Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা পরিত্যক্ত

৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা পরিত্যক্ত
ছবি: বার্তা২৪
গনেশ দাস
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বাকি ২০০ মিটার রাস্তা করতে না পারায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ৬০০ মিটার রাস্তা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে পরিত্যক্ত এ রাস্তাটি ব্যবহার করা হচ্ছে ধান ও খড় শুকানোর কাজে। এদিকে দীর্ঘ ১৪ বছরেও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির কাজ শেষ করতে না পারায় ব্যয় বেড়েছে আরও ১৩ গুণ।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) ও হাসপাতাল পর্যন্ত সংযোগ সড়কটির কাজ ২০০৪ সালে শুরু করা হয়েছিল। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল উদ্বোধনের পর মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে জরুরি রোগী দ্রুত স্থানান্তর করার সুবিধার্থে ২০০৪ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দুই হাসপাতালের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়।

প্রকল্পের শুরুতে ৬০ ফুট প্রশস্ত ও সাড়ে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ এবং জমি অধিগ্রহণ বাবদ ১৪ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যায় নির্ধারণ করা হয়। সে সময় জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে রাস্তাটির প্রশস্ত কমিয়ে ৪৫ ফুট নির্ধারণ করা হয়। মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের উত্তর পাশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষিণ পাশ ধরে নার্সিং ইন্সটিটিউট এবং এসেনসিয়াল ড্রাগসের উত্তরপাশ দিয়ে গোহাইল রোড হয়ে মালগ্রামের মধ্য দিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের গেটে মহাসড়কের পূর্বপাশে সড়কটি শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্প গ্রহণের পরপরই শজিমেকের দিক থেকে পুর্বদিকে প্রায় ৫০ ফুট প্রশস্ত ধরে ৮০০ মিটারের বেশি দীর্ঘ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সে সময় বরাদ্দকৃত অর্থে অধিগ্রহণকৃত জায়গায় মাটি ফেলে ভরাট করার পর অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় থেমে যায় সকল কার্যক্রম। পরবর্তী বছরগুলোতে এ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কাজ বন্ধ হয়ে থাকে।

প্রকল্পটি প্রথম পর্যায়ে না করায় পরের বছর এর ব্যয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে। কাজ না হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বাড়তেই থাকে। এক সময় প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮০ কোটি টাকায়। কিন্তু প্রকল্পটি বাতিল না হওয়ায় ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়। বরাদ্দকৃত অর্থে সড়ক বিভাগ অধিগ্রহণকৃত জায়গায় ৮১০ মিটার রাস্তা কার্পেটিংয়ের কাজ করে।

৮১০ মিটার রাস্তার কাজ হওয়ার পর আবার অনিশ্চয়তায় পড়ে প্রকল্পটি। ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় বগুড়ার বেশ কয়েকটি উন্নয়ন কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার ঘোষণা দেন। এর মধ্যে এই সড়কটি ছিল অন্যতম।

পরে ২০১৮ সালের শেষের দিকে প্রকল্পের জন্য নতুন করে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় ১৩ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ৮০ কোটির বেশি টাকা ধরা হয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ।

বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান বার্তা২৪কে বলেন, ‘এ প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। জমির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে আশা করা যাচ্ছে আগামী অর্থ বছরে কাজ শুরু করা যাবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

রাষ্ট্রপতি এরশাদের জন্য ৮ আনার পতাকা

রাষ্ট্রপতি এরশাদের জন্য ৮ আনার পতাকা
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

সদ্য প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তাঁর জন্য আট আনা (পঞ্চাশ পয়সা) খরচই তখন আমার মতো প্রাথমিকে পড়ুয়ার জন্য ছিল বেশি। তবুও তিনি রাষ্ট্রপতি, সেনাবাহিনীর প্রধান। তাইতো সেদিনে তাঁকে সম্মান জানাতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলাম আট আনার জাতীয় পতাকা নিয়ে। তখন আমি প্রাথমিকের একেবারেই নতুন ছাত্র।

দিনক্ষণ মনে পড়ে না। তবে স্মৃতিতে যুতটুকু আসে তাতে ১৯৮৮ বা ১৯৮৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের কোনো একদিন সকালে। তখন রাস্তাঘাটের তেমন উন্নতি হয়নি।

ঢাকা থেকে সড়ক পথে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ রংপুর যাচ্ছিলেন। তখন আরিচা থেকে ফেরি যোগে নগরবাড়ী পার হয়ে উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করতে হতো। আগের দিন স্কুল থেকে জানানো হল- রাষ্ট্রপতি এরশাদ পাবনা হয়ে রংপুরে যাবেন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তাঁকে সম্মান জানাতে হবে।

সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা। রাত শেষে সকাল আসল। তখন আমি পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের টেবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর (ছোট্ট ওয়ান) ছাত্র। স্কুলে যাওয়ার পরপরই সবাইকে রাস্তার পাশে নিয়ে দাঁড় করানো হলো।

এর আগে, রাষ্ট্রপতি যাবার আগের দিন আমাদেরকে ক্লাসের স্যাররা বলেছিলেন, রাস্তায় দাঁড়ানোর আগে জাতীয় পতাকা সবার হাতে থাকতে হবে। তিনি যাবার সময়ে ঐ পতাকা নাড়তে হবে।

টেবুনিয়া বাজারের সোনাই চাচার দোকান থেকে আট আনা দাম দিয়ে একটি জাতীয় পতাকা নিলাম। কিন্তু তার আগে আমাকে একটি পাটকাঠি (সোলা) নিয়ে যেতে হয়েছিল সোনাই চাচার দোকানে। তিনি দেড় হাত পাটকাঠি ভেঙে তার মাথার উপরে সবুজ কাগজ আর মাঝখানে লাল বৃত্তের মতো লাল কাগজ লাগিয়ে দিলেন আঠা দিয়ে।

আমিসহ আমার সহপাঠীরা সবাই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম সকাল থেকে। স্যাররা মাঝে মধ্যেই এসে বলতেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি চলে আসবেন। তোমরা অপেক্ষা কর।

ততক্ষণে স্কুলের মাঠে বুড়ো চাচার বরফ কয়েকটি খেয়ে ফেলেছি। এক একটি বরফ ছিল ১০ পয়সা। তখন মনে হয়েছিল আট আনা দিয়ে জাতীয় পতাকা না কিনে পাঁচটি বরফ খেলেও তো হতো।

প্রচণ্ড রোদ ছিল। সে সময়ে বেলা সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হতো ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে ছেড়ে আসা নৈশকোচগুলোর বেপরোয়া যাওয়া-আসা।

রাস্তার পাশে দাঁড়ালেও তখন রাস্তা ছিল খুব সরু। বিপরীতমুখী দুটো গাড়ি পার হলে যেকোন একটি রাস্তার নিচে ধুলোয় চলে আসত। আর নৈশকোচগুলো যাবার সময়ে দিয়ে যেতো প্রচুর ধুলা।

মনে পড়ে সকাল সাড়ে ৯টায় স্যাররা আমাদের রাস্তায় দাঁড় করিয়েছিলেন। দুপুরের পর তিনি একটি কালো রংয়ের হুড খোলা জিপ নিয়ে গাড়িবহর যোগে পার হলেন ধীরগতিতে। এ সময় হুড খোলা স্থানে দাঁড়িয়ে তিনি সবাইকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে চলে গেলেন টেবুনিয়া ছেড়ে।

দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, সোনাই চাচার দোকানের জাতীয় পতাকা, বুড়ো চাচার বরফ, রাস্তার গাড়ি দেখা, ধুলা খাওয়া আর রাষ্ট্রপতি এরশাদকে স্বচক্ষে দেখা। সবই এখন ইতিহাসের মতো লাগছে। খারাপ লাগছে, সেই ব্যক্তি আজ আমাদের মাঝ থেকে চিরদিনের জন্যই না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিলেন। কিন্তু রেখে গেলেন নানা স্মৃতি। তাঁকে যখন কবরস্থ করা হচ্ছিল, গণমাধ্যমে এমন দৃশ্য চোখে পড়তেই ভেসে উঠল পুরনো সেই স্মৃতি।

বাবাকে বাঁচাতে দিনে পাঁচ বেলা খায় ছোট্ট ল্যু জিকুয়ান

বাবাকে বাঁচাতে দিনে পাঁচ বেলা খায় ছোট্ট ল্যু জিকুয়ান
ল্যু জিকুয়ান, ছবি: সংগৃহীত

লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত বাবাকে রক্ষা করতে দিনে অন্তত পাঁচ বেলা খাচ্ছে ১১ বছরের ছেলে ল্যু জিকুয়ান।

চীনের শিনচিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা ল্যু জিকুয়ানের বাবা ল্যু ইয়ানহেংয়ের লিউকোমিয়া রোগ ধরা পড়ে সাত বছর আগে। তারপর ওষুধের মাধ্যমেই চিকিৎসা চলছিল। গত আগস্টে তার অবস্থার অবনতি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন পড়ে। পরে চিকিৎসকরা জানান যে বোন মেরো ট্রান্সপ্লান্টই (অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন) তার একমাত্র দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা। পরিবারের মধ্যে শুধুমাত্র ল্যু জিকুয়ানই পারে বাবার বোন মেরো ডোনার হতে। কারণ শুধু তার সঙ্গেই সব ম্যাচ করেছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ল্যু জিকুয়ানের ওজন কম। গত মার্চে সে ছিল মাত্র ৩০ কেজি। বোন মেরো ডোনার হতে হলে তার ওজন অন্তত ৫০ কেজি হতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাই ল্যু জিকুয়ানের ওজন বাড়াতে উঠে পড়ে লেগেছে পুরো পরিবার। এরপর সে ওজন বাড়াতে দিনে অন্তত পাঁচ বেলা খেতে শুরু করেছে।

বর্তমানে (গত ১২ জুলাই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সাংহাই.আইএসটিতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী) তার ওজন ৪৮ কেজি।  ওজন বাড়াতে ল্যু জিকুয়ান মূলত বেশি করে চর্বিযুক্ত মাংস ও ভাত খেয়ে থাকে। তার মা যে মুদি দোকানে কাজ করেন, সেখান থেকে তিনি ডিসকাউন্টে মাংস কিনে ছেলেকে রান্না করে খাওয়ান।

1
বাবার সঙ্গে ল্যু জিকুয়ান, ছবি: সংগৃহীত

 

ল্যু জিকুয়ানের শিক্ষক ঝাও মেং-মেং জানান, হঠাৎ ল্যু জিকুয়ান মোটা হতে থাকায়, তার কিছু সহপাঠী তাকে মোটা মোটা বলে খেপাতে শুরু করেছিল। তবে এতে মোটেই রাগ করত না ল্যু জিকুয়ান। পরে ল্যু জিকুয়ানের মোটা হওয়ার কারণ জানার পর সবাই তাকে খেপানো বন্ধ করে। ল্যু জিকুয়ানের বিদ্যালয় তার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে ল্যু জিকুয়ান জানায়, মোটা বলায় সে মোটেও রাগ করত না। কারণ তার লক্ষ- আগে বাবাকে রক্ষা করি, পরে ওজন কমাব।

এ খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কংউই উইজার্ড নামে একজন নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ল্যু জিকুয়ানের উদ্দেশে লিখেছেন, এতো অল্প বয়সে অনেক মহৎ দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছ, তুমি অসাধারণ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র