মানুষকে কষ্ট দেওয়ার পরিণতি



মাওলানা আবদুল ওয়াহাব, অতিথি লেখক, ইসলাম
যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে

যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে

  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষকে কষ্ট দেওয়া নিন্দনীয় আচরণ। কথা ও কাজে অন্যদের পীড়া দিতে মনের লাগাম ছেড়ে দেওয়ার কাজটি শুধু প্রবৃত্তির অনুসারী দুর্বল ঈমানের অধিকারী লোক থেকেই প্রকাশ পায়। অন্যায় তাকে তাড়িত করে। মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশদাতা মন তাকে পরিচালিত করে। যারা অন্যকে পীড়া দেওয়া থেকে নিজেকে সংযত রাখবে, তারা দুনিয়া ও আখেরাতে নিরাপদ থাকবেন এবং সাফল্য লাভ করবেন। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।’ -সুরা আহজাব : ৫৮

আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি ভুল কিংবা গোনাহ করে, অতঃপর কোনো নিরপরাধের ওপর অপবাদ আরোপ করে, সে নিজের মাথায় বহন করে জঘন্য মিথ্যা ও প্রকাশ্য গোনাহ।’ -সুরা নিসা : ১১২

হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্টভাবে এসব আয়াতের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরছেন। অন্যদের কষ্ট দেওয়া, নির্যাতন করা, তাদের প্রতি বৈরিতা প্রদর্শন ও তাদের ক্ষতির ক্ষেত্রে রাসুলের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি ও শক্ত নিষেধাজ্ঞার বিবরণ ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার প্রতি অবিচার করবে না, তাকে অবজ্ঞা করবে না, তাকে অসহযোগিতা করবে না।’ –সহিহ মুসলিম

ইমাম মুসলিম (রহ.) রাস্তাঘাটের মধ্যখানে বসে থাকার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত হাদিসও উল্লেখ করেছেন। তাতে নবী করিম (সা.) রাস্তাঘাটে বসার হকগুলো বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে আছে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা।

মুসলমানদের পীড়া দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করতে গিয়ে নবী করিম (সা.) প্রবল নিষেধাজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা মুখে মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছে, যাদের হৃদয়ে ঈমান পৌঁছেনি, তোমরা মুসলমানদের কষ্ট দিও না। তাদের তিরস্কার করো না। তাদের গোপন বিষয়াদির পেছনে লেগো না। কেননা যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপনীয়তা তালাশ করে আল্লাহ তার গোপনীয়তা তালাশ করেন। আর আল্লাহ যার গোপনীয়তা সন্ধান করেন তা ফাঁস করে দেন, যদিও সে তার বাড়ির অভ্যন্তরে থাকে।’ –তিরমিজি

কাতাদাহ (রহ.) বলেন, ‘তোমরা মুমিনকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকো। কেননা আল্লাহ তাকে বেষ্টন করে রাখেন। এতে তিনি ক্রুদ্ধ হন।’ ইসলামের শিক্ষা হলো, অন্যকে পীড়া দেওয়া থেকে বেঁচে থাকুন। নিজের মনকে বৈরিতা প্রদর্শন করতে বাধা দেন। তাহলে আপনি লাঞ্ছনা ও আঘাত থেকে নিরাপদ থাকবেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলিম সেই যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ –সহিহ বোখারি

মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া হারাম ও নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি শুধু ব্যক্তিবিশেষ বা তাদের কোনো সদস্যকে কষ্ট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মুসলমানকে পীড়া দেওয়ার বিষয়টি তাদের জনস্বার্থ ও যৌথ কল্যাণকেও আওতাভুক্ত করে। যেমন জনসম্পদ, চাকরি, পেশা ইত্যাদি। ইসলামের অন্যতম একটি মূলনীতি হচ্ছে, ‘না নিজের ক্ষতি করা যাবে, না অন্যের ক্ষতি করা যাবে।’

অন্তরকে শিরক, বেদাত, শত্রুতা, হিংসা-প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত রাখা মুক্তি লাভের অন্যতম একটি উপায়, এটি জান্নাতবাসীর একটি গুণ। আল্লাহ নিজের বান্দা ও বন্ধু হজরত ইবরাহিম (আ.) সম্পর্কে বলেন, যা তিনি নিজের রবের কাছে দোয়ায় বলেছিলেন, ‘পুনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করো না, যে দিবসে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না; কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে।’ -সুরা শুআরা : ৮৭-৮৯

মুসলমানের হৃদয়কে ঘৃণা, হিংসা-বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা ও অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে মুক্ত রাখার বিশাল প্রতিদান ও মর্যাদার সুস্পষ্ট বিবরণ সংবলিত বহু বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সেসব হাদিসের একটি হলো- এক আনসারি লোকের গল্প, যার জন্য নবী করিম (সা.) জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) লোকটির বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে তার কাছে দিন-রাত থাকেন। তিনি তার সৎকর্ম বলতে দেখতে পেলেন, সে রাত জেগে কোনো ইবাদত করে না, তবে যখন সে তার বিছানায় জেগে একটু শব্দ করে ওঠে এবং পাশ বদল করে তখন সে আল্লাহকে স্মরণ করে, আল্লাহু আকবার বলে। আর এক পর্যায়ে ফজরের নামাজ পড়তে ওঠে। তিনি তাকে ভালো কথা ছাড়া কিছুই বলতে শোনেননি। তারপর তিনি লোকটিকে জানালেন নবী করিম (সা.) তার ব্যাপারে যা বলেছেন। তখন লোকটি তার আমল সম্পর্কে বলল, আপনি যা দেখেছেন এতটুকুই। তবে, আমি কোনো মুসলিমের জন্য আমার মনের মধ্যে কোনো কিছু পোষণ করে রাখি না। কারও ভালো কিছু থাকলে সেটা নিয়ে হিংসা করি না, যেটা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন। তখন আবদুল্লাহ (রা.) বললেন, ‘এটাই সেই জিনিস যা তোমাকে এ মর্যাদায় নিয়ে এসেছে আর আমরা সেটা পারি না।’

ক্যাম্পাসে সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে: ইউসুফ আশরাফ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস বন্ধে ইসলামি ছাত্র সংগঠনগুলো গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা পালন করবে।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস, ঢাকা মহানগরীর প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ নাজমুল হাসানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ইউসুফ আশরাফ আরও বলেন, ইসলামী ছাত্র মজলিস হলো নেতৃত্ব তৈরির কারখানা। তাই ইসলামী ছাত্র মজলিসের প্রত্যেক কর্মীকে প্রশিক্ষিত ও সুদক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আবদুল আজীজ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা কুরবান আলী ক্বাসেমীসহ গ্রেফতারকৃত আলেম-উলামা ও ইসলামি নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ তারিক বিন হাবীব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিম ৩২ বছর ধরে দেশ, জাতি ও উম্মাহর স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। বাবরী মসজিদ অভিমুখী ঐতিহাসিক লংমার্চ, নাস্তিক-মুরতাদ বিরোধী আন্দোলন, ফতোয়া বিরোধী রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন, টিপাইমুখ বাঁধ অভিমুখি লংমার্চ, পাঠ্যপুস্তক থেকে বিতর্কিত লেখকের লেখা অপসারণসহ নানা আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্র মজলিসের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। দীর্ঘ এ কণ্টকাকীর্ণ পথচলায় লোভ-লালসা, ভয়-ভীতি সবকিছু পায়ে মাড়িয়ে ছাত্র মজলিস তার মনজিলে মকসুদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ দারুল খিলাফাহ মিলনায়তনে শাখা সভাপতি মুহাম্মদ দেলওয়ার আল হুসাইনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহা্ম্মদ সাকিব সাইফির পরিচালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি শরাফত হোসাইন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি নূর মুহাম্মদ আজিজী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি আব্দুর রহীম সাঈদ, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন সাকি, কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মুহাম্মদ লোকমান হুসাইন ঢাকা মহানগরীর প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, বায়তুল মাল সম্পাদক মুহাম্মদ সাআদ প্রমুখ।

;

করোনার তৃতীয় ঢেউ থেকে রক্ষায় হেফাজতের দোয়া



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
করোনার তৃতীয় ঢেউ থেকে রক্ষায় হেফাজতের দোয়া কর্মসূচি পালন

করোনার তৃতীয় ঢেউ থেকে রক্ষায় হেফাজতের দোয়া কর্মসূচি পালন

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা মহামারির প্রকোপসহ সকল প্রকার বিপদাপদ ও বালা-মুসিবত থেকে দেশ ও জাতির মুক্তি কামনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) বাদ জুমা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ও হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা সাজিদুর রহমান জামিয়া দারুল আরকাম আল ইসলামিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামে মসজিদে সমবেত মুসল্লিদের নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন।

মোনাজাতে তিনি করোনা মহামারির প্রকোপ এবং সকল প্রকার বিপদাপদ, দুর্যোগ, যাবতীয় অসুস্থতা ও রোগ-ব্যাধি থেকে দেশের মানুষের মুক্তি ও সুরক্ষার জন্য কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। এ ছাড়া তিনি যুবসমাজের অশ্লীলতা, পাপাচার ও মাদক থেকে দূরে থাকা এবং দেশে ও প্রবাসে কর্মরতদের বরকতপূর্ণ রিজিকের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করেন।

এর আগে জুমাপূর্ব আলোচনায় হেফাজত মহাসচিব মুসল্লিদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলাসহ সবাইকে করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, করোনা থেকে সুরক্ষা ও পরিত্রাণ পেতে হলে আমাদেরকে সবার আগে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও ভরসা মজবুত করতে হবে। সেই সঙ্গে আমলকে পরিশুদ্ধ এবং সকল গোনাহ ও অন্যায় কর্মকাণ্ড পরিহার করে কল্যাণকর কাজে মনোযোগ দিতে হবে। তাহলেই আমরা কোরআনে কারিমের ওয়াদামতো নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও বিপদমুক্ত জীবন লাভের বরকত অর্জন করতে পারব।

আলোচনায় হেফাজত মহাসচিব বিশেষভাবে চারটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এক. মুসলমানদের সর্বস্তরে নামাজের বিষয়ে যত্নবান হওয়া। কারণ, কোরআন-হাদিস মতে যারা নিয়মিত নামাজ পড়েন- আল্লাহ তাদের হেফাজতের দায়িত্বশীল হয়ে যান। দুই. সকল প্রকার গোনাহ ও পাপাচার ছেড়ে বেশি বেশি তওবা-ইস্তেগফার করা। কারণ, এ আমল আল্লাহর রহমত টেনে আনে। তিন. দোয়া ও জিকির মুমিনের হাতিয়ার। বর্তমান পরিস্থিতিতে সকাল-সন্ধ্যায় বিশেষ করে হেফাজত ও নিরাপত্তার বিষয়ে হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলো পাঠের ব্যাপারে নিয়মিত যত্নবান থাকা। চার. সামর্থ্য অনুসারে নিয়মিত দান-সদকা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা। কারণ, দান-সদকা বিপদাপদের দরজা বন্ধ করে দেয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান করোনা মহামারি তৃতীয় ঢেউ, সকল প্রকার রোগ-ব্যাধি, দুর্যোগ ও বিপদাপদ থেকে রক্ষায় মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করে শুক্রবার দেশবাপী বাদ জুমা বিশেষ দোয়া-মোনাজাত পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

;

ঈমানের প্রকৃত স্বাদ লাভের উপায়



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ঈমানের প্রকৃত স্বাদ লাভের উপায়

ঈমানের প্রকৃত স্বাদ লাভের উপায়

  • Font increase
  • Font Decrease

হজরত আব্বাস ইবনে আবদুল মোত্তালিব (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহতায়ালাকে রব, ইসলামকে জীবনবিধান ও মুহাম্মদ (সা.)-কে রাসুল হিসেবে শুধু ঈমান আনেনি বরং মনেপ্রাণে গ্রহণ করেছেন ও সন্তুষ্ট হয়েছেন, তিনি ঈমানের প্রকৃত স্বাদ পেয়েছেন।’ –সহিহ বোখারি

ঈমানের প্রকৃত স্বাদের ব্যাখ্যা
ইসলামের বিশাল প্রাসাদ ঈমানের বুনিয়াদের ওপর এভাবে দাঁড়িয়ে আছে, বিশাল বটবৃক্ষ যেমন তার মূল ও শিকড়ের ওপর দণ্ডায়মান। ইসলামের বিস্তৃত শাখা-প্রশাখা তথা যাবতীয় কর্মকাণ্ডকে এক পাল্লায় রাখলে যে ওজন ও মূল্য বহন করে, ঈমান একাই সব কিছুর চেয়ে বেশি ভারী ও বেশি মূল্য বহন করে। এই ঈমান গ্রহণকারী একজন কৃতদাস ও তার আল্লাহর নিকট সমগ্র পৃথিবী বিখ্যাত কোনো রাজা-মহারাজা সম্পদের মালিকের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। যে ঈমানই একজন কাফের জাহান্নামীকে জান্নাতের অন্তর্ভুক্ত করবে। একজন ব্যক্তির চূড়ান্ত সফলতা ও বিফলতা প্রকৃতপক্ষে ঈমানের ওপর ফয়সালা হয়।

আল্লাহতায়ালার নিকট থেকে আসা সকল অহি ও কিতাবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলোড়- ঈমান। এ ঈমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলে, ব্যক্তির কোনো নেক আমলের মূল্য নেই। এ ঈমানই ব্যক্তিকে আল্লাহতালার প্রিয়জন বানায়। তার জীবনের নিরাপত্তা সম্মান আল্লাহর জিম্মায় থাকে।

একজন মুমিনের ঈমানের অবস্থান কোন পর্যায়ে রয়েছে, এ হাদিস তা বুঝার এক মানদণ্ড। যে মুমিন সত্যিকারার্থে ঈমান এনেছে, গোটা পৃথিবীর সবকিছু ঈমানের মোকাবেলায় তার কাছে একটি পাখির ঝরা পালকের চেয়ে কমমূল্য বহন করে। আর ঈমান থেকে চ্যুত করার সমস্ত অত্যাচার ও জুলুম এবং নিপীড়নের তাবৎ হাতিয়ার তার নিকট এমন সাধারণ ও মামুলি বিষয় যেন লোহার কঠিন দণ্ডের ওপর মাছির ব্যর্থ আক্রমণ। এমন সুস্থ ও নিরোগ ঈমান শুধু কতগুলো কথা উচ্চারণের মাধ্যমে অর্জন সম্ভব নয়, নয় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া অজ্ঞদের ঈমানের মিথ্যা আস্ফালনে।

কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, তারাই মুমিন, সত্যিকারার্থে তারাই মুমিন যারা আল্লাহ ও রাসুলের ওপর ঈমান এনেছে এবং তাতে কোনো প্রকার সন্দেহ করেনি আর সংগ্রাম করেছে জান ও মাল দিয়ে।’ -সুরা হুজরাত : ১৫

সত্যিকার মুমিনদেরকে ঈমানের অমৃত স্বাদ পেতে হলে হাদিসে রাসুলের তিনটি শর্ত প্রণিধানযোগ্য-

এক. আল্লাহর রবুবিয়াতের ওপর অটল আস্থা ও তাতে সন্তুষ্ট হওয়া।

দুই. দ্বীন হিসেবে ইসলামকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেনে চলার দৃঢ় অঙ্গীকার ঘোষণা করা এবং সমস্ত পৃথিবীর চাকচিক্যপূর্ণ মিথ্যা ও মানবগড়া সকল মত ও পথ থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়। মুহাম্মদ (সা.)-এর রেসালাতের সাক্ষ্য দান ও সমস্ত মহান ব্যক্তি এমনকি পূর্বের নবীদেরকে ও তার মোকাবেলায় পেশ করার সুযোগ নেই বরং তা হবে ধৃষ্টতার নামান্তর।

তিন. জীবনের প্রতিটি কদমে তার সুন্নতকে এভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে, জন্মান্ধ যেমন করে চক্ষুষ্মানের লাঠি শক্তহাতে ধরে পথ চলে।

;

মানবসেবায় আল্লাহর সন্তুষ্টি



মো. আকতার হোসেন, অতিথি লেখক, ইসলাম
মানবসেবায় আল্লাহর সন্তুষ্টি

মানবসেবায় আল্লাহর সন্তুষ্টি

  • Font increase
  • Font Decrease

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে আসনি। সে বলবে, আমি আপনাকে কিভাবে দেখতে আসতে পারি? আপনিতো সারা বিশ্বজগতের প্রতিপালক! তিনি বলবেন, তুমি তো জেনে ছিলে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল, তবুও তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে দেখতে যেতে, তবে তুমি আমাকে তার নিকট পেতে। (তিনি বলবেন) হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে খাদ্য দাওনি। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আপনিতো বিশ্বজাহানের প্রভু! আমি আপনাকে কিভাবে খাওয়াতে পারি? তিনি বলবেন, তুমিতো জেনে ছিলে যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে খাদ্য দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে খাবার খাওয়াতে তাহলে আমার কাছ থেকে তা পেয়ে যেতে। (তিনি বলবেন) হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম অথচ তুমি আমাকে পানি দাওনি। সে বলবে, আপনি হলেন সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক, আপনাকে আমি কিভাবে পান করাতাম? তিনি বলবেন, তুমি তো জেনে ছিলে যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি পান করতে চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে পানি দাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তুমি তাকে পান করাতে তবে তার পুরস্কার আমার নিকট পেতে। -সহিহ মুসলিম

আলোচ্য হাদিসে সৃষ্টির সেবার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হাদিসের মূল কথা হলো, আল্লাহর রহমত, বরকত ও সওয়াব হাসিলের সবচেয়ে সহজ এবং সংক্ষিপ্ত পথ হচ্ছে, আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি বিশেষত মানুষের প্রতি সহযোগিতা, কল্যাণ ও উপকারের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। পার্থিব জীবনে আমরা জিকির, নামাজ, রোজা কিংবা তাহাজ্জুদ ইত্যাদি ইবাদতের সওয়াব সম্পর্কে যতটুকু সচেতন, সৃষ্টির সেবার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে ঠিক ততটাই যেন বেখবর। আল্লাহকে ভালোবাসতে হলে অবশ্যই তার সৃষ্টিকে ভালোবাসতে হবে এবং তাদের সেবা ও সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।

আল্লাহর রাসুল (সা.) অপর এক হাদিসে বলেন, ‘প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা।’ -সহিহ বোখারি

মানবকল্যাণের গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘যতক্ষণ একজন মানুষ অন্যকোনো মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার কল্যাণে রত থাকবেন।’ -সহিহ মুসলিম

অন্য স্থানে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে প্রিয় যে মানুষের বেশি উপকার করে।’ -আল মুজামুল আওসাত

আলোচ্য হাদিসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। যথা-
১. অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা ও খোঁজখবর নেওয়া।
২. ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য দান করা।
৩. পিপাসিত ব্যক্তিকে পানি পান করানো।

অসুস্থ মানুষের প্রতি সমাজের অন্য মানুষের দায়িত্ব হলো, তাদের সেবা করা, দেখতে যাওয়া, চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহ প্রদান, মানসিক আস্থা তৈরি করা এবং দোয়া করা। হাদিসের ভাষ্যমতে, কাউকে অসুস্থ জানার পরও তাকে দেখতে না গেলে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যদি কেউ কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায়, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত অবিরত জান্নাতের বাগানে ফল রোপণ করতে থাকে।’ –সহিহ মুসলিম

মানবসেবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করা। আল্লাহর একজন অভাবী অভুক্ত বান্দাকে ক্ষুধার্ত রেখে নিজে পেটপুরে খাবার গ্রহণ করলে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। প্রকৃত মুমিন হতে হলে এবং আল্লাহর প্রিয় হতে চাইলে ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাওয়ানোর কোনো বিকল্প নেই। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে তৃপ্তি সহকারে আহার করে সে মুমিন নয়।’ –তাহাবি

যারা অভাবী ও মিসকিনকে খাবার দেয় না আল্লাহতায়ালা তাদের ব্যাপারে বলেন, ‘(হে রাসূল) আপনি কি সেই ব্যক্তিক দেখেছেন যে আখেরাতের পুরস্কার ও শাস্তিকে মিথ্যা বলছে? সে-ইতো এতিমকে ধাক্কা দেয় এবং মিসকিনকে খাবার দিতে উদ্বুদ্ধ করে না।’ -সুরা আল মাউন : ১-৩

পিপাসিত ব্যক্তিকে পানি পান করানো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। এটি একটি মানবকল্যাণমুখী কর্ম। হাদিসের ভাষায় একে উত্তম সদকা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সবচেয়ে উত্তম সদকা হলো মানুষকে পানি পান করানো।’ –সুনানে আবু দাউদ

শুধুমাত্র মানুষ নয়, সৃষ্টিজীবের যেকোনো প্রাণীকে পানি পান করানোর মধ্যেই সওয়াব নিহিত।

উল্লেখিত তিনটি কর্মই মানবকল্যাণমুখী কর্ম। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে এ ধরনের কাজগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। আল্লাহর কাছেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানবকল্যাণমুখী কর্ম বিপদাপদ ও অপমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে। গোপন দান আল্লাহর ক্রোধ নির্বাপিত করে। রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা আয়ু বৃদ্ধি করে।’ -হাইসামি

;