বছরজুড়ে তাজা থাকবে যে গোলাপ, দাম ৬৮ লাখ!



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফরএভার রোজ। ছবি: সংগৃহীত

ফরএভার রোজ। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঘর সাজানো থেকে শুরু করে উপহার দেয়া, ফুলের আবেদন সব জায়গাতেই। তবে ফুলের মন মাতানো সৌন্দর্য বেশি দিন থাকে না। গাছ থেকে ছেঁড়ার পর দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় ফুল। যদি গাছ থেকে ছেঁড়ার পরও বছরজুড়ে ফুলটি তাজা থাকে, তবে কেমন হবে?

সম্প্রতি দুবাইয়ের গবেষকরা এমনই এক ধরনের গোলাপ উদ্ভাবন করেছেন, যা এক বছরেও নষ্ট হবে না। তবে এ ফুলের একটি তোড়া কিনতে গুনতে হবে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৮ লাখ টাকা।

barta24
ফরএভার রোজ। ছবি: সংগৃহীত

ফরএভার রোজ লন্ডন মানে ব্রিটেনভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান এমন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যাতে ফুলের প্রাকৃতিকভাবে নষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া খুব ধীরগতিতে সম্পন্ন হয়।

ইকুয়েডরের কিয়েটো শহরে এ ধরনের গোলাপের চাষ করা হচ্ছে। সেখানকার আগ্নেয় জমিতে চাষ করা এ ফুলের পাঁপড়ি সহজে পচে না বলে জানিয়েছেন ফরএভার রোজের প্রতিষ্ঠাতা ইব্রাহিম আল সামাদি।

barta24
ফরএভার রোজ। ছবি: সংগৃহীত

ফুলগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রথমে গ্লিসারিন ব্যবহার করা হয়। এরপর তা বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুকানো হয়। ফুলগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে কাঁচের জারের মধ্যে তা প্রদর্শন করা হয়।

এরই মধ্যে হাই-প্রোফাইল ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ফুলটি। আইফেল টাওয়ার কিংবা ইউকর্ন আদলের ফুলের তোড়ার অর্ডার পেয়েছে ফরএভার রোজ।

ওয়াশিং মেশিন: বিলাসবহুল পণ্য এখন প্রয়োজনীয় হোম অ্যাপ্লায়েন্স



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ওয়াশিং মেশিন: বিলাসবহুল পণ্য এখন প্রয়োজনীয় হোম অ্যাপ্লায়েন্স

ওয়াশিং মেশিন: বিলাসবহুল পণ্য এখন প্রয়োজনীয় হোম অ্যাপ্লায়েন্স

  • Font increase
  • Font Decrease

ওয়াশিং মেশিন কেনার বিষয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে ‘এ পণ্যটি আমি কেনো কিনবো?’। ওয়াশিং মেশিন নিয়ে মানুষের মাঝে বেশ কিছু প্রচলিত ধারণা থেকেই এ প্রশ্নটি সাধারণত সামনে আসে। এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, ওয়াশিং মেশিন দিয়ে মানুষ খুব সহজে ও স্বল্প পরিশ্রমে কাপড় পরিষ্কার করা ও পানি শুকানো যায়। বৈশ্বিক মহামারি শুরুর পর থেকে প্রতিটি বাসা-বাড়িতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রযুক্তি পণ্যগুলোর মধ্যে ওয়াশিং মেশিন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সময়ে ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করে অনেকেই খুব সহজেই কাপড় পরিষ্কার করতে পারেন। তবে, ওয়াশিং মেশিন কেনা নিয়ে অনেকের মাঝে এখনো প্রচলিত ধারণা বিরাজমান রয়েছে। চলুন দেখে নেয়া যাক,  একবিংশ শতাব্দীতে ওয়াশিং মেশিন কেনো প্রয়োজনীয়:         

ধরন অনুযায়ী কাপড় পরিষ্কারের সুবিধা

তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষস্থানীয় ফিচার সহযোগে ওয়াশিং মেশিনগুলোতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন নিয়ে আসছে ওয়াশিং মেশিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সব ধরনের কাপড় পরিষ্কারের জন্য ওয়াশিং মেশিনের মডেলগুলো বিভিন্ন সরঞ্জামে সজ্জিত। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে যা করতে হবে তা হলো রঙ এবং কাপড়ের ধরনের ওপর ভিত্তি করে কাপড়ের স্তূপ তৈরি করে সে অনুযায়ী ধুয়ে ফেলা। এছাড়াও, ওয়াশিং মেশিনগুলোর প্রযুক্তিতে বেশ অগ্রগতি হয়েছে এবং অনেক ফিচার ও সেটিং সুবিধাও বর্তমান ওয়াশিং মেশিনের সাথে যুক্ত হয়েছে। ম্যানুয়াল দেখে ব্যবহারকারীরা ধরন অনুযায়ী কাপড় পরিষ্কারের বিষয়টি খুব সহজেই শিখে নিতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী ‘অপশন’ নির্বাচন করতে পারবেন। 

কাপড়কে রাখে সুরক্ষিত

অনেক ব্যবহারকারী তাদের কাপড়ের ক্ষতির জন্য ওয়াশিং মেশিনকে দায়ী করে থাকেন। কিন্তু, দশবারের মধ্যে নয়বারই এটি ওয়াশিং মেশিনের জন্য মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। বহু বছরের পুরনো মডেলের ওয়াশিং মেশিনগুলোও কাপড়ের কোন ধরনের ক্ষতিসাধন না করে কার্যকরভাবে কাপড়কে পরিষ্কার করতে সক্ষম। বিশেষ করে, সহজে নষ্ট হয়ে যায় এমন ধরনের কাপড় পরিষ্কারের জন্য বর্তমান সময়ের ওয়াশিং মেশিনগুলোতে উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিগত ডিজাইন নিয়ে এসেছে। এ সেটিংগুলো ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই কাপড়কে যত্ন সহকারে পরিষ্কারের মাধ্যমে কাপড়কে সুরক্ষিত রাখে।

পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী

প্রতিটি হোম অ্যাপ্লায়েন্স সামগ্রী চালু অবস্থায় অনেক বিদ্যুৎ খরচ করে। যে কোন হোম অ্যাপ্লায়েন্স সামগ্রীর দক্ষতা নির্ভর করে এর ব্যবহারবিধির ওপর। বর্তমান সময়ের ওয়াশিং মেশিনগুলোতে পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ফিচার ব্যবহার করা হয়; যা পানি ও বিদ্যুত সাশ্রয়ে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের উল্লেখযোগ্যহারে ইউটিলিটি বিল সাশ্রয় সহ পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করে।     

কাপড় ধোয়ার সেরা বিকল্প ওয়াশিং মেশিন

ওয়াশিং মেশিন ছাড়া কাপড় ধোয়ার বিষয়টি অনেক সময় এবং শ্রমসাধ্য। তবে, বর্তমান যুগে ব্যস্ততার কারণে অধিকাংশ মানুষের কাপড় ধোয়ার জন্য সময় বের করার বিষয়টি বেশ দুরূহ। তাই, ব্যস্ত সময়ে কাপড় ধোয়ার জন্য সেরা বিকল্প হিসেবে ওয়াশিং মেশিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়াও, অনেক ওয়াশিং মেশিনে প্রিওয়াশিং ফিচার রয়েছে, যা সঠিকভাবে কাপড় পরিষ্কারের আগে কাপড়কে ভিজিয়ে রাখতে সহায্য করবে।   

ডিটারজেন্টের অধিক ব্যবহার

ওয়াশিং মেশিন নিয়ে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, বেশি ডিটারজেন্ট ব্যবহারে কাপড় হবে বেশি পরিষ্কার। ওয়াশিং মেশিনে এমন প্রযুক্তি রয়েছে, যা অল্প পরিমাণে ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে পানির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে কাপড়কে পরিষ্কার করবে। এ ঘূর্ণন প্রক্রিয়া বিপুল পরিমাণ ফোম নিঃসরণ করে; ফলে, সঠিকভাবে কাপড় পরিষ্কারের জন্য অনেক পরিমাণ ডিটারজেন্ট ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।   

বিগত কয়েক বছর ধরে দেশের ব্যবহারকারীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের অনেক হোম অ্যাপ্লায়েন্স প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের ওয়াশিং মেশিন বাজারে নিয়ে আসছে। ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে, কাপড় পরিষ্কারের বিষয়টিকে আরো সহজ করতে স্যামসাং কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের ওয়াশিং মেশিন বাজারে নিয়ে এসেছে। ৭ কেজি, ৭.৫ কেজি, ৯ কেজি ও ১০ কেজি সক্ষমতার স্যামসাংয়ের টপ লোডিং ওয়াশিং মেশিনগুলোতে অল-ইন-ওয়ান সল্যুশন রয়েছে, যার বাজার মূল্য শুরু হয়েছে ২৩,৯০০ টাকা। হাত দিয়ে ও প্রি-ওয়াশিং কাপড় পরিষ্কারের জন্য এর নিউ অ্যাকটিভওয়াশ + ফিচারই চূড়ান্ত সল্যুশন। ভালোভাবে কাপড় পরিষ্কারের জন্য ‘এক্সট্রা ওয়েভ’ সহ ডেডিকেটেড সিঙ্ক ব্যবহার করা হয়েছে। এর বিল্ট-ইন ওয়াটার জেট সিঙ্কের ভেতরে ইজি-টু-রিচ বাটন ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণ করে।  

এর পাশাপাশি, এ ওয়াশিং মেশিনগুলো বেশ দীর্ঘস্থায়ী; এবং এটি ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কম শক্তি খরচ করে এবং শব্দহীনভাবে চলে। কাপড়কে পুরোপুরি পরিষ্কার করতে ডিভাইসটিতে স্টেইনলেস স্টিল পালসেটর রয়েছে; যেখানে ছয়টি ব্লেড রয়েছে, যা বিস্তৃত ও শক্তিশালী পানির প্রবাহ নিশ্চিত করে। এটি কার্যকরভাবে ময়লা ও সাবান পানিকে দূর করে কাপড়কে ধুয়ে ফেলতে পারে। স্যামসাংয়ের নির্দিষ্ট মডেলের ওয়াশিং মেশিনগুলো ইনটেনস ওয়াশ ফাংশন দিয়ে কার্যকরভাবে কাপড়কে পরিষ্কার করে, ইকো টাব ক্লিন ফিচার টবকে পরিষ্কার রাখে এবং ম্যাজিক ফিল্টারের সাহায্যে ড্রেনেজ সিস্টেমকে ঠিক রাখে।

;

ভবিষ্যৎ খাদ্য: ২০৫০ সালে আপনার খাদ্য তালিকায় যা থাকবে!



মানসুরা চামেলী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ভবিষ্যৎ খাদ্য: ২০৫০ সালে আপনার খাদ্য তালিকায় যা থাকবে!

ভবিষ্যৎ খাদ্য: ২০৫০ সালে আপনার খাদ্য তালিকায় যা থাকবে!

  • Font increase
  • Font Decrease

জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে নানা পরিবর্তন আসতে পারে। বদলে যেতে পারে আমাদের খাদ্যাভাস, তৈরি হতে পারে চরম খাদ্য সংকট। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা একটি তালিকা তৈরি করেছেন। তাদের ধারণা, অপ্রচলিত এসব খাদ্যপণ্য ২০৫০ সালে সারা বিশ্বের মানুষের খাদ্য তালিকায় চলে আসবে। 

তারা বলেছেন, ভবিষ্যতে আমাদের নকল কলা (এনসেট) এবং পান্ডানুস গাছের ফল (কেয়া ফল) দিয়ে সকালের নাস্তা সারতে হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানান, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ আমাদের খাদ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। কারণ কয়েকটি ফসলের ওপর নির্ভরশীলতা বিশ্বকে বিপদে ফেলেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মারাত্মক 'খাদ্য সুরক্ষার'-এর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে ফসল নষ্ট হয় এবং বিশ্বজুড়ে প্রধান পণ্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

লন্ডনের রয়েল বোটানিক গার্ডেনস ইন কিউ জানিয়েছে, ১৫টি খাদ্য পণ্য থেকে ৯০ শতাংশ ক্যালোরি আসে। আমাদের ভবিষ্যৎ খাদ্যভাসের জন্য নতুন উপাদন খুঁজে বের করা খুব জরুরি।

কিউ গবেষক ড, শ্যাম পিরিনন বলেন, আমরা যে খাবার খাই তাতে বৈচিত্র্য আনা হলো ক্ষুধা দূর, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করার অন্যতম উপায়।

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা জানি বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার খাওয়ার উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে যা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর খেয়ে থাকে। ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক খাদ্য সংকট মোকাবিলায় এসব উদ্ভিদ থেকে আমরা সমাধান খুঁজে বের করতে পারি। সারা পৃথিবীতে ৭ হাজারেরও বেশি ভোজ্য উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে ৪১৭টি ব্যাপকভাবে ফলন দেয় এবং খাদ্য হিসেবে ব্যহৃত হয়।

পান্ডানুস, কেয়া গাছ

পান্ডানুস (কেয়া গাছ)

প্যান্ডানুস (পান্ডানুস টেক্টোরিয়াস) একটি ছোট প্রজাতির গাছ। যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে ফিলিপাইন এবং উপকূলীয় এলাকায় জন্মে।

পান্ডানুসের পাতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলে মিষ্টি এবং সুস্বাদু খাবারে ব্যবহার করা হয়। এর ফল দেখতে অনেকটা আনারসের মতো, যা কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যায়। পান্ডানুস গাছ খরা, প্রবল বাতাস এবং লবণের স্প্রেসহ যেকোন চ্যালেঞ্জিং পরিবেশ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে- জানান এর গবেষণা ফেলো ড. মেরিবেল সোটো গোমেজ।

তিনি বলেন, এটি জলবায়ু সহনশীল এবং পুষ্টিকর খাদ্য সঙ্গে সুস্বাদুও। এটি আমাদের খাদ্য তালিকায় বৈচিত্র্য আনতে পারে। পান্ডানুস সংস্কৃতির সাথে জড়িত, পুষ্টিকর এবং সারা বিশ্বে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে উৎপাদন করাও সম্ভব।

মটরশুঁটি

মটরশুঁটি, শিম

মটরশুঁটি বা শিম, আরেকটি আমাদের ভবিষ্যতের খাদ্য পণ্য। এটি সস্তা, উচ্চমাত্রার প্রোটিন এবং ভিটামিন-বি সমৃদ্ধ খাবার।

সমুদ্রের তীর থেকে পাহাড়ের ঢালেও  এই খাবার উৎপাদন করা যায়। বিশ্বে ২০ হাজার প্রজাতির শিম  রয়েছে। কিন্তু আমরা মাত্র কয়েকটা ব্যবহার করি। শত শত বন্য শিম রয়েছে এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে তা অজানা।

মোরামা বিন (টাইলোসেমা এস্কুলেন্টাম) বতসোয়ানা, নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অংশে একটি প্রধান খাদ্য, যেখানে মটরশুঁটি ভুট্টা বা মাটির সাথে পাউডারে সিদ্ধ করা হয় যাতে পোরিজ বা কোকোর মতো পানীয় তৈরি করা হয়।

সব গুলেই ভোজ্য নয়, তবে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন প্রজাতির বৈশিষ্ট্য গবেষণা করছেন যার কোনটি খাদ্য এবং পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে।


সিরিয়াল খাদ্য

সিরিয়াল, যা শস্য জাতীয় পণ্য থেকে আসে, এছাড়াও ১০ হাজারেরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। এই খাদ্যের ব্যাপক বৈচিত্র্য। ভবিষ্যৎ খাদ্য সংকট দূর করতে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে এই খাদ্যটির।

ফোনিও নামক প্রাচীন আফ্রিকান শস্যদানা বাদামের মতো স্বাদের জন্য জনপ্রিয়, বিশেষত মালির বামবারা জনগোষ্ঠীর খুব প্রিয় খাবার এটি। পাঁচ হাজার বছর আগে এটি মিসরে চাষ করা হতো। মরুতে জন্মায় এ উদ্ভিদ, সাদা ও কালো দুই ধরনের ফোনিও পাওয়া যায়। স্বাদে কিছুটা এশিয়ার শস্যদানা কাউনের মতো। এতে প্রচুর আয়রন, জিঙ্ক ও ম্যাগনেশিয়াম আছে।

কলার পাশে, এনসেট বা নকল কলা

নকল কলা

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে উদ্ভিদের এনসেট, একটি ইথিওপিয়ান কাঁচামাল, জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে একটি নতুন সুপারফুড এবং জীবন রক্ষাকারী হতে পারে।

সমীক্ষা অনুসারে, কলার মতো ফসলের উষ্ণায়ন বিশ্বের ১০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে খাওয়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

উদ্ভিদটি ইথিওপিয়ার বাইরে প্রায় অজানা, যেখানে এটি পোরিজ এবং রুটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, আফ্রিকাতে অনেক বড় পরিসরে ফসলটি জন্মানো যেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

;

করোনা মহামারিকালে দাঁতের যত্ন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমন। বার্তা২৪.কম

ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমন। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দন্তরোগ বিভাগের প্রধান ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমন বলেছেন, "মহামারি বা অন্য সাধারণ সময়েও সবাইকে দাঁত ও মুখের যত্ন নিতে হবে। এখানে সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।"

করোনা মহামারিকালে দাঁতের যত্ন বিষয়ক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বার্তা২৪.কম'কে তিনি বলেন, "শুধু বড়দেরই নয়, সন্তানদের জন্য বাবা-মায়েদের সচেতন হতে হবে। ছোটবেলা থেকে ভালো অভ্যাস গড়ে উঠলে শিশুরা বড় হলেও তা পালন করে। স্বাস্থ্যবিধি ও মহামারি প্রতিরোধমূলক প্রটোকলে তাদেরকেও দীক্ষিত করতে হবে।"

ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমন বলেন, "করোনা মহামারির কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যথেষ্ট পরিবর্তন এসেছে। দাঁতের যত্নেও উদাসীন হয়েছেন মানুষ। কোয়ারেন্টিন আর লকডাউন চলাকালীন সময়ে যেমন ঘরে অবস্থাকালীন দাঁত ব্রাশ কম হয়েছে বড়দের, তেমনি শিশুদের দাঁতের যত্নেও অভিভাবকরা উদাসীন হয়েছেন। এসব সমস্যার নানা দিক গত ২০ মার্চ 'বিশ্ব মুখগহ্বর স্বাস্থ্য দিবস' বা 'ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডে' উপলক্ষ্যে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে।"

"আমরা সব সময়ই চাই, 'বি প্রাউড অব ইওর মাউথ' নীতি বাস্তবায়ন করতে" উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অথচ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ৩১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক দিনে দু’বার দাঁত ব্রাশ করেননি। ৩৩ শতাংশ বাবা-মা দিনে দু’বার দাঁত ব্রাশ করেননি। ৩৫ শতাংশ শিশুরা দিনে দু’বার দাঁত ব্রাশ করেনি। আর প্রাপ্তবয়স্করা স্বীকার করেছেন করোনাকালে ঘরে থেকে থেকে তাদের অভ্যাস বাজে হয়েছে ও ও শিশুদের দৈনন্দিন রুটিনে শিথিলতা চলে এসেছে। দাঁত ব্রাশ করার বিষয়ে অবজ্ঞার কথা তারা স্বীকার করেছেন।"

গবেষণা তথ্যে আরও জানা যায়, "প্রতি ২ জনের মধ্যে ১ জন (৫৪ শতাংশ) প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন এমনও দিন গিয়েছে তারা একবারও দাঁত ব্রাশ করেননি। প্রতি ২ জনের মধ্যে ১ জন (৫৪ শতাংশ) অলসতার কারণে তারা তাদের দাঁত ব্রাশ করেননি। চাকরিজীবী অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক (৫৯ শতাংশ) বলেছেন দাঁত ব্রাশ না করেই তারা কাজে গিয়েছেন। এছাড়া অধিকাংশ বাবা-মা স্বীকার করেছেন তারা শিশুদের মুখগহ্বরের যত্নের ব্যাপারেও উদাসীন হয়েছেন। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন (৬৯ শতাংশ) বাবা-মা বলেছেন ঘুমানোর আগে তারা সন্তানকে মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে দিয়েছেন।"

ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমন জানান, "মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যা সত্ত্বেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে জরিপে তথ্য উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যা গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতি ১০ জনের ৬ জন (৬৪ শতাংশ) জানিয়েছেন মহামারির শুরুর পর থেকে তারা মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যের সমস্যায় পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি যে ৫টি মুখের সমস্যার মধ্য দিয়ে তারা  গিয়েছেন, তা হলো, দাঁত, মাড়ি, মুখে ব্যথার কথা জানিয়েছেন ৩০ শতাংশ, দাঁত ও মাড়িতে রক্তপাতের কথা জানিয়েছেন ২৭ শতাংশ, মুখে ব্যথার কারণে খেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন ২৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী, দাঁতের ব্যথার কারণে মাথা ব্যথার কথা জানিয়েছেন ২৭ শতাংশ এবং চোয়াল ব্যথার কথা জানিয়েছেন ২৫ শতাংশ।"

"প্রাপ্তবয়স্করা অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিচর্যার চেয়ে মুখগহ্বর স্বাস্থ্যের প্রতি কম মনোযোগী ছিলেন, অন্যান্য শারীরিক সমস্যার যত্ন নিয়েছেন ৭২ শতাংশ। মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার প্রতি যত্নশীল ছিলেন ৭৯ শতাংশ। ওরাল বা মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল ছিলেন ৬২ শতাংশ", জানান তিনি।

এদিকে, দাঁতের যত্নে করোনা প্রভাব ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, "মারাত্মক ব্যথা অনুভবের পরও অনেকে ডেন্টিস্টের কাছে যাননি। প্রতি ৫ জনের ২জন (৪২ শতাংশ) মহামারির সময় তারা দাঁতের চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন। দাঁতের ব্যথা অনুভব করেছেন এমন  প্রতি ২ জনের ১ জন (৫১ শতাংশ) ডেন্টিস্টের কাছে গিয়েছিলেন।"

"বাবা-মা যদি দিনে দু’বার ব্রাশ না করে সন্তানের ব্রাশ না করার হার ৭ গুণ বেড়ে যায়। যখন বাবা-মা দিনে দু’বার ব্রাশ করে, সন্তানের ব্রাশ করা এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১১ শতাংশ। যখন বাবা-মা ব্রাশ করা এড়িয়ে যায়, সন্তানের ব্রাশ করা এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৭৭ শতাংশ" বলেন ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমন।

তিনি বলেন, "করোনা মহামারির সময়ে দেশের মানুষের মধ্যে অনেক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।  বিশেষ করে, দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করা, ব্রাশ ও মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিপালিত হচ্ছে না। অর্থাৎ, দাঁত ও মুখগহ্বরের সাধারণ যত্ন উপেক্ষিত হয়েছে। মহামারির পুরোটা সময় চিকিৎসা না-করায় দেশের মানুষের দাঁত ও মুখের রোগ বেড়েছে।"

ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমনের মতে, "করোনাভাইরাসের বিস্তারের এই সময়টায় দাঁতের চিকিৎসা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। করোনা ছোঁয়াচে রোগ আর মূলত মুখনিঃসৃত তরল কণার (ড্রপলেট) মাধ্যমে ছড়ায় বলে দন্তচিকিৎসকেরা যেমন ঝুঁকিতে আছেন, তেমনি রোগীরাও। ফলে সুদক্ষ বিশেষজ্ঞ দন্তচিকিৎসকদের দ্বারা সঠিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে দাঁতে যথাযথ যত্ন দেওয়া উচিত।"

;

পারফিউম ব্যবহারের সঠিক নিয়ম



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা ২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গরম, বর্ষা কিংবা শীত পছন্দের পারফিউম নিমেষে মনকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে। এছাড়াও ঘামের দুর্গন্ধ দূর করে সারাদিন ফুরফুরে থাকতে ভরসা সেই পারফিউমতেই।

কিন্তু এই পারফিউম দিনের অর্ধেক যেতে না যেতেই ঘ্রাণ মিলিয়ে যায়। এই সমস্যা দূর করতে কয়েকটি উপায় মেনে চলুন। এতে অল্প পারফিউম ব্যবহারেও সারাদিন থাকবেন সুরভিত।

গোসলের পরে স্প্রে করুন

গোসলের ফলে ত্বকের লোমকূপ উন্মুক্ত থাকে। এই সময় পারফিউম স্প্রে করা হলে তা দীর্ঘক্ষণ সুবাস ছড়ায়। তাই গোসলের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পারফিউম স্প্রে করুন।

আর্দ্র ত্বক পারফিউম ভালো ধরে রাখে। তাই গোসলের পরে সরাসরি ঘ্রাণহীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে তার উপরে পারফিউম লাগান।

পাল্স পয়েন্ট

পাল্স পয়েন্ট বা শরীরের যেখানে যেখানে নাড়িরস্পন্দন পরীক্ষা করা যায় সেসব জায়গা উষ্ণ থাকে এবং এটা সুগন্ধ ছড়াতে সহায়তা করে। এসব স্থান আবৃত থাকায় একবারে সুগন্ধ না ছড়িয়ে ধীরে ধীরে ঘ্রাণ ছড়াতে সাহায্য করে।

ঘষে ব্যবহার করবেন না

পারফিউম লাগানোর পরে তা দুহাতের কব্জি দিয়ে ঘষে ব্যবহার করা একটা প্রচলিত ধারণা, এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। পারফিউম লাগিয়ে তা ঘষা দিলে এর গঠন ভেঙে যায়।

ফলে সঠিক ঘ্রাণ পাওয়া যায় না। তাই হাতে পারফিউম লাগিয়ে হাত প্রসারিত করুন এবং নাড়ুন। এতে ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই পারফিউমকে উষ্ণ করবে ও সুবাস ছড়াবে।

চুলে স্প্রে করা

পারফিউম দীর্ঘস্থায়ী করতে চুলে সামান্য স্প্রে করুন। চুলে পারফিউম ধরে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা আছে। হেঁটে যাওয়ার সময় এটা দারুনভাবে ঘ্রাণ ছড়ায়।

পারফিউমতে অ্যালকোহল থাকে যা চুলকে শুষ্ক করে। তাই চুলে সামান্য পরিমাণে পারফিউম স্প্রে করতে হবে।

;