রিজিক বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কোরআন-হাদিসের বর্ণনা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর, ছবি: সংগৃহীত

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জীবিকার পেছনে কমবেশি সবাই দৌঁড়ায়। জীবনের জন্য রিজিক, সেই রিজিকের সন্ধানে অনেকের জীবন পর্যন্ত চলে যায়। কেউ হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সামান্য অর্জন করে, আবার কেউ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ বসে বসে খায়। এটাই দুনিয়ার রীতি।

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর। তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই (উল্লেখ) এক সুবিন্যস্ত কিতাবে (লওহে মাহফুজে) রয়েছে।’ -সূরা হুদ: ৬

এই আয়াতের তাফসিরের প্রথম অংশে বলা হয়েছে, দুনিয়ায় বিচরণশীল সবার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর। আয়াতের এই অংশে বলা হয়েছে, দুনিয়ার রিজিক নির্ধারিত সময়ের জন্য। মানুষের স্থায়ী ও অস্থায়ী একাধিক আবাসস্থল আছে। দুনিয়া অস্থায়ী আবাসস্থল আর আখেরাত স্থায়ী আবাসস্থল। উভয়ের অধিবাসীদের সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।

আল্লাহতায়ালাই রিজিকদাতা। এ কথা মুসলমানমাত্রই বিশ্বাস করেন। আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক মানুষ লাভ করে বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে। এই রিজিক তিনি দান করেন নিজ অনুগ্রহে।

অনেকে মনে করেন, জীবিকার ব্যবস্থা হয় চাকরি, ব্যবসা বা চাষাবাদের মাধ্যমে। কিন্তু কোরআনের ঘোষণা হলো, রিজিকের সিদ্ধান্ত হয় আসমানে। আল্লাহ বলেন, ‘আকাশে রয়েছে তোমাদের রিজিক ও প্রতিশ্রুত সব কিছু।’ –সূরা জারিয়াত: ২২

আল্লাহতায়ালা নিজ বান্দাদের পরীক্ষার জন্য রিজিক কমবেশি করেন। রিজিক বৃদ্ধি আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রমাণ নয়, অনুরূপ রিজিকের সংকীর্ণতাও তার অসন্তুষ্টির কারণ নয়। অধিকাংশ মানুষ এ বিষয় জানে না যে, দুনিয়ার সচ্ছলতা কারও শুভ লক্ষণের প্রমাণ নয়। কেননা আখেরাতের সাফল্য নির্ভর করে নেক আমলের ওপর। দুনিয়ায় আল্লাহ কখনও অবাধ্যকে দেন সচ্ছলতা, অনুগতকে দেন সংকীর্ণতা। আবার কখনও এর বিপরীত করেন্। কখনও উভয়কে সচ্ছলতা দেন, কখনও দেন সংকীর্ণতা। কখনও অবাধ্য বা অনুগত ব্যক্তিকে এক সময় দেন সচ্ছলতা, অন্য সময় দেন অসচ্ছলতা। এসব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন আল্লাহতায়ালা নিজ প্রজ্ঞা ও হিকমতের ভিত্তিতে।

রিজিকের এই হ্রাস-বৃদ্ধি পরীক্ষাস্বরূপ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, কখনও ভয়ভীতি, কখনও অনাহার দিয়ে, কখনও তোমাদের জানমাল ও ফসলাদির ক্ষতির মাধ্যমে। (এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্যধারণ করতে হবে) তুমি ধৈর্যশীলদের (জান্নাতের) সুসংবাদ দান করো।’ –সূরা বাকারা: ১৫৫

স্বভাবগতভাবে মানুষ তাড়াহুড়া প্রবণ। সে দ্রুত সব কিছু পেতে চায়। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘নির্ধারিত জীবিকা আসবেই। কেউ তার রিজিক ভোগ না করে মৃত্যুবরণ করবে না।’

নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘হে মানুষ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। ধনসম্পদ সংগ্রহে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো। কেননা কেউ তার রিজিক পরিপূর্ণ না করে মৃত্যুবরণ করবে না। যদিও তা অর্জনে বিলম্ব হোক না কেন।’ –সুনানে ইবনে মাজাহ

বিখ্যাত বুজুর্গ হাসান বসরি (রহ.) বলেছেন, আমি কোরআনের নব্বই জায়গায় পেয়েছি, আল্লাহতায়ালা বান্দার রিজিক নির্ধারণ করে রেখেছেন এবং রিজিকের দায়িত্ব নিয়েছেন। কেবল এক জায়গায় পেয়েছি, ‘শয়তান তোমাদেরকে অভাব-অনটনের ভয় দেখায়।’ -সূরা বাকারা: ২৬৮

কিছু কারণে বান্দার রিজিক তথা জীবিকা বৃদ্ধি পায়। ওইসব কারণগুলো হচ্ছে-

এক. একনিষ্ঠভাবে এক আল্লাহর ইবাদত ও সৎকর্ম করা। -সূরা আন নাহল: ৯৭

দুই. বেশি পরিমাণে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা ও ইস্তেগফার পড়া। -সূরা নুহ: ১০-১২

তিন. সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করে চলা। -সূরা আত তালাক: ২

চার. বেশি বেশি বৈধ রিজিকের জন্যে দোয়া করা। -সূরা বাকারা: ১৮৬

পাঁচ. দৃঢ়তার সঙ্গে আল্লাহর ওপর ভরসা করা। -সূরা আত তালাক: ৩

ছয়. অসহায় দরিদ্রদের সাহায্য করা। -সহিহ বোখারি: ২৮৯৬

সাত. হজ ও উমরা করা। -সুনানে তিরমিজি: ৮১০

আট. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। -সহিহ বোখারি: ২০৬৭

নয়. সকাল সকাল ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া। -সুনানে আবু দাউদ: ২৬০৬

দশ. ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা। -সহিহ মুসলিম: ৬৫৭

একমাত্র যে কারণে বান্দাকে রিজিক থেকে বঞ্চিত রাখা হয় তা হচ্ছে গোনাহের কাজে লিপ্ত থাকা। -সুনানে ইবনে মাজাহ: ৯০

উল্লেখ্য হারাম উপার্জন দিয়ে গঠিত শরীরের কোনো ইবাদত আল্লাহ কবুল করেন না এবং ওই শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -সিলসিলা সহিহাহ: ২১২

অতএব কোনো ধরনের হতাশা নয়, তাকদিরে আমাদের জন্য যতটুকু বরাদ্দ আছে, ততটুকু আমরা পাবোই, এটাই আল্লাহর ওয়াদা। আমাদের কাজ শুধু চেষ্টা করে যাওয়া। যে বিষয়ে আল্লাহ হুকুম করেছেন- তা মানা, আর যে বিষয়ে আল্লাহ নিষেধ করেছেন, তা থেকে নিচেকে বাঁচিয়ে রাখা। এসব কাজের অন্যতম হলো-

উদাসীনতা: আল্লাহতায়ালার জিকির থেকে উদাসীনতা মানুষের রিজিকের বরকত উঠিয়ে নেয়।

সুদ: সুদ সম্পদের বরকত নষ্ট করে দেয়।

অকৃতজ্ঞতা: রিজিক কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ হলো- অকৃতজ্ঞতা। আল্লাহতায়ালার নিয়ামতের প্রতি শোকরিয়া না করা। আল্লাহ অকৃতজ্ঞদের পছন্দ করেন না।

গোনাহ: রিজিকে বরকত আসার জন্য আল্লাহর ওপর ঈমান ও তাকওয়া অবলম্বন অত্যন্ত জরুরি। যে বান্দা এই দু’টি জিনিস অর্জন করতে পারবে না, তার রিজিকে সংকীর্ণতা নেমে আসবে।

গোনাহ ঈমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে এটিও রিজিকের বরকত কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। কখনও কখনও মুমিন বান্দার দুনিয়ায়ই এর শাস্তি ভোগ করতে হয়, যার ফলে তার ওপর বিপদাপদ, অভাব-অনটন ও অসুস্থতা ইত্যাদি চেপে বসতে পারে।

৩ যুগ ইমামতির পর বর্ণাঢ্য বিদায় মাওলানা নুরুল হককে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
৩৬ বছর ইমামতি শেষে অবসর নিলেন মাওলানা নুরুল হক, ছবি: সংগৃহীত

৩৬ বছর ইমামতি শেষে অবসর নিলেন মাওলানা নুরুল হক, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে টানা ৩৬ বছর ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর মাওলানা কারি নুরুল হককে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে রাজকীয় বিদায় জানিয়েছে খরুলিয়ার গ্রামবাসী, প্রাক্তন ছাত্র পরিষদসহ মসজিদ পরিচালনা কমিটি।

মাওলানা নুরুল হককে গ্রামের বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয় ফুল সজ্জিত গাড়িতে, এ সময় মোটরসাইকেলের বহর গাড়ির সঙ্গে ছিল। জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অকৃত্রিম ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা, সম্মাননা ও অসংখ্য উপহার।

বিদায় বেলায় একজন ইমামকে সম্মানিত করার এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করায় প্রশংসায় ভাসছেন প্রাক্তন ছাত্র পরিষদসহ আয়োজকরা।

শনিবার (১৩ জুলাই) খরুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে অবসরপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা কারি নুরুল হকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সংবর্ধিত ইমাম মাওলানা নুরুল হক পেকুয়া উপজেলার টৈইটং ইউনিয়নের জালিয়ারচাং গ্রামের বাসিন্দা।

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালের দিকে মাওলানা নুরুল হককে মসজিদটিতে ইমামতির দায়িত্ব দেন। এরপর কেটে যায় প্রায় ৩৬টি বছর। কর্মস্থল এ মসজিদটিতে তিনি তার উদ্যোগে এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা সংস্কারমূলক কাজ করেন। পাশাপাশি শিক্ষকতা করেছেন খরুলিয়া তালিমুল কোরআন মাদরাসায়। এছাড়া খরুলিয়া নূরানী এন্ড ক্যাডেট মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন তিনি। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন অতিবাহিত করা প্রিয় ইমাম প্রিয় শিক্ষককে স্মরণীয় বিদায় জানাতে গ্রামবাসীসহ তার প্রাক্তন ছাত্ররা ওই মসজিদে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

স্থানীয়রা বলেন, মাওলানা নুরুল হক একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি তার জ্ঞান, দক্ষতা ও নীতিবোধ দিয়ে এলাকার মানুষের মনে দাগ রেখে গেছেন।

মসজিদ পরিচালনায় কমিটির সভাপতি মাস্টার হাবীব আহমদের সভাপতিত্বে ও ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মিজানুল কবিরের পরিচালনায় শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন পেকুয়া এমইউ ফাজিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা আজিজুল হক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা এম. আজিজুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খরুলিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ হাসান।

সংবর্ধিত বিদায়ী ইমাম মাওলানা নুরুল হক আবেগাপ্লুত হয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ১৯৮৯ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করে আসছি। ৩৬ বছরের বিদায় বেলাতে এত ভালোবাসা ও সম্মান দেওয়ায় আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। বিদায়বেলায় তিনি কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন গড়া এবং ঈমান ও আমলের ওপর সবাইকে জীবন পরিচালিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাওলানা এম. আজিজুল হক বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান সবার চক্ষু খোলে দিয়েছে। সব মসজিদের দায়িত্বশীলদের এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে সবাইকে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

;

দুপুরে পবিত্র কাবা ছিল ছায়াহীন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছায়াহীন পবিত্র কাবা, ছবি: সংগৃহীত

ছায়াহীন পবিত্র কাবা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একদিকে দুপুর অন্যদিকে ইহরাম পরিধান ছাড়া পবিত্র কাবা চত্বরে যাওয়া নিষেধ, এ কারণে মাতাফে কিছুটা ভিড় কম। এ সময় কাবা শরিফ তাওয়াফরত মুসল্লিরা স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটের দিকে দেখতে পান, পবিত্র কাবার কোনো ছায়া নেই!

কোনো দিকেই পবিত্র কাবার কোনো ছায়া পড়ছে না। বিষয়টি অনেককে হতবাক করে দেয়। তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রকৃতিগত কারণেই এমনটা হয়েছে।

আরব নিউজের খবরে বলা হয়, এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো সোমবার দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে সূর্য কাবা শরিফের সোজা ওপরে লম্ব ছিল। ফলে পবিত্র কাবার ছায়া চারদিক থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। এর আগে চলতি বছরের ২৭ মে দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।

জেদ্দার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মজিদ আবু জাহরা বলেন, লম্বের ওই মুহূর্তে এবং যখন সূর্য তার সর্বোচ্চ উচ্চতায় প্রায় ৯০ ডিগ্রি অর্থাৎ পবিত্র কাবার ওপরে সম্পূর্ণ খাড়াখাড়িভাবে অবস্থান করছিল, তখন এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

কাবার ওপর সূর্যের ওই অবস্থানের কারণে কাবার ছায়া তার চারদিক থেকে সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়। মজিদ আবু জাহরা আরও বলেন, এই ঘটনাটি ঘটে যখন কাবার অবস্থান বিষুব রেখা এবং কর্কটক্রান্তির মধ্যে থাকে।

প্রতি বছর সাধারণত দুবার এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রথম যখন এটি মে মাসে নিরক্ষরেখা থেকে কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে চলে যায় এবং দ্বিতীয়বার যখন সূর্য জুলাই মাসে কর্কটক্রান্তি থেকে আগত বিষুব রেখায় দক্ষিণে ফিরে আসে।

জ্যোতির্বিদ আবু জাহরা আরও জানান, কাঠের কোনো কাঠি মাটিতে লম্বালম্বী করে মানুষ কাবার সঠিক দিক নির্ধারণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে কেবলার দিকটি কাঠির ছায়ার ঠিক বিপরীতে দেখতে পাবে।

;

দোয়া কেন কবুল হয় না



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আরাফাতের ময়দানে দোয়া করছেন হাজিরা, ছবি: সংগৃহীত

আরাফাতের ময়দানে দোয়া করছেন হাজিরা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দোয়ার ফলাফল চোখে দেখি বা না দেখি, আমাদেরকে দোয়া করে যেতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দোয়ার ফলাফল একেবারেই কম দেখা যায়, বলতে গেলে দেখাই যায় না। এমন একটি ক্ষেত্র হলো, যখন মুসলমান মজলুম (অত্যাচারিত) হতে থাকে, তাদের ওপর বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতন চলতে থাকে, তখন দোয়া কান্নাকাটি করা হয়, চোখের পানি ফেলা হয়, কুনুতে নাজেলা পড়া হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ত ঝরতেই থাকে, আগুন জ্বলতেই থাকে। একসময় আগুন জ্বলা বন্ধ হয় কিন্তু মানুষ যেভাবে দোয়া করেছিল, যেভাবে কান্নাকাটি করেছিল, সেভাবে কিছুই হয় না। তাৎক্ষণিকভাবেও হয় না, কাছাকাছি সময়েও হয় না।

যে সবক্ষেত্রে ফলাফল চোখে দেখা যায় না, সেসব ক্ষেত্রেও আমাদেরকে দোয়া করে যেতে হবে। দোয়া করে এ কথা বলা যাবে না যে, আমি দোয়া করেছি, দোয়া কবুল হয় না। এ কথা বলা বেয়াদবি এবং দোয়ার মধ্যে বেবরকতির কারণ। বেবরকতির অর্থ হলো- দোয়া কবুল না হওয়া।

দোয়া কবুল হওয়ার জন্যে দয়াময় আল্লাহতায়ালা অনেক উপায় দান করেছেন, সময় দিয়েছেন; আমল দিয়েছেন, ব্যক্তি দিয়েছেন। অর্থাৎ নির্দিষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, অমুক সময় দোয়া কবুল হয়। অমুক স্থানে দোয়া কবুল হয়। অমুক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়। অমুক অমুক আমলের পর দোয়া কবুল হয়। রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। মুসাফিরের দোয়া কবুল হয়। সন্তানের জন্যে মা-বাবার দোয়া কবুল হয়। দোয়া কবুল হওয়ার কত ঘোষণা আল্লাহ কতভাবে দিয়েছেন।

দোয়া কবুল হওয়ার যেমন অনেক উপায় রয়েছে তেমনি দোয়া কবুল না হওয়ারও অনেক কারণ রয়েছে। সেগুলো থেকেও আমাদেরকে বাঁচতে হবে।

বিখ্যাত বুজুর্গ হজরত ইবরাহিম বিন আদহাম (মৃত্যু ১৬২ হিজরি) অনেক বড় আল্লাহর অলি ছিলেন। তিনি বসরার বাজার দিয়ে যাওয়ার পথে লোকজন তাকে ঘিরে ধরল। তারা তাকে জিজ্ঞেস করল, হে আবু ইসহাক, আমাদের কী হয়েছে যে আমরা দোয়া করি, কিন্তু তা কবুল হয় না? তিনি বলেন- কারণ তোমাদের অন্তরগুলো ১০ কারণে মরে গেছে-

এক. তোমরা আল্লাহর পরিচয় পেয়েছ, কিন্তু তার হক আদায় করোনি।

দুই. তোমরা বলে থাকো, তোমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসো, কিন্তু তার সুন্নত ও আদর্শ পরিত্যাগ করেছো।

তিন. তোমরা কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত করছ, কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করোনি।

চার. তোমরা আল্লাহর নিয়ামত খেয়েছ, কিন্তু তার শোকরিয়া আদায় করোনি।

পাঁচ. তোমরা বলেছ যে শয়তান তোমাদের দুশমন, কিন্তু তাকে সমর্থন করছ।

ছয়. তোমরা স্বীকৃতি দিয়েছ যে জান্নাত সত্য, কিন্তু তার জন্য আমল করোনি।

সাত. তোমরা স্বীকৃতি দিয়েছ যে জাহান্নাম সত্য, কিন্তু তা থেকে পলায়ন করোনি।

আট. তোমরা স্বীকার করেছ যে মৃত্যু অবধারিত সত্য, কিন্তু তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করোনি।

নয়. ঘুম থেকে জেগেই তোমরা অন্যের দোষ নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছ, কিন্তু নিজেদের দোষের কথা ভুলে গেছ।

দশ. তোমরা তোমাদের মৃতদের দাফন করেছ, কিন্তু তাদের থেকে শিক্ষা নেওনি। - তাফসির কুরতুবি : ২/২০৮

;

দেশে ফিরলেন ৬৯ হাজার ৭৪২ হাজি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
দেশে ফিরলেন ৬৯ হাজার ৭৪২ হাজি, ছবি: সংগৃহীত

দেশে ফিরলেন ৬৯ হাজার ৭৪২ হাজি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছর পবিত্র হজ পালন শেষে এ পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৬৯ হাজার ৭৪২ জন হাজি। এখন পর্যন্ত ৬৫ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫২ এবং নারী ১৩ জন।

সোমবার (১৫ জুলাই) হজ পোর্টালের সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সৌদি থেকে ১৯৬টি ফ্লাইটে এসব হাজি বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯৪টি ফ্লাইটে ৩০ হাজার ৯৬৬ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৭৪টি ফ্লাইটে ২৫ হাজার ৫১১ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৮টি ফ্লাইটে ১০ হাজার ৩৪৭ হাজি দেশে ফিরেছেন।

হজ শেষে গত ২০ জুন থেকে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হয়। ওইদিন বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ৪১৭ হাজি নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট অব্যাহত থাকবে।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৫ হাজার ২২৫ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৭ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে পুুরুষ ৩৬ এবং নারী ১১ জন।

এদিকে, আগামী বছর বাংলাদেশের জন্য এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা দিয়েছে সৌদি আরব।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানান, নির্ধারিত সংখ্যার মধ্যে কতজন সরকারি ব্যবস্থাপনায় আর কতজন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাবেন তা বাংলাদেশ সরকার পরে নির্ধারণ করে দেবে।

;