হেঁশেলের ৩ মশলাতেই মাথাব্যথার সমাধান



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কাজের চাপে বা কম ঘুমোলেই মাথা দপদপ। মাথার বা চোখের চারপাশ জুড়ে যন্ত্রণা। মাইগ্রেন বা সাইনাস থাকলে মাঝেমধ্যেই এমন সমস্যা হয় অনেকেরই। ঠান্ডা লেগে এমনটা হয়ে থাকলে তা নিয়ে চিন্তার বিশেষ কারণ না থাকলেও এই যন্ত্রণা যদি এক দিনের বেশি স্থায়ী হয়, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের সকলের হাতের কাছেই এমন তিনটি মশলা রয়েছে, যা মাথা যন্ত্রণার উপশম করতে পারে সহজেই।

দারচিনি

প্রায় সকলের রান্নাঘরেই দারচিনি থাকে। দারচিনি গুঁড়ো দিয়ে চা খেলে, বা দারচিনির তেল মাথায় মালিশ করলে মাথাব্যথা কমে যায় অনেকটাই। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর এই মশলাটির গন্ধে স্নায়ুর প্রদাহ কমে।

আদা

অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি যৌগ ভরপুর আদায়। যদি চায়ে দিয়ে খাওয়া যায় তা হলেও আরাম মিলতে পারে। মাথা যন্ত্রণার ফলে রক্তবাহিকাগুলোতে যে প্রদাহ হয়, তা নিরাময় করতে পারে আদা। পাশাপাশি, যদি ঠান্ডা লেগে এমন সমস্যা হয়, সে ক্ষেত্রেও আদা সমান উপকারী। সর্দিতে যদি নাক বন্ধ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে পানিতে আদা দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে সেই পানির ভাপ নেওয়া যেতে পারে।

লবঙ্গ

আদার বদলে লবঙ্গ দেওয়া চা খেলেও অনেক সময় মাথা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মেলে। এছাড়াও লবঙ্গ থেঁতো করে একটি পরিষ্কার কাপড়ে নিয়ে পুঁটলির মতো করে বেঁধে নিন। এ বার মাঝেমধ্যেই নাকের কাছে ধরে, গন্ধ শুঁকতে থাকুন। লবঙ্গ খাওয়ার পাশাপাশি, স্মেল থেরাপিতেও এর ব্যবহার রয়েছে।

   

ঈদ-উল-আজহা: কুরবানির পশুর প্রতি করণীয়



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কুরবানির পশু / ছবি: সংগৃহীত

কুরবানির পশু / ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আর মাত্র দু’দিনের অপেক্ষা। তারপরই মুমিনদের আনন্দের ধারায় বয়ে আসবে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এবছরের দ্বিতীয় তথা শেষ ঈদের আমেজে মশগুল চারদিক। কসাই বুকিংয়ে যেমন লম্বা লাইন, তেমন গরুর হাটে উপচে পড়া ভীড়। সাধ্যের মধ্যে ছোট বা বড় গরু, মহিষ, ছাগল, ভ্যাঁড়া কিনে বাড়ি ফিরছে সকলে। তবে বাড়ি নিয়ে ঈদের বাকি যে ক’দিন আছে, এই কিছুদিন কুরবানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেনা পশু কিভাবে রাখবেন!

শুনলে আশ্চর্যজনক মনে হলেও আসলে অনেকে কুরবানি দেওয়া গরুর যত্ন নেওয়ার ব্যাপারটি সঠিকভাবে জানেন না। অথবা অনেকে জেনেও পশুদের যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। আমরা সেই কুরবানির ঈদের সূত্রপাতের গল্পই ভুলে যাই। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আঃ) আল্লাহর জন্য ত্যাগ করতে ইচ্ছুক ছিলেন। নিজ সন্তানের পরিবর্তে পশু কুরবানি করার নিয়ম হয়েছে। তাই পশুদের প্রতি সন্তানস্নেহ থাকা প্রয়োজন। জেনে নিই, কুরবানির আগে পশুদের যত্নে ব্যাপারে যেসব জিনিস মনে রাখবেন-

১. কুরবানির ঈদের সময় ঘনিয়ে আসলে প্রাণীদের দুর্ভোগ বেড়ে যেতে দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হলো বিশ্বব্যাপী মাংসের অতিরিক্ত চাহিদা। যতটা প্রয়োজন ততটুকু পশু কুরবানি করাই শ্রেয়। সামর্থ্য আছে বলে অতিরিক্ত খরচ করা নিরর্থক। এই ব্যাপারে ধর্মীয় নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। ইসলামের মৌলিক নীতি অনুসরণ করে চললে পশুদের দুর্ভোগ হ্রাস পাবে, আবার মানুষের শারীরিক সমস্যার ঝুঁকিও কমবে।

২. অনেক মুসলমান জবাই করার একটি সাধারণ নিয়ম জানেন না। কখনোই একটি পশুর সামনে অন্য একটি পশুর প্রাণ নেওয়া উচিত নয়। ইসলামে একটি পশুকে অন্য পশুর সামনে জবাই করার অনুমতি নেই, যা ঈদুল আজহার সময়েও প্রযোজ্য। তবে দুঃখজনকভাবে সামান্য সংখ্যক মুসলমানই এই নীতির ক্ষেত্রে সচেতনতা প্রকাশ করেন।

কুরবানির পশু / ছবি: সংগৃহীত

৩. মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, এক নারী তার কাছে রাখা একটি বিড়ালের প্রতি আচরণের কারণে জাহান্নামে গিয়েছিলেন। বিড়ালটিকে যখন তিনি আটকে রেখেছিলেন, তখন ঠিকমতো খাবার খাওয়াননি। বিড়ালটিকে মুক্ত করে দিলেও সে নিজে শিকার করে খেয়ে বেঁচে থাকতে পারতো। তবে তা হয়নি, কারণ নারীটি বিড়ালটিকে আটকে রেখেছিল। এই গল্পটির পাঠ হলো আপনার কাছে থাকা পোষা প্রাণীর পর্যাপ্ত যত্ন নিন। তা একান্ত সম্ভব না হলে, তাদের মুক্ত করে দিন।

৪. ধর্মীয় মতে নির্দেশনা আছে, পশুর জবাই করার সময় তার কষ্ট যেন কম হয় তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মজা বা দুষ্টুমি করেও কোনো প্রাণীর প্রতি কঠোর ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

তথ্যসূত্র: হিডেন পার্লস

;

কেন রক্ত দিবেন?



কাজী ইফতেখারুল আলম তারেক
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মানব দেহের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রক্ত। মানুষকে ভালোবেসে যত কাজ করা যায়, তার অন্যতম হলো রক্তদান। নেলসন ম্যান্ডেলা বলেন, রক্তদান আমাদের সমাজের একটি মহান জীবন্ত সংস্থা গঠন করে, এটি একটি আদর্শ মানবিক অবদান। স্বেচ্ছা রক্তদাতারা রক্তবীর। জাতীয় বীর তারাই যারা নিজেদের রক্ত অন্যদের জন্য দান করেন। রক্তের প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয় মানুষকেই। রক্তদান নিঃসন্দেহে মহৎ ও মানবিক। তবে এর সাথে নানান জটিল দুরারোগ্য ব্যাধী থেকে বাঁচার উপায়ও হলো নিয়মিত রক্তদান।

আগামী ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। ডব্লিউএইচও এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে, 20 years of celebrating giving: thank you blood donors! সহজ বাংলা করলে দাঁড়ায়- ‘দিবস উদযাপনের ২০ বছর: ধন্যবাদ হে রক্তদাতা!’।

যারা স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাচ্ছেন তাদেরসহ সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উৎসাহিত করাই এই দিবসের উদ্দেশ্য।

১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন এবং ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’-এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে প্রথম পালিত হয়েছিল বিশ্ব রক্তদান দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই দিবস পালনের জন্য তাগিদ দিয়ে আসছে।

প্রতিবছর ৮ কোটি ইউনিট রক্ত স্বেচ্ছায় দান হয়, অথচ এর মাত্র ৩৮ শতাংশ সংগ্রহ হয় উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে, যেখানে বাস করে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৮২ শতাংশ মানুষ। এ ছাড়া এখনো বিশ্বের অনেক দেশে মানুষের রক্তের চাহিদা হলে নির্ভর করতে হয় নিজের পরিবারের সদস্য বা নিজের বন্ধুদের রক্তদানের ওপর, আর অনেক দেশে পেশাদারি রক্তদাতা অর্থের বিনিময়ে রক্ত দান করে আসছে রোগীদের। বিশ্বের নানা দেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে জানা যায়, ‘নিরাপদ রক্ত সরবরাহের’ মূল ভিত্তি হলো স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে দান করা রক্ত। কারণ তাদের রক্ত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং এসব রক্তের মধ্য দিয়ে গ্রহীতার মধ্যে জীবনসংশয়ী সংক্রমণ, যেমন এইচআইভি ও হেপাটাইটিস সংক্রমণের আশঙ্কা খুবই কম।

স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানকারী আড়ালে থাকা সেসব মানুষের উদ্দেশে, এসব অজানা বীরের উদ্দেশে, উৎসর্গীকৃত ১৪ জুনের বিশ্ব রক্তদান দিবস। ১৪ জুন দিবসটি পালনের আরও একটি তাৎপর্য রয়েছে। এদিন জন্ম হয়েছিল বিজ্ঞানী কার্ল লান্ডষ্টাইনারের। এই নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছিলেন রক্তের গ্রুপ ‘এ, বি, ও,এবি’। রক্তদান মহৎ দান। রক্তদান করলে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না। এমনিতেই রক্ত কণিকা নির্দিষ্ট সময় পর নষ্ট হয়ে যায়। তাই রক্ত দান করুন, রোগীর প্রাণ বাঁচান। এটাই মূলত প্রকৃত সেবা।

দাতা বা রক্তগ্রহীতাকে কোনো রকম ক্ষতির আশঙ্কায় না ফেলে রক্ত সংগ্রহ ও বিতরণসহ ৫টি রক্তবাহিত ঘাতক রোগের জীবাণু বাধ্যতামূলকভাবে স্ক্রিনিং করাই নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনার প্রথম ধাপ। ডব্লিউএইচওর নিয়মানুযায়ী শতভাগ স্বেচ্ছারক্তদাতাদের রক্ত আহরণ, সংগৃহীত সব রক্তের বাধ্যতামূলক টিটিআই স্ক্রিনিং ও রক্তের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণই নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালনের মূল উদ্দেশ্য। কম ঝুঁকিপূর্ণ রক্তদাতা থেকে রক্ত সংগ্রহ করে স্ক্রিনিং পরীক্ষা বা কম্পোনেন্টে বিযুক্তকরণের মাধ্যমে রক্ত বা উপাদান

পরিসঞ্চালন করাকে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বলা হয়। নিরাপদ রক্তদানে রক্তদাতার কোনো ক্ষতি হয় না। রক্ত গ্রহণ করে রক্তগ্রহীতার দেহে তাৎক্ষণিক বা দেরিতে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে না বা গ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না সেটাই নিরাপদ রক্ত বা রক্ত উপাদান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিসিটি ইউনিটের মতে, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচির ৪টি লক্ষ্য রয়েছে। ১. নিরাপদ রক্ত সংস্থান ২. নিরাপদ রক্ত সহজলভ্য, ৩. নিরাপদ রক্ত সংস্থায় পাওয়া এবং ৪. সমন্বিত ও যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচির ৩টি কৌশলের মধ্যে রয়েছে ১. শতভাগ স্বেচ্ছা রক্তদানে রক্ত সংগ্রহ করা, ২. সংগৃহীত রক্তের সব স্ক্রিনিং নিশ্চিতভাবে করা এবং ৩. উপাদানভিত্তিক যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

রক্তদানের নানামুখী উপকারিতা: রক্তদানের প্রথম এবং প্রধান কারণ হলো একজনের দানকৃত রক্ত আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাবে। রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী দিক। রক্তদান করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘বোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়

এবং রক্তদানের ২ সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্তকণিকার জন্ম হয়ে ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। বছরে ৩ বার রক্তদান আপনার শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলার সাথে সাথে নতুন কণিকা তৈরির হার বাড়িয়ে দেয়। উল্লেখ্য রক্তদান করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেহে রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়।

আরেক গবেষণায় দেখা যায়, যারা বছরে দুই বার রক্ত দেয়, অন্যদের তুলনায় তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। বিশেষ করে ফুসফুস, লিভার, কোলন, পাকস্থলী ও গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি নিয়মিত রক্তদাতাদের ক্ষেত্রে অনেক কম পরিলক্ষিত হয়েছে। চার বছর ধরে ১২০০ লোকের ওপর এ গবেষণা চালানো হয়েছিলো।

নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে নিজের শরীরে বড় কোনো রোগ আছে কিনা তা বিনা খরচে জানা যায়। যেমন : হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) ইত্যাদি। প্রতি পাইন্ট (এক গ্যালনের আট ভাগের এক ভাগ) রক্ত দিলে ৬৫০ ক্যালরি করে শক্তি খরচ হয়। অর্থাৎ ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।রক্তদান উচ্চরক্তচাপ কমায়,মানুষ এবং সমাজের

উপকারের স্বার্থে রক্তদান অন্যতম কর্তব্য। রক্তদানের মাধ্যমে নিজের শরীর ঠিক থাকে এবং অন্যের জীবন বাঁচে। রক্তদানে নানারকম শারীরিক লাভ হয়। মেরুমজ্জার রিজুভিনেশন বা স্টিমুলেশন, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে। ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমা, বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়া থমকে যাওয়া।

রক্তদানের সাথে হৃদরোগ ঝুঁকি কমানো নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন একদল গবেষক। তারা ২০ বছর ধরে নির্দিষ্ট রক্তদাতাদের অবজার্ভ করেন। এই পরীক্ষায় হৃদরোগের চেয়েও ক্যান্সারের ফলাফল দেখে তারা বেশি বিস্মিত হন। গবেষণায় দেখা যায়, রক্তদাতাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি ৩৭% পর্যন্ত নেমে গেছে। আর যাদের ক্যান্সার হয়েছে, তাদের মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম। এই ফলাফলে বিস্ময় প্রকাশ করে ন্যাশনাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউট জার্নাল (Journal of the National Cancer Institute)। এক রিপোর্টে তারা বলেন, “results almost seem to be too good to be true.”. এ থেকে তারা উপসংহার

টানেন যে, ৬ মাসের মধ্যে শুধু একবার রক্ত দান করলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে আসে। স্বেচ্ছায় রক্তদানের পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের নির্ভরশীলতা ও রক্ত নিয়ে ব্যবসা কমানো, ঘাতক রোগের বিস্তার কমানোসহ, সামাজিক বন্ধন বাড়েস্বর্গীয় আনন্দের অনুভূতি উপভোগ করা যায় রক্তদানের মাধ্যমে। রক্তদানের অর্থনৈতিক লাভও রয়েছে রক্তদানে। নিচখরচায় চেকআপ, পরামর্শ বা চিকিৎসা প্রাপ্তির সুযোগ, নিয়মিত রক্তদান ওষুধ ছাড়া চিকিৎসা পদ্ধতি। আর এই পুরো প্রক্রিয়া আসলে শরীরের সার্বিক সুস্থতা, প্রাণবন্ততা আর কর্মক্ষমতাকেই বাড়িয়ে দেয়। তবে রক্তদানের এ উপকারগুলো আসলে তারাই পাবেন যারা নিয়মিত রক্তদান করেন।

রক্ত দেয়া কেন প্রয়োজন?

দুর্ঘটনায় আহত, ক্যান্সার বা অন্য কোন জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য, অস্ত্রোপচার কিংবা সন্তান প্রসব অথবা থ্যালাসেমিয়ার মতো বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়।

দেশে বছরে আট থেকে নয় লাখ ব্যাগ রক্তের চাহিদা থাকলেও রক্ত সংগ্রহ হয় ছয় থেকে সাড়ে ছয় লাখ ব্যাগ। তবে বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় রক্তদাতার সংখ্যা এখনো নগণ্য। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বছরে আট থেকে নয় লাখ ব্যাগ রক্তের চাহিদা থাকলেও রক্ত সংগ্রহ হয় ছয় থেকে সাড়ে ছয় লাখ ব্যাগ। ঘাটতি থাকে তিন লাখ ব্যাগের বেশি।

এছাড়া সংগ্রহকৃত রক্তের মাত্র ৩০ শতাংশ আসে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের থেকে। নিজের পরিবারের সদস্য বা পরিচিতজন না হলে এখনো বেশিরভাগ মানুষ রক্তের জন্য নির্ভর করেন পেশাদার রক্তদাতার ওপর। রক্তের অভাবের কারণে প্রতিবছর বহু রোগীর প্রাণ সংকটের মুখ পড়ে। এক ব্যাগ রক্ত দিতে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট। এই অল্প সময়ে চাইলেই একজনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের ভোগান্তি বেশি

থ্যালাসেমিয়া একটি জন্মগত রক্তের রোগ। মা-বাবার মধ্যে কেউ বা দুজনেই থ্যালাসেমিয়া রোগী বা এ রোগের বাহক হলে সন্তান এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এর মানে প্রতিদিন ২০টিরও বেশি শিশু এই রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এই শিশুদের কেবলমাত্র বেঁচে থাকার জন্যই তাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত আয়রন অপসারণ করতে মাসিক রক্ত সঞ্চালন এবং চিলেশন থেরাপির প্রয়োজন হয়।

নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ানোয় বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ থ্যালাসেমিয়া রোগী পর্যাপ্ত চিকিৎসা পান না।

থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা কী?

মেজর থ্যালাসেমিয়ার রোগীকে নিয়মিত বিরতিতে রক্ত দিতে হয়। তা না হলে তাকে বাঁচানো মুশকিল। এর সঙ্গে বারবার লোহিত কণিকা ভেঙে যাওয়ার কারণে এবং বারবার রক্ত দেওয়ার জন্য এদের শরীরে অতিরিক্ত আয়রন বা লৌহ জমে যায়। অতিরিক্ত আয়রন বিভিন্ন অঙ্গে বিশেষ করে গ্রন্থিগুলোতে জমে গেলে সেই গ্রন্থির কার্যকারিতা নষ্ট হয়। এজন্য আয়রনযুক্ত খাবার বা আয়রন বড়ি এড়িয়ে চলা দরকার। প্রয়োজনে নিয়মিত রক্ত থেকে আয়রন নিষ্কাশন করার দরকার পড়ে। অনেক সময় প্লীহা কেটে ফেলে দিতে হয়। তবে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হলো এর নিরাময়ে একমাত্র চিকিৎসা। থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ সম্ভব। মাইনর থ্যালাসেমিয়া বাহকদের অনেকেই এই সমস্যার উপস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। ফলে দুজন আক্রান্ত জিনের অধিকারী বা দুজন বাহকের মধ্যে বিয়ে হলে তাঁদের সন্তান মারাত্মক থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।

মৃদু মাত্রার রক্তস্বল্পতা হলেও অকারণে আয়রন বড়ি না খেয়ে রক্তস্বল্পতার কারণ খুঁজে দেখা দরকার। দম্পতির কেউ বাহক হলে গর্ভধারণের আগেই কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যায়। দুজনেই বাহক হলে যথাযথ কাউন্সেলিংয়ের দরকার।

;

মডেল হান্ট 'ফেস অব বাংলাদেশ'-এর খেতাব জিতলেন জারিফ, দিল ও আতিকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,ঢাকা
মডেল হান্ট 'ফেস অব বাংলাদেশ'-এর খেতাব জিতলেন জারিফ, দিল ও আতিকা

মডেল হান্ট 'ফেস অব বাংলাদেশ'-এর খেতাব জিতলেন জারিফ, দিল ও আতিকা

  • Font increase
  • Font Decrease

রীতিমতো নজরকাড়া পোশাক ও দারুণ কোরিওগ্রাফি আবার চমৎকার সঙ্গীতায়োজনে আলোকসজ্জিত রানওয়েতে উদীয়মান এই মডেলদের উপস্থিতি, হাঁটা ও চূড়ান্তপর্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হান্ট ফেস অব বাংলাদেশ এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠান। এ আয়োজনে আর্কা ফ্যাশন উইকের প্রথম দিনে আলোচিত মডেল হান্ট ফেস অব বাংলাদেশ এর খেতাব জিতলেন জারিফ শাবাব, দিল আফরোজ হাসান ও আকলিমা আতিকা।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় ফেস অব এশিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তারা।

আলোচিত মডেল হান্ট 'ফেস অব বাংলাদেশ'-এর খেতাব জিতলেন জারিফ, দিল আফরোজ ও আকলিমা।


বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানী গুলশানে আলোকি কনভেনশন সেন্টারে আর্কা ফ্যাশন উইকের অংশ হিসেবে আলোচিত মডেল হান্ট ফেস অব বাংলাদেশ এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠেয় ফেস অব এশিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এখানকার বিজয়ীরা। ফেস অফ বাংলাদেশের চূড়ান্ত পর্বে সম্মানিত বিচারকেরা বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করেন পুরুষদের মধ্যে জারিফ শাবাবকে। আর নারীদের মধ্যে দুজন যুগ্মভাবে অর্জন করেন বিজয়ীর খেতাব। তারা হলেন দিল আফরোজ হাসান ও আকলিমা আতিকা।

এশিয়া মডেল ফেস্টিভ্যাল আসলে তিনদিনের একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এখানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মডেলদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ফেস অব এশিয়া। এখানে অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের মডেলরা তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারেন। এই ইভেন্ট প্রতিবছর দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই বৈশ্বিক সংস্কৃতি উৎসব এশিয়ার পপ সংস্কৃতি, শিল্প ও এশিয়ার মডেল, ফ্যাশন আর বিউটি ইন্ডাস্ট্রিকে এশিয়াব্যাপী প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এশিয়ার মডেল ও শিল্পীদের বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেয়। ফেস অব বাংলাদেশ হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ায় এশিয়া মডেল ফেস্টিভ্যালের ফেস অব এশিয়ার আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। 

এই ফেস অব বাংলাদেশ আসলে এমন একটি মডেল হান্ট, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করেন এমন তরণ তরুণীদেরকে খুঁজে বের করা যায়। এর লক্ষ্য বাংলাদেশি মডেলদের বৈচিত্র্য ও প্রতিভা প্রদর্শন করা এবং তাদের মডেলিং ও বিনোদন শিল্পে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়া।


এই বছর ফেস অব বাংলাদেশ-এর জন্য আমাদের দেশের ৭ জন নারী ও ৮ জন পুরুষ প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য,পুরো মডেল হান্ট কার্যক্রমটি আর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রানওয়ে ডিরেক্টর ও কোরিওগ্রাফার আজরা মাহমুদের প্রতিষ্ঠান আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প অর্থাৎ এএমটিসি এর তত্ত্বাধানে। নির্বাচিত প্রতিযোগীদেরকে মডেলিংয়ের সর্বক্ষেত্রে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজটিও এএমটিসিই করেছে।

এই প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি, যারা ফ্যাশন অঙ্গনে নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বনামধন্য।

তুমুল বর্ষণের পরেও লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে ফ্যাশন রানওয়ের তাবু। সন্ধ্যা ৭টায় উপস্থিত সকলের হর্ষধ্বনি ও করতালির মাঝে শুরু হয় প্রতিযোগিতার পর্বগুলো। প্রথমেই ছিল ফিটনেস ও হেলথ রাউন্ড।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ৭ জন নারী মডেল। তারা হলেন মাহবুবা রহমান লাবণ্য, জান্নাতুল ইমরোজ, মারিয়া আক্তার মৃদুলা, নিশাত তাসনিম ও রেহনুমা তাবাসসুম এশা, দিল আফরোজ হাসান ও আকলিমা আতিকা। সুন্দর হাসির জন্য বেস্ট স্মাইলের খেতাব পেয়েছেন মারিয়া আক্তার মৃদুলা। বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এ প্রতিযোগিতায় যৌথভাবে ফেস অব বাংলাদেশের খেতাব জেতেন দিল আফরোজ হাসান ও আকলিমা আতিকা।

ফেস অব বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পুরুষ মডেলরা হলেন দীপংকর চন্দ্র মন্ডল, জারিফ শাবাব, শায়ের আহমেদ, শামসুল আলম, প্লাবন সিনহা, আব্দুল্লাহ নুমের, ওহিন ইরান ও আয়মান শরীফ। চমৎকার হেয়ারস্টাইলের জন্য বেস্ট হেয়ার খেতাব পান আব্দুল্লাহ নুমের আর বেস্ট স্কিন খেতাব দেওয়া হয় প্লাবন সিনহাকে। পুরুষদের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে বিজয়ী হন জারিফ শাবাব। উপস্থিত সকলের উচ্ছ্বসিত করতালির মাঝে ঘোষণা আসে, পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ডও তিনিই জিতেছেন। প্রতিযোগিতার প্রথমে ছিল হেলথ ও ফিটনেস রাউন্ড। দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রতিযোগীরা ফিউশনওয়্যার পরে হেঁটেছেন। দেশের সুপরিচিত ডিজাইনার লেবেল বাটারফ্লাই বাই সাগুফতার পোশাক পরেছেন মেয়েরা এখানে। আর ছেলেদের পোশাক নেওয়া হয়েছে ও টু থেকে। এরপরেই আসে চূড়ান্ত রাউন্ড যেখানে ফরমাল পোশাক পরেছেন সকলে। মেয়েদের আউটফিটগুলো দেশের বিলাসবহুল ডিজাইনার লেবেল সানায়া কতুরের। আর ছেলেদের পোশাক এসেছে ফিট এলিগেন্স থেকে।

;

কোমরের ব্যথায় অবহেলা করবেন না



অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের শতকরা ৯০ শতাংশ লোক জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কোমর ব্যথায় ভোগে। স্বল্পমেয়াদি ব্যথা এক মাসের কম সময় থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রোনিক ব্যথা এক মাসের অধিক সময় থাকে। যথা সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ৯০ শতাংশ রোগী দুই মাসের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। আর যারা অবহেলা করেন, তাদের কথা আর নাই বা বললাম। তারা নিজেরাই সেটা জানেন। একটি ব্যথা হচ্ছে লাম্বার স্পনডোলাইসিস। আমাদের সবার কোমরে পাঁচটি হাড় আছে। কোমরের হাড়গুলো যদি বয়সের কারণে বা বংশগত কারণে ক্ষয় হয়ে যায়, তখন তাকে বলা হয় লাম্বার স্পনভোলাইসিস। আরেটি ব্যথা হচ্ছে, পিএলআইডি। এটিও শক্তিশালী। সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ বছরের মানুষের ক্ষেত্রে এই ব্যথাটা বেশি দেখা যায়। প্রত্যেক মানুষের হাড়ের মধ্যে ফাঁকা জায়গা একটা থাকে। এটি পূরণ থাকে তালের শাঁসের মতো ডিস্ক বা চাকতি দিয়ে। এ ডিস্ক যদি কোনো কারণে বের হয়ে যায়, তখন স্নায়ুমূলের ওপরে চাপ ফেলে। এর ফলে কোমরে ব্যথা হতে পারে।

এর বাইরে আরো বেশ কিছু কারণ আছে। এই কোমর ব্যথায় লক্ষ্য রাখবেন বড় কোনো আঘাতের ইতিহাস আছে কি না। কোমর ব্যথার পাশাপাশি বুকে ব্যথা হলে বা আপনার যদি আগে কখনও যক্ষ্মা হয়ে থাকে তবে এই ব্যথাকে একটু বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। দ্রুত যোগাযোগ করুন আপনার চিকিৎসকের সাথে।

এ ছাড়া ক্যান্সার, অস্টিওপোরোসিস, এইডস, দীর্ঘকাল স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবনের ইতিহাস থাকলেও কোমর ব্যথা হতে পারে। এই ধরনের ব্যথা হলে আমি বলবো মোটেও অবহেলা করবেন না।

লক্ষ্য রাখবেন, ব্যথার পাশাপাশি জ্বর, শরীরের ওজন হ্রাস, অরুচি, অতিরিক্ত ঘাম ইত্যাদি উপসর্গ আছে কি? ব্যথাটা কোমর ছাড়িয়ে পায়ের দিকে বিশেষ করে এক পায়ের হাঁটুর নিচ পর্যন্ত ছড়াচ্ছে কি? অথবা এক পায়ে তীব্র ব্যথা বা অবশভাব মনে হচ্ছে? দ্রুত সতর্ক হন, চিকিৎসকের কাছে যান।

কোমর ব্যথার পাশাপাশি, প্রস্রাব বা পায়খানার সমস্যা, মলদ্বারের আশপাশে বোধহীনতা, মেরুদণ্ডে বক্রতা, পায়ের দুর্বলতা বা পায়ের মাংসপেশির শুষ্কতা ইত্যাদি উপসর্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিন। এগুলো ভালো লক্ষণ নয়। কোমর ব্যথার সঙ্গে উল্লিখিত যে কোনো উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কোমর ব্যথাকে কখনো হালকাভাবে নিবেন না । প্রথম দিকে এ ব্যথা

কম থাকে এবং ক্রমান্বয়ে তা কিন্তু বাড়তে থাকে। এর চরিত্রটাই এমন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে এ ব্যথা কিছুটা কমে আসে। আবার কোমরে সামান্য নড়াচড়া হলেই এ ব্যথা বেড়ে যায়। ব্যথার সঙ্গে পায়ে ব্যথা নামতে বা উঠতে পারে, হাঁটতে গেলে পা খিঁচে আসে বা আটকে যেতে পারে, ব্যথা দুই পায়ে বা যে কোনো এক পায়ে নামতে পারে। কোমরের মাংসপেশি কামড়ানো ও শক্ত ভাব হয়ে যাওয়া। প্রাত্যহিক কাজে, যেমন- নামাজ পড়া, তোলা পানিতে গোসল করা, হাঁটাহাঁটি করা ইত্যাদিতে কোমরের ব্যথা বেড়ে যায়। কোমর ব্যথার সময় আর যা যা সমস্যা হয় সে সম্পর্কেও কিছু আলোচনা করা যাক।

প্রথমে কোমরে অল্প ব্যথা থাকলেও ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকে। অনেক সময় হয়তো রোগী হাঁটতেই পারে না। ব্যথা কখনও কখনও কোমর থেকে পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। পায়ে ঝিনঝিন ধরে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠে পা ফেলতে সমস্যা হতে পারে। পা অবশ ও ভারী হয়ে যায়। পায়ের শক্তি কমে যায়। মাংসপেশি মাঝে মধ্যে সংকুচিত হয়ে যায়।

আমি বারবার বলছি। কোমর ব্যথাকে গুরুত্ব দিন। সমস্যা হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এবার বলবো, প্রাথমিক ক্ষেত্রে আপনার করণীয় কি। সব সময় শক্ত সমান বিছানায় ঘুমাতে হবে। ফোমের বিছানায় ঘুমানো যাবে না এবং ফোমের নরম সোফায় অনেকক্ষণ বসা যাবে না। ঝুঁকে বা মেরুদণ্ড বাঁকা করে কোনো কাজ করবেন না। ঘাড়ে ভারী কিছু তোলা থেকে বিরত থাকুন। নিতান্তই দরকার হলে ভারী জিনিসটি শরীরের কাছাকাছি এনে কোমরে চাপ না দিয়ে তোলার চেষ্টা করুন। নিয়মিত শারীরিক অর্থাৎ কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। শারীরিক শ্রমের সুযোগ না থাকলে ব্যায়াম অথবা হাঁটার যতটুকু সুযোগ আছে তাকে কাজে লাগাতে হবে। মোটা ব্যক্তির শরীরের ওজন কমাতে হবে। সবার ক্ষেত্রেই সবসময় ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই জায়গায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকা যাবে না। ঘুমানোর সময় সোজা হয়ে ঘুমাতে হবে। বেশি নড়াচড়া করা যাবে না। ঘুম থেকে ওঠার সময় যে কোনো একদিকে কাত হয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে।

হালকা ব্যথা হলে অবহেলা না করে ওষুধ এবং পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। কোমরে গরম ভাপ দিলে উপকার পেতে পারেন। কোমর ব্যথার বিভিন্ন মলম ব্যবহার করতে পারেন। তবে মালিশ করা যাবে না। ব্যথা তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে অবশ্যই একজন অর্থোপেডিকস, ফিজিওথেরাপিস্ট কিংবা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। ব্যথা তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। অনেকেই মনে করেন, ব্যথা উপশমের জন্য ফিজিওথেরাপি অনেক কাজে লাগে। আমিও বলবো, সঠিক। তবে তার আগে আপনি আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। কম ব্যথা হলে আউটডোর ফিজিওথেরাপি দেয়া হয়ে থাকে। অনেকেই কোমর ব্যথা হলে বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ফেলে। এটা একেবারে ঠিক নয়। বিভিন্ন কারণে কোমরে ব্যথা হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করা প্রয়োজন।

ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনও এমন ওষুধ তৈরি হয়নি যে ওষুধ খেলে আপনার মাংসপেশি লম্বা হবে, শক্তিশালী হবে এবং আপনার জয়েন্ট মবিলিটি বেড়ে যাবে।

লেখক- অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সালাম, অর্থো সার্জন, নিটোর, ঢাকা।

;