Alexa

সারথি

সারথি

অলঙ্করণ শতাব্দী জাহিদ

অনুবাদ ফজল হাসান

গেইটওয়ে অব ইন্ডিয়া ঘাটের জেটি থেকে দিনের প্রথম বাষ্পচালিত ফেরী সকাল সাড়ে সাতটায় এলিফ্যান্টা কেইভ-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তাই মারুতিকে সকাল সাড়ে ছ’টার মধ্যে সেখানে হাজির হতে হয়। তার দৈনিক কাজকর্ম নির্ধারিত, যেমন ফেরীর পাটাতন ঝাড়ু দেওয়া, আগের রাতের যাত্রীদের ফেলে যাওয়া ময়লা জিনিসপত্র তুলে নেওয়া এবং সবশেষে পাটাতন ধুয়েমুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা। এক ফেরীর কাজ শেষ করেই সে অন্য ফেরীতে যায়। এই হলো তার নিত্যদিনের সাত-সকালের ধরাবাঁধা কাজের তালিকা।

মারুতির কাজে মনিব নারাসিংঘা রাও বেজায় খুশি, তবে তার মুখ অত্যন্ত জঘন্য। নিজের জিহ্বার প্রতি কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং অশ্রাব্য গালিগালাজ লেগে থাকে ঠোঁটের ফাঁকে। তবে একথা সত্যি যে, সে যেসব শব্দ উচ্চারণ করে, আসলে তা বোঝাতে চায় না। কিন্তু তার প্রতিটি কথাই মারুতির কানে অশ্লীল শোনায়। নারাসিংঘা রাওয়ের পরনের লুঙ্গি উরুর উপরে বাঁধা থাকে। তার কপালে ছয়-আঙুল প্রশস্ত একটা বিশাল তিলক। সেখানে সে মলম মাখে। নিশ্চয়ই সে খুব সকালে ঘুম থেকে জেগে ওঠে।

মারুতির ধোয়ামোছার কাজ শেষ হলে ফেরীতে চড়ার জন্য নানান কিসিমের মানুষ এসে জেটিতে লাইন ধরে দাঁড়ায়। বিদেশি পর্যটকেরা, বিশেষ করে আমেরিকা এবং জাপান থেকে আগত, তাদের ট্যুর গাইডের তত্ত্বাবধানে দল বেঁধে জড়ো হয়। দিনের প্রথম ফেরীতে আরোহণ করার জন্য প্রায় সময়ই জেটির অনতিদূরে তাজ হোটেল থেকে পর্যটকরা ধীরেসুস্থে বেরিয়ে এসে জেটিতে পৌঁছে। তাদের হাতে থাকে ছোট ব্যাগ, মাথায় বিভিন্ন ধরনের হ্যাট এবং কাঁধে ঝোলানো থাকে ক্যামেরা ও বাইনোক্যুলার। দ্বিতীয় ফেরীতে কাজ করার সময় মারুতির মনে প্রথম ফেরীতে কাজ করার স্মৃতি মনে থাকে না। প্রথম ফেরী ছেড়ে যাওয়ার পরপরই যাত্রীরা দ্বিতীয় ফেরীতে ওঠার জন্য রীতিমত হুমড়ি খেয়ে পড়ে, এমনকি অনেক সময় মারুতির কাজ শেষ করার আগেই তারা উঠতে শুরু করে। তখন মারুতির চেহারা বিগড়ে যায়। কেননা দ্বিতীয় ফেরীর যাত্রীরা সৌখিন এবং ভদ্র নয়। উল্টোদিকে তাদের চাহিদা অনেক বেশি। তাই সে সকলের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ না করে বরং হালকাভাবে অভিসম্পাত দেয়। ক্রমশ যাত্রীদের ওপর বিরক্তি জমা হয়ে ভারি হতে থাকে এবং তা তার শরীরের চামড়ায় কষাঘাত করে। রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কষাঘাত আরো বেশি প্রকট হয়।

নারাসিংঘা রাও তিনটি ফেরীর মালিক। তার সবগুলো ফেরী গেইটওয়ে এবং এলিফ্যান্টার মাঝে যাতায়াত করে। ফেরীগুলো একপাশের যাত্রীদের উদরে পুরে অন্য পাশে নিয়ে উগড়ে দেয়। শুধু মেঝেতে পড়ে থাকে আবর্জনা, যেমন চানাচুরের খালি প্যাকেট, চিনাবাদামের খোসা, কমলার খোসা, চকলেট মোড়ানোর কাগজ, ক্যান্ডি, যাত্রীদের উদগীরণ, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির খালি প্যাকেট, ভাঙা নেকলেসের পুঁতি, কারো ফেলে যাওয়া টুপি এবং অন্য কারো রুমাল। এসব জিনিসপত্র তুলে পরিষ্কার করতে মারুতির হাত প্রায় অবশ হয়ে যায়।

সমুদ্রের পানিতে কোনো কিছু ছুঁড়ে ফেলার জন্য যাত্রীদের অনুমতি নেই। কিন্তু যাত্রীরা আকছার তাই করে। মারুতির চোখে পড়লেও সে কখনোই কাউকে বাধা দেয় না। যাত্রীরা যদি তার কাজ কিছুটা লাঘব করতে চায়, তাহলে সে বাধা দেওয়ার কে? ফেরীর পাটাতন থেকে বমি পরিষ্কার করা সবচেয়ে কঠিন কাজ। যারা জীবনে প্রথম সমুদ্র যাত্রা করে, প্রধানত তাদের মাঝেই বমি করার প্রবণতা বেশি। অনেকে রেলিংয়ের ওপর ঝুকে পড়ে এবং সেখানেই উদগীরণ করে। অনেক সময় তারা নিজেদের কাপড়চোপড়ে, এমনকি বসার বেঞ্চিতেও বমি করে। জোয়ারের সময় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়। তখন যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই যে সমস্ত খাবার গলাধঃকরণ করে, পুরোটাই উগড়ে দেয়। নারাসিংঘা রাও যাত্রীদের সতর্ক করে দিয়েছে যে, যারা বমি করবে, তারা তৎক্ষণাৎ ট্যাঙ্ক থেকে পানি তুলে নিজেরা পরিষ্কার করবে। প্রতিদিন নিচু হয়ে পাটাতন থেকে বমি সাফ করার জন্য মারুতির পিঠের ব্যথা বেড়ে দ্বিগুণ হয়। মাঝে মাঝে মনিব তাকে তাড়িয়ে দেয়। এসব ফেরীতে সে নিচুশ্রেণির লোকজনের মধ্যেও নিম্নতম—সে আসলে মেথর—সাধারণ ঝাড়ুদার। সুতরাং যাত্রীরা যা চায়, তারা তাই করতে তাকে বাধ্য করে। ফেরীর সারেং বাক্স করে দুপুরের খাবার নিয়ে আসে, কিন্তু সেই খাবার সে থালায় নিয়ে খায়। মারুতি ময়লা লাঞ্চবাক্স এবং থালাবাসন ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে এবং ঝুড়িতে রাখে, যেন বিকেলে যাওয়ার সময় সারেং বাড়ি নিয়ে যেতে পারে।

উত্তাল সমুদ্রের মাঝে মারুতি প্রতিদিন পুরো দশঘণ্টা কাজ করে। ফেরী যখন অন্য ঘাটে পৌঁছে, তখন কঠোর পরিশ্রমের জন্য তার হাড়মাংস ব্যথা করে। সেই সময় কাজ করার মতো শরীরে কোনো শক্তি থাকে না।

মারুতির মাকে নারাসিংঘা রাও কটূক্তি করেছে এবং জবাবে মারুতির মা বলেছে, ‘তাহলে আপনি কেন ফেরী পরিষ্কার করেন না … তা নাহলে সকালে আপনি নিজেই নিজের পাছা চাপড়াবেন।’

মালিকের কথার পিঠে কথা বলার শক্তি নেই মারুতির। সে শুধু আকারে-ইঙ্গিতে বলল, ‘সকালে … এখন শ্বাস ফেলার মতো শক্তি নেই।’ তার মনে হয়, সমস্ত অঙ্গপত্যঙ্গ যেন প্রাণহীন।

জনতার ভীড়ের মাঝে ফাঁকফোকর গলিয়ে মারুতি কোনোভাবে চার্চগেইটের কাছে পৌঁছে। তারপর সে স্থানীয় ট্রেনে চড়ে। ক্লান্তিতে তার শরীর নুইয়ে পড়ে এবং চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসে। যোগেশ্বরীতে যাত্রীরা প্রায় তাকে ধাক্কা দিয়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়। এ-টা নিত্যদিনের ঘটনা।

মারুতি কোনোভাবে শরীরে সামান্য শক্তি সঞ্চয় করে এবং রীতিমত টলতে টলতে বড় রাস্তার পাশে উঁচু জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানে শহরতলী সাওয়ান্ত নগরে যাওয়ার ১০৯ নম্বর বাস থামে। অন্য সব দিনের মতো তুলসিবাই কলসি থেকে চকচকে বাটিতে পানি ঢালে এবং হাতে নিয়ে বলে, ‘ক্লান্ত? এই নাও, খাও।’

মারুতি কনুই দিয়ে দেহের ভর রক্ষা করে এবং এক নিঃশ্বাসে পুরো বাটির পানি পান করে। তার মনে হয়, পান করা পানি যেন গলা ভিজিয়ে মুহূর্তেই শরীর-মনকে শীতল করেছে।

তুলসি এসে মারুতির পাশে খাটিয়ায় বসে এবং ব্যথায় কাতর পায়ে চাপ দিয়ে দিনের সব ঘটনা একের পর এক বলতে শুরু করে।

শ্বশুরবাড়ি থেকে লক্ষী এসেছে। ওর শ্বশুর-শাশুড়ি নাসিকে গিয়েছে।

মারুতি চোখের পাতা বন্ধ করে। পলকে মুহূর্ত সময় চলে যায়। তুলসি আরেকবার বলল, ‘ছোট্টি খুব দুষ্ট হয়েছে … ভাবতে পারো, আমাকে সে নানী ডাকে! এবং তোমাকে তোমার নাম ধরে ডাকে। সে জিজ্ঞাসা করে, তুমি কখন আসবে … আধো বুলি এবং তোতলামির ভঙ্গিতে বলে, ‘মালুতি কখন আসবে? কখন?’

মারুতির দুশ্চিন্তাপীড়িত মুখমণ্ডলে এক টুকরো হাসি ফুটে উঠে, যা তার সারা মুখের ওপর জমে থাকা ক্লান্তির রেখা মুছে দেয়।
‘সে হিন্দীতে কথা বলে!’
‘ওহ্, হ্যাঁ।’
‘মারাঠি শিখেনি?’
‘শিখে নিবে। এখনও ঢের সময় আছে।’
মারুতির শরীর থেকে সারাদিনের ক্লান্তি-অবসাদ ক্রমশ মিলিয়ে যেতে থাকে। ভাঁজ করা বাহুর ওপর সে মাথা এলিয়ে দেয়।
‘ওরা কেমন করে ফিরে গেছে?’
‘ওরা যায়নি … সিনেমা দেখতে গেছে।’
‘ছোট্টিও?’
‘পুচকি দুষ্টটা এক মুহূর্তের জন্যেও মাকে কোথাও যেতে দেয় না। মা কী করবে? তাই ওরা সঙ্গে করে নিয়ে গেছে।
মারুতি ঘোঁতঘোঁত করে একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে নেয় বুকের ভেতর।
‘এবং কার্তিক? সে কোথায়?’
‘আজ আবারও সে স্কুলে কার সঙ্গে মারামারি করেছে।’
‘হারামজাদা …!’
মারুতি চট করে ঘোরে এবং উঠে দাঁড়ায়।
‘হতচ্ছারা, প্রতিদিন স্কুলে মার খায় এবং বাড়ি আসে … ভিতু কোথাকার। ঘটি। মারাঠিদের জন্য সে রীতিমত লজ্জাজনক!’
তুলসিও উঠে দাঁড়ায়।
‘যাও … হাত-মুখ ধুয়ে এসো … আমি পোহা রান্না করেছি … সামান্য খেয়ে নাও।’

মারুতি একটা তোয়ালে টেনে নেয় এবং স্নান করার জন্য এক কোণে মাথা নিচু করে বসে। ‘আমার ধূতি-কুর্তা নিয়ে এসো,’ সে বলল।

চুলায় আগুন জ্বলছে। বাতিও জ্বলছে। ঘরের ভেতর মারুতি হাত ভাঁজ করে মূর্তির সম্মুখে উপাসনা করে এবং বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়ে। তার পরনে ধোওয়া ধূতি-কুর্তা।

কার্তিক ঘরে প্রবেশ করে। মারুতি রীতিমত কার্তিকের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং দু’হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে হালকাভাবে বিছানায় ছুঁড়ে দেয়। তারপর সে কার্তিককে চেপে ধরে আদর করে।
‘এসো, দুষ্ট। এসে আমার সঙ্গে কুস্তি করো।’

কার্তিকের সুড়সুড়ি লাগে ।

মারুতি বলল, ‘কাল থেকে শরীরে সরিষার তেল মাখবে, আখড়ায় যাবে এবং সেখানে কুস্তি শিখবে।’
কার্তিক হাসতে থাকে। বাতাসে কেরোসিনের জ্বলন্ত চুলার শোঁ শোঁ শব্দের মাঝেও তুলসি সব কিছু শুনতে পেয়ে বলল, ‘কেন ওকে এসব বাজে জিনিস শেখার কথা বলছো?’
‘ওকে আমি সঠিক জিনিস শেখার কথাই বলেছি। একজন মারাঠির ছেলে হবে অতিশয় বুদ্ধিমান মারাঠি।’

বাবু দরজার বাইরে এসে দাঁড়ায় এবং ঘর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মারুতিকে ডাকে।

‘কী বললে, মারুতি? পাটকারের সভায় যেতে চাচ্ছো?’
খোলির ভেতর থেকে মারুতি বলল, ‘হায় কপাল, তোমার কি আদৌ কোনো ধারণা আছে যে, লোকজন সেখানে কেন যায়? আমার বউ বলেছে, ওখানে গিয়ে তোমরা সবাই আন্ডা চুলকাও।’
হেঁশেল থেকে তুলসি দু’জনকেই অভিসম্পাত করে, ‘ধিক্, তোমাদের দূর্ভোগ!’

মারুতি বের হয়ে আসে।

‘শুনেছো, বউ কী বলেছে?’

স্থানীয় মদিরার কারখানায় সভা শেষে তারা বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। তারা বাবা আমবেটকার থেকে মেধা পাটকার, চবন থেকে পাওয়ার—সবাইকে নিয়ে চুলচেরা আলোচনা-সমালোচনা করে।

মাঝ রাতে যখন কয়েকজন মাতাল সরু রাস্তার নিস্তব্ধতাকে ভেঙে চুরমার করে, তখন তুলসি বিছানা ছেড়ে ওঠে। সে চুলা জ্বালিয়ে পুনরায় খাবার গরম করে। বারান্দার তার মেয়ের জামাই ঘুমিয়েছে। মারুতির বিছানা মেয়ের জামাইয়ের পাশে। মারুতি ঘরের ভেতর ঢোকে এবং আপন মনে হাসে। কার্তিক কাঠের বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। লক্ষীও গভীর ঘুমে বিভোর। তার পাশেই পিচ্চিটা দোলনায় ঘুমিয়ে আছে। মারুতি পিচ্চির মাথায় হাত রাখে এবং গাল টিপে। তারপর পিচ্চির ঠোঁট টিপে সে অনুকৃতি করে বলল, ‘মালুতি এসেছে।’

তুলসি তিরস্কারের ভঙ্গিতে বলল, ‘ওকে ঘুমাতে দাও। এখন জাগাতে হবে না।’

লক্ষী জেগেছে। সে বাবাকে জড়িয়ে ধরে। ছোট্টিও উঠে গেছে। কার্তিক অন্যপাশে ঘুরে শোয় এবং বিড়বিড় করে, ‘বাপু!’ মেয়ের জামাই মাথা নুইয়ে মারুতির পা ছোঁয়।

এখন মারুতি নিচুশ্রেণির লোকজনের মধ্যে নিম্নতম নয় … এমনকি মেথরও নয়। সে পুরো পরিবারের ক্যাপ্টেন, একজন সারথি, যে সাতটি ঘোড়ায় বাঁধা রথের চালক।

[মূল গল্পে পাদটীকা নেই। পাঠকের সুবিধার্থে অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যা দেওয়া হলো। - অনুবাদক]।
ব্যাঙ্গাত্বক শব্দ, যা মহারাষ্ট্রের বংশধর কিংবা সেই এলাকার লোকজনকে কৌতুক করে বলা হয়। সাধারণত সংস্কৃতিহীন এবং অশিক্ষিত লোকদের বোঝাতে ‘ঘটি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
চিড়া দিয়ে তৈরি একধরনের হালকা খাবার। অল্প ভাজা চিড়ার সঙ্গে বাদাম, মনাক্কা, এলাচি এবং স্বাদ অনুযায়ী চিনি মিশিয়ে মধ্যপ্রদেশে সকালের নাস্তা হিসাবে পোহা খাওয়ার রেওয়াজ আছে। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে হালকা ভাজা সরিষা, হলুদ, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজকুচি ও বাদামের সঙ্গে চিড়া ভেজে মশলাযুক্ত ঝোলের সঙ্গে মিশিয়ে পোহা রান্না করা হয়। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে পুদিনার চাটনি দিয়েও নাস্তা হিসাবে পোহা খাওয়া হয়।
যেখানে থাকা-খাওয়ার সঙ্গে ভারতীয় মার্শাল আর্টস্ শেখানো হয় অথবা ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করে সন্ন্যাসী হওয়া যায়।
মারাঠি বা হিন্দিতে এক কক্ষের ঘর। তবে অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপার্টমেন্টের প্রতিশব্দ হিসাবেও ব্যবহার করা হয়।

গুলজার ভারতের প্রথিতযশা গীতিকার, চিত্রনাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, কবি, ছোটগল্প লেখক এবং ঔপন্যাসিক। তাঁর আসল নাম সাম্পুরাণ সিং কালরা। তৎকালীন অখণ্ড ভারতের পাঞ্জাব (বর্তমানে পাকিস্তানে) প্রদেশের ঝিলাম জেলার দিনা শহরে তিনি ১৯৩৪ সালের ১৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। মূলত হিন্দি, উর্দু এবং পাঞ্জাবি ভাষায় সাহিত্য রচনা করলেও ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় লেখালেখি করেন। ‘টু’ তাঁর একমাত্র উপন্যাস, যা ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পরে শরণার্থীদের করুণ কাহিনী নিয়ে রচিত। তিনি তিনটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। ‘রাভি পার অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ (১৯৯৭) এবং ‘হাফ এ রুপি স্টোরিজ’ (২০১৩) ইংরেজিতে প্রকাশিত তাঁর ছোটগল্প সংকলন। তবে ‘রাভি পার অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ থেকে চারটি গল্প নিয়ে ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছে ‘সীমা অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’। কাব্যিক ভাষায় চরিত্র চিত্রণের, বিশেষ করে শব্দ প্রয়োগের, জন্য তাঁকে ‘মাস্টার ওয়ার্ডস্মিথ’ বা ‘শব্দ কারিগর’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।

গুলজারের কর্মজীবন শুরু হয়েছে সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে। পরবর্তীতে তিনি গীতিকার, চিত্রনাট্যকার এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসাবে সুপরিচিতি লাভ করেন। গীতিকার হিসাবে তিনি ২০০৪ সালে ‘পদ্ম ভূষণ’ এবং ২০০২ সালে ‘সাহিত্য অ্যাকাডেমি’ পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারসহ একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। ‘স্লামডগ মিলিনিয়র’ চলচ্চিত্রের গান ‘জয় হো’ সঙ্গীত রচনার জন্য তিনি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড এবং গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেছেন। তিনি ২০১৩ সালের এপ্রিলে আসাম ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলার হিসাবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালে বলিউডের বিখ্যাত নায়িকা রাখীর সঙ্গে ‘সাত পাকে বাঁধা’ পড়েন।

গল্পসূত্র
‘সারথি’ গল্পটি গুলজারের ইংরেজিতে অনূদিত ‘দ্য চ্যারিওটিয়্যার্স’ গল্পের অনুবাদ। হিন্দি থেকে গল্পটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন সঞ্জয় শেখর। গল্পটি লেখকের ‘হাফ এ রুপি স্টোরিজ’ ছোটগল্প সংকলন থেকে নেওয়া।