড়ে ৩শ লোকের প্রান যায় তুর্কির বিমান ক্র‌্যাশে

১৯৭৪ সালে তুর্কিতে জেট বিমান ‘ডিসি১০’ প্যারিসের কাছাকাছি ক্রাশল্যান্ড করে। সেখানে ২০০শ যাত্রীসহ ৩৪৫ জন নিহত হন। প্যারিসের পথ ধরেই আঙ্কারা থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল জেটপ্লেনটি। এই ঘটনাটিকে এখনো অবধি বিশ্বের সবচেয়ে দুঃখজনক বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮৫ সালে খনি শ্রমিকরা বছর ব্যাপী ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত ত্যাগ করেন। গ্রেট ব্রিটেনের ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মাইনওয়ার্কার্স বা ‘এনইউএম’- এর সদস্যরা  শান্তিচুক্তি ছাড়াই নির্বাচন করে এই সিদ্দান্ত নেন। তাদের নেতা আর্থার স্কারগিল জানান, তাদের শ্রমিকরা অনেক কঠিন সময় পার করেছেন। তাই তারা কাজে ফিরবেন, তবে চাকরি হারানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন।  

মহাত্মা গান্ধী

১৯৩৯ সালের ৩ মার্চ ভারতের মুম্বাইতে মহাত্মা গান্ধী অনশন শুরু করেন। ইংরেজদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে তিনি এই পদক্ষেপ গ্রহন করেন।

১৯৪৩ সালে বিসমার্ক সাগরে ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। অস্ট্রেলিয়ান এবং আমেরিকান বিমান বাহিনী ৩ মার্চ জাপানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে ধ্বংস করে।  

;

বদলে গেছে বুড়িগঙ্গা, বদলায়নি আহসান মঞ্জিল



রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়া, নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বদলে গেছে বুড়িগঙ্গা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কত স্রোত বয়ে গেছে এ নদী দিয়ে। বদলে গেছে নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা। হারিয়ে গেছে বুড়িগঙ্গার সেই খরস্রোতা রূপ। নেই সেই ভরা নদীর সৌন্দর্য, নেই মোঘল নবাবদের সেই বিচরণও!

তবু কালের সাক্ষী হিসেবে রয়ে গেছে মোঘল আমলের বাকরখানি। রয়েছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেই শাহী বিরিয়ানি। সেইসঙ্গে বুড়িগঙ্গার তীরে এখনো মাথা উঁচু করে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল।

কালের সাক্ষী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এই নিদর্শনকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল রয়েছে পর্যটনপ্রেমী মানুষদের।


রাজধানী ঢাকাকে বলা হয়- যাদুর শহর। রাজধানী ঢাকার কর্মব্যস্ত ভ্রমণপিপাসু বাসিন্দারা একটু অবসর পেলেই ছুটে আসেন বুড়িগঙ্গার তীরে, আহসান মঞ্জিলে।

আহসান মঞ্জিল

দোতলা ভবন। ভবনের দেওয়ালে নান্দনিক কারুকার্য। দোতলা থেকে একটি বড় সিঁড়ি নেমে এসে মিশে গেছে সবুজ মাঠের সঙ্গে। সামনেই রয়েছে চমৎকার ফুলের বাগান। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা। দোতলা এই প্রাসাদের প্রতিটি কক্ষ অষ্ট-কোণ বিশিষ্ট। ভবনের ভেতরে রয়েছে খাবার ঘর, দরবার হল, বিলিয়ার্ড খেলার ঘর এবং জলসাঘর। মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রাসাদের বারান্দা ও মেঝে। এই প্রাসাদের দ্বিতীয়তলায় গেলে দেখা যাবে, অতিথিদের থাকার কক্ষ, বৈঠকখানা, গ্রন্থাগার, নাচঘর এবং বসবাসের আরও কিছু কক্ষ।

ছবি: নাইমুল হাসান মাসুম

আহসান মঞ্জিল মূলত দুটি অংশে বিভক্ত। পূর্ব পাশের গম্বুজযুক্ত অংশ হলো—প্রাসাদ ভবন বা রঙমহল আর পশ্চিমাংশের ভবনকে বলা হয়—অন্দরমহল।

আহসান মঞ্জিল ঢাকা শহরের প্রথম ইটপাথরের ভবন বলে মিথ রয়েছে। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়, ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে আর শেষ হয় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে। ২৩টি গ্যালারিসহ এই ভবনে প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রদর্শনীর জিনিসপত্র রয়েছে।

বর্তমানে আহসান মঞ্জিল ঢাকার ইতিহাসের ‘জাদুঘর’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে—নবাব আমলের ডাইনিং রুম, আলমারি, সিন্দুক, নবাব আমলের বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কৃত রূপা ও ক্রিস্টালের তৈরি চেয়ার-টেবিল, বড় বড় আয়না, কাচ ও চীনামাটির থালা-বাসন, হাতির মাথার কঙ্কাল, বিভিন্ন ধরনের তৈলচিত্র, আতরদানি, ফুলদানি, পানদানসহ আহসান মঞ্জিলের মডেল।

ছবি: ফোরকান হোসাইন আরমান

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার মোগল সূত্রীয় নবাবের প্রতিনিধি নায়েবে নাজিম বংশের বিলুপ্তি ঘটে। তখন মুসলমানদের সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে শূন্যতা দেখা দেয়। এই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে আসে কুমারটুলীর খাজা পরিবার। এই পরিবার প্রায় শতবর্ষ ধরে নেতৃত্ব দেয়।

আর্থিক ও বিবিধ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন ধরনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটিশ সরকার খাজা পরিবারকে 'নবাব' উপাধি ব্যবহারের অধিকার দেয়। এর ফলে পরবর্তীতে ঢাকার নবাব পরিবার হিসেবে তারা পরিচিতি লাভ করে।

ঐতিহাসিকদের মতে, প্রাক মোগল সুলতানি আমলে এলাকার নামকরণ করা হতো সাধারণত ওই এলাকার বাসিন্দাদের পেশা অনুযায়ী। রাজধানীর তাঁতিবাজার, শাখারী বাজারসহ প্রভৃতি মহল্লা আজও সেই বাসিন্দাদের পেশার পরিচিতি বহন করছে।

ছবি: ফোরকান হোসাইন আরমান

মোগল সুবেদার ইসলাম খান ঢাকায় এসে বুড়িগঙ্গার তীরে প্রথম পদার্পণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তার নামানুসারে এই এলাকার নামকরণ করা হয় ইসলামপুর।

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জামালপুর পরগনার জমিদার শেখ ইনায়েতউল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থান রঙমহল নামে একটি প্রমোদভবন তৈরি করেন। পরে তার ছেলে শেখ মতিউল্লাহ এটি ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করেন। তারপর থেকে রঙমহলটি দীর্ঘদিন বাণিজ্য কুঠি হিসাবে পরিচিত ছিল।

পরবর্তীতে ১৮৩০ সালে বেগমবাজারে বসবাসকারী নওয়াব আবদুল গণির পিতা খাজা আলীমুল্লাহ রঙমহলটি কিনে নেন। ১৮৫৯ সালে আবদুল গণি প্রাসাদটি নির্মাণ শুরু করে কাজ শেষ করেন ১৮৭২ সালে। নির্মাণের পর তিনি তার প্রিয় ছেলে খাজা আহসানুল্লাহর নামানুসারে প্রাসাদটির নামকরণ করেন আহসান মঞ্জিল।

ছবি: ফোরকান হোসাইন আরমান

টিকিট

আহসান মঞ্জিলে ঢুকতে হলে জনপ্রতি ৪০ টাকা করে টিকিট কেটে নিতে হয়। অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জনপ্রতি ২০ টাকা। সার্কভুক্ত নাগরিকদের জন্য প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৩০০ টাকা। অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০০ টাকা। আহসান মঞ্জিল বন্ধের আধঘণ্টা আগ পর্যন্ত টিকিট পাওয়া যায়।

সময়সূচি

আহসান মঞ্জিল প্রতি বৃহস্পতিবারসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ থাকে। শীতের সময়ে (অক্টোবর থেকে মার্চ) শনি থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত, শুক্রবার দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর) শনি থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার খোলা থাকে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

ছবি: ফোরকান হোসাইন আরমান

যেভাবে যাবেন

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ যেকোনো বাহনে করে প্রথমে ঢাকায় আসতে হবে। বাসে সায়েদাবাদ/যাত্রাবাড়ী আসার পর সেখান থেকে রিকশা বা ট্যাক্সিক্যাব উবারে করে আসতে পারেন। এছাড়াও বাহাদুর শাহ পরিবহনের মিনি বাসে করে আসতে পারেন বাহাদুর শাহ পার্ক/জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। পরে রিকশা বা পায়ে হেঁটে ১০-১৫ মিনিটে আহসান মঞ্জিলে আসা যাবে।

ছবি: নাইমুল হাসান মাসুম

রাজধানীর মহাখালী থেকে আসলে স্কাইলাইন ও আজমেরী পরিবহন বাসে করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আসা যাবে।

গাবতলী থেকে এলে সাভার পরিবহন বাসে আসা যাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। তারপর রিকশায় অথবা হেঁটে আসা যাবে।

ট্রেনে এলে কমলাপুর থেকে উবার কিংবা রিকশা নিয়ে আসা যাবে। লঞ্চে এলে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে ১০ মিনিট হাঁটলেই আহসান মঞ্জিল।

;