শাবান মাসে রোজার ফজিলত

উম্মে রুম্মান, অতিথি লেখক, ইসলাম
বিসমিল্লাহ, ক্যালিগ্রাফি: সাইফুল্লাহ সাফা

বিসমিল্লাহ, ক্যালিগ্রাফি: সাইফুল্লাহ সাফা

  • Font increase
  • Font Decrease

আমাদের এ ব্যস্ততম জীবনে যতটুকু ইবাদত-বন্দেগি করি তার বেশিরভাগই অন্যের দোষ বর্ণনা করে, অপরের জীবন কঠিন করার পেছনে, নানা ধরনের অনর্থক কাজে নষ্ট করে ফেলি না জেনেই। মানুষের এ সহজাত প্রবৃত্তির পুণরাবৃত্তির কারণে দয়াময় আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমার উদ্দেশ্যে আমাদের কিছু অতিরিক্ত ইবাদত-বন্দেগি করা উচিত। যাকে আমরা নফল ইবাদত বলি।

নফল ইবাদতের মধ্যে রোজা অন্যতম। আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জনের জন্য, ফরজ-ওয়াজিব নয়- এমন রোজা পালনকেই নফল রোজা বলা হয়। নফল রোজার অনেক বড় ফজিলত ও সওয়াব রয়েছে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে কুদসিতে এসেছে, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের প্রতিটি আমলের সওয়াব দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়। পুণ্যকর্মের সওয়াব দশগুণ থেকে সাতশ’ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, তবে রোজা ব্যতীত। কারণ রোজা আমার আর আমিই এর প্রতিদান দিই। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

আলহামদুলিল্লাহ! কি অভাবনীয় সুযোগ। মহিমান্বিত শাবান মাস চলছে। মাহে রমজানের আগমনি বার্তা নিয়ে আসে শাবান মাস। রমজানের আগাম প্রস্তুতির তাগিদ নিয়ে আসে এ মাস। ইসলামের দৃষ্টিতে মাসটি বিভিন্ন কারণে বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ।

এ মাসকে নবী করিম (সা.) শাবানু শাহরি (শাবান আমার মাস) বলে অবহিত করেছিলেন। নবী করিম (সা.) শাবান মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। রজব ও শাবানজুড়েই তিনি রমজানের অধীর অপেক্ষায় থাকতেন। এর ধারাবাহিকতায় রজবের শুরু থেকেই হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) দোয়া করতেন- আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাজান। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন (রমজান পর্যন্ত আমাদের আয়ু বৃদ্ধি করে দিন, যাতে আমরা রমজানে যথাযথ আমল করতে পারি)।

রমজানের আগমনের জন্য মহানবী (সা.) দিনক্ষণ গণনা করতেন। আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের (দিন-তারিখের হিসাবের) প্রতি এত অধিক লক্ষ্য রাখতেন, যা অন্য মাসের ক্ষেত্রে রাখতেন না। -সুনানে আবু দাউদ: ২৩২৫

নবী করিম (সা.) শাবান মাসে অধিকহারে নফল রোজা রাখতেন। হজরত উম্মে সালমা (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে শাবান ও রমজান মাস ছাড়া অন্য কোনো দুই মাস একাধারে রোজা রাখতে দেখিনি। -সুনানে আবু দাউদ: ২৩৩৬

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (সা.)-কে শাবান মাসের মতো এত অধিক (নফল) রোজা আর অন্যকোনো মাসে রাখতে দেখিনি। এ মাসের সামান্য কয়েক দিন ছাড়া সারা মাসই তিনি রোজা রাখতেন। -সুনানে তিরমিজি: ৭৩৭

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রমজানের পর কোন মাসের রোজা সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ? উত্তরে তিনি বলেন, শাবানের রোজা রমজানের সম্মানার্থে। -সুনানে তিরমিজি: ৬৬৩

সাহাবি হজরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে শাবানের মতো অন্যকোনো মাসে রোজা রাখতে দেখি না? তিনি বললেন, রজব ও রমজানের মাঝের এ মাসটি সম্পর্কে মানুষ উদাসীন থাকে। আর এ মাসে রাব্বুল আলামীনের দরবারে আমল ওঠানো হয়। রোজা পালন অবস্থায় আমার আমল ওঠানো হোক এটা আমার পছন্দ। -বর্ণনায় নাসায়ি

এ ছাড়া শাবান মাসে রয়েছে ফজিলতপূর্ণ একটি রাত। আর আমাদের পরিভাষায় যা শবে বরাত। বিভিন্ন হাদিসে এ রাতের ফজিলতের বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহতায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে (শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। -সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫

আজকের শবে বরাতে আল্লাহতায়ালার কাছে আমাদের একান্ত প্রার্থনা, বিশ্ববাসীকে যাবতীয় বিপদ থেকে রক্ষা করুন। বরকতময় এ মাসের ও দিনের কল্যাণে করোনার রোগ থেকে হেফাজত করুন। সেই সঙ্গে আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছানোর তওফিক দিন।

আপনার মতামত লিখুন :