জেসিআই ঢাকা মেট্রো’র ২০২৪ সালের বোর্ড গঠিত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) ঢাকা মেট্রো ইতিবাচক পরিবর্তন এবং নেতৃত্ব বিকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ২০২৪ সালের জন্য তার বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ডের জাতীয় লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনে কাজ করে যাবে তারা।

১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল সারাবিশ্বের ১২৪টি দেশের ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা। বাংলাদেশে এর সদস্য সংখ্যা ৬ হাজারেরও বেশি। এই সদস্যরা একত্রে কাজ করছেন কমিউনিটি ও দেশের উন্নয়নে।

তরুণ নেতাদের এই প্ল্যাটফর্ম জেসিআই ঢাকা মেট্রো একত্রিত করেছে বিভিন্ন খাতের প্রতিভাবান তরুণদের, যারা ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনতে নিবেদিত।

ঢাকার বনানীর জেসিআই বাংলাদেশ অফিসে মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) নতুন বোর্ডের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ সালে এই বোর্ড তাদের সকল প্রকল্প পরিচালনা করবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য এবং ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে। এর পাশাপাশি বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেমন- মানসম্পন্ন শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে তারা কাজ করবেন।

জাতিসংঘে কর্মরত মো. শরিফুল ইসলাম এই বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিডিয়া এবং যোগাযোগ খাতে কাজ করে চলেছেন।

বাংলালিংকের কর্পোরেট কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান তৌহিদ আহমেদ এবং ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা আনন্দ কুটুম লোকাল এক্সেকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণ করেন।

বোর্ডে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকছেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফারাবি হাফিজ, ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব বেলাল মুন্না, যোগাযোগ কর্মকর্তা তানজিম ফেরদৌস এবং গবেষক নাইম আরেফিন। সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন উদ্যোক্তা মুস্তাকিম হাসান।

এ ছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন সায়েদ মঞ্জুরুল হক রনি (জেনারেল লিগ্যাল কাউন্সেল), বিশ্বজিত কুমার পাল (ট্রেজারার), ওয়াহিদা জামান সিথি (ট্রেইনিং কমিশনার), এবং এলাহি শুভ (এক্সেকিউটিভ এসিস্ট্যান্ট টু দ্য এলপি)।

পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন, ইমরান হোসেন, রায়হান মাসুদ, সঙ্গীতা অপরাজিতা, আলম পিন্টু, তৌফিক হাসান, দিস ইসলাম রাজ, শাহাদাত হোসেন দীপ্ত, এবং এটিএম রাহাত মোহাম্মাদ।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বোর্ডের প্রেসিডেন্ট মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো, এই বোর্ডের সকলেই যেন কেবল মাত্র একজন সদস্য নয়, বরং প্রত্যেকেই যেন পরিবর্তনের কারিগর হতে পারেন তা নিশ্চিত করা। আসুন আমরা এমন একটি সমাজ গড়ার অঙ্গীকারে একসাথে হই যেখানে নেতৃত্ব ও সম্প্রদায়ের চেতনা বিকাশ লাভ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নেতৃত্বের বিকাশ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে জোর দিয়ে আমরা তরুণদের পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৪ সালে নানারকম কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।’

নবগঠিত বোর্ডের প্রাথমিক ফোকাস হল জেসিআই বাংলাদেশ ভিশন ২০২৪-এর সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে কাজ করা যাতে কমিউনিটির ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলায় তারা ভূমিকা রাখতে পারেন।

তরুণ পেশাজীবীরা ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তরুণ নেতৃত্বে বিশ্বাস করে এবং তারা এই বোর্ড সদস্যদের নেতৃত্ব অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, সংস্থান এবং সুযোগ প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জেসিআই ঢাকা মেট্রোর সাধারণ পরিষদের সময় নতুন বোর্ড ঘোষণা হয়। ইমরান কাদির, ২০২৪ জেসিআই বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট, এসএম নভীর সাদ আকাশ, জেসিআই বাংলাদেশ বিডিসি চেয়ারপার্সন সানামা ফয়েজ, ২০২৩ জেসিআই ঢাকা মেট্রোর লোকাল প্রেসিডেন্ট, জেসিআই বাংলাদেশ ন্যাশনাল গভর্নিং বডির সদস্য এবং জেসিআই ঢাকা মেট্রোর সদস্যরা বোর্ড গঠন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

জেসিআই তরুণ নেতাদের অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যার কাউন্সিল অফ ইউরোপ এবং ইউনেস্কোর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে একটি মর্যাদাপূর্ণ পরামর্শমূলক সম্পর্ক রয়েছে। জেসিআই বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে।

   

‘পুরুষের তুলনায় ৭০ শতাংশ কাজ বেশি করে নারীরা’



স্পোর্টস ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি কাজ করেন নারীরা। পুরুষের তুলনায় ৭০ শতাংশ কাজ বেশি নারীরা করে থাকেন। তারা অফিসও করেন, বাসায় গিয়ে পারিবারিক কাজ ও সন্তানদের লালন পালনও করেন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘নারীদের আনপেইড কেয়ার ওয়ার্কের কোনও মূল্যায়ন নেই। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেটা হবে মানবিক। যেখানে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন ঘটবে। সেজন্য মায়েদের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের জন্য সর্বক্ষেত্রে নারী ক্ষমতায়ন প্রয়োজন।’

বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ আয়োজিত ‘এমপাওয়ারিং ফিউচার: ইনভেস্ট ইন উইমেন টুয়ার্ডস স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

উত্ত সেমিনারে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক জিয়া রহমান, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর উইমেন লিডারশিপের সভাপতি নাসিম ফেরদৌস, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের মহাপরিচালক বিনায়ক সেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক তানিয়া হক, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল, অভিনেত্রী শমি কায়সার প্রমুখ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দেশ উন্নতি লাভ করেছে সেই উন্নয়নের সঙ্গে সমাজ বস্তুকেন্দ্রিক ও মানুষ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। আমরাতো এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করতে চাই না। এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা চাই যা হবে মানবিক, মানুষের আত্মিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। নৈতিক উন্নতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের নলেজের দিকে তাকানো উচিত। এটি না হলে তার সন্তানদের শিক্ষা দিতে পারবেন না। স্কুলের শিক্ষা বা সার্টিফিকেটের শিক্ষার কথা বলছি না। ফিন্যান্সিয়াল এমপাওরম্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ। চাকরিতে শিক্ষায় নেতৃত্ব যারা দিচ্ছেন, তারা ফিন্যান্সিয়ালি এম্পাওয়ারর্ড। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলছি। সেই জায়গায় নারীদের এগিয়ে আনতে হবে। নারীদের টেকনোলজিক্যাল এমপাওয়ারর্ড করা লাগবে।’

বিনায়ক সেন বলেন, “শক্তিশালী নারী নেতৃত্বের পেছনে এনজিওগুলোর শতাংশ অবদান নেই। একটা সময় সিনেমা হয়েছে সত্যজিৎ রায়ের, যেখানে নানা নারী চরিত্রের কথা বলা হয়েছে। মহানগরে দেখা যায় শ্রমজীবী নারীরা কতো কি সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়ে। বেগম রোকেয়া লিখেছিলেন ‘সুলতানাস ড্রিম।’ আমাদের দেশে নারীরা আপেইড কাজের সঙ্গে বেশি যুক্ত। গবেষণায় দেখা যায়, নারীরা ৫০ শতাংশ এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত। পুরুষদের অংশগ্রহণ নেই। শ্রমবাজারে বাংলাদেশের নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ৪২ শতাংশ।’

অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন, ‘রেডিমেড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি একদিকে নারীর মুক্তি রণক্ষেত্র, কিন্তু অন্যদিকে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। নারীকে অনেক শ্রম ঘণ্টা খরচ করে নামমাত্র বেতন ও বোনাস দেওয়া হয়। গ্রাম থেকে অসহায় নারীদের আনা হয়েছিল যারা শ্রম আইন বোঝে না, শ্রমিকের অধিকার বোঝে না। এখনও আমরা নারী দিবস পালন করি কিন্তু নারীর প্রতি শোষনের মানসিকতা থেকে বের হতে পারছি না।’

সাইদা মুনা তাসনিম বলেন, ‘বাংলাদেশে সবক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় নারী নেতৃত্ব বাড়ছে। দেশের ৬০ শতাংশ প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক নারী। সবদিক থেকেই শেখ হাসিনার চিন্তাভাবনা নারীকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। পিতৃতন্ত্র বিশ্বের সর্বত্রই আছে। এটা ভাংতে হলে আমাদের শেখ হাসিনার মতো আরও অনেক নেতা প্রয়োজন।’

;

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তরুণ‌দের দৃপ্ত শপথ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তামাক থে‌কে দূ‌রে থা‌কি/ সুস্থ-সবল প্রজন্ম গ‌ড়ি- এমন দৃপ্ত শপ‌থে ইউল্যাবে অনু‌ষ্ঠিত হ‌য়ে গে‌ল তামাক‌বি‌রোধী যুব সম্মেলন ২০২৪। এতে অংশ নেওয়া দুই শতা‌ধিক তরুণ শিক্ষার্থীরা তামাকের বিরু‌দ্ধে কাজ করার প্রত্যয় জানায়।

পাশাপা‌শি তামাকমুক্ত আগামী প্রজন্ম গড়‌তে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শ‌ক্তিশালী করার আহ্বানও ছিল তা‌দের মু‌খে।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্ট বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এর প্রাঙ্গণে শনিবার (৯ মার্চ ) বেসরকা‌রি স্বেচ্ছা‌সে‌বি সংস্থা নারী মৈত্রী আয়োজিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণে ‘ইয়ুথ কনফারেন্স’-এ প্রধান অতিথি হি‌সে‌বে বক্তব্য রা‌খেন ঢাকা-১০ আস‌নের সংসদ সদস্য চিত্রনায়ক ফের‌দৌস আহমেদ।

এ সময় চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে ধূমপান ও তামাক থেকে দূরে থাকার বিকল্প নাই।’

ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘আজকের তরুণরাই স্মার্ট বাংলা‌দেশ গড়ার হা‌তিয়ার। তাই ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ তামাকমুক্ত দেশ গড়তে তরুণ‌দের ভুমিকা অপরিসীম। তাই আজকের তরুণদের অবশ্যই স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে।’

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকর‌ণে জোর দেয়ার তা‌গিদ দিয়ে এই চিত্রনায়ক বলেন, ‘তরুণদের অংশগ্রহণে তামাক ও ধূমপান বিরোধী প্রচারণাকে আরও বেগবান করতে হবে এবং নিজেদের দক্ষ এবং যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ-এর উপাচার্য ইমরান রহমান বলেন, ‘মূলত তরুণ এবং শিশুদের টার্গেট করে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস উৎপাদন ও বাজারজাত করছে তামাক কোম্পানিগুলো। যেখা‌নে র‌য়ে‌ছে উদ্ভাবনী কৌশল, সুগন্ধি ব্যবহার ও আকর্ষণীয় ডিজাইন। এতে কি‌শোর এবং তরুণদের মধ্যে বিশেষত বিদ্যালয়গামী শিশুদের মধ্যে এসব তামাকপণ্যের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা তরুণ প্রজ‌ন্মের জন্য উদ্বেকজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘হতাশা নি‌য়েই বল‌তে হয় দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দুর্বল হওয়ায় ই-সিগারেট বিক্রি নিয়ন্ত্রিত তো হ‌চ্ছেই না বরং ক্ষতিকারক এসব পণ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের হাতে এটি নিয়ন্ত্রণের কোনও নিয়ন্ত্রক যন্ত্র না থাকায় তরুণ-তরুণীরা ভ্যাপ করে নিকোটিনে জড়িয়ে পড়ছে। তাই এসব ‌ক্ষ‌তিকর ই-সিগারেট, আইন ক‌রে বন্ধ না কর‌লে এর ভয়াবহতা গ্রাস ক‌রে ফেল‌বে আগামী প্রজন্ম‌কে।’

ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস-এর প্রোগ্রামস ম্যানেজার মো. আবদুস সালাম মিয়াহ ব‌লেন, ‘ই-সিগা‌রেট বা ভ্যাপিং সিগা‌রেট ছাড়ার কোনও উপায় হতে পারে না। বরং এটি নতুন আরেকটি নেশায় আসক্ত হওয়ার প্রাথ‌মিক ধাপ। ই-সিগারেট স্পষ্টভাবেই একটি ড্রাগ যা দেশে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই ই-সিগারেট আমদানি অ‌বিল‌ম্বে বন্ধ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্য করে তামাক কোম্পানিগুলো ইউটিউব, ফেসবুক, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে ই-সিগারেটের চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে তামাক কোম্পানিগুলো। এছাড়াও যারা ধূমপান ছাড়তে চায়, তাদেরকে প্রচলিত সিগারেটের বদলে ই-সিগারেট ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। ই-সিগারেটের প্রসার বন্ধে এখনই কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি।’

নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিতে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির সম্মানিত উপ-উপাচার্য, সম্মানিত রেজিস্ট্রার স্যার ও লালমাটিয়া গার্লস কলেজের গার্লস গাইডের শিক্ষার্থীসহ নারী মৈত্রীর তৃণমূল পর্যায়ের তরুণ সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

;

প্লাস্টিক মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দিনব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পিঠা উৎসব



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সবুজায়ন ও প্লাস্টিক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দিনব্যাপী বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব খেলাধুলার আয়োজন করে বিডিডিএল প্রপার্টিজ লিমিটেড। একইসঙ্গে ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলিরও আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীর খিলগাঁওস্থ বিডিডিএল গোল্ড প্যালেস খেলার মাঠে শনিবার (২ মার্চ) ‘কিচিরমিচির’ শিরোনামে দিনব্যাপী এ আনন্দ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বিডিডিএল গোল্ড প্যালেসের দশতলা বিশিষ্ট দুইটি ভবনের ৯০টি পরিবারের শিশুরা এসব খেলায় অংশগ্রহণ করে।

ফিতা কেটে ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিডিডিএল প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বি কে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম এ বাতেন খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, এলা প্যাড-এর প্রতিষ্ঠাতা মামুনুর রহমান, বিডিডিএল প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রকৌশল বিভাগের এজিএম প্রকৌশলী হারুন-অর-রশীদ, হেড অফ সেলস মুসা ইবনে মতিউর প্রমূখ।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় এম এ বাতেন খান বলেন, ‘বর্তমানে ছেলে-মেয়েরা মোবাইল ও ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদেরকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ দিতে চাই। পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনা সৃষ্টি করাই আমাদের মুল উদ্দেশ্য। আমরা চাই, আমাদের শিশুরা সবুজের সঙ্গে পরিচিত হোক, সবুজের সংস্পর্শে বেড়ে উঠুক। আমরা চাই আমাদের আগামী প্রজন্ম গাছ, চিনবে, ফুল চিনবে, ফলও চিনবে। এ সময়ের ছেলে-মেয়েরা অনেক পিঠার নাম জানে না। এমনকি চিনেও না। অথচ পিঠা আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য তাদের সামনে তুলে ধরা এবং তাদেরকে জাঙ্ক ফুডের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।’

তিনি জানান, ২০২৪ সালের মধ্যে ‘প্লাস্টিক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে’ কাজ করে চলেছেন তিনি। পাবনার বেড়া উপজেলার দয়ালনগর গ্রামে বাহারুন্নেসা পাবলিক লাইব্রেরি গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিডিডিএল গোল্ড প্যালেসেও সাড়ে ছয় কাঠা জমিতে খেলার মাঠ করা হয়েছে। এই প্যালেসের ছাদ ছাড়াও চারপাশে প্রায় ২৫০ রকমের নানা প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। শহরের মাঝে সবুজের সাথে আধুনিক বসবাস করছে এখানকার বাসিন্দারা। দোলনা, স্লিপার ও বিভিন্ন রাইড নিয়ে প্লে-লট করা হয়েছে। বড়দের গল্প, আড্ডা ওয়াকওয়ে পর্যাপ্ত জায়গা আছে এই কমপ্লেক্সে।

এখানকার মাঠ, পার্কের নামকরণ করা হয়েছে ক্রিকেট তারকা মাশরাফি, স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, ব্রজেন দাসের নামে। আর ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কর্নার করা হয়েছে, যেখানে বই পড়া, আড্ড দেওয়া, গাছ চেনা এবং জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগগুলো ছিলো-বালির মধ্যে ঘর বানানো এবং উক্ত প্রকল্পের সম্পূর্ণ লে-আউট তৈরি করা, প্রকল্পের বসবাসরত ছেলে মেয়েরা তাদের বিল্ডিং বালি দিয়ে তৈরি করবে এবং তার ফ্ল্যাটের অবস্থান নির্ণয় করবে। এতে তাদের মেধা বিকাশে সহয়তা করবে।

কিচিরমিচির উৎসবের দৌড় প্রতিযোগিতাও ছিল ভিন্ন ধাঁচের। কে দৌড়ে গাছে পানি দিয়ে আগে শুরুর জায়গায় ফিরে আসতে পারবে, সেটাই ছিল প্রতিযোগিতার বিষয়। সবুজের সঙ্গে দুরন্তপনায় বেড়ে উঠুক ছেলে মেয়েরা-এ বার্তা পৌঁছে দিতে এ দৌড় প্রতিযোগিতার শিরোনাম রাখা হয়েছিল ‘রান ফর ট্রি’।

এই খেলার উদ্দেশ্য, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা যেন নিজ বাসায় পাছের যত্ন নেয়া শিখে ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা শিখে। প্লাষ্টিক বর্জ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলাও শেখানো হয়েছে খেলার মাধ্যমে। এই খেলার মাধ্যমে ছেলে-মেয়েরা নিজের পরিবেশকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা শিখেছে।

;

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের গ্রাজুয়েট হলেন ২৫ তরুণ নেতা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আন্তর্জাতিক সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ’ইয়ং লিডার ফেলোশিপ প্রোগ্রামে’ অংশ নিয়ে প্রধান তিন রাজনৈতিক দলের ২৫ জন তরুণ নেতা গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করছেন।

নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত চার মাসব্যাপী ফেলোশিপ প্রোগ্রামটি সফলভাবে সম্পন্ন করায় মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

গ্রাজুয়েটকৃত ফেলোরা দেশের নয়টি জেলা থেকে আসা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় নেতৃবৃন্দ।

ইউএসএআইডি-এর স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ (এসপিল) প্রকল্পের আওতায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ইয়ং লিডারস ফেলোশিপ প্রোগ্রাম বেশ কয়েকবছর ধরে বাস্তবায়ন করছে। এটি ছিলো ফেলোশিপ প্রোগ্রামের ২৩তম ক্লাস। এখন পর্যন্ত দেশের মোট ৫৬১ জন তরুণ রাজনৈতিক নেতা এই কর্মসূচি থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।

আয়োজকরা জানান, ‘ইয়ং লিডারস ফেলোশিপ প্রোগ্রামের লক্ষ্য হল তরুণ নেতাদের রাজনৈতিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা, রাজনৈতিক দলে তাদের অগ্রযাত্রাকে সমৃদ্ধ করা, অন্যান্য রাজনৈতিক দলে তাদের সমকক্ষদের প্রতি সহমর্মিতা বৃদ্ধি এবং পেশাদার সম্পর্ক তৈরি করা যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুণগত পরির্তন আনতে পারে। ইয়ং লিডারস ফেলোশিপ প্রোগ্রাম ইতোমধ্যে বাংলাদেশের তরুণ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বেশ সুপরিচিত কারণ এটি নেতৃত্ব এবং রাজনীতি বিষয়ে শেখার অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে যা সাধারণত অন্য কোথাও সুলভ নয়।’

চার মাসব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষনে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব দক্ষতা, রাজনৈতিক চর্চা, দ্বন্দ্ব নিরসন, দল সুসংগঠিতকরণ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধিকরণ বিষয়ে বিশদ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন অংশগ্রহণকারীরা। এর পাশাপাশি তিন দলের সদস্যরা মিলে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে এক সঙ্গে কাজ করেছেন। যেমন, মেহেরপুর ও ময়মনসিংহের অনুন্নত এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন, সিলেটে একটি সড়কের বর্জ্য পরিস্কার ও ৫০০টি ডাস্টবিন স্থাপন, চাঁদপুর পৌরসভা এলাকায় ডেঙ্গুমুক্ত করতে প্রচারাভিযান পরিচালনা, পটুয়াখালীতে পুকুর পরিস্কারসহ আরও বেশকিছু কার্যক্রম ফেলোশিপের আওতায় সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন ফেলোরা।

গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন প্রধান তিন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

এ সময় দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তারা দেশের নাগরিকদের সেবা করার জন্য ফেলোশিপ কর্মসূচিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্যদের সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের এসপিএল প্রকল্পের চিফ অব পার্টি ডানা এল. ওল্ডস বলেন, ‘ফেলোশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা নেতৃবৃন্দের মধ্যেকার সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ এবং তাদের নিজেদের জেলার সাধারণ মানুষের জন্য এক সঙ্গে কাজ করা প্রমাণ করে যে, ইতিবাচক, জনমুখী রাজনীতি সম্ভব।’

এসপিএল প্রকল্পের চিফ অব পার্টি ফেলোদের হাতে সনদ তুলে দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর লিপিকা বিশ্বাস, প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট রামিসা করিম ও সাবেক ফেলোবৃন্দ।

;