Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সানস্ক্রিন ব্যবহারে কি ‘ভিটামিন-ডি’ বাধাপ্রাপ্ত হয়?

সানস্ক্রিন ব্যবহারে কি ‘ভিটামিন-ডি’ বাধাপ্রাপ্ত হয়?
সানস্ক্রিন ব্যবহারে রোদের ক্ষতিকর প্রভাব দূরে থাকে, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

শুধু গ্রীষ্মকালেই নয়, পুরো বছর জুড়েই বাইরে বের হওয়ার আগে সান্সক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় সবাইকে।

কারণটা হলো রোদের আলোর ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রে তথা অতিবেগুনি রশ্মি।

রোদের প্রখর এই আলো ও ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের ক্যান্সার সহ ত্বকে পোড়াটে ভাব তৈরি করে। নিজেকে রোদের আলোর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা আবশ্যিক।

এখানে একটা বিষয়ে ছোট ‘কিন্তু’ রয়েই যায়। একদিকে রোদের আলোর ক্ষতিকর প্রভাব, অন্যদিকে এই রোদের আলো থেকেই পাওয়া যায় শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ প্রয়োজনীয় ভিটামিন-ডি। এমনকি প্রাকৃতিকভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-ডি পাওয়ার প্রধান উৎসও হলো এই রোদের আলো।

এক্ষেত্রে দ্বিধাদন্দে পরে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। যে রোদের আলো সুস্বাস্থ্য আনে, সেই একই রোদের আলো ক্যান্সারের কারণ!

মূলত এ কারণেই ব্যবহার করতে হবে ভালো মানের সানস্ক্রিন। অনেকে ভাবতেই পারেন, সানস্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ত্বকের মাধ্যমে শরীরে রোদের আলোর ভিটামিন-ডি প্রবেশে বাধা পাবে। ফলে শরীরে ভিটামিন-ডি এর অভাব রয়ে যাবে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডন, অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া তিনটি ভিন্ন গবেষণার ফলাফল জানাচ্ছে চমৎকার এক তথ্য। ব্রিটিশ জার্নাল অফ ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত হওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, সানস্ক্রিন রোদের আলোর ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে প্রতিরোধ করবে, কিন্তু তার উপকারি ভিটামিন-ডি শরীরে প্রবেশে কোনপ্রকার বাধা দান করবে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/10/1557466543270.jpg
সানস্ক্রিন ব্যবহারে রোদের ক্ষতিকর প্রভাব দূরে থাকে।

 

লন্ডনের কিংস কলেজের প্রফেসর ও গবেষণাটির প্রধান লেখক অ্যান্টনি ইয়াং বলেন, ‘রোদের আলো হলো ভিটামিন-ডি এর প্রধান উৎস। সানস্ক্রিন ব্যবহারে সানবার্ন ও স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে শরীরে ভিটামিন-ডি প্রবেশের ক্ষেত্রে সেটা কোন বাধা প্রদান করে না। আমাদের গবেষণার কাজে একদম সঠিক আবহাওয়ায় সানস্ক্রিন রোদেপোড়াভাব তৈরিতে বাধা দেয়। তবে তা শরীরে ভিটামিন-ডি তৈরিতে কোন সমস্যা করে না’।

গবেষণাটির জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের দুইটি ভিন্ন দল তৈরি করা হয়। সবাইকেই উজ্জ্বল রোদযুক্ত স্থানে পুরো এক সপ্তাহ কাটানোর জন্য পাঠানো হয়। এর মাঝে একটি দলের স্বেচ্ছাসেবীদের সঠিক মাত্রার ইউভিএ (UVA) প্রটেকশন সমেত সঠিক নির্দেশনা দেওয়া হয় সানস্ক্রিন ব্যবহারের জন্য। আরেকটি দলকে কোন ধরনের বিশেষ সানস্ক্রিন ও নির্দেশনা দেওয়া হয় না। তারা নিজেদের পছন্দমতো সানস্ক্রিন ব্যবহার করেছেন।

৪৮ ঘন্টা আগের ও পরের ফলাফল থেকে দেখা গেছে, উভয় দলের স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরেই লক্ষণীয় মাত্রায় ভিটামিন-ডি তৈরি হয়েছে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরেও। তবে যারা সঠিক সানস্ক্রিন নির্দেশনা মাফিক ব্যবহার করেছেন তাদের শরীরে কোন রোদেপোড়া ভাব তৈরি হয়নি। অন্যদিকে যারা নিজেদের ইচ্ছামতো সানস্ক্রিন ব্যবহার করেছেন, তাদের শরীরের কিছু অংশে পোড়াভাব তৈরি হয়েছে।

ফলে বলা যায় সঠিক নিয়মে ও সঠিক ইউভিএ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহারে রোদের ক্ষতিকর প্রভাবের হাত থেকে নিজেকে খুব সহজেই রক্ষা করা সম্ভব এবং একইসাথে রোদের আলো থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন-ডি গ্রহণেও থাকবে না কোন সমস্যা।

আরও পড়ুন: সানস্ক্রিনের সাত-পাঁচ তথ্য

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র