ডেঙ্গু সচেতনতায় করণীয়



ড. মোঃ আসাদুজ্জামান মিয়া
ডেঙ্গু সচেতনতায় করণীয়

ডেঙ্গু সচেতনতায় করণীয়

  • Font increase
  • Font Decrease

১. উন্নয়নশীল বাংলাদেশে সু-স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা হলো সচেতনতার অভাব। আমরা সল্পশিক্ষিত বা উচ্চশিক্ষিত সবাই কম বেশি অসচেতন। সাধারণ থেকে অসাধরণ, গরিব থেকে ধনী প্রায় সকলের মধ্যেই একধরনের অসচেতনতা কাজ করে। বিশ্বব্যাপী চলমান কোভিড-১৯ মহামারিতে আমরাও বিপযর্স্ত। বিগত ৪-৫ মাস ধরে করোনার সাথে যুদ্ধ করে আমরা এখন অনেকটা ক্লান্ত। লকডাউনে থাকা বা নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার নিয়মনীতি এখন আমাদেরকে আর চিন্তিত করে না। আমরা অনেকেই এখন আর মুখে সুরক্ষা মাস্ক পরি না। বিষয়টা এমন যে কোথাও করোনা নেই। করোনার এই সময়ে আরেক দূর্যোগের হাতছানি তা হলো ডেঙ্গু। দেশে ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ায় মশার উৎপাত চরম বেড়ে গেছে। আমাদের পরিবেশে এখন করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু ভাইরাসের বিস্তার চলছে। ইতিমধ্যে দেশে ৩০০ এর বেশি ডেঙ্গু রোগীর খবর পাওয়া গেছে।

গত বছর দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ছিল ব্যাপক। শুধুমাত্র সরকারি হিসেবেই ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং ১৬৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল (তথ্যসূত্রঃ আইইডিসিআর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর)।

এশিয়ার অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও এখন একটি ডেঙ্গুপ্রবণ দেশ। আর ডেঙ্গুপ্রবণ দেশে ফিবছর ডেঙ্গুর প্রার্দুভাব হওয়াটাই স্বাভাবিক। দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু দেশে যেমন- ফিলিপাইন, মালেশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে এখন ডেঙ্গুর প্রার্দুভাব চলছে। তাছাড়া বিশ্বের অনেক ডেঙ্গুপ্রবণ দেশই এখন ডেঙ্গু প্রার্দুভাবের ঝুঁকিতে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যদি এ বছর এডিস মশা (এডিস এজিপ্টাই) সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তবে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ডেঙ্গু ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। আর চলমান কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে ডেঙ্গুর প্রার্দুভাব একসাথে চললে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাড়াবে তা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া আমাদের ডাক্তারসহ হাসপাতালগুলো এখন করোনা রোগী নিয়েই হিমশিম খাচ্ছে। মানুষ ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছে না। অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। করোনা দূর্যোগে ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে আমাদের সচেতন হতেই হবে এবং এমন অবস্থায় ব্যক্তিগত সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর বিকল্প নাই।

২. ডেঙ্গু রুখতে মশা নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকার এ বছর নতুন একটি স্লোগান চালু করেছে- প্রতি তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন। বর্ষা শুরু হওয়ায় মশারা এখন দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করেছে। বৃষ্টির পানি আমাদের বাড়ির আশে পাশে বিভিন্ন জায়গায় যেমন- পরিত্যক্ত টায়ার, পানির ট্যাংকি, বালতি, টব, গাছের গুড়ির ফাঁকা জায়গা, আবদ্ধ নালা ইত্যাদিতে জমা থাকছে আর সেখান থেকেই জন্ম নিচ্ছে মশার লার্ভা এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ মশা। তাই আমাদেরকে মশার লার্ভার উৎস ধ্বংসকরণ (সোর্স রিডাকশন) কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে হবে। লার্ভা জন্ম নেয়ার মুল জায়গাগুলো (বাসাবাড়ির সামনে বা ছাদবাগানে পানি জমে থাকে এরকম কিছু) চিহ্নিতকরে লার্ভার উৎস নিয়মিত ধ্বংস করতে হবে। বৃষ্টির পানি যাতে কোথাও জমতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। সিটি কর্পোরশনের লোকের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। লার্ভার সোর্স রিডাকশনের পাশাপাশি প্রয়োজনে আমাদের নিজেদেরকে মশার ঔষধ (লার্ভিসাইড) প্রয়োগ করতে হবে। মোটকথা আমাদের চারপাশে মশারা যাতে ব্যাপকভাবে জন্ম নিতে না পারে তার ব্যবস্থা আমাদের নিজেদেরকেই করতে হবে।

৩. তাছাড়া মশারা কিন্তু আমাদের ঘরের ভেতরেও বংশবৃদ্ধি করতে পারে যেমন- আমাদের বাসার ভিতরে ফুলদানি, রান্নাঘরে বা বাথরুমে জমে থাকা পানি, কলস বা বালতিতে রেখে দেওয়া পানি প্রভৃতিতে। তাই ঘরের ভিতরের এসব স্থানগুলো আমাদেরকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে যাতে মশারা বংশবৃদ্ধি করতে না পারে। বাড়ির মহিলারা এ কাজে বেশি সচেতন হতে পারেন। ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়াতে মশা সর্ম্পকে আমাদেরকে কিছু সাধারণ জ্ঞান রাখতে হবে যেমন- কোন প্রজাতির মশা আমাদের জন্য ক্ষতিকর বা কোন মশা কখন কামড়ায়, মশাদের জীবনচক্র কেমন, কোথায় কিভাবে বংশবৃদ্ধি করে ইত্যাদি। মশা সম্পর্কে ধারণা থাকলে মশা দমন কিছুটা সহজ হবে।

৪. ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা বা প্রোটেকশন নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখতে আরো বেশি সতর্ক ও যত্নবান হতে পারি। করোনাকালে বাসাবাড়িতে বেশি সময় থাকার কারণে এডিস মশা দ্বারা আমাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। করোনাকাল দীর্ঘ হলে এই সুযোগ আরো বাড়বে এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়বে। তাই এসময় ফুল-স্লিভস জামা পরিধান, ঘুমের সময় মশারি টানানো, দরজা-জানালায় নেট স্থাপন, সন্ধ্যায় বা সন্ধ্যার পূর্বে দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং অপ্রয়োজনে না খোলা, বাজারের অপেক্ষাকৃত নিরাপদ রিপেলেন্ট ক্রিম, স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করতে হবে।

৫. মশা আমাদের জন্যে শুধু বিরক্তির কারণই নয় বরং মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বটে। এটা আমরা খুব ভালো করেই জানি। তবুও আমরা অতটা সচেতন নই বরং মশা, মশাবাহিত রোগ, মশার দমনে আমরা অনেকটাই উদাসীন। মশা নিয়ন্ত্রণের চেয়ে ডেঙ্গু চিকিৎসায় আমরা বেশী মনোযোগ দিয়ে থাকি। ডেঙ্গু হলে পরে চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করি। কিন্তু এবছর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। মরণঘাতী করোনার কারণে এখন সাধারণ সব চিকিৎসাই প্রায় বন্ধ। হাসপাতালগুলো ঠিকমতো চিকিৎসা দিতে পারছে না। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। তাই এ বছর ডেঙ্গুর প্রতিকারের চেয়ে মশার প্রতিরোধই হবে যুক্তিযুক্ত। মশা নিয়ন্ত্রণ সফল করতে পারলে নিশ্চিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমবে এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তাই এ বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মশা দমনে আমাদেরকে বেশী মনোযোগী হতে হবে। আর এ জন্যে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নাই।

লেখক: ড. মোঃ আসাদুজ্জামান মিয়া, সহযোগী অধ্যাপক (কীটতত্ত্ব), পবিপ্রবি, বাংলাদেশ, ভিজিটিং সায়েনটিস্ট, এনাসটাশিয়া মসকিটো কন্ট্রোল, ফ্লোরিডা, আমেরিকা

   

‘আলোর স্কুল’ জামাল স্যারের স্বপ্নের পাঠাগার



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জামাল স্যারের পাঠাগার উদ্বোধন করছেন ড. মাহফুজ পারভেজ/ বার্তা২৪

জামাল স্যারের পাঠাগার উদ্বোধন করছেন ড. মাহফুজ পারভেজ/ বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্ন শুরু হয়েছিল শৈশবে ফেনী শহরে। তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রজীবনে। সর্বশেষে চট্টগ্রাম শহরের পাঁচলাইশে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে পথ ও পন্থা খুঁজছিলেন তিনি। চেষ্টা করছিলেন তাদের মননশীলতার চর্চাকে উন্মুক্ত করতে। সেই কাজ করতে গিয়ে সরকারি চাকরি বা ব্যবসায় নিজেকে নিয়োজিত করেন নি। থেকে গেছেন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই। তার আসল নাম কাজী জামালউদ্দিন বলে এখন কম লোকেই ডাকে। সবাই বলে জামাল স্যার, চট্টগ্রামের পাঁচশাইশের জামাল স্যার।

জামাল স্যার দিন-রাত এক করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গ দেন। তাদের দুর্বলতা কাটাতে চিন্তা-ভাবনা ও চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে দফায় দফায় বসেন মটিভেশনাল সেশানে। তারপর একজন ছাত্র বা ছাত্রী যখন শিক্ষাজীবনে সফলতার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তখন তার চোখের কোণে দেখা যায় আনন্দাশ্রু। আর পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীটির পরিবার জুড়ে বয়ে যায় খুশির হিল্লোল। ‘এমন পরিস্থিতি আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের সময়‘, বললেন জামাল স্যার।

‘সঠিক দিক-নির্দেশনা না পেয়ে অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী সফল হতে পারে না। তারা হতাশ ও জীবনবিমুখ হয়ে যায়। স্কুল ও বাবা-মা ব্যস্ততার কারণে তাদের সমস্যাগুলো দরদ ও মনোযোগ দিয়ে দেখার সময় ও সুযোগ পান না।  ফলে সম্ভাবনা থাকার পরেও অনেকেই সফল হয় না। আমি তাদের দুর্বলতা ও সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করি। সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করি,‘ জানালেন জামাল স্যার।

তিনি বলেন, ‘আমি গতানুগতিক কোচিং এ বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি, প্রতিটি সিলেবাস ও পাঠ্যক্রমে কিছু অপূর্ণতা থাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ হয় না। এই গ্যাপটি ধরিয়ে দিতে পারলেই সমস্যা পরিণত হবে সম্ভাবনায়।‘

বই উপহার পেলো শত শিক্ষার্থী/বার্তা২৪

জামাল স্যারের মতে, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থী একই রকমের সমস্যার সম্মুখীন হয় না। তাদের সমস্যা বহুমাত্রিক। আবার স্কুলগুলোর সমস্যাও নানামুখী। এগুলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করে সংযোগ সাধন করা আমার কাজ।‘

তিনি জানান, ‘আমাদের স্কুলগুলো মূলত আধাদিনের। বাকী সময় শিক্ষার্থী থাকে মাঝিবিহীন নৌকার মতো। অভিভাবকরাও নিজের কাজের শেষে সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। এতে শিক্ষার্থীরা জীবনের মূল পথ খুঁজে পায় না। অথচ তাদেরকে সঠিক দিশা দেখানো হলে দেশের মানবসম্পদ বিকাশের কথ মসৃণ হবে। তাদের অন্যান্য সুপ্ত প্রতিভা এবং লাইফস্কিল ডেভেলপ করলে সে শুধু ভালো ছাত্রই হবে না, ভালো ও সফল মানুষ হবে।‘

এ কারণেই বিকল্প স্কুলের মতো একটি লাইব্রেরি গড়েছেন তিনি। শিশু-কিশোরদের উপযোগী বিষয়ভিত্তিক সমায়ক বই রয়েছে সেখানে। তার মতে, ‘ইন্টারনেটে অনেক ফেক ও অসম্পূর্ণ তথ্য থাকে। শুধু নেটে বসে হাজারো তথ্যের অনুসরণ করলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল চিন্তা ও মননশীল প্রচেষ্টার শক্তি হারাবে। এজন্য তাদেরকে বই ও পাঠাগার মুখী করতে হবে।“

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের পাশাপাশি নিজের জন্মস্থান ফেনী শহরেও জামাল স্যার শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। গড়ে তুলেছেন ভিন্নধর্মী, জীবনমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাষা আন্দোলনের অমর স্মৃতি বিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাসে মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন-এর সঙ্গে একযোগে শতাধিক শিক্ষার্থীকে বই উপহার দিয়েছেন তিনি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ডা.সালাউদ্দীন ভবনে আনন্দমুখর পরিবেশে এই বই উপহার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে তার পাঠাগারের উদ্বোধন করা হয়।

চট্টগ্রামে সৃজনশীল পাঠদানের পথিকৃৎ জামাল স্যারের সভাপতিত্বে বই উৎসব ও পাঠাগার উদ্বোধনে প্রধান অতিথি ছিলেন মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বার্তা২৪.কম‘র অ্যাসোসিয়েট এডিটর, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ, বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ। উপস্থিত ছিলেন আরো অনেক শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক।

অনুষ্ঠানে ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, সভ্যতার আদি সূচনা থেকে আজকের অত্যাধুনিক জগত পর্যন্ত গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরির উপস্থিতি বিদ্যমান এবং মানব জাতির সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতি ও বিকাশের প্রতীক রূপে বিবেচিত। লাইব্রেরি-বিহীন সমাজের ঐতিহ্যগত শেকড়, সাংস্কৃতিক দ্যুতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি দুর্বল। প্রাচীন সভ্যতা থেকে আজকের পৃথিবীতে বিশেষায়িত ও সাধারণ গ্রন্থাগার যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে গণগ্রন্থাগার বা পাবলিক লাইব্রেরি, যা সভ্যতার চাকাকে সচল রেখেছে এবং মানব জাতির মেধার ভাণ্ডারকে প্রজন্মব্যাপী সম্প্রসারিত করে চলেছে। জামাল স্যারের স্বপ্নের পাঠাগার আসলে একটি ‘আলোর স্কুল‘।

;

১৮ ক্যারেটের সোনার টয়লেট চোরকে পাওয়া গেল!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারের ৩০০ বছরের পুরনো বাড়ি ব্লেনহিম প্যালেস থেকে চুরি হওয়া একটি সোনার টয়লেটের চোরকে ধরতে সক্ষম হয়েছে দেশটির পুলিশ। ওই টয়টেলটি ১৮ ক্যারাটের সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন সোনার দাম অনুযায়ী এর মূল্য ছিল ৪৮ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার অর্থ দাঁড়ায় ৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

দ্য গার্ডিয়ানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

এনডিটিভি জানায়,  এ ঘটনায় নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের ওয়েলিংবোরোর বাসিন্দা জেমস 'জিমি' শিন (৩৯) নামে এক ব্যক্তি আদালতে তার দোষ স্বীকার করেছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ওই টয়লেটটি চুরি হয়। ওই সময় অক্সফোর্ডশায়ারের বাড়িটিতে ইতালির শিল্পী মাউরিজিও ক্যাতেলানের 'ভিক্টরি ইজ নট এন অপশন' প্রদর্শনীতে টয়লেটটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই চুরি হয় সেটি।

পুলিশের তৎকালীন রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি প্রাসাদের সুয়ারেজ লাইনের সাথে যুক্ত থাকায় চুরির সময় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পানিতে প্রাসাদের নির্দিষ্ট অংশ ভেসে গিয়েছিল।

ব্লেইনহিম প্রাসাদের এক মুখপাত্র জানান, টয়লেটটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘আমেরিকা’ নামে। ওই প্রাসাদের যে ঘরে উইংস্টন চার্চিল জন্মেছিলেন, তার পাশেই এটি স্থাপন করা হয়েছিল।

জেমসকে এইচএমপি ফাইভ ওয়েলস থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অক্সফোর্ড ক্রাউন আদালতের শুনানিতে যুক্ত করা হয়েছিল। এইচএমপি ফাইভ ওয়েলস যুক্তরাজ্যের একটি কারাগার।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে শিন বর্তমানে ১৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বাকি তিনজন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বিচার হবে বলেও জানানো হয়।

তবে এই ঘটনা এবারই শিনের প্রথম নয়। এর আগে যুক্তরাজ্যের নিউমার্কেট এলাকার জাতীয় ঘোড়দৌড়-বিষয়ক জাদুঘর থেকে চার লাখ পাউন্ড দামের ট্রাক্টর ও অত্যন্ত দামি স্মারক বস্তু চুরি করেছিলেন জেমস।

;

কী ছিল টাইটানিকের সকাল-বিকাল-রাতের খাবারের তালিকায়?



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ থেকে প্রায় ১১২ বছর আগে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে একটি বরফ খণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ টাইটানিক। বিলাসবহুল ওই প্রমোদতরী নিয়ে এখনো আগ্রহের কমতি নেই মানুষের মধ্যে। এতো সময় পরও এখনো টাইটানিক সম্পর্কে অনেক কিছুই মানুষের অজানা। তবে এবার বের হয়েছে এক নতুন তথ্য।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে টাইটানিক জাহাজের প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের খাবারের তালিকা।

এক্স হ্যান্ডলে ফ্যাসিনেটিং নামের একটি পেজে প্রকৃত মেনুকার্ডের দুই পাশের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে গণমাধ্যমটি।

ওই ছবিতে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবারের মেনু দেওয়া ছিল।

প্রথম শ্রেণির মেনুকার্ডের শিরোনাম ছিল ‘আরএমএস টাইটানিক’। তারিখ ১৪ এপ্রিল, ১৯১২। প্রথম শ্রেণির খাবারের তালিকায় কনসোমে ফার্মিয়ার, ফিলিটস অব ব্রিল, চিকেন আ লা ম্যারিল্যান্ড, লবণে জারিত গরুর মাংস, ককি লিকি সবজি ও ডাম্পলিং ছিল।

‘ফ্রম দ্য গ্রিল’ ক্যাটাগরিতে ছিল গ্রিলড মাটন চপ, ম্যাসড, ফ্রায়েড এবং বেকড জ্যাকেট পটেটোজ, কাস্টার্ড পুডিং, আপেল মেরিঙ্গু ও প্যাস্ট্রি।

বুফেতে স্যামন মেয়োনিজ, পটেড চিংড়ি, নরওয়েজিয়ান অ্যাঙ্কোভিস সসড হেরিংস, প্লেইন এবং স্মোকড সার্ডিনস, রোস্ট গরুর মাংস, মসলাযুক্ত গরুর মাংসসহ ছিল নানা পদ।

তৃতীয় শ্রেণির সকালের নাশতার মেনুতে ছিল ওটমিল পোরিজ ও দুধ, স্মোকড হেরিংস, জ্যাকেট আলু, হ্যাম ও ডিম, গরম–গরম রুটি ও মাখন, মার্মালেদ, সুইডিশ রুটি, চা ও কফি। রাতের খাবারে ছিল চালের স্যুপ, রুটি, ব্রাউন গ্রেভি, কেবিন বিস্কুট, মিষ্টি ভুট্টা, সেদ্ধ আলু, পাম পুডিং, মিষ্টি সস ও ফল।

ছবি দুটি দিয়ে পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, টাইটানিক ডুবে যাওয়ার আগের দিন। ১৪ এপ্রিল, ১৯১২। টাইটানিক ১ম শ্রেণীর খাবারের তালিকা বনাম ৩য় শ্রেণির খাবারের তালিকা।

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। এতে অনেকেই নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেছেন। 

একজন লিখেছেন, তৃতীয় শ্রেণীর মেনু আমার কাছে ভাল লেগেছে।

অন্য একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, লক্ষ্য করেছেন ৩য় শ্রেণির মেনুতে রাতের খাবারের জন্য গ্রুয়েল (দুধ অথবা পানিতে ফোটানো তৈরি তরল খাবার) অফার করা হয়। এটা সবার কাছে ভালো খাবার নাও হতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এক বরফ খণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় জাহাজটি। তখন জাহাজটিতে থাকা প্রায় এক হাজার ৫০০ যাত্রী মারা যায়।

;

ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ যুদ্ধ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ঈদের বাড়ি যাওয়ার এই দৃশ্য চিরচেনা/ছবি: নূর এ আলম

ঈদের বাড়ি যাওয়ার এই দৃশ্য চিরচেনা/ছবি: নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের বাড়ি যাওয়ার এই দৃশ্য চিরচেনা। বাড়ি ফেরা নয়, যেনো এক যুদ্ধে। ভোগান্তির পরও এই যুদ্ধ যেনো আনন্দের ঘরমুখো মানুষের কাছে। যে করে হোক প্রিয়জনের কাছে যেতে ট্রেনে উঠতেই হবে। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) ছিল ট্রেনে ঈদযাত্রার ২য় দিন। এদিন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিটি ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। কোনো শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। তবে ঘরমুখোর মানুষের প্রচণ্ড চাপ ছিল। 

ঈদে বাড়ি যাচ্ছে মা, বাবার ছুটি আরও পড়ে। তাই তো বাবার কোল ছাড়তেই দিল কান্না জুড়ে/ ছবি: নূর এ আলম


 

গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুটিও ফিরছেন গ্রামে/ছবি: নূর এ আলম


 

প্ল্যাটফর্মের বাইরে এভাবে ট্রেনে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও উঠছেন এই নারী/ ছবি: নূর এ আলম


 

গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে একটি পরিবার/ছবি: নূর এ আলম


 

ট্রেনে উঠতে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়/ছবি: নূর এ আলম


 

গরম থেকে বাঁচতে ছোট্ট ব্যাটারিচালিত পাখা সঙ্গে নিয়েছে শিশুটি/ছবি: নূর এ আলম


 

হাজারো যাত্রী ছাড়ছেন ঢাকা গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে/ছবি: নূর এ আলম


 

ট্রেনে ওঠার যুদ্ধ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার কাছে কোনো বাধাই বাধা নয়/ছবি: নূর এ আলম


 

টিকিট চেক করে তবেই যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে/ছবি: নূর এ আলম


 

ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ করতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীও বেশ তৎপর/ছবি: নূর এ আলম


 

;