আল্লামা শফীর অবস্থার অবনতি, আনা হচ্ছে ঢাকা

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আল্লামা শফী, ছবি: বার্তা২৪.কম

আল্লামা শফী, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আল্লামা শাহ আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হয়েছে। তার শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হবে।

চমেক হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, আল্লামা শফীর অবস্থা সংকটাপন্ন। বৃহস্পতিবার অক্সিজেন হার্টে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। একই সঙ্গে ফুসফুসে পানি জমেছে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক (মুহতামিম) পদ থেকে পদত্যাগের অসুস্থতাবোধ করায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী এর আগেও কয়েক দফা অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট এবং হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন। বার্ধক্যের কারণে এসব রোগ মাঝেমধ্যেই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের ৩য় তলার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) ৮ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আল্লামা শফী হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছেন।

হাসপাতালে নেওয়ার আগে বৃহস্পতিবার রাতে হাটহাজারী মাদরাসার শুরা সদস্যদের বৈঠকে আল্লামা শফী মাদরাসার মহাপরিচালক (মুহতামিম) পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে শুরা সদস্যরা ওই বৈঠকেই তাকে মাদরাসার সদরে মুহতামিম তথা উপদেষ্টা হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিনভর হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে ‘সম্মানজনকভাবে’ অব্যাহতি দিয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ, আল্লামা শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীকে মাদরাসা থেকে বহিষ্কারসহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।

একপর্যায়ে মাদরাসার সামনে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দিয়ে মাদরাসার ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। এ সময় মাদরাসার ভেতর ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুধবার রাতেই মাওলানা আনাস মাদানীকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মজলিশা শুরার বিশেষ বৈঠক যেকে। বৈঠকে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ওপর ‘নির্যাতন’ বন্ধ করার অঙ্গীকারসহ কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়া হয়।

মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করা এবং মাওলানা আনাসকে ফের নিয়োগ দেওয়া হবে- এমন গুজবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের বিক্ষোভ শুরু করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। সন্ধ্যায় হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৪ আগস্ট কওমি মাদরাসাসমূহের কিতাব বিভাগের কার্যক্রম শুরু ও পরীক্ষা গ্রহণের জন্য কতিপয় শর্তসাপেক্ষে অনুমতি প্রদান করা হয়।

কিন্তু আরোপিত শর্তসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালিত না হওয়ায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার আল জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসাটি পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্দেশক্রমে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

তাতেও পরিস্থিতি শান্ত না হলে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ফের বৈঠকে বসেন হাটহাজারী মাদরাসার মজলিশে শুরার সদস্যরা। সেখানে আল্লামা শাহ আহমদ শফী তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পরপরই আন্দোলন সমাপ্ত ঘোষণা করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো এবং বড় মাদরাসা হিসেবে পরিচিত হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসা। এই মাদরাসার মহাপরিচালক হিসেবে কওমি মাদরাসাগুলোর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

তিনি হেফজাতে ইসলামের আমির ছাড়াও কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক ও কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান।