জানুয়ারি থেকে পর্যটন ভিসা চালুর পরিকল্পনা সৌদির



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মাদায়েন সালেহ, সৌদি আরব, ছবি: সংগৃহীত

মাদায়েন সালেহ, সৌদি আরব, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিছুদিন আগেও পবিত্র হজ কিংবা উমরাপালন ছাড়া শুধুমাত্র বেড়ানোর জন্য সৌদি আরব যাওয়ার কথা কেউ কখনও ভাবেনি। কিন্তু এখন এটা সম্ভব। ‘পর্যটকদের অবাক করার মতো’ অনেক কিছুই রয়েছে দেশটিতে। এভাবেই পর্যটকদের আহ্বান জানিয়ে দেশটি পর্যটন ভিসা চালু করেছে। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস ঠেকাতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে পর্যটন ভিসা স্থগিত রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায় সৌদি আরব আগামী বছরের শুরুতে পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে।

দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বরাতে আরব নিউজের খবরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী সংস্কার কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ হচ্ছে পর্যটন। মূলত তেলের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে আনতে চাচ্ছে দেশটি।

৪৯ দেশের জন্য নতুন ভিসা পদ্ধতি চালু করার পর ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিজের দরজা খুলে দিয়েছে সৌদি আরব। পরিকল্পনা ছিলো ২০২০ সালের মধ্যে মোট জাতীয় উৎপাদনের ১০ শতাংশ এই খাত থেকে আয় করার। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে বদলে দিয়েছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আহমেদ খতিব এক ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পর্যটন ভিসার জন্য আগামী বছরের শুরুর দিকটি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। যদি পরিস্থিতি আরও ভালো হয় কিংবা টিকাসংশ্লিষ্ট কোনো ইতিবাচক অগ্রগতির খবর আসে, তবে তা আমরা দ্রুতই করে ফেলব।’

তিনি আরও বলেন, করোনায় পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন সামনের গ্রীষ্মে ঘরোয়া পর্যটনের দিকে নজর দেওয়া হবে, যা আরও বড় আঘাত থেকে সৌদি অর্থনীতিকে রক্ষা করতে পারবে।’

পর্যটন ভিসায় ৪৯টি দেশের নাগরিকরা সৌদি আরবের অধিকাংশ পর্যটন স্থাপনা ঘুরতে পারবেন। তবে নারীরা একা ঘোরাফেরা করতে পারলেও শালীন পোশাক পরতে হবে। এ ছাড়া মক্কা ও মদিনায় অন্য ধর্মের লোকেরা যেতে পারবেন না।

সৌদি আরবের পর্যটন স্থাপনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলো- আল ওহাবা আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ, প্রাচীন মাদায়েন শহর, ঐতিহাসিক জেদ্দা ও মক্কা তোরণ, রিয়াদের মাসমাক দুর্গ, কিং ফাহাদ ফাউন্টেন, উমলুজ, দুমাত উল জান্দাল, হজরত হাওয়া (আ.)-এর কবর, আল তায়েবাত ইন্টারন্যাশনাল সিটি ও কিংডম সেন্টার ইত্যাদি।

সৌদি আরবের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- এর বিশালাকৃতির এবং জাঁকজমকপূর্ণ শপিং মল। সৌদি আরবের আবহাওয়া এমনিতে খুব গরম। বাইরে ঘোরাফেরা করা সেখানে আরামদায়ক নয়। তাই সে দেশের সরকার তাদের নাগরিক এবং বিদেশি পর্যটকদের কথা ভেবে অনেক আরামদায়ক এবং উন্নত পরিবেশ বিশিষ্ট শপিং সেন্টার তৈরি করে রেখেছে। কেনাকাটা, খাবার-দাবার, বেড়ানো বা সময় কাটানোর জন্য এই শপিং মলগুলো বেশ চমৎকার। এগুলো সাধারণত বেশ বড় আকৃতির। এর ভেতরে সবধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, সৌদি আরব আপনাকে নতুন এবং পুরাতন দুই ধরনের অভিজ্ঞতা আস্বাদন করার সুযোগ দেবে। মরুভূমির মাঝে থেকেও জীবন যে নতুন নতুন রঙে রাঙানো হতে পারে, সেটা সৌদি আরব ভ্রমণ না করলে পুরোপুরিভাবে বুঝতে পারবেন না।