হজ নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তই নেবে সৌদি আরব



মুফতি এনায়েতুল্লাহ, বিভাগীয় প্রধান, ইসলাম
কাবা শরিফ, মক্কা, ছবি: সংগৃহীত

কাবা শরিফ, মক্কা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর পবিত্র হজ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা খুব দ্রুতই কাটবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। করোনা সংক্রমণ রোধে আরোপিত বিধি-নিষেধ শিথিল করে দুই মাসেরও বেশি সময় পর ৩১ মে থেকে মদিনার মসজিদে নববীসহ সৌদি আরবের প্রায় ৯০ হাজার মসজিদের দ্বার নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

তবে এখনও মসজিদে হারাম সর্বসাধারণের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়নি। জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ ধীরে ধীরে মক্কা অঞ্চলের মসজিদগুলো খুলে দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে আসন্ন হজের দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

করোনার প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ৩১ মার্চ হজ পালনেচ্ছুকদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত হজের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছিলেন দেশটির হজ ও উমরা বিষয়ক মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ সালেহ বিন তাহের বেনতেন।

সৌদি আরব করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে উমরা স্থগিত করে। ওই পদক্ষেপের পর থেকেই হজ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে হজ বন্ধের গুজব ছড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি মন্ত্রী এ কথা বলেছিলেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৩০ জুলাই (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত সৌদি আরব ১৫ শাওয়ালের পর থেকে উমরা ভিসা বন্ধ করে দিয়ে হজের প্রস্তুতি নিত। আর জিলকদ মাসের শুরু থেকে হজযাত্রীরা সৌদি আরব গমন শুরু করতেন। এবার করোনা দেখা দেওয়ার পর থেকে (২৭ ফেব্রুয়ারি) উমরা বন্ধ রয়েছে, তাই এবারের হিসাব ভিন্ন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৪ জুন, সৌদি আরবে শাওয়ালের ১২ তারিখ) পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো ঘোষণা সৌদি কর্তৃপক্ষ দেয়নি হজ নিয়ে।

বিভিন্ন দেশ সৌদি আরবের কাছে স্পষ্টভাবে জানতে চাচ্ছে হজের বিষয়ে। বেশিরভাগ দেশ হজের জন্য সৌদি আরবের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে এ বছরের হজযাত্রা স্থগিত করেছে ইন্দোনেশিয়া। এশিয়ার এই রাষ্ট্র থেকে সর্বাধিক হজযাত্রী হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যান। দেশটির জন্য চলতি বছর হজের কোটা বরাদ্দ হয়েছিল ২ লাখ ২১ হাজার জনের। ইতোমধ্যেই এর ৯০ শতাংশের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছিল। তার পরও নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সতর্কতার জন্য দেশটি হজযাত্রা বাতিল করল।

এর আগে সিঙ্গাপুর ঘোষণা করেছে, এবার তার দেশের নাগরিকদের হজ পালনে পাঠাবে না। আফ্রিকার দেশ মরক্কো হজের সিদ্ধান্ত দ্রুত জানাতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ২৮ মে দেশটির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ তৌফিক বলেন, তার দেশে ৩৪ হাজার হজযাত্রী সিদ্ধান্ত জানতে ব্যাকুল। আমরা তাদের কিছু বলতে পারছি না। সময় খুব কম, প্রস্তুতির অনেক বিষয় রয়েছে। তাই আমরা সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানাই হজের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার।

ইতোমধ্যে পাকিস্তান ও নাইজেরিয়া নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে হজের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চিঠি দিয়েছে। তারা বলছেন, করোনার প্রভাবে আশা জাগানিয়া কিংবা কঠোর ও বেদনাদায়ক যে ব্যবস্থাই নেওয়া হোক- সেটা আমরা মেনে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু সেটা স্পষ্ট হওয়া চাই।

এদিকে সৌদি আরবে বসবাসকারী একাধিকসূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌদি আরবে করোনা পরিস্থিতি উন্নতির প্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে, হজ একেবারে বাতিল হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় হজের ক্ষেত্রে সৌদি আরব নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর অন্যতম হলো- করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নয় এমন দেশগুলোর হজযাত্রীদের হজের অনুমতি না দেওয়া। হজযাত্রীদের অংশগ্রহণের সংখ্যা হ্রাস করা। সৌদি আরবে অবস্থানের দিন কমিয়ে আনা। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য কোটা ১০ থেকে ৫০ শতাংশ কমানো। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী, ১২ বছরের কম বয়সী ও অসুস্থদের জন্য হজের ভিসা ইস্যু না করা।

এ ছাড়া হজযাত্রীদের ভিসাপ্রাপ্তির পূর্বশর্ত হিসেবে করোনভাইরাসসহ নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। এমনকি সৌদি আরব পৌঁছার পরও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি আরব মক্কা-মদিনাসহ এর আশেপাশে বেশকিছু অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। এসব হাসপাতালে করোনভাইরাস টেস্ট সহজে করার সুবিধা রয়েছে।

হজের সময় সৌদি আরবের নানাবিধ সেবার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। এটা অনেকটা রুটিন কাজ। ঘোষণার পর তাদের প্রস্তুতি নিতে বেশি সময় লাগবে না উল্লেখ করে একাধিক হজ এজেন্সির মালিক বার্তা২৪.কমকে বলেন, হজযাত্রীদের পরিবহন, থাকা, খাওয়া, চলাফেরা ও যাতায়াতের জন্য নতুন করে কিছু করতে হবে না। সুতরাং সৌদি আরব সিদ্ধান্ত নিলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে।

কয়েকজন প্রবাসী বার্তা২৪.কমকে জানিয়েছেন, স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না দিলেও সৌদি আরব ভেতরে ভেতরে হজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে হজযাত্রীর সংখ্যা কমবে। সৌদিতে অবস্থানের সময়ও কমবে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এমন দেশের নির্দিষ্ট নাগরিকরাই কেবল হজের অনুমতি পাবেন। আর মক্কা অঞ্চলকে এখনও কারফিউর আওতায় রাখা হয়েছে হজের প্রস্তুতির জন্যই।

আজিজিয়া এলাকায় বসবাসকারী বেশ কয়েকজন প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব এলাকার হোটেল ও বাসা-বাড়িগুলো হজ মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নতুন করে কোনো বাসা তারা ভাড়া দিচ্ছেন না, অপেক্ষায় হজের।

এ দিকে হজের বিষয়ে চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে দেশটির সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমরা আসন্ন হজের জন্য নিবন্ধনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি। এ বছর বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বের হজযাত্রীরা হজপালন করতে পারবেন কি না তা নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। সব বিষয় বিবেচনা করে ওই সিদ্ধান্ত নেবে সৌদি সরকার। আশা করছি, এ ব্যাপারে তারা ১৫ জুনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে। তাদের সিদ্ধান্ত পাওয়া মাত্রই বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করবে।’

এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার যাত্রী চলতি বছর হজের জন্য নিবন্ধন করেছেন বলেও জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। সৌদি আরবের দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী এ বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জনের হজে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার কথা। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার জন। কিন্তু করোনা আতঙ্কের কারণে নিবন্ধনে তেমন সাড়া না পড়ায় এবারের পূর্বনির্ধারিত কোটা পূরণ হয়নি। নিবন্ধন সার্ভার সূত্র মতে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন হাজার ৪৫৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ১৪২ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশ থেকে ২৩ জুন হজ ফ্লাইট শুরু করার আশা প্রকাশ করেছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, হজে লোক পাঠাতে বাংলাদেশ সরকার ও হাবের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। সার্বিক অবস্থার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সৌদি সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে তার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সারা বিশ্ব।

   

যে গ্রামে জাকাত-ফেতরা নেওয়ার কেউ নেই



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
গ্রামের মানুষের মাঝে ছাগল বিতরণ করা হচ্ছে, ছবি : সংগৃহীত

গ্রামের মানুষের মাঝে ছাগল বিতরণ করা হচ্ছে, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্মিলিত ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগে বদলে গেছে প্রত্যন্ত একটি গ্রামের চিত্র। গ্রামটির সকল পরিবার হয়েছে সচ্ছল। ওই গ্রামে এখন আর ফেতরা কিংবা জাকাত নেওয়ার মানুষ নেই। সবাই স্বাবলম্বী।

কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার দানাপাটুলি ইউনিয়নের চাঁদের হাসি গ্রাম। এই চাঁদের হাসি গ্রামের দরিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের এমন উদ্যোগের ফলে বদলে গেছে গ্রামের দৃশ্যপট।

সংগঠনটি নিজ গ্রামের গন্ডি পেরিয়ে এখন পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষদের স্বাবলম্বী করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এমন প্রশংসনীয় কাজ করা সংগঠনটির নেই নিবন্ধন, নেই বাহারি অফিস। তারা প্রচারে নয়, কাজে বিশ্বাসী। যার প্রমাণ, ফাউন্ডেশনের জনকল্যাণমূলক নানা কাজ।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে চাঁদের হাসি গ্রামের প্রয়াত মাওলানা হেলান উদ্দিনের প্রচেষ্টায় দরিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে গ্রামে সকল পরিবারের ফেতরা ও জাকাত একসঙ্গে করে অসহায়-গরীব মানুষের মাঝে বিতরণ করে আসছে। এভাবে দীর্ঘ ২১ বছরে এই কার্যক্রমের ফলে চাঁদের হাসি গ্রামে এখন আর ফেতরা ও জাকাত নেওয়া মতো মানুষ নেই। ইতোমধ্যে সংগঠনটি গ্রামের ৮০ জন অসহায় গরীব মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছে।

২ বছর আগে চাঁদের হাসি গ্রামের দরিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সহায়তা ঘর পেয়েছেন ওহেদ আলী। তিনি জানান, ঘর পেয়ে মাথা গুজার ঠাঁই হয়েছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালোভাবেই চলছে তার সংসার।

মাহমুদ বেগম নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, তার পরিবার দরিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সহায়তা ঘর ও সেলাই মেশিন পেয়েছেন। তার বাবা নেই মা ও ছোট বোনকে নিয়ে ঘরে বসবাস করছেন। সেলাই মেশিনের মাধ্যমে মানুষের জামা কাপড় সেলাই করে নিজেও স্বাবলম্বী হয়েছেন।

চাঁদের হাসি দরিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ আলম জানান, ২০০৩ সালে আমাদের সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এলাকার চলনশীল মানুষের ফেতরা ও জাকাত একসঙ্গে করে আমরা কাজ করে থাকি। এভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করার পর থেকে ইসলামের বিধি মোতাবেক যে ৮টি খাত রয়েছে সে হিসাবে বর্তমানে আমাদের গ্রামে জাকাত-ফেতরা নেওয়ার মতো কোনো মানুষ নেই।

সংগঠনটি গ্রামের অসহায় ও গরীব মানুষকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহায়তাও দিয়ে আসছে। গ্রামের বেকারত্ব ঘোচাতে অসহায় ও গরীব মানুষের মাঝে গরু, ছাগল, সেলাই মেশিন, অটোরিকশা ও ভ্যান গাড়ি বিতরণ করেছে।

;

রাজধানীতে শীতল পানি বিতরণ করল ইসলামী ছাত্র আন্দোলন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
দেশব্যাপী শীতল পানি ও শরবত বিতরণ কর্মসূচী পালন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের, ছবি : সংগৃহীত

দেশব্যাপী শীতল পানি ও শরবত বিতরণ কর্মসূচী পালন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তীব্র তাপদাহে সৃষ্ট সংকটে দেশব্যাপী শীতল পানি ও শরবত বিতরণ কর্মসূচী পালন করছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ।

বিভিন্ন জেলা, থানা, ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ ভ্যান নিয়ে পথচারী, দিনমজুর, রিকশাচালকসহ তৃষ্ণার্ত মানুষের মাঝে ঠান্ডা পানি বিতরণ করেছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। এছাড়া খাবার স্যালাইন ও পকেট রুমাল বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৬ ও ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে শ্রমজীবী ও পথচারীদের মাঝে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর পূর্বের ডেমরা থানা শাখার উদ্যোগে বিশুদ্ধ শীতল পানি, স্যালাইন ও ওয়ালেট টিস্যু বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ মাইনুল ইসলাম, ডেমরা থানা শাখার সভাপতি শাহাদাত হোসেন মৃধা, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাফিইন বিন আমজাদ, কফিল উদ্দিনসহ থানা ও ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ।

এ সময় প্রধান অতিথি শেখ মুহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাধার ভরাট ও অবাধে বৃক্ষ নিধনের ফলেই অসহনীয় তাপদাহে নগরে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সাময়িক স্বস্তির জন্য আমরা শীতল পানির বিতরণ কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের জন্য নগরকে সবুজায়ন ও বসবাসের উপযোগী করতে রাষ্ট্রকেই যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।

নগর সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম বলেন, যতদিন তীব্র তাপদাহ থাকবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর পূর্বের উদ্যোগে নগরজুড়ে বিশুদ্ধ শীতল পানি বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

;

দুনিয়ার জীবনের বাস্তবতা প্রকাশ পেয়েছে যে আয়াতে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কোরআন মাজিদ, ছবি : সংগৃহীত

কোরআন মাজিদ, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইতিহাসজুড়ে দেখা গেছে, মানুষ সবসময়ই তার প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। কারণ মানুষ প্রকৃতিগতভাবে অভাব নিয়েই দুনিয়ায় এসেছে। দুইভাবে মানুষ বিপদগ্রস্ত হচ্ছে কিংবা বিপদে পড়ছে। এক. মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ঠিকমতো চিহ্নিত না করা। দুই. ভুল পথে চাহিদা মেটানোর প্রবণতা।

এই দুই বিপদজনক পথ সঠিকভাবে অতিক্রমের জন্যই আল্লাহতায়ালা যুগে যুগে নবী-রাসুলদেরকে পাঠিয়েছেন। আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী নবীরা মানুষকে শিক্ষা দিতেন। যেমন কোরআনের বক্তব্য যদি মানুষ বুঝতে পারে এবং সেই অনুযায়ী আমল করে তাহলে তার শক্তিসামর্থ্য যেমন বাড়বে তেমনি পরিত্রাণ পাবে এবং যেকোনো বিপদ বা ভুল পথে পরিচালিত হওয়া থেকে নাজাত পাবে।

কোরআন মাজিদের সুরা হাদিদের ২০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা জেনে রাখো যে, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, শোভা-সৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহঙ্কার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র।

এর উপমা হলো- বৃষ্টির মতো, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদের আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, তখন তুমি তা হলুদ বর্ণের দেখতে পাও, তারপর তা খড়-কুটায় পরিণত হয়। আর আখেরাতে আছে কঠিন আজাব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।’

বর্ণিত আয়াতটি আমাদের কাছে জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরেছে এভাবে-
ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া মোটেই ভরসা করার যোগ্য নয়। পার্থিব জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা কিছু হয় এবং যাতে দুনিয়াদার ব্যক্তি মগ্ন ও আনন্দিত থাকে, প্রথমে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে পার্থিব জীবনের মোটামুটি বিষয়গুলো যথাক্রমে এই- প্রথমে ক্রীড়া, এরপর কৌতুক, এরপর সাজ-সজ্জা, এরপর পারস্পরিক অহমিকা, এরপর ধন ও জনের প্রাচুর্য নিয়ে পারস্পরিক গর্ববোধ।

উল্লেখিত ধারাবাহিকতায় প্রতিটি অর্থেই মানুষ নিজ অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে। কিন্তু কোরআন মাজিদ বলে যে, এ সবই হচ্ছে সাময়িক ও ক্ষণস্থায়ী।

প্রকৃতপক্ষে, কোরআন মাজিদের এই আয়াতে বলা হচ্ছে, ‘মানুষ যখন শিশু থাকে তখন সে খেলা করে, সে তার যৌবনকে উদ্দেশ্যহীনভাবে অতিবাহিত করে, তার যৌবনে সে পৃথিবীর সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যে মগ্ন থাকে এবং তার মধ্য বয়সে ও বার্ধক্যে সে অহংকার এবং সম্পদ ও সন্তানদের নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়!’

তাই পৃথিবীটা একটা খেলা। এমতাবস্থায় খেয়াল রাখা, কোনোভাবেই ধোঁকায় না পড়া। আমরা যদি কোনো উচ্চ অবস্থানে পৌঁছি তাহলে অহংকারী না হওয়া, যদি পতন ঘটে কিংবা অবস্থা নীচের দিকে চলে যায়- তাহলেও নিরাশ না হওয়া।

আয়াতে বর্ণিত পাঁচটি বিশেষ শব্দ দিয়ে মানবজাতির জন্য তাদের বাস্তবতাকে এভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বোঝানো হয়েছে এর প্রতিটিই হচ্ছে একেকটি ফাঁদ এবং মানুষ এসবে জড়িয়ে পড়ে।

;

৯ বছর পর উমরার সুযোগ পেলেন ইরানিরা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
গত ৯ বছরের মধ্যে ইরানি উমরাযাত্রীদের প্রথম দল উমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন, ছবি : সংগৃহীত

গত ৯ বছরের মধ্যে ইরানি উমরাযাত্রীদের প্রথম দল উমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দীর্ঘ ৯ বছরের বিরতির পর পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইরানের নাগরিকরা পবিত্র উমরা পালনের জন্য তেহরান থেকে পবিত্র মক্কা নগরীর উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। সোমবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ বছরের মধ্যে ইরানি উমরাযাত্রীদের প্রথম দল সোমবার পবিত্র উমরা পালনের জন্য সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেছে বলে ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা জানিয়েছে। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই শক্তিশালী দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে।

এর আগে দীর্ঘদিন দূরে থাকার পর গত বছরের মার্চ মাসে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্মত হয় মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ ইরান ও সৌদি আরব। এর ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশের মধ্যে আবারও সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। আর উভয় দেশের সম্পর্কের অগ্রগতির পেছনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিল চীন।

২০১৬ সাল থেকে থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই বড় দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। ওই বছর সৌদি আরব সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের দায়ে শিয়া ধর্মীয় নেতা শেখ নিমর আল নিমরসহ ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তেহরানের সৌদি দূতাবাসে হামলা হয়েছিল। আর তারপর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে।

মূলত ইরানি বিক্ষোভকারীরা তেহরানে সৌদি দূতাবাসে হামলার পর ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরব ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। তারপর থেকে সুন্নি এবং শিয়া-নেতৃত্বাধীন এই প্রতিবেশীদের মধ্যে উত্তেজনা প্রায়ই জারি ছিল। এই দুই দেশ একে অপরকে নিজের আঞ্চলিক আধিপত্যের জন্য হুমকি হিসাবে বিবেচনা করে থাকে।

এ ছাড়া সিরিয়া এবং ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সংঘাতে ইরান ও সৌদি একে অপরের বিরোধী পক্ষ হয়ে কার্যত পরোক্ষ লড়াইয়ে নিয়োজিত ছিল। আর তাই সুন্নি-সংখ্যাগরিষ্ঠ সৌদি আরব এবং শিয়া নেতৃত্বাধীন ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ছিল প্রায়ই অনেক বেশি।

গত বছর সম্পর্ক পুনরায় শুরু হওয়ার আগে ইরানিরা শুধুমাত্র হজপালন করতে সৌদি আরব যেতে পারত।

রয়টার্স বলছে, তেহরানের প্রধান বিমানবন্দরে ৮৫ জন উমরাযাত্রীর বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন সৌদ আল আনজি।

;