৩ বছরের শিশুর ড্রয়ারে ‘ইস্টার্ন ব্রাউন’ সাপ এলো কেমন করে!



ফিচার প্রতিবেদক, বার্তা২৪.কম
শিশুর ড্রয়ারে বিষাক্ত সাপ পেলেন অস্ট্রেলিয়ান মা

শিশুর ড্রয়ারে বিষাক্ত সাপ পেলেন অস্ট্রেলিয়ান মা

  • Font increase
  • Font Decrease

অনন্য প্রজাতির পশু-পাখির বাসস্থানের প্রসঙ্গ যখন আসে, তখন শীর্ষে নাম থাকে অস্ট্রেলিয়ার। এই খবরে দর্শনার্থী এবং বন্যপ্রাণী-প্রেমীদের চোখ হয়তো অ্যাডভেঞ্চারের আনন্দে চকচক করে ওঠতে পারে। তবে, স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য জীবনের প্রতি মুহূর্ত একেকটি চ্যালেঞ্জ। বিপদের কুড়াল মাথার উপর ঝুলিয়েই তাদের জীবন-যাপন করতে হয়।

বেশিরভাগ অস্ট্রেলিয়ানদের প্রধান উদ্বেগের কারণ, বাসিন্দারা প্রায়ই বিষাক্ত সাপের সম্মুখীন হন। বাড়িতে, অফিসে নানা জায়গা থেকে হুটহাট বিভিন্ন প্রজাতির লুকিয়ে থাকা সাপ উদয় হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত সাপের তালিকার ২য় স্থানকারী ‘ইস্টার্ন ব্রাউন’ সাপের আধিক্য দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ায়। চলতি মাসেই দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার এক পরিবারের ফ্রিজ থেকে এই প্রজাতির সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ঠিক ২ দিন পরেই, আরেকটি সাপ একজন নারীকে দংশন করে।

গতকাল আবার একজন নারী ঠিক একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। তার ৩ বছর বয়সী শিশুর ড্রয়ার থেকে কাপড় নিতে গিয়ে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারণ, বিষাক্ত এক সাপ সেখানে অপেক্ষা করছিল।  

নিউইয়র্ক পোস্টে এই ঘটনার উপর রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান সাপ শিকারী ‘মার্ক পেলে’ এই সাপ শিকার করতে বাচ্চাদের বেডরুমে গিয়েছিলেন। ৫ ফুট লম্বা এই সাপের রঙ হালকা বাদামী। পেলি ফেসবুকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি সাপ আবিষ্কার এবং উদ্ধারের ঘটনার বর্ণনা করেন।  

বিশ্বের ২য় বিষাক্ত সাপ ইস্টার্ন ব্রাউন

শিশুর মা, সাপটিকে লক্ষ্য না করেই ড্রয়ারে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফেসবুকে অনেকেই এই ঘটনায় অবাক হয়ে মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। সেই প্রেক্ষিতে পেলি জানিয়েছেন, এই জাতের সাপ ওজনে হালকা হয়। তাই অমনোযোগী থাকলে, সাপের ব্যাপারে টের পাওয়া যায়না। তাই যেকোনো কারো ক্ষেত্রেই এরকম ঘটনা ঘটতে পারে।

‘ইউনিভার্সিটি অফ মেলবর্ন’-এর ‘অস্ট্রেলিয়ান ভেনম রিসার্চ ইউনিট’-এর তথ্য অনুসারে, ইস্টার্ন ব্রাউন সাপের বিষ বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিষাক্ত। এদের বিষে শক্তিশালী নিউরোটক্সিন রয়েছে। এর প্রভাবে ক্রমান্বয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির হৃদয়, ফুসফুস এবং ডায়াফ্রামের স্নায়ুগুলো অবশ হতে শুরু করে। অবশেষে শ্বাসরোধের কারণে রোগীর মৃত্যু হতে বাধ্য।

‘কুইন্সল্যান্ড পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিভাগ’ বলে, এই প্রজাতির সাপ দিনের বেলায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। বেশি উত্তেজিত অবস্থায় এরা কামড়াতেও পারে। অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাংশ জুড়ে এদের আধিক্য দেখা যায়। বিশেষ করে ইঁদুর জাতীয় প্রাণি শিকারের খোঁজে কৃষিজমি এবং শহরতলির এলাকায়িএরা ঘুরে বেড়ায়।  

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

   

রূপময় বর্ষায় খুলনা নগরীর সৌন্দর্য



ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, খুলনা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চলছে বর্ষাকাল। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঋতু বর্ষা। খুলনায় তীব্র তাপদাহের পর টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নগরী যেন এক নতুন রূপে সেজে উঠেছে। প্রতিটি গাছ, পাতা আর ফুল যেন ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণ। রাস্তাঘাট, পার্ক আর বাগানগুলো সবুজে ভরে উঠেছে।

প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। রাস্তা দিয়ে হাঁটলেই আপনার চোখ আটকে যাবে সেই সব রঙ বেরঙের ফুলে। বৃষ্টির জলে ধুয়ে-মুছে ঝকঝকে হয়ে উঠেছে সবকিছু, যা মানুষের মনকে প্রফুল্ল করে তুলছে।


গাছের পাতায় জমে থাকা জলবিন্দুগুলো রোদ্দুরে রঙধনুর মতো ঝিলমিল করছে। ফুটপাতের ধারে ধারে ফুটে ওঠা রঙ বেরঙের ফুলগুলি যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক একটি ছবিতে পরিণত হয়েছে। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনিসহ সব রঙ মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নীল দৃশ্য। গাছের নিচে জমে থাকা জলকাদায় শিশুদের কাদামাখা খেলাও নতুন রঙ যোগ করেছে নগরীর এই নবরূপে।

মানুষের মনে এই পরিবর্তন যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে একটু সময় বের করে মানুষজন বিকেলে পার্কে ঘুরতে বেরিয়েছে। শিশুদের হাসি-খুশি মুখ আর তরুণ-তরুণীদের আড্ডায় মুখরিত চারপাশ। প্রিয়জনের সঙ্গে হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছে তারা।


নগরীর এই নবরূপ শুধু মানুষকে নয়, পশু-পাখিকেও নতুন উদ্যমে ভরিয়ে তুলেছে। গাছের ডালে ডালে পাখির কলরব আর ভেজা ভেজা গন্ধ মিশে পরিবেশকে আরও মধুর করে তুলেছে। পাখিরা যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে, তাদের ডাকে প্রাণের সুর বাজছে।

নগরীর প্রতিটি কোনে এখন নতুন কাহিনী। পুরনো দেয়ালেও যেন নতুন রঙের ছোঁয়া লেগেছে। বৃষ্টির পরে সেই মাটি ভেজা গন্ধে মনে হয় যেন এক টুকরো গ্রাম উঠে এসেছে শহরের বুকে।

বৃষ্টি যে খুলনা মহনগরীর এমন পরিবর্তন এনে দিতে পারে, তা হয়তো অনেকেই ভাবেনি। এই নবরূপ শুধু নগরবাসীর নয়, পুরো প্রকৃতির এক মিলিত উৎসব। এ যেন এক নতুন সকাল, এক নতুন শুরু। প্রতিদিনের ব্যস্ততায়, ধুলো-ময়লার মাঝে হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য এখন আবার ফিরে এসেছে, যা দেখে মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।


প্রকৃতির এই অপরূপ রূপের প্রশংসা করতে করতে সময় কেটে যায় নিমিষেই। নগরী যেন নতুন করে বাঁচতে শিখেছে। ফের শুরু হয়েছে তাপদাহ। তারপরও দুদিনের এই বৃষ্টি শেষে নগরী যেন রূপে রঙে আরও বেশি সুন্দর, আরও বেশি প্রিয় হয়ে উঠেছে সবার কাছে।

;

শুভ জন্মতিথি মহীয়সী কবি সুফিয়া কামাল



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কবি সুফিয়া কামাল

কবি সুফিয়া কামাল

  • Font increase
  • Font Decrease

সুফিয়া কামাল কেবল একটি নাম নয়, এ যেন পরিবর্তনের জোয়ার। বাঙালি নারীর অন্ধকার জীবনে অধিকারের একটি মশাল আলোকিত ব্যক্তি ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল। এখনকার নারীবাদী দেখলে অধিকাংশ মানুষ কেমন আতঙ্ক প্রকাশ করে নাক সিটকায়! তবে প্রকৃত নারীবাদী, যারা হাজার হাজার নিপীড়িত নারীকে শোষণ ও অত্যাচার থেকে বাঁচিয়ে স্বাধিকারে সোচ্চার করতে সাহায্য় করেছেন তেমন নারীবাদীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কবি সুফিয়া। নারী প্রগতি আন্দোলনের অন্যতম ভিত্তি গড়ে এবং একাধারে আন্দোলনের অংশ ছিলেন তিনি। অনন্য ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এই মহীয়সী নারীর জন্মতিথি আজ।

১৯১১ সালের ২০ জুন (১০ আষাঢ় ১৩১৮ বঙ্গাব্দ) বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কবি সুফিয়া কামাল। আজ (বৃহস্পতিবার) আমাদের দেশের ই ‘নারী জাগরণের অগ্রদূত’ মহীয়সী এই নারীর ১১৩ তম জন্মবার্ষিকী। ‘জননী সাহসিকা’ হিসেবে খ্যাত কবি সুফিয়ার ছোটবেলা কেটেছিল তার মাতুতালয়ে। করি জন্মের পরপরই তার বাবা সাধক অনুসারী হয়ে সংসার ত্যাগ করেন। তারপর থেকে মা সাবেরা খাতুনের সঙ্গে তার নানাবাড়ি শায়েস্তাবাদের নবাব পরিবারে থাকার সময়ই তার হাতেখড়ি হয়। নারীশিক্ষার প্রথা প্রচলিত না থাকায় অন্দরেই অন্য শিশুদের সাথে তিনি উর্দু, আরবি, ফারসি ভাষা শিখতেন। পরবর্তীতে একটু বড় মায়ের কাছেই তিনি বাংলা শিখতে শুরু করেন। কে জানতো,পরবর্তীতে এই বাংলার সাহিত্য তারই হাত ধরে বিশাল এক যাত্রা সম্পন্ন করবে!

রক্ষণশীল পরিবারে বড় হওয়ায় তার ব্যক্তিত্ব ছিল বিশেষ। মাত্র ৭ বছর বয়েসে তিনি বেগম রোকেয়ার সাক্ষাৎ পান কলকাতায়। তবে পারিবারিক কারণেই সুযোগ পেয়েও বেগম রোকেয়ার ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল’ স্কুলে ভর্তি হওয়া হয়নি। তবে স্কুলে কখনো যাওয়া না হলেও ছোটথেকেই তার মেধা সুপ্ত রাখার উপায় ছিল না। যদিও মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়ে যায় মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সঙ্গে। তবে স্বামীর সহযোগিতায় বাংলা সাহিত্য চর্চার পথ সুগম হয় কবির। স্বামী নেহাল ছিলেন একজন নারীশিক্ষা সমর্থক এবং সুদূরপ্রসারী চিন্তাচেতনাসম্পন্ন ব্যক্তি। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়েও তিনি স্ত্রী সুফিয়াকে পত্রিকায় লেখা ছাপানোর সুযোগ করে দিয়ে সাহায্য করেন।      

কবি সুফিয়া কামাল

১৯২৬ সালে তার প্রথম কবিতা বাসন্তী ছাপা হয় সওগাত পত্রিকার চৈত্র সংখ্যায়। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সাঁঝের মায়া, কেয়ার কাঁটা, মায়া কাজল, মন ও জীবন, প্রশস্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী, ইতল-বিতল, দিওয়ান, সোভিয়েতে দিনগুলি, অভিযাত্রিক, মৃত্তিকার ঘ্রাণ, একাত্তরের ডায়েরী, নওল কিশোরের দরবারে, একালে আমাদের কাল- সহ আরও অসংখ্য সাহিত্যকর্মের সৃষ্টি করেছেন তিনি। কলকাতায় থাকার সময় তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র, বেগম রোকেয়া নানান কিংবদন্তী সাহিত্যিকের সান্নিধ্যে আসেন। তার চিন্তা-চেতনা এবং সাহিত্যের অনুপ্রেরণা হিসেবে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান তিনি।

জীবনের মাঝামাঝি স্বামী নেহাল হোসেনের হঠাৎ মৃত্যুতে (১৯৩২ সাল) বেসামাল হয়ে পড়েছিলেন কবি সুফিয়া। তখন তিনি কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা এবং বেগম পত্রিকার সম্পাদনা করতে শুরু করেন একাধারে। এর কিছু বছর পর তিনি ১৯৩৯ সালে কামালউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন কবি এবং এখানে সাহিত্যচর্চা ও নারীস্বার্থে কাজ চালিয়ে যান। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এমনকি ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধকরণের প্রতিবাদে তিনি পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধেও যান।

কবি সুফিয়া কামাল

তার গঠিত নারী সংগঠন ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে সমাবেশ ও মিছিরে অংশগ্রহণ করে, যার মূলহোতা ছিলেন কবি সুফিয়া নিজেই। মুক্তযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের নজর ফাঁকি দিয়ে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করে গেছেন। সুযোগ পেয়েও দেশের বাইরে চলে যাওয়াকে প্রত্যাখ্যান করে, মৃত্যুর সম্ভাবনাকে একপাশে ঠেলে সরিয়ে অনবরত ষোলআনা দেশপ্রেমের প্রমাণ দিয়ে গেছেন।        

যুদ্ধের পরও তিনি আমৃত্যু বাংলা সাহিত্য এবং নারী অধিকার উন্নতির লক্ষ্যে সংগ্রাম ও সাহায্য করে গেছেন। বাঙালি আজীবন মহীয়সী এই নারীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। যতদিন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য রয়েছে,  কবি সুফিয়া কামালের কৃতিত্ব অমলিন রয়ে যাবে।

;

চিড়িয়াখানায় বাঘদের খুনসুটি আর ভালোবাসার একান্ত মুহূর্ত



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
একে অপর আদর করে দিচ্ছেন দুই বাঘ/ছবি: নূর এ আলম

একে অপর আদর করে দিচ্ছেন দুই বাঘ/ছবি: নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের ২য় দিন; মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। রাজধানীজুড়ে বিশ্রি রকমের ভ্যাপসা গরম। এর মধ্যেও ঢাকার চিড়িয়াখানা পশু-প্রাণী দেখতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। মা-বাবার হাত ধরে উৎসুক শিশুরা পশু-প্রাণীর খাঁচায় খাঁচায় উঁকি দিচ্ছে।

চিড়িয়াখানাজুড়ে দর্শনার্থীদের পদচারণা দেখে খাঁচাবন্দি বাঘগুলোও যেন উচ্ছ্বসিত। খাঁচার ভেতরে সবুজ ঘাসে একে অন্যের সঙ্গে মেতে উঠেছে খুনসুটি ও খেলাধুলোতে। একের অন্যটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। একে অপরকে খেলাচ্ছলে কামড়ে ধরছে। কেউ আবার অদূরে চুপটি করে বসে অন্যদের খুনসুটি দেখছে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মতে, বাঘ-বাঘিনীদের এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। তবে ঈদের পরের দিন সেই উচ্ছল বাঘদের খেলার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন বার্তা২৪.কম এর ফটো এডিটর নূর এ আলম।

সঙ্গী ছাড়া হতে চাচ্ছে না বাঘটি, তাই তো আঁকড়ে দিচ্ছে পা টেনে ধরে/ছবি: নূর এ আলম


আদরে ভরিয়ে দিচ্ছে একে অপরকে, আর ভালোবাসার এই খুনসুটি চেয়ে দেখছে আরেকটি বাঘ/ছবি: নূর এ আলম


চিড়িয়াখানায় বাঘদের এমন খেলার দৃশ্য তেমন একটা দেখা যায় না/ছবি: নূর আলম


খুনসুটি আর মায়ার আলিঙ্গন/ছবি: নূর এ আলম


চিড়িয়াখানায় বাঘটি আয়েশি মুডে নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছে/ছবি: নূর এ আলম


চিড়িয়াখানা পশুদের মধ্যে বাঘ অন্যতম আকর্ষণ, তাই তাদের উচ্ছল চলাফেরা বেশ উপভোগ্য ছিল/ছবি: নূর এ আলম


;

সরেজমিন কৌশল্যা: বদলে যাচ্ছে গ্রাম



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
সরেজমিন কৌশল্যা: বদলে যাচ্ছে গ্রাম

সরেজমিন কৌশল্যা: বদলে যাচ্ছে গ্রাম

  • Font increase
  • Font Decrease

কৌশল্যা, দাগনভূঁইয়া, ফেনী থেকে: "অবারিত মাঠ গগন ললাট, চুমে তব পদধূলি; ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়, ছোট ছোট গ্রামগুলি", রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার গ্রাম এখন বইয়ের পাতায় আছে, বাস্তবে নেই। ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় গ্রামগুলো এখন পরিবর্তমান। আধুনিক জীবনের ছোঁয়ায় বদলে গেছে চিরায়ত গ্রামের চিরচেনা দৃশ্যপট।

"গ্রামের ফসলের মাঠ কমছে। টিনের বাড়িঘর হারিয়ে যাচ্ছে। সর্বত্র পাকা সড়ক। যান্ত্রিক যান চলে আসে ঘরের দুয়ারে। বিদ্যুৎ সহজলভ্য। জোনাকির আলোজ্বলা নিঝুম গ্রাম খুঁজে পাই না আমরা", বললেন জামাল স্যার। তার সাথে কথা হচ্ছিল কৌশল্যা গ্রামের কাজী বাড়ির দহলিজে।

কৌশল্যা গ্রামটি বেশ চমৎকার। ভৌগোলিক দিক থেকেও কৌশলপূর্ণ। ফেনী জেলা সর্বউত্তরের গ্রাম এটি। তার পশ্চিমে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও নাঙলকোট উপজেলার সীমান্ত। দক্ষিণে লাগোয়া নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি ও সেনবাগ উপজেলা।


বুধবার (১৯ জুলাই) ভোরে চট্টগ্রাম থেকে গাড়ি অতিদ্রুতই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-মহিপাল পয়েন্টে চলে এসেছে। মহিপাল থেকে ডানের রাস্তা গিয়েছে ফেনী শহরে। বামে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর। এ পথে কিছুদূর এগিয়ে দাগনভূঁইয়া। তারপর উপসড়ক ধরে কৌশল্যা গ্রাম। পথেঘাটে ঈদের আমেজ থাকায় যানজটের বালাই নেই। আমরা খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছেছি ছুটির ঢিলেঢালা ট্রাফিক পেরিয়ে।

গ্রামে এসেও অবাক হতে হলো। গ্রাম কোথায়? পাকা সড়ক, পাকা বাড়ি, মাঝেমাঝে কিছু সবুজ ধানখেত। কিছুক্ষণ পর পর দামী গাড়ি ছুটে যাচ্ছে গ্রামে ভেতর দিয়ে।

"এই গ্রামের প্রতিটি ঘরে প্রবাসী আছেন। চাকরিজীবীও কম নন। ঈদের ছুটিতে তারা সপরিবারে বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। সবারই নিজের কিংবা রেন্টাল কার আছে। সোজা হাজির হচ্ছেন বাড়ির উঠানে", বললেন 'ফেনী রিডার্স ফোরাম'-এর এক সদস্য।

Caption

'ফেনী রিডার্স ফোরাম' নিয়মিত স্টাডি সার্কেল করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী নিয়ে। সদস্যরা সকলেই স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর। চাকরি ও ব্যবসায় জড়িত। অবসরে পড়াশোনার অভ্যাস চালিয়ে রেখেছেন।

গ্রামে আরো কয়েকজন শিক্ষিত যুবকের সঙ্গে কথা হলো। অধিকাংশই চাকরিজীবী। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনীতে চাকরি করেন না। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাড়ি আসেন। তাীা জানালেন, "মানুষের আয়-রোজগার বেড়েছে। জমিজমার দামও বাড়ছে। অনেকেই পাকা বাড়ি করায় ফসলী জমি কমছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না বাড়ায় শিক্ষার হার বাড়ছে না"।

কৌশল্যা গ্রামের উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো সবুজায়ন। নানা পরিবর্তনের পরেও পুরো গ্রাম সবুজে ছাওয়া। প্রায়-প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও খোলা জায়গা শাকসবজি চাষ করা হচ্ছে। হাঁস-মুরগী পালিত হচ্ছে প্রত্যেক বাড়িতে।


গ্রামের সাংস্কৃতিক জীবন পুরোপুরিভাবে গ্রাস করেছে টিভি চ্যানেলগুলো। পথে বের হলেও টিভির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। "খেলার মাঠ নেই গ্রামে। ফসল কাটা হলে ক্ষেতগুলোতে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করে। বাকি সময় টিভি বা মোবাইলে ব্যস্ত থাকে তার", বললেন জামাল স্যার।

মেঘলা আকাশে টিপটিপ বৃষ্টিতে গ্রাম ঘুরে ফিরে আসার সময় একটি ট্রানজিশনাল পিকচার নিয়ে এলাম। গতানুগতিক গ্রাম ক্রমশ আধুনিকায়নের পথে পাড়ি দিচ্ছে এক তুমুল সন্ধিক্ষণ। সমাজ বদলের ধারায় হয়ত অচিরেই আদি গ্রামের জায়গা দখল করবে আধুনিক নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা। যুক্ত হবে নতুন অনেক কিছু। আবার হারিয়েও যাবে ঐতিহ্যবাহী অনেক বিষয়ও। এই বদলের সবটাই ভালো হবে, এমন নয়। ভালোগুলোকে ধরে রাখার মাধ্যমে পালাবদলকে গ্রহণ করতে পারলেই হবে প্রকৃত উন্নয়ন। নইলে বদল হবে, উন্নয়ন হবে না।

;