সুখের এপাশ ওপাশ



ড. শাখাওয়াৎ নয়ন

  • Font increase
  • Font Decrease

ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নাম ‘মিনিস্ট্রি অফ হ্যাপিনেস’। নামটা সুন্দর না? আমার কাছে কিন্তু অনেক সুন্দর মনে হয়েছে। ভুটানের রাজা তো রীতিমত একজন অসাধারন মোটিভেশনাল স্পিকার। দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশের সরকার প্রধান এত সুন্দর করে বক্তব্য দিতে পারে কি না,আমার সন্দেহ আছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে একটা আন্তর্জাতিক সেমিনারে আমার দেখা হয়েছিল।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘সুখ বলতে তোমরা কি বোঝো?’ তিনি আমাকে যা বলেছিলেন, অল্প কথায় তার মানে হচ্ছে- ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’। অস্বীকার করি কিভাবে? করিওনি। তবে বিষয়টি নিয়ে জানার এবং কিছু লেখার আগ্রহ পুষে রেখেছিলাম। তবে আজ কেন সুখ বিষয়ক এই লেখায় প্রয়াসী হলাম? কারণ আজ আমার জন্মদিন (২০ মে)। আপাতঃ বিবেচনায় সুখের দিন।

চলুন, সুখের আলোচনায় ফিরে যাই। সুখ কি? কেমন? সুখের বয়স কত? সুখের হায়াত-মউত? সুখের রঙ? পরিমান? সুখ তুমি কি বড় জানতে ইচ্ছে করে, তাই না? সমাজবিজ্ঞানীরা, মনোবিজ্ঞানীরা মানুষের সুখে থাকা বিষয়ক কতগুলি প্রশ্ন করেন, আর সেই প্রশ্নের উত্তরগুলিকে সম্পদের পরিমান, রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মতো কিছু আর্থসামাজিক উপাদানের সাথে মিলিয়ে দেখেন। বায়োলজিস্টরা একই প্রশ্নের সেট ব্যবহার করেন, কিন্তু মানুষের উত্তরগুলিকে বায়োকেমিক্যাল ও জেনেটিক উপাদানগুলির সাথে সম্পর্কিত করেন। এগুলির মাধ্যমে খুবই ভিন্ন ধরনের ফলাফল পান। চলুন দেখা যাক, কী ধরনের ফলাফল তারা পেয়েছেন?

বায়োলজিস্টরা (জীববিজ্ঞানী, স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী) মনে করেন, লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিবর্তনের মাধ্যমে বায়োলজিক্যাল মেকানিজম আমাদের মানসিক ও আবেগের জগতকে পরিচালনা করে আসছে। অন্যান্য মানসিক অবস্থার মতোই, আমাদের মানসিক সুখও বাহ্যিক প্যারামিটার দ্বারা (যেমন, বেতন, সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতা এবং সম্পর্ক বা রাজনৈতিক অধিকার) খুব একটা নির্ধারিত হয় না। বরং স্নায়ু, নিউরণ, সিনাপসের এক জটিল প্রক্রিয়ায় এবং সেরোটোনিন, ডোপামিন এবং অক্সিটোসিনের মতো বিভিন্ন বায়োকেমিক্যালের দ্বারা নির্ধারিত হয়ে থাকে। তার মানে কি দাড়ালো? মানুষের সুখ কিংবা অসুখ সব কিছুই ঘটে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে? তাহলে কি কোনো বিশেষ ঘটনা, ইভেন্ট কিংবা উপলক্ষ্যই সুখের নিয়ামক নয়?

একজন রাজনীতিবিদ যদি নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তাহলে কি তিনি খুশি হন না? কিংবা লটারী বিজয়, বাড়ি কেনা/নির্মাণ, চাকুরিতে প্রোমোশন অথবা এমনকি সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পেয়ে কেউ কি কখনো সুখী হয় না? বায়োলজিস্টরা এসব কী বলছেন?

বায়োলজিস্টরা তথ্য প্রমাণ দিয়ে জোরালোভাবেই বলছেন, একজন ব্যক্তি লটারী জিতে অথবা একটি নতুন প্রেমের খোঁজ পেয়ে আনন্দে লাফাচ্ছেন, তার লাফানোর অর্থ আসলে টাকা-পয়সা কিংবা প্রেমিক/প্রেমিকার জন্য নয়। ওসব আসলে তার রক্তে প্রবাহিত বিভিন্ন হরমোনের প্রতিক্রিয়া। লাফা-ঝাপার মাধ্যমে সে মস্তিস্কের বিভিন্ন অংশে ইলেক্ট্রিক সিগন্যালের ঝড় ও ঝলকানির প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন মাত্র। কী অদ্ভুত কথা! তাহলে এতো দিন যা জানলাম, বুঝলাম-সবই ভূল?

বায়োলিজিস্টদের মতে, বিবর্তন প্রক্রিয়ায় সুখের কোনো ধরনের প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করে না, সুখে থাকার ক্ষমতা কিংবা বৈশিষ্টগুলি পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয় না। বিবর্তন আমাদের খুব বেশি সুখী বা অসুখী কোনোটাই রাখতে চায় না। প্রাকৃতিক বিবর্তন আমাদের এমনভাবেই তৈরি করেছে যে, আমরা ক্ষনস্থায়ীভাবে তীব্র আনন্দের উপভোগ করতে পারবো, কিন্তু তা কখনোই চিরস্থায়ী হবে না। আগে হোক বা পরে হোক তা এক সময় কমে যাবে। এটি আমাদের একটি ক্ষনস্থায়ী আনন্দের ঢেউ উপভোগ করতে সক্ষম করে তোলে। কিন্তু তা চিরতরের জন্য টিকে থাকে না। আগে বা পরে এই ঢেউ স্তিমিত হয়ে আসে এবং অপ্রীতিকর কোনো অনুভুতি সেখানে প্রতিস্থাপিত হয়, যাকে আমরা ‘দুঃখ’ বলি।

এক্ষেত্রে আমরা যদি যৌণ সঙ্গমের কথাই চিন্তা করি, যা সবচেয়ে আনন্দদায়ক অনুভূতি। জীবজগৎ রক্ষা করার জন্য প্রকৃতি চায় সকল প্রানী যৌণ সঙ্গম করুক। প্রশ্ন হচ্ছে, সকল প্রানী যৌণ সঙ্গম কেন করবে? বিশেষ করে মানুষের যৌণ সঙ্গমে ঝক্কি-ঝামেলাও কম না। প্রকৃতি উক্ত ঝক্কি-ঝামেলা পোহানোর জন্য পুরষ্কারের ব্যবস্থা করে। পুরষ্কারটা কি? প্রকৃতি বলে, ‘তুমি যদি যৌণ সঙ্গম করো, আমি তোমাকে আনন্দ দিব। এমন আনন্দ দিব যা তুমি আর কোনো কিছুতেই পাবে না’। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, যৌণতার ঐ চরম সুখের অনুভূতিও দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তার মানে কোনো সুখেরই স্থায়ীত্বকাল খুব বেশি না। যে কারনে আমরা দুঃখকেই বেশি করে দেখি। একই সাথে সুখ যত দ্রুত চলে যায় কিংবা শেষ হয়ে যায়; দুঃখ তত তাড়াতাড়ি চলেও যায় না কিংবা শেষও হয় না। কেন? তাহলে কি আমাদের দুঃখগুলো কাছিমের মতো? ধীর গতি সম্পন্ন এবং দীর্ঘজীবী?

কোনো কোনো গবেষক, মানুষের বায়োকেমিস্ট্রিকে এয়ার-কন্ডিশনিং সিস্টেমের সাথে তুলনা করে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছেন। প্রকৃতিতে যেমন একেক সময় একেক রকম তাপমাত্রা থাকে, কিন্তু প্রকৃতির তাপমাত্রা যা-ই থাকুক এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম যেমন ঘরের তাপমাত্রাকে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখে। তেমনি মানব দেহের সুখের সিস্টেমও ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হয়। কারণ প্রত্যেক মানুষের দেহে একটি ইউনিক সিস্টেম আছে, যা তার জন্য সুখের কিংবা দুঃখের মাত্রা নির্ধারণ করে। আমরা যদি মানুষের সুখের মাত্রাকে এক থেকে দশ পর্যন্ত একটি গুনগত স্কেলে পরিমাপ করি তাহলে দেখা যায় যে, কিছু মানুষ একটি আনন্দদায়ক বায়োকেমিক্যাল সিস্টেম নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। যাদের মেজাজ/মর্জি ছয় থেকে দশ পর্যন্ত উঠানাম করে। যা একটা সময় আট মাত্রায় স্থিতিশীল হয়। এই ধরনের একজন ব্যক্তি বেশ সুখী, এমনকি তিনি যদি কারাগারে থাকেন কিংবা তার সকল টাকা পয়সা ষ্টক এক্সচেঞ্জে হারিয়েও ফেলেন, কিংবা তিনি যদি ডায়াবেটিকসের রোগীও হন, তারপরেও তিনি সুখী মানুষই থাকবেন।

আবার এক ধরনের মানুষ পাওয়া যায়, যাদের স্কোর তিন থেকে সাতের মধ্যে উঠানামা করে এবং একটা সময় পাঁচ মাত্রায় এসে স্থিতিশীল হয়। এই ধরনের মানুষের যদি সব কিছুও থাকে, তারপরেও তারা সাধারনত অসুখী হয়। তাদের যত অর্জন কিংবা প্রাপ্তিই হোক, কোনোভাবেই বিষন্নতা থেকে বের হতে পারে না। এই ধরনের একজন মানুষ একদিন সকালে যদি কোটি টাকার লটারী জিতে যায়, দুপুরে যদি শোনে এইডস এবং ক্যান্সারের টীকা আবিস্কার হয়েছে, বিকেলে যদি টেলিভিশনে দেখে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চিরস্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সন্ধ্যায় যদি দেখে পাঁচ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তার সন্তান বাড়ি ফিরে এসেছে, এত কিছুর পরেও সে সাত মাত্রার বেশি সুখী হতে পারে না। কারণ ঘটনা যা-ই ঘটুক না কেন, সে কেবলমাত্র সর্বোচ্চ সাত মাত্রায় সুখী হবার ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে কিংবা গড়ে উঠেছে।

এবার আপনার পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের কথা এক মুহুর্তের জন্য চিন্তা করুন। আপনি এমন কিছু মানুষকে অবশ্যই খুঁজে পাবেন, যারা সব সময়ই অপেক্ষাকৃত আনন্দে থাকে, তাদের জীবনে যা কিছুই ঘটুক না কেন। আবার এমন কিছু মানুষও খুঁজে পাবেন, যারা অধিকাংশ সময় বিষন্ন/হতাশ থাকে। তাদের জীবনে যত প্রাপ্তিই ঘটুক না কেন, তা তাদের জৈব-রসায়ন পরিবর্তন করে না। মস্তিষ্কের ভিতরে নিউরনে কেবলমাত্র ক্ষনিকের ঝলকানি/ঢেউ তৈরি করে, তারপর আবার তার সেট পয়েন্টে ফিরে যায়।

উপরে আলোচিত মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ফলাফলের সঙ্গে এটি কিভাবে পরিমাপ করবেন? যেমন ধরুন, বিবাহিত দম্পতিরা কি অবিবাহিতদের চেয়ে গড়ে বেশি সুখী? প্রথমত, এই ফলাফলগুলি পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে কার্যকারণ সম্পর্কের দিকটি হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে গবেষকদের ধারনার বিপরীত হতে পারে। একথা সত্য যে অবিবাহিত ও তালাকপ্রাপ্তদের তুলনায় বিবাহিতরা বেশি সুখী। তবে এর মানে এই নয় যে, বিয়ে মানুষের জীবনে সুখ নিয়ে আসে। এমনও হতে পারে, সুখের অনুভূতিই মানুষকে বিয়ে করতে উদ্বুদ্ধ করে। অথবা আরো সঠিকভাবে যদি বলা হয়, সেরোটোনিন, ডোপামিন এবং অক্সিটোসিন এর মতো উপাদানগুলি মানুষকে বিয়ে করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং বজায় রাখে। যারা আনন্দদায়ক বায়োকেমিস্ট্রি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে, তারা সাধারনত সুখী ও সন্তুষ্ট হয়ে থাকে। এই ধরনের মানুষের মধ্যে আকর্ষনীয় স্বামী কিংবা স্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা বেশি থাকে। তাদের মধ্যে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটার সম্ভাবনা কম থাকে। কারণ একজন বিষণ্ণ ও অসন্তুষ্ট মানুষের চেয়ে একজন সুখী মানুষের সাথে সংসার করা সহজ।

বায়োলজিস্টরা যুক্তি দেন যে, সুখ বায়োকেমেস্ট্রি দ্বারা নির্ধারিত। কিন্তু তারা মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণগুলিকেও অস্বীকার করেন না। মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণগুলিও সুখকে প্রভাবিত করে। কারণ আমাদের মানসিক সিস্টেমের পুর্ব নির্ধারিত সীমানার (রেঞ্জের) মধ্যে কিছুটা মুভ করার স্বাধীনতা আছে, কিন্তু নির্ধারিত সীমানার চেয়ে উপরে অথবা নিচের মাত্রা অতিক্রম করার স্বাধীনতা নেই। এতে কি লাভ হয়? এটি বিবাহ এবং বিবাহ বিচ্ছেদ এই দুই সীমানার মধ্যবর্তী স্থানে প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন, যার সুখের মাত্রা পাঁচ স্কোরে স্থিতিশীল, সে হয়তো খুশিতে বেপরোয়াভাবে রাস্তায় নেমে জামা-কাপড় খুলে নাচবে না। কিন্তু কোনো না কোনো আনন্দের ঘটনায়, তাকে মাঝে-মধ্যে সাত স্কোর পর্যন্ত সুখ ভোগ করতে সক্ষম করে তুলতে পারে। তার সুখ শেষ হয়ে গেলে আবার পাঁচ মাত্রায় স্থিতিশীল হয়ে যাবে। আবার কোনো বিরাট খারাপ ঘটনায়ও তার সুখ কখনই তিন মাত্রার নিচে নামবে না।

আরেকটা উদাহরণ দেয়া যাক, একজন মধ্যযুগীয় কৃষকের সাথে বর্তমান যুগের প্যারিস নিবাসী একজন চিফ এক্সিকিউটিভ ব্যাংকারের সাথে তুলনা করুন। মধ্যযুগীয় কৃষক মাটির ঘরে বসবাস করতো, আর ব্যাংকার সর্বাধুনিক বাড়িতে বসবাস করে। এদের মধ্যে কে বেশি সুখী? যার মস্তিষ্ক সেরোটোনিনের পরিমান বেশি নিঃসরণ করে/করেছে সে-ই বেশি সুখী। সুতরাং সুখের সাথে সময়কাল, লাইফস্টাইল, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ-সম্পত্তির কোনো সম্পর্ক নেই। সেরোটোনিন-ই মূলকথা।

আমরা যদি সুখের শুধু জৈবিক দিকটি বিবেচনা করি তাহলে সুখের ঐতিহাসিক দিকটির গুরুত্ব কমে যায়। কেননা আমরা জানি, মানব জীবনে ঐতিহাসিক ঘটনা প্রভাব ফেলে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, বেশিরভাগ ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদের বায়োকেমেস্ট্রিতে কোনো প্রভাব ফেলে না। ইতিহাস বাহ্যিক উদ্দীপনাকে পরিবর্তন করতে পারে মাত্র, তবে এটি দেহের অভ্যন্তরে সেরোটোনিনের মাত্রা পরিবর্তন করতে পারে না; আর তাই ইতিহাস কিংবা ঐতিহাসিক ঘটনাবলী মানুষকে সুখী করতে পারে না। এটি কেবল ব্যক্তিগত জীবনেই না, সামাজিক এবং রাজনৈতিক জীবনেও একইভাবে কাজ করে। ফরাসী বিপ্লবের কথা চিন্তা করুন। বিপ্লবীরা রাজাকে হত্যা করলো, কৃষকদের ভূমি দিল, মানুষকে সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতা দিল। সমগ্র ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করে দিল। তারপরেও ফরাসীদের বায়োকেমেস্ট্রিতে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেনি। যাদের শরীরে আনন্দদায়ক বায়োকেমেস্ট্রি ভালো ছিল, তারা বিপ্লবের আগে যেমন সুখী ছিল, বিপ্লবের পরেও সুখী ছিল। যারা বিষণ্ণ, হতাশ ধরনের মানুষ ছিল, তার বিপ্লবের আগে পরে একই ছিল। যারা রাজার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতো, তারা পরবর্তীতেও নতুন ব্যবস্থার/শাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।

যেহেতু বায়োকেমেস্ট্রি ছাড়া আর কোনো কিছুই (ধন-সম্পদ, স্বাধীনতা, বিপ্লব) মানুষকে স্থায়ীভাবে সুখী করতে পারে না, তাহলে কি মানুষের ব্রেন কেমেস্ট্রি আরো ভালোভাবে বুঝতে পারলে এবং যথাযথ চিকিৎসা আবিস্কার করতে পারলে অসুখী মানুষকে সুখী করা যাবে? সম্ভবতঃ করা যাবে। আমরা জানি, নতুন যুগের জনপ্রিয় স্লোগান হচ্ছে-‘হ্যাপিনেস বিগেইন্স উইদিন’। আপনাদের নিশ্চয়ই ১৯৩২ সালে বিশ্ব মহামন্দার সময় প্রকাশিত এডলাস হাক্সলির সেই বিখ্যাত উপন্যাস ‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’ এর কথা মনে আছে। উক্ত উপন্যাসে তিনি একটি সুখী রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন, যেখানে পুলিশ ও ব্যালটের বদলে রাজনীতির ভিত্তি হিসেবে মনস্তাত্ত্বিক ড্রাগ জায়গা করে নিয়েছে। প্রত্যেক মানুষ প্রতিদিন সিন্থেটিক ড্রাগ ‘সোমা’র একটি ডোজ নেয়, (আজকের দিনের ভয়ংকর ড্রাগ কোকেইন, হেরোইন কিংবা ইয়াবার মতো নয়) যা উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতাকে কোনো প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত না করেই মানুষকে সুখী করে। উক্ত রাষ্ট্রে যা-ই ঘটুক না কেন, সবাই তাদের বর্তমান অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট, তাই সেখানে কখনো যুদ্ধ, বিপ্লব, স্ট্রাইক অথবা বিক্ষোভ হয় না। সকলই সুখী জীবন-যাপন করে। আমিও এমন একটি স্বর্গীয় পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি, যেখানে পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হবে।


লেখক: কথাসাহিত্যিক, একাডেমিক, ইউনিভার্সিটি অফ নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া।

   

সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি পেল 'বিড়াল'!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 'ম্যাক্স' নামের একটি বিড়ালকে সম্মানসূচক ‘ডক্টরেট অব লিটারেচার’ বা ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। দেশটির ভারমন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের স্নাতক অনুষ্ঠানে বিড়ালটিকে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি দেওয়া হয়। তবে সেই অনুষ্ঠানে বিড়ালকে আমন্ত্রণ জানানোর নিয়ম না থাকায় উপস্থিত ছিল না ম্যাক্স। 

বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুষ্ঠানে বিড়ালটি উপস্থিত ছিল না। তাই বিড়ালের মালিক অ্যাশলে ডোর কাছে খুব শিঘ্রই এই ডিগ্রি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।   

বন্ধুসুলভ এই বিড়ালটিকে তার ইঁদুর শিকারের দক্ষতা বা অতিরিক্ত ঘুমানোর জন্য নয় বরং তার সহচার্যের জন্যই স্বীকৃতি দিয়েছে।   বিড়ালটিকে এই ডিগ্রিতে ভূষিত করা হয়। ভারমন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্যাসেলটন ক্যাম্পাস।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি পেল 'বিড়াল'!

বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি ফেসবুক পোস্টের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাক্স দ্য ক্যাট, অনেক বছর ধরেই ক্যাসেলটন পরিবারের একজন আদুরে সদস্য। ভারমন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রাস্তায় পাশেই বসবাস করে এক পরিবার। বিড়ালটি সেই পরিবারেরই পোষা।

বিড়ালের মালিক অ্যাশলে ডো বলেন, ‘বিড়ালটি ঠিক করেছে সে ক্যাম্পাসে যাবে। এরপর থেকেই সে কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে শুরু করে। আর শিক্ষার্থীরাও তাকে আদর করতে শুরু করে।’

বিড়ালটি প্রায় চার বছর ধরে ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করছে। বিড়ালটিকে পথের ধারে শুয়ে থাকতে দেখলেই সবাই তার সঙ্গে সেলফি নেয়।

এমনকি সাবেক ছাত্ররাও যখনই ক্যাম্পাসে আসেন তারা তখনই বিড়ালটির খোঁজ নিতে তার মালিক ডো-এর কাছে যান। ডো তাদের কাছে বিড়ালটির মা হিসেবেই বেশি পরিচিত।

;

৯৩ বছর বয়সে বৃদ্ধের অবিশ্বাস্য কর্মকাণ্ড



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বৃদ্ধ জন স্টারব্রুক

বৃদ্ধ জন স্টারব্রুক

  • Font increase
  • Font Decrease

শৈশবে খেলা, কৈশরে পড়ালেখা, যৌবনে চাকরি, মধ্যবয়সে সংসার, বৃদ্ধবয়সে একটা মাথা গোজার ঠাঁই খুঁজে অবসরে সময় কাটিয়ে দেওয়া। কপাল খারাপ থাকলে বিছানাতেই শোয়া বা আধশোয়া থেকে মৃত্যুর দিন গোণা। সাধারণত এভাবেই মানুষের জীবন কেটে যায়। অনেকে আবার মধ্যবয়সের পরেই নানারকম রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অথবা শরীরকে বিভিন্ন রোগের আবাসস্থল বানিয়ে দুর্বল হয়েই বেঁচে থাকেন। তবে খড়ের গাদায় সূচের মতো দু-একজন থাকে যারা একেবারেই ব্যতিক্রম। তেমনভাবেই আলোচনায় এসেছেন ৯৩ বছরের এক বৃদ্ধ।  তার ব্যতিক্রমী জীবনযাপনের ধারাই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যুসমাজে।     

যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা জন স্টারব্রুক। তিনি একজন ওয়াটার পোলো খেলোয়াড়। এটি মূলত পানির মধ্যে বাস্কেটবলের মতো একধরনের খেলা। এইখেলার সাথে কুস্তি খেলারও কিছুটা সাদৃশ্য রয়েছে। জনের বর্তমান বয়স ৯৩ বছর। এই বয়সেও যথেষ্ট সুস্থ এবং সবল তিনি। সমবয়েসীদের যেখানে সোজা হয়ে দাঁড়াতেও ২ জনের সহায়তা লাগে, সেখানে এখনো ম্যারাথনে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বেশ দক্ষ সাঁতারুও বটে! ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাঁতার কাটা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।

প্রায় শতাব্দি ছুঁই ছুঁই বৃদ্ধের এমন কারিশমা দেখে চোখ ছানাবড়া হবার উপক্রম। জন মূলত একজন সাঁতারু। পেশাগতভাবে না হলেও অনেক ছোটবেলা থেকেই তিনি সাঁতার কাটেন তিনি। দেশের সম্মানজনক অনেপ্রতিযোগীতায় একাধিক বার চ্যাম্পিয়নের খেতাবও জেতেন। চাকরি করেছেন ‘ব্রিটিশ আর্মি মেডিক্যাল কর্পস’-। সেখানেও সাঁতারের দক্ষতার কারণে তার বেশ সুনাম ছিল।   

ম্যারাথনে দৌড়াচ্ছেন ৯৩ বছরের জন

তবে সাঁতারের পাশাপাশি এখন ম্যারাথেনেও অংশগ্রহণ করেছেন জন। ৫২ টির বেশি ম্যারাথনের দৌড় শেষ করেছেন তিনি। জানালেন এই বয়সেও তার এমন চ্যালেঞ্জিং সব কাজের অভিজ্ঞতা। সুস্থতা ধরে রাখার রহস্যও ফাঁস করলেন সকলের কাছে। ব্রিটিশ নাগরিক জন বন্ধুদের কাছে ‘দ্য লিজেন্ডনামেই পরিচিত। একই নামে তাকে আখ্যায়িত করছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো

জন স্টারব্রুক জানান, তিনি এখনো সপ্তাহের ৬ দিনই জিমে যাতায়াত করেন। বিশেষ কোনো খাদ্যাভাস নেই তার। খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি রাখতে পছন্দ করেন- এই যা। তাছাড়া প্রতিদিন সকালে পোরিজ খান তিনি। তবে তিনি কখনো ধূমপান করেননি। অ্যালকোহলও খুব সীমিত পরিমাণে সেবন করতেন। মূলত এই বয়সেও এটা সবল থাকার পেছনে বংশ পরম্পরায় পাওয়া নিজের জীন আসল কারণ- বিশ্বাস করেন জন।

কারণ যাই হোক, প্রানবন্ত এই বৃদ্ধ বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে। তার মতোই দৃঢ় মানসিকতা ধরে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুবক-যুবতীরা।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

;

প্রশ্ন আর উত্তর যেন পরস্পরের সাংঘর্ষিক!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রশ্ন থাকে এক আর তার উত্তর হয় ভিন্ন। এমন উত্তরপত্রের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়। এবার এমনই এক উত্তরপত্রের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে। যা দেখে রীতিমতো সবাই অবাক! তবে এই ঘটনার জন্ম দেওয়া দেশটি বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী দেশ ভারতের একটি হিন্দি পরীক্ষায় ঘটেছে এমন কাহিনী।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত ভিডিওতে পরীক্ষার্থীর এমন উত্তর দেখে শিক্ষককেও হাসতে দেখা যায়। 

ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা হয়েছে @n2154j অ্যাকাউন্টের একটি আইডি থেকে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি প্রশ্ন ছিল এমন, সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ (যৌগিক ব্যঞ্জনবর্ণ) কী? এই প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষার্থীটি একটি খাদ্য রূপক দিয়ে উত্তর দিল: "মাটার পনির এবং সব মিশ্র সবজি একত্রিত একটি খাবার।"

আরেকটি প্রশ্ন ছিল "অতীত কাল কাকে বলে?" এর উত্তরে ওই পরীক্ষার্থি লিখেছে, "যখন অতীত আমাদের অতীতের আকারে আসে, তখন তাকে অতীত কাল বলা হয়।"

ভিডিও অনুযায়ী আরও একটি প্রশ্ন ছিল "বহুবচন কাকে বলে?" এর উত্তরে সে লিখেছে "যে পুত্রবধূ তার শ্বশুরবাড়ির কথা শোনে তাকে বহুবচন বলে।"

শিক্ষার্থীটির এমন উত্তর শুনে হাসিতে ফেটে পড়েন শিক্ষক। এমন উত্তরগুলোকে শিক্ষক ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যদিও এমন উত্তরের জন্য তাকে পুরোপুরি হতাশ করা হয়নি। তাকে ১০ মার্কের মধ্যে ৫ নম্বর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক পরে তার উত্তরপত্রে লিখে দিয়েছিলেন, এই ৫ মার্ক তোমার মস্তিষ্কের জন্য, ছেলে।

ভিডিওটি দেখে সবাইকে হাসির ইমোজি দিতে দেখা যায়। সম্পূর্ণ নম্বর না পাওয়ায় অনেকেই যুক্তি দিয়ে লিখেছেন, ছাত্রটি তার কৌতুক প্রতিভার জন্য পূর্ণ নম্বর পাওয়ার যোগ্য।

তবে এমন ঘটনা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, ছাত্র এবং শিক্ষকের হাতের লেখা সন্দেহজনকভাবে একই রকম।

অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "প্রশ্ন এবং উত্তর একই হাতের লেখা"। 

;

ফেনী শহরে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া



মোস্তাফিজ মুরাদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফেনী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

'কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জুরি কর্ণে-আমি ভুবন ভুলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে' জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই মনোমুগ্ধকর গানে ফুটে উঠেছে কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য। কৃষ্ণচূড়া যেন প্রকৃতিকে দান করেছে লাল আভার অপরূপ সৌন্দর্যের মহিমা। সাথে গ্রীষ্মের উত্তাপে শহরে সৌরভ ছড়াচ্ছে নানা জাতের ফুল। তীব্র তাপদাহের পর কালবৈশাখী, এরপর মাঝারি বৃষ্টির মধ্যে ফুলের আগমন। এতে রঙের উল্লাসে মেতে উঠেছে ফেনী শহরবাসী।

ফেনী শহরের কোর্ট বিল্ডিং, এলজিইডি, পুলিশ লাইন, নবীন চন্দ্র সেন কালচারাল সেন্টার, ফেনী সরকারি কলেজ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটে আছে কৃষ্ণচূড়া। এটি একদিকে প্রকৃতিকে যেমন সাজিয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যে, অন্যদিকে এর সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে তরুণ-তরুণী, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষসহ ফুলপ্রিয় পথচারীদের। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে, সরকারি দফতরসহ স্কুল-কলেজে কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল ও উজ্জ্বল সবুজ পাতার সংমিশ্রণ দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে চারপাশ।


কৃষ্ণচূড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ফুলের ঘ্রাণে মুখরিত হয়ে আছে পুরো শহর। শহরের মূল সড়কের ডিভাইডারে পৌরসভার উদ্যোগে লাগানো হাসনাহেনা, রজনিগন্ধা, গন্ধরাজসহ নানা জাতের ফুল গাছে ফুল ফুটেছে। এটি একদিকে বাড়িয়েছে সৌন্দর্য অন্যদিকে হেঁটে কিংবা রিকশায় চলাচল করলে পাওয়া যায় এসব ফুলের সুঘ্রাণ।

ফেনী শহরের কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্য দেখে ফুলপ্রিয় পথিকরা বলছেন, কৃষ্ণচূড়া ফুল প্রকৃতিকে অনন্য সাজে সাজিয়েছে। এই ফুলের সৌন্দর্যের কারণে পথচারীরা একবার হলেও এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এর গাছের উপর নজর দিবে। পাশাপাশি তীব্র গরমে অন্যান্য ফুলের সুঘ্রাণে চারপাশ মুখরিত হওয়াতে ক্লান্তিতা কিছুটা হলেও কমছে।


তারা বলছেন, কৃষ্ণচূড়া ফুলের এই নান্দনিক দৃশ্য দেখতে এর গাছ রোপণ করা জরুরি। রাস্তা প্রশস্তকরণ, ঘর-বাড়ি নির্মাণসহ নানা প্রয়োজনে গাছ কেটে ফেলা হয়। অন্যান্য গাছ রোপণ করার পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া রোপণ করলে একদিকে যেমন সৌন্দর্য বাড়াবে অন্যদিকে পরিবেশ বান্ধব হবে।

সাজিদ হাসান নামের এক পথচারী বলেন, কৃষ্ণচূড়া একদিকে যেমন প্রকৃতিতে অপরুপ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে, আরেকদিকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমাবে। সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, আমার মতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে এই গাছটিও যুক্ত করা উচিত। তীব্র গরমের পর বৃষ্টি হলো, এরপর শহরে নানা রঙের ফুলের দেখা মিলছে, ফুলের ঘ্রাণে চলাচল করতেই ভালো লাগছে।

ফারজানা ইয়াসমিন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ফুলের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। অন্যান্য ফুলের পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া ফুল আমার অনেক ভালো লাগে। আমাদের কলেজে বকুল তলা আছে, ক্যান্টিনের পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। সুযোগ পেলেই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করি।

অনিক মোহন নামে একজন বলেন, রিকশায় করে যখন বাসায় ফিরি, শহরের রাস্তার মাঝে ভিডাইভারে লাগানো নানা জাতের ফুলের ঘ্রাণ মনকে আনন্দিত করে। রাতের বেলা শহর যখন নিস্তব্ধ হয়ে যায়, তখন এ ফুলের সৌন্দর্য কয়েকশ’ গুণ বেড়ে যায়।

সড়কের পাশে কৃষ্ণচূড়া লাগানো হলে সৌন্দর্য বাড়বে বলে মনে করেন পথচারী মিনহাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য যে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে, ওই গাছগুলোর জায়গা কৃষ্ণচূড়ার গাছ লাগালে রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে।

একই কথা বলেন শহরের ব্যবসায়ী নাদিম আহমেদ। তিনি বলেন, সৌন্দর্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে এই গাছ রোপণ করা উচিত আমাদের। তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে অন্যন্যা গাছ রোপণ করার পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করার উদ্যোগ নিতে হবে। যেগুলো শহরে আছে তাতেই সৌন্দর্য বেড়ে গিয়েছে কয়েকগুণ, আরও যদি লাগানো যায় ফুলে ফুলে ভরে উঠবে আমাদের শহর।

কৃষ্ণচূড়া মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রঝরা বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়। যদিও জঙ্গলে এটি বিলুপ্ত প্রায়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি জন্মানো সম্ভব হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধন গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় কম (সর্বোচ্চ ১২ মিটার) হলেও শাখা-পল্লবে এটি বেশি অঞ্চল ব্যাপী ছড়ায়।

শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ থাকে। কৃষ্ণচূড়া ফুলের রং উজ্জ্বল লাল। পত্র ঝরা বৃক্ষ, শীতে গাছের সব পাতা ঝরে যায়। বাংলাদেশে বসন্ত কালে এ ফুল ফোটে। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মত লম্বা হতে পারে। কৃষ্ণচূড়া জটিল পত্র বিশিষ্ট এবং উজ্জ্বল সবুজ। প্রতিটি পাতা ৩০-৫০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২০-৪০ টি উপপত্র বিশিষ্ট। কৃষ্ণচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে।

জানা যায়, অপরূপ সৌন্দর্য ছড়ানোর পাশাপাশি কৃষ্ণচূড়া ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর পাতা, মূলের বাকল ও ফুল ভেষজ গুণাগুণ সম্পূর্ণ, যা জ্বর ও খুশকি নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ভেষজটি হেমিপ্লেজিয়া, আর্থরাইটিস এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। কৃষ্ণচূড়া গাছের শিকড়, বাকল এবং ফুল সবই পরজীবী সংক্রমণ নিরাময়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

;