ওয়াজ যেমন হওয়া চাই



আল্লামা মুফতি দিলাওয়ার হুসাইন, অতিথি লেখক, ইসলাম
ওয়াজ হোক মানুষের কল্যাণের জন্য

ওয়াজ হোক মানুষের কল্যাণের জন্য

  • Font increase
  • Font Decrease

বয়ান ও বক্তৃতার দু’টি ধারা। একটির উদ্দেশ্য আল্লাহতায়ালাকে রাজি-খুশি করা, নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা এবং মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকা। অপরটির উদ্দেশ্য, মানুষের বাহ্ বাহ্ কুড়ানো, অর্থ উপার্জন করা এবং মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করা ইত্যাদি।

প্রথম ধারাটি হলো নবী আলাইহিমুস সালামের ধারা, নবীদের তরিকা।

দ্বিতীয় ধারা তথা বাহ্ বাহ্ কুড়ানোর উদেশ্যে বয়ান, যা নবীদের পথ-পদ্ধতি ও তরিকা নয়। এটি সাময়িকভাবে মানুষ পছন্দ করে, কিন্তু এর ফলাফল শূন্য। এ ধারার বাহ্যিক প্রতিক্রিয়ায় মনে হয়, মানুষ বয়ান খুব বুঝেছে, কিন্তু জিজ্ঞেস করলে কিছুই বলতে পারে না।

এক. ওয়াজ শোনে মানুষজন কি শিখছে, তাদের কী উপকার হচ্ছে- বক্তাকে অবশ্যই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দু’তিন ঘন্টা বয়ান-বক্তৃতা করলাম, দুই লাইন শেখার মতো নেই। এই যে হাজার হাজার মানুষের সময় নষ্ট হলো, তার জবাবদিহি কি আল্লাহর দরবারে করতে হবে না? আল্লাহ যদি জিজ্ঞাস করেন, এই যে মানুষগুলো তোমার কথা শুনতে গিয়েছে, তোমার বক্তব্য দ্বারা মানুষ কী শিখেছে? আমাকে কী পরিমাণ পেয়েছে। নাকি মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য কথা বলেছ? তখন কি জবাব দেবে?

সুতরাং আল্লাহকে রাজি-খুশি করার উদ্দেশ্যে নরম ও কোমল ভাষায় কথা বলতে হবে। দেড় দুই ঘন্টা বয়ান করলাম, কিন্তু সেখানে শেখার কিছু নেই; এমন যেন না হয়। আমি চিৎকার করলাম, ওরাও চিৎকার করলো, এটা নবীদের তরিকা নয়। আমি তো ভাবছি, আমি খুব বলেছি, আসলে কিছুই বলা হলো না। এর দ্বারা না বক্তার উপকার হবে, না শ্রোতার। এ জন্য কথা বলতে হবে নরম ও কোমল ভাষায়। কোমল কথার দ্বারা যে পরিমাণ উপকার হয়, গরম কথার দ্বারা সে উপকার হয় না। বরং হিতে বিপরীত হয়।

খলিফা মানসুর যে মসজিদে জুমা পড়তেন, ওই মসজিদে একজন ওয়ায়েজ গেলেন ওয়াজ করতে। বক্তা বয়ান করতে দাঁড়িয়ে যখন খলিফা মানসুরকে দেখলো, তখন তার জজবা বেড়ে গেল। খলিফা মানসুরকে সামনে পেয়ে তিনি খুব গরম বক্তব্য দিলেন। নামাজ শেষে খলিফা তাকে ডাকলেন। বিনীতভাবে জানতে চাইলেন, হুজুর! আমি ভালো, না ফেরাউন ভালো? ওয়ায়েজ বললেন, আপনি কী বলেন, ফেরাউন তো আল্লাহর দুশমন, আর আপনি হলেন খলিফাতুল মুসলিমিন, আমিরুল মুমিনিন। আপনার সঙ্গে কি ওর তুলনা হয়। খলিফা বলেলেন, এবার বলুন, আপনি উত্তম, না নবী মুসা উত্তম? ওয়ায়েজ বলল, কি বলেন, আমি হলাম গোনাহগার, আর মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর নবী। এর তুলনা হয় কীভাবে? এরপর খলিফা বললেন, আমার থেকে নিকৃষ্ট ফেরাউনের কাছে আপনার থেকে উত্তম মুসা নবীকে পাঠানোর সময় আল্লাহতায়ালা কি বলেননি, আপনারা তাকে কোমল ভাষায় কথা বলবেন। ফেরাউনকে নরম কথা বলার নির্দেশ দেননি? আপনি যে আমাকে এমন গরম ভাষায় কথা বললেন, তা কি ঠিক হয়েছে? বক্তা মাথা নিচু করে ফেলল।

হাফেজ সিরাজি বলেছেন, ‘স্টেজে ওঠে এত গরম বয়ান, মনে হয় তার চেয়ে বুজুর্গ আর কেউ নাই। আর যখন নির্জনে যায়, তখন নামাজ-কালামের খবর নাই। আল্লাহ মাফ করুন।’

আল্লাহকে রাজি-খুশি করার উদ্দেশ্যে নরম ও কোমল ভাষায় কথা বলতে হবে



দুই. আমাদের সব কাজের আগে দেখতে হবে, কাজটা আল্লাহর জন্য কি না? এজন্য কখনও বক্তব্যের সুযোগ এলে মনে মনে এ দোয়া করা, ‘ইয়া আল্লাহ! একনিষ্ঠভাবে সুন্নত অনুযায়ী আপনার সন্তুষ্টি মোতাবেক বলিষ্ঠ কণ্ঠে কিছু কথা বলার তওফিক দান করুন, যাতে আপনার বান্দাদের উপকার হয় এবং তৃপ্তি লাভ হয়।’ ইনশাআল্লাহ, দেখবেন আপনার বয়ান মানুষের মনে প্রভাবি বিস্তার করবে, বয়ান ফলপ্রসূ হবে।

তিন. ওয়াজ করতে গিয়ে কখনও এ কামনা না করা, আমার ওয়াজ সুন্দর হোক। আমার ওয়াজ উচ্চমানের হোক। এটা মনে আনা যাবে না। বরং এ কথা কামনা করতে হবে, আমার কথাগুলো যেন মানুষ বুঝতে পারে। যেভাবে বললে মানুষ বুঝবে ওইভাবে বলতে হবে।

চার. অনেকে মনে করেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আলোচ্য বিষয় শেষ করতে হবে। ব্যস, উঠেই কথা শুরু। দাঁড়ি নাই, কমা নাই। এতে মানুষ বয়ান বুঝে উঠতে পারে না। কথা হতে হবে, ধীরস্থিরভাবে। সময়ের ভেতর যতটুকু সম্ভব, ততটুকু বলবে। বাকিটা রয়ে গেলে সমস্যা নেই, কথা শেষ পর্যন্ত বলতে হবে, এটা জরুরি নয়। এতে করে মানুষের আগ্রহ কমে যায়। বরং আগ্রহ থাকতেই কথা শেষ করতে হবে। তা হলে কথা মানুষের হৃদয়ে বক্তব্যের বিষয় বসে যাবে। নতুবা কথার প্রতি তিক্ততা আসবে। ফলে মানুষ আর কথা শুনতে চাইবে না। ইবাদত-বন্দেগিও এই নিয়মেই করতে হয়। যতক্ষণ অন্তরে আগ্রহ থাকে, ততক্ষণ ইবাদত করা। আগ্রহ থাকতে থাকতে ইবাদত ছেড়ে দেওয়া। বিরক্তি এসে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিৎ নয়। তদ্রুপ চাহিদা থাকতেই বয়ান শেষ করা উচিত।

পাঁচ. সবচেয়ে বড় কথা হলো, বয়ানের ওপর প্রথমে নিজেকে আমল করতে হবে। যে ব্যক্তি ব্যক্তিগত জীবনে আমলদার, তার ওয়াজে যে ফায়দা ও প্রভাব সৃষ্টি হয়, তা অন্যদের ওয়াজে হয় না। এক মজলিসে একবার হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর আগে বয়ান করেছেন তারই ছেলে। পরে তিনি এসে মিম্বরে বসলেন। আর শুধু এতটুকু কথা বললেন, ‘রাতে একটু দুধ রাখলাম সকালে পান করার জন্য। সকালে উঠে দেখি বেড়ালে খেয়ে ফেলেছে। আমি আর পান করতে পারিনি।’ এ সামান্য কথায় মাহফিলে কান্নার রোল পড়ে গেলো। অথচ এর আগেরকার লম্বা কথায় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দিল না।

ছয়. অন্যের ওয়াজ নকল ও অনুকরণ না করা। অন্যের ওয়াজ মুখস্ত করে শুনিয়ে দিলাম, এমন যেন না হয়। হ্যাঁ, অন্যের ওয়াজ থেকে বিষয় নির্বাচন করতে পারবেন, কিন্তু ব্যক্ত করতে হবে নিজের ভাষায়, নিজের ভঙ্গিতে। এজন্য নবী-রাসুল ও পূর্ববর্তী বুজুর্গদের জীবনী পড়া, তাদের লিখিত কিতাবাদি অধ্যয়ন করা।

অনুলিখন : মাওলানা সাইফুল্লাহ দেলাওয়ারী

   

যে গ্রামে জাকাত-ফেতরা নেওয়ার কেউ নেই



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
গ্রামের মানুষের মাঝে ছাগল বিতরণ করা হচ্ছে, ছবি : সংগৃহীত

গ্রামের মানুষের মাঝে ছাগল বিতরণ করা হচ্ছে, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্মিলিত ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগে বদলে গেছে প্রত্যন্ত একটি গ্রামের চিত্র। গ্রামটির সকল পরিবার হয়েছে সচ্ছল। ওই গ্রামে এখন আর ফেতরা কিংবা জাকাত নেওয়ার মানুষ নেই। সবাই স্বাবলম্বী।

কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার দানাপাটুলি ইউনিয়নের চাঁদের হাসি গ্রাম। এই চাঁদের হাসি গ্রামের দরিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগের ফলে বদলে গেছে গ্রামের দৃশ্যপট।

সংগঠনটি নিজ গ্রামের গন্ডি পেরিয়ে এখন পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষদের স্বাবলম্বী করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এমন প্রশংসনীয় কাজ করা সংগঠনটির নেই নিবন্ধন, নেই বাহারি অফিস। তারা প্রচারে নয়, কাজে বিশ্বাসী। যার প্রমাণ, ফাউন্ডেশনের জনকল্যাণমূলক নানা কাজ।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে চাঁদের হাসি গ্রামের প্রয়াত মাওলানা হেলান উদ্দিনের প্রচেষ্টায় দরিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে গ্রামে সকল পরিবারের ফেতরা ও জাকাত একসঙ্গে করে অসহায়-গরীব মানুষের মাঝে বিতরণ করে আসছে। এভাবে দীর্ঘ ২১ বছরে এই কার্যক্রমের ফলে চাঁদের হাসি গ্রামে এখন আর ফেতরা ও জাকাত নেওয়া মতো মানুষ নেই। ইতোমধ্যে সংগঠনটি গ্রামের ৮০ জন অসহায় গরীব মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছে।

২ বছর আগে চাঁদের হাসি গ্রামের দরিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সহায়তা ঘর পেয়েছেন ওহেদ আলী। তিনি জানান, ঘর পেয়ে মাথা গুজার ঠাঁই হয়েছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালোভাবেই চলছে তার সংসার।

মাহমুদ বেগম নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, তার পরিবার দরিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সহায়তা ঘর ও সেলাই মেশিন পেয়েছেন। তার বাবা নেই মা ও ছোট বোনকে নিয়ে ঘরে বসবাস করছেন। সেলাই মেশিনের মাধ্যমে মানুষের জামা কাপড় সেলাই করে নিজেও স্বাবলম্বী হয়েছেন।

চাঁদের হাসি দরিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ আলম জানান, ২০০৩ সালে আমাদের সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এলাকার চলনশীল মানুষের ফেতরা ও জাকাত একসঙ্গে করে আমরা কাজ করে থাকি। এভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করার পর থেকে ইসলামের বিধি মোতাবেক যে ৮টি খাত রয়েছে সে হিসাবে বর্তমানে আমাদের গ্রামে জাকাত-ফেতরা নেওয়ার মতো কোনো মানুষ নেই।

সংগঠনটি গ্রামের অসহায় ও গরীব মানুষকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহায়তাও দিয়ে আসছে। গ্রামের বেকারত্ব ঘোচাতে অসহায় ও গরীব মানুষের মাঝে গরু, ছাগল, সেলাই মেশিন, অটোরিকশা ও ভ্যান গাড়ি বিতরণ করেছে।

;

রাজধানীতে শীতল পানি বিতরণ করল ইসলামী ছাত্র আন্দোলন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
দেশব্যাপী শীতল পানি ও শরবত বিতরণ কর্মসূচী পালন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের, ছবি : সংগৃহীত

দেশব্যাপী শীতল পানি ও শরবত বিতরণ কর্মসূচী পালন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তীব্র তাপদাহে সৃষ্ট সংকটে দেশব্যাপী শীতল পানি ও শরবত বিতরণ কর্মসূচী পালন করছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ।

বিভিন্ন জেলা, থানা, ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ ভ্যান নিয়ে পথচারী, দিনমজুর, রিকশাচালকসহ তৃষ্ণার্ত মানুষের মাঝে ঠান্ডা পানি বিতরণ করেছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। এছাড়া খাবার স্যালাইন ও পকেট রুমাল বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৬ ও ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে শ্রমজীবী ও পথচারীদের মাঝে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর পূর্বের ডেমরা থানা শাখার উদ্যোগে বিশুদ্ধ শীতল পানি, স্যালাইন ও ওয়ালেট টিস্যু বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ মাইনুল ইসলাম, ডেমরা থানা শাখার সভাপতি শাহাদাত হোসেন মৃধা, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাফিইন বিন আমজাদ, কফিল উদ্দিনসহ থানা ও ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ।

এ সময় প্রধান অতিথি শেখ মুহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাধার ভরাট ও অবাধে বৃক্ষ নিধনের ফলেই অসহনীয় তাপদাহে নগরে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সাময়িক স্বস্তির জন্য আমরা শীতল পানির বিতরণ কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের জন্য নগরকে সবুজায়ন ও বসবাসের উপযোগী করতে রাষ্ট্রকেই যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।

নগর সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম বলেন, যতদিন তীব্র তাপদাহ থাকবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর পূর্বের উদ্যোগে নগরজুড়ে বিশুদ্ধ শীতল পানি বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

;

দুনিয়ার জীবনের বাস্তবতা প্রকাশ পেয়েছে যে আয়াতে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কোরআন মাজিদ, ছবি : সংগৃহীত

কোরআন মাজিদ, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইতিহাসজুড়ে দেখা গেছে, মানুষ সবসময়ই তার প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। কারণ মানুষ প্রকৃতিগতভাবে অভাব নিয়েই দুনিয়ায় এসেছে। দুইভাবে মানুষ বিপদগ্রস্ত হচ্ছে কিংবা বিপদে পড়ছে। এক. মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ঠিকমতো চিহ্নিত না করা। দুই. ভুল পথে চাহিদা মেটানোর প্রবণতা।

এই দুই বিপদজনক পথ সঠিকভাবে অতিক্রমের জন্যই আল্লাহতায়ালা যুগে যুগে নবী-রাসুলদেরকে পাঠিয়েছেন। আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী নবীরা মানুষকে শিক্ষা দিতেন। যেমন কোরআনের বক্তব্য যদি মানুষ বুঝতে পারে এবং সেই অনুযায়ী আমল করে তাহলে তার শক্তিসামর্থ্য যেমন বাড়বে তেমনি পরিত্রাণ পাবে এবং যেকোনো বিপদ বা ভুল পথে পরিচালিত হওয়া থেকে নাজাত পাবে।

কোরআন মাজিদের সুরা হাদিদের ২০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা জেনে রাখো যে, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, শোভা-সৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহঙ্কার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র।

এর উপমা হলো- বৃষ্টির মতো, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদের আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, তখন তুমি তা হলুদ বর্ণের দেখতে পাও, তারপর তা খড়-কুটায় পরিণত হয়। আর আখেরাতে আছে কঠিন আজাব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।’

বর্ণিত আয়াতটি আমাদের কাছে জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরেছে এভাবে-
ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া মোটেই ভরসা করার যোগ্য নয়। পার্থিব জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা কিছু হয় এবং যাতে দুনিয়াদার ব্যক্তি মগ্ন ও আনন্দিত থাকে, প্রথমে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে পার্থিব জীবনের মোটামুটি বিষয়গুলো যথাক্রমে এই- প্রথমে ক্রীড়া, এরপর কৌতুক, এরপর সাজ-সজ্জা, এরপর পারস্পরিক অহমিকা, এরপর ধন ও জনের প্রাচুর্য নিয়ে পারস্পরিক গর্ববোধ।

উল্লেখিত ধারাবাহিকতায় প্রতিটি অর্থেই মানুষ নিজ অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে। কিন্তু কোরআন মাজিদ বলে যে, এ সবই হচ্ছে সাময়িক ও ক্ষণস্থায়ী।

প্রকৃতপক্ষে, কোরআন মাজিদের এই আয়াতে বলা হচ্ছে, ‘মানুষ যখন শিশু থাকে তখন সে খেলা করে, সে তার যৌবনকে উদ্দেশ্যহীনভাবে অতিবাহিত করে, তার যৌবনে সে পৃথিবীর সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যে মগ্ন থাকে এবং তার মধ্য বয়সে ও বার্ধক্যে সে অহংকার এবং সম্পদ ও সন্তানদের নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়!’

তাই পৃথিবীটা একটা খেলা। এমতাবস্থায় খেয়াল রাখা, কোনোভাবেই ধোঁকায় না পড়া। আমরা যদি কোনো উচ্চ অবস্থানে পৌঁছি তাহলে অহংকারী না হওয়া, যদি পতন ঘটে কিংবা অবস্থা নীচের দিকে চলে যায়- তাহলেও নিরাশ না হওয়া।

আয়াতে বর্ণিত পাঁচটি বিশেষ শব্দ দিয়ে মানবজাতির জন্য তাদের বাস্তবতাকে এভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বোঝানো হয়েছে এর প্রতিটিই হচ্ছে একেকটি ফাঁদ এবং মানুষ এসবে জড়িয়ে পড়ে।

;

৯ বছর পর উমরার সুযোগ পেলেন ইরানিরা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
গত ৯ বছরের মধ্যে ইরানি উমরাযাত্রীদের প্রথম দল উমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন, ছবি : সংগৃহীত

গত ৯ বছরের মধ্যে ইরানি উমরাযাত্রীদের প্রথম দল উমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দীর্ঘ ৯ বছরের বিরতির পর পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইরানের নাগরিকরা পবিত্র উমরা পালনের জন্য তেহরান থেকে পবিত্র মক্কা নগরীর উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। সোমবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ বছরের মধ্যে ইরানি উমরাযাত্রীদের প্রথম দল সোমবার পবিত্র উমরা পালনের জন্য সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেছে বলে ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা জানিয়েছে। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই শক্তিশালী দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে।

এর আগে দীর্ঘদিন দূরে থাকার পর গত বছরের মার্চ মাসে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্মত হয় মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ ইরান ও সৌদি আরব। এর ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশের মধ্যে আবারও সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। আর উভয় দেশের সম্পর্কের অগ্রগতির পেছনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিল চীন।

২০১৬ সাল থেকে থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই বড় দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। ওই বছর সৌদি আরব সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের দায়ে শিয়া ধর্মীয় নেতা শেখ নিমর আল নিমরসহ ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তেহরানের সৌদি দূতাবাসে হামলা হয়েছিল। আর তারপর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে।

মূলত ইরানি বিক্ষোভকারীরা তেহরানে সৌদি দূতাবাসে হামলার পর ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। তারপর থেকে সুন্নি এবং শিয়া-নেতৃত্বাধীন এই প্রতিবেশীদের মধ্যে উত্তেজনা প্রায়ই জারি ছিল। এই দুই দেশ একে অপরকে নিজের আঞ্চলিক আধিপত্যের জন্য হুমকি হিসাবে বিবেচনা করে থাকে।

এ ছাড়া সিরিয়া এবং ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সংঘাতে ইরান ও সৌদি একে অপরের বিরোধী পক্ষ হয়ে কার্যত পরোক্ষ লড়াইয়ে নিয়োজিত ছিল। আর তাই সুন্নি-সংখ্যাগরিষ্ঠ সৌদি আরব এবং শিয়া নেতৃত্বাধীন ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ছিল প্রায়ই অনেক বেশি।

গত বছর সম্পর্ক পুনরায় শুরু হওয়ার আগে ইরানিরা শুধুমাত্র হজপালন করতে সৌদি আরব যেতে পারত।

রয়টার্স বলছে, তেহরানের প্রধান বিমানবন্দরে ৮৫ জন উমরাযাত্রীর বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন সৌদ আল আনজি।

;