রণাঙ্গনের অনাকাঙ্ক্ষিত একটি দুর্ঘটনা



সার্জেন্ট (অব.) সৈয়দ জহিরুল হক
গ্রাফিক বার্তা২৪.কম

গ্রাফিক বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের স্মৃতি ১জয়দেবপুরের গণ বিক্ষোভ
ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের স্মৃতি ২আশুগঞ্জের বিমান হামলা
ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের স্মৃতি ৩সিলেটের মাধবপুরের যুদ্ধ


একবার ক্যাপ্টেন নাসিম সাহেব আমাকেসহ ১০/১৫ জনের একটি ছোট দল তৈরি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেট রোডের ওপর একটি এন্টি ট্যাঙ্ক মাইন লাগানোর জন্য পাঠিয়ে দিলেন। সেই দলে ছিলেন সুবেদার মনির আহমেদের নেতৃত্বে বিকিউএস এইচ ফরাজ, বিডিআর মোস্তফা, সিপাহী আবু জাফর, ইসহাক ও আব্দুল জলিল। আমিও সে দলে ছিলাম। রাত ১১টার পর আমরা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে পৌঁছলাম। পাকা রাস্তার পূর্ব পাশে কিছু জঙ্গল ও ঘরবাড়িতে আমরা এ্যাম্বুশে বসি। দুই জন সৈনিক এন্টি ট্যাঙ্ক মাইন নিয়ে রাস্তার ওপর উঠে পাকা রাস্তা খোদাই করে মাইন লাগিয়ে আমাদের অবস্থানে ফিরে আসে। সম্ভবত রাত একটার দিকে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেট অভিমুখে যাবার জন্য একটি ট্রাক যখন আমাদের এ্যাম্বুশের মাঝে আসে তখন আমরা একত্রে ঐ ট্রাকের ওপর গুলিবর্ষণ শরু করলাম। ঐ সময় পকিস্তানি বাহিনীও গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার বিপরীত পাশে অবস্থান নিয়ে আমাদের লক্ষ্য করে ফায়ার শুরু করে। উভয় পক্ষে গোলাগুলিতে পাক সেনাদের ২/৪ জন সম্ভবত নিহত হয়েছিল। আমরা ৫/৭ মিনিট ফায়ার করার পর দ্রুত উইড্রল করি। যে পথে এসেছিলাম সেই পথ ধরে ক্যাম্পে ফিরে যাই।

ভোর ৫টায় আমরা ক্যাম্পে পৌঁছালে সকলেই শীতে কাতর হয়ে পড়েছিলাম। এসেই নাসিম সাহেবকে এ্যাম্বুশের বিবরণ বর্ণনা করি। এ সময় চা-নাস্তার জন্য আমরা যার যার মতো বিশ্রাম নিই। কিন্তু সিপাহী জলিল সে চা পান করার জন্য লঙ্গরে প্রবেশ করে। সেখানে বাবুর্চিরা আমাদের জন্য চা, পুরি তৈরি করছিল। জলিল যখন একটি মগে করে চা নিতে যাচ্ছিল তখন একজন বাবুর্চি সিপাহী আব্দুল গফুর মজা করে তাকে বলে বড় কামাই করে এসেছেন, তাকে এখনই চা দিতে হবে। তখন জলিল বলে তোর ক্ষমতা থাকে তো এ বন্দুক চালিয়ে দেখা। বন্দুকও চালাতে পারবি না, তো বাবুর্চিগিরি করবি না, কী করবি? এমন সময় গফুর বলল, আপনার বন্দুকটা দেন, আমি চালিয়ে দেখিয়ে দিই। জলিল ভালো করেই জানত ওর চায়না ৭.৬২ এমএম অটো রাইফেল চালাবার মতো জ্ঞান নেই। কেননা ওরা ট্রেনিং সেন্টারে ব্রিটিশ থ্রিনটথ্রি রাইফেলের প্র্যাক্টিস করেছে মাত্র। এ বিশ্বাসের বলে জলিল নিজের রাইফেল ওকে দেয়। এক্ষেত্রে জলিলের ভুল ছিল দুটি। এক. অপরেশন থেকে আসার পর রাইফেল আনলোড করে নাই। দুই. সেপ্টিক্যাস অফ করে নাই।

গফুর রাইফেল হাতে নিয়ে ওর সামনের দেওয়ালের দিকে লক্ষ্য করে যেই ট্রিগার চাপ দেয় ওমনি একটি বুলেট জলিলের বুক ভেদ করে চলে যায়। ওখানেই ওর মৃত্যু হয়। আমরা দৌড়ে গিয়ে দেখি, ওর কলিজা মাটির দেওয়ালের সাথে আটকে আছে। এ দৃশ্য দেখে আমরা হতভম্ব হয়ে গেলাম। ওর আর চা খাওয়া হলো না। গফুরও এ অবস্থা দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়ল। নাসিম সাহেব দৌড়ে লঙ্গর খানায় এসে এ দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান। এমন এক মুহূর্তে আমরা একজন সৈনিক হারালাম যখন আমাদের যোদ্ধা সৈনিকের খুবই অভাব ছিল। জলিল প্রায় প্রতিটি অপারেশনে আমাদের সঙ্গেই থাকত। এ মর্মান্তিক ঘটনাটা সম্ভবত নভেম্বরের শেষের দিকে ঘটে। অন্যদিকে রান্নাবান্নার জন্য ববুর্চির অভাব থাকাতে নাসিম সাহেবও একটু চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি রাগে সিপাহী বাবুর্চি গফুরকে বন্দী করার নির্দেশ দিলেন। ওর যখন জ্ঞান ফিরল তখন ও অনেকটা পাগলের মতো প্রলাপ বকতে শুরু করে। আমি জানি না, দেশ স্বাধীনের পর সরকার জলিলের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নিয়েছে। ওর বাবা মা বা আত্মীয় স্বজনরা ওর কোনো সন্ধান পেয়েছে কিনা তাও আমার জানা নেই। ওর বাড়ি ছিল সম্ভবত রাজশাহী অথবা দিনাজপুর। ওর ঠিকানা আজ আমার কিছুই মনে নেই। সম্ভবত তখনকার ২য় বেঙ্গল রেজিমেন্টে রেকর্ডপত্রে ওর নাম, নম্বর ঠিকানা থাকতে পারে। ওকে দাফন করার পর আমরা পুনরায় নিজেদের অবস্থানে ফিরে যাই। পরবর্তীতে অনেকের অনুরোধে নাসিম সাহেব সিপাহী বাবুর্চি গফুরকে ক্ষমা করে দেন।

একসময় নাসিম সাহেব আমাকে আইনটি কোর্স করার জন্য আমাদের ব্যাটেলিয়ান হেড কোয়ার্টারের ট্রেনিং সেন্টারে পাঠালেন। সেখানে একজন আইনটি হাবিলদার ও একজন আইনটি নায়েক আমাদেরকে কোর্স করান। সেখানে আমাদের ব্যাটেলিয়ানের প্রত্যেক কোম্পানি থেকে ২/১ জন করে সৈনিক পাঠিয়েছিল। তখন একদিন আমাদের ব্যাটালিয়ানের ক্লার্ক অফিসে যাই ক্লার্কদের সাথে দেখা করার জন্য। তখন হেড ক্লার্ক সুবেদার আব্দুল লতিফ হায়াত সাহেব আমাকে দেখ বললেন, “জহির! নাসিম সাহেবকে বলে তোমাকে আমাদের অফিসে ক্লার্কের জন্য নিয়ে আসি।” জবাবে আমি বলেছিলাম, “না, স্যার। যতদিন দেশ স্বাধীন না হবে ততদিন আমি রণাঙ্গনেই থাকব।” আমরা দু সপ্তাহে কোর্স শেষ করে আমাদের কোম্পানিতে ফিরে যাই।

নাসিম সাহেব মাঝে মঝে আমাদের ডিফেন্সে ওপি পোস্টের জন্য আমাকে পাঠাতেন। এবং বিভিন্ন ছোট খাট অপারেশনে ও পেট্রোলিংয়ে আমাকে তিনি সঙ্গে নিয়ে যেতেন। একদিন সন্ধ্যার সময় আমাদের পুরো কোম্পানিকে রিয়ার হেড কোয়ার্টারে নিয়ে আসলেন। আমাদের প্রত্যেকের নিকট একটি করে বেলচা এবং সামান্য কিছু গুলি নিয়ে নিজ নিজ ব্যক্তিগত হাতিয়ার নিয়ে যেতে বললেন। রাতের মধ্যে ইনফ্লেটেশন করে আমাদের ডিফেন্স থেকে আরো তিন/চার মাইল ভিতরে ঢুকে অবস্থান নিতে বলেন। এবং বললেন, “চলার পথে কেউ কোনো শব্দ করবে না। আমার হুকুম ছাড়া কেউ একরাউন্ড গুলিও করবে না। এবং যার যেখানে অবস্থান হবে সেখানে প্রত্যেকেই দ্রুত একটি করে ফক্সহোল খোদাই করে ডিফেন্স নিয়ে নিবে। ভোর ৫টা থেকে আমাদের আর্টিলারি গানে ফায়ার দিতে থাকবে। একঘণ্টা এ ঘোলাবর্ষণ চলবে। এবং আমি যখন উইড্রল সিগন্যাল দিব তখন তোমরা সকলেই চলে আসবে।” আমরা রাত ২/৩টার ভিতর ফক্সহোল খোদাই করে ডিফেন্স নিয়ে বসি। যথা সমেয় আর্টলারি গোলার ফায়ার শুরু হয়। এবং একঘণ্টার পর তা বন্ধ করে দেয়। দেখি আমাদের ডিফেন্স থেকে মাইল খানেক দূর দিয়ে ভারতীয় একটি ব্যাটালিয়ানের সৈনিক দল পাকিস্তান ডিফেন্স এলাকায় তদন্ত করে যায়। সকাল ৭টার দিকে নাসিম সাহেব উইড্রল সিগন্যাল দিয়ে দিলে আমরা চলে আসি। এত বড় অপারেশনের মাঝে আমাদের এক রাউন্ড গুলিও খরচ করতে হয়নি।

গোটা নয় মাস যুদ্ধকালে প্রতিটি মুহূর্ত শত্রুর মুখোমুখি ছিলাম। যে কোনো মুহূর্তে আমরা একটি বুলেট অথবা একটি আর্টিলারি গোলার খোরাক ছিলাম। সর্বক্ষণ মহান আল্লাহকে ডাকতাম। এবং দোয়া করতাম, “তুমি একমাত্র স্বাক্ষী। আমরা কোনো অন্যায় করিনি। ওরা আমাদের হত্যা করছে। আমাদের মা বোনদের ইজ্জত নষ্ট করছে। আমি কখনো পরের সম্পদের ওপর লোভ করিনি। কোনো নারীর প্রতি কু-দৃষ্টিপাত করিনি। বাড়িতে আমি আমার বৃদ্ধা নানী, মামী, রুগ্ন মা, বাবা এবং ছোট দুবোন, ছোট এক ভাই রেখে এসেছি। আসার সময় কারো সাথে দেখাও করে আসতে পারিনি। একমাত্র তোমার কাছে এসব কিছু সঁপে রেখে এসেছি। হে আল্লাহ! তুমি এদের হেফাজত কর। আমার দেশকে স্বাধীন করো।” এ যুদ্ধে মৃত্যু আমার নিত্যসঙ্গী। যে কোনো মুহূর্তে আমার মৃত্যু হতে পারে। তখন এদশের বুকে আমার কোন নাম চিহ্নও থাকবে না। কেউ কোনো দিন আমার খোঁজও নেবে না। আমার বাবা-মা, নানী, ভাই বোনরা জানতেও পারবে না, আমি কোথায় আছি।

যে সমস্ত রাজাকার, আলবদররা যুদ্ধকালীন আমাদেরকে হত্যা করতে চেয়েছিল বিএনপির শাসনামলে তারাই হয়েছিল দেশের হর্তাকর্তা। যে পতাকা আমার বুকে বেঁধে রেখে নয় নয়টি মাস যুদ্ধ করেছিলাম সেই পতাকা তখন তাদের গাড়িতে উড়ত। এসব দেখে আমার খুব কষ্ট লাগত। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা দেশ সেবার পবিত্র দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে রাজাকারদের বিচারের সম্মুখীন করলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির সামনে সম্মানিত করলেন। এর আগে এদেশে মুক্তিযুদ্ধের পরিচয় দিতেও লজ্জা বোধ করতাম।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমরা সীমাহীন কষ্ট করেছি। কোনো রাতে ঠিকভাবে ঘুমাতে পারিনি। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীতে প্রচণ্ড কষ্ট করেছি। বর্ষার সময় একদিকে প্রবল বর্ষণ আর বজ্রপাতের গগণবিদারী শব্দ অপর দিকে শত্রুর আর্টিলারি গোলার গর্জন আর সামনে থেকে ধেয়ে আসা গুলি ছিল আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এছাড়াও সিলেটের জোঁক আমাদের দেহ থেকে কত রক্ত খেয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। জনমানবহীন এলাকা ছিল তখন। অনাহারে ও অর্ধাহারে অনেক সময় দিন কাটত আমাদের। শীতের সময় আমাদের কোনো গরম কাপড় ছিল না। মাঝে মাঝে কবরের গর্তের মধ্যেও আমরা ডিফেন্স নিতাম। সর্বদা এলএমজিটাকে আকড়ে ধরে থাকতাম। বারুদের গন্ধে তখন খুব খারাপ লাগত। দেশ স্বাধীনতার দিনটি তখনও অনশ্চিত ছিল। তবে এটা বিশ্বাস ছিল যে, একদিন না একদিন আমাদের দেশ স্বাধীন হবে। কেননা পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে তৎকালীনপূর্ব পাকিস্তানের সর্বদিক থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এমন এক সময় আসবে তাদের খাদ্য বস্ত্র, গুলি শেষ হয়ে যাবে। তখন তাদের বাঁচার কোনো রাস্তা থাকবে না। আমরা যুদ্ধকালীন সময় বারবার পেছাতে পেছাতে যখন একেবারে সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছাই তখন নাসিম সাহেব আমাদেরকে বললেন, “ভারতের মাটিতে তোমাদের কোনো স্থান নেই। মরতে হয় দেশের মাটিতেই মরবে।” অবশ্য আমরা পিছু হটছিলাম দুটি কারণে। প্রথমত আমাদের সৈন্য সংখ্যা ছিল খুবই কম। তাই চাচ্ছিলাম ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনিং সেন্টার খুলে নতুন যুবকদের ভর্তি করে ট্রেনিং দিয়ে উপযুক্ত করে দেশের ভেতরে গেরিলা তৎপরতা চালাতে। যাতে পাক বাহিনীকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করা যায় ও দুর্বল করা যায়। আবার ওদের থেকে বাছাই করে কিছু লোকদেরকে আমাদের রেজিমেন্টে পেস্টিং করে ডিফেন্সকে আরো শক্তিশালী করা। দ্বিতীয়ত আমরা মুখোমুখি যুদ্ধ করে কাল ক্ষেপণ করায় খণ্ড খণ্ড যুদ্ধে প্রতিদিনই ওদের কম বেশি সৈন্য মারা যাচ্ছে।

সর্বশেষ অস্থায়ী ডিফেন্স নিই। সম্ভবত ডিসেম্বরের প্রথম দিকে। এবং ঐ ডিফেন্স ছিল আমাদের সীমান্ত এলাকা থেকে মাইল খানেক ভেতরে। সেখানে ৪/৫ দিন অবস্থান করার পর (ক্যাপ্টেন) জেনারেল নাসিম সাহেব এক রাতে রিয়ার হেডকোয়ার্টার থেকে নায়েব সুবেদার জনাব আলী সাহেবকে পাঠালেন আমাদের উইড্রল করে রিয়ার হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আসতে। তিনি কিছু লোকের কাছে সংবাদের পাঠিয়ে তাদের উইড্রল করে নিয়ে আসেন। কিন্তু উত্তর দিক থেকে সর্বশেষ অবস্থান ছিল আমার। এবং আমার বামে বিডআর ল্যান্স নায়েক মোস্তফা। আমাদের উভয়ের কাছেই এলএমজি হাতিয়ার ছিল। এছাড়া আরো দুজন রাইফেলধারী সৈনিক ছিল। আমাদেরকে উইড্রল করার কোনো সংবাদ না পৌঁছানোতে আমরা আমাদের ডিফেন্সে রয়েছি। জেনারেল নাসিম সাহেব যখন দেখলেন আমরা চারজন ছাড়া বাকি লোক এসগেছে তখন তিনি জনাব আলীকে জিজ্ঞাসা করলেন, “লেন্স নায়েক মোস্তফা ও জহির কোথায়?” উত্তরে জনাব আলী সাহেব বললেন, “তাদের অবস্থানে যেতে পারিনি।” এ কথা শুনে নাসিম সাহেব খুব রাগান্বিত হয়ে বললেন, আপনি এখনই গিয়ে ওদেরকে নিয়ে আসুন। এদিকে ভোর হবার আগে ল্যান্স নায়েক মোস্তফা অপর দুজন সৈনিক নিয়ে আমার ডিফেন্সে আসে। এবং বলল, জহির ভাই আমাদের সব লোক চলে গিয়েছে।

এ মুহূর্তে আমরা কী করব? তখন আমি বললাম, ফজর না হওয়া পর্যন্ত চলুন কাছাকাছি কোনো গোপন স্থানে আশ্রয় নেই। এদিকে আমরা খুবই চিন্তিত ছিলাম, না জানি কী ঘটছে? তখন নিকটেই চতুর্দিকে গাছপালা দিয়ে ঘেরা একটি পুকুর পেয়ে তার পাড়ে আশ্রয় নেই। যখন ভোর হলো তখন দেখি আমাদের থেকে প্রায় হাজার গজ সামনে দিয়ে পাক বাহিনীর একটি বিরাট দল এবং কিছু সিভিলিয়ান এ্যাসাল্ট লাইনে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে যাচেছ। এ দেখে আমি ল্যান্স নায়েক মোস্তফাকে বললাম, “চলো, এই এ্যাসাল্ট লাইনের ওপর ফায়ার দিই।” ফায়ার করার জন্য আমি লাইন পজিশনে চলে যাই। কিন্তু ল্যান্স নায়েক মোস্তফা আমাকে বাধা দিল। বলল, আপনার কি মাথা খারাপ হয়েছে। এ মুহূর্তে ফায়ার দিলে ওরা আমাদেরকে ঘেরাও করে ফেলবে এবং হাতে নাতে ধরে ফেলবে। তাই আর ফায়ার দেওয়া হল না। কিছুক্ষণ পর দেখি পাক বাহিনীর এ্যাসাল্ট লইন শেষ হয়ে গেল। আমরা তখন ঐ জায়গা থেকে বেরিয়ে আগরতলা অভিমুখে রওনা হই। জনাব আলী সাহেবকে দেখি, একটি বাড়ির আড়ালে বসে আছে। আমাদের দেখে সে অনেকটা নিশ্চিন্ত হলো। [চলবে]

হাসান হাফিজের একগুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যানিলা ও নস্টালজিয়া

ও ম্যানিলা
তুমি আছো স্মৃতিপটে,
ওগো প্রিয় ম্যানিলাসুন্দরী
তৃষিতের ওষ্ঠ তুমি ভিজিয়েছো
স্যান মিগ্যুয়েল নামে বীয়ারে মাদকে
‘পিনোটুবুু’ অগ্নিগিরি
খুব কিন্তু দূরে নয়
দ্বীপ দেশ ফিলিপিন্স
ঔপনিবেশক স্মৃতি কী দুঃসহ
একটানা চারশো বছর
দীর্ঘ দীর্ঘকাল পরে
মুক্তিস্বাদ পেয়েছো যে তুমি
সেই কটু অম্লস্বাদ
স্মৃতি হয়ে বুকে বেঁধে
‘মুক্তি’ দ্যায় উপশম
সুতন্বী উচ্ছল হও মনোরমা
দ্বীপকন্যা সুছন্দা ম্যানিলা।

অসহ দংশন

না-বৃষ্টি না-রোদ
এমন ধূসর দিনে
কেন ছুঁতে চেয়েছে সে
তোমার পেলব হাত
শৈল্পিক আঙুল
চুম্বনের অধিকার
ওরা কিন্তু দ্যায় নি যুবাকে
সন্ধ্যার আঁধারবেলা
সেই স্মৃতি অনশ্বর
জ্বলজ্বলে নক্ষত্রস্পর্ধায়
অমলিন চিরক্ষণ জলরঙ ছবি হয়ে
জেগে থাকে ঠোকরায়
না-পাওয়ার অসীম তৃষ্ণায়...

একগুঁয়ে মাঝি

মন পোড়ে?
বৃষ্টি ওড়ে?
মনের তো ডানা নাই,
কীভাবে বৈদেশ যাবে
বন্ধুয়া-হদিস পাবে
প্রশ্ন এইটাই।

বৃষ্টি পড়ছে
আছড়ে পড়ছে
মৃত্তিকার আলিঙ্গনে
এবং সম্ভোগে
সার্থকতা জলের প্রেমের।
দেখেছ প্রেমের মড়া?
কোনোদিন ডুবেছে সে জলে?

মন পোড়ে?
আহা বাহা পুড়ুক জ্বলুক
পোড়াই নিয়তি
বাহক দুর্গতি
ছিল যে কপালে লেখা
কীভাবে খ-াবে?
মনের বৈরাগী মাঝি
ফিরে আসতে নয় রাজি
চড়েছে সে একগুঁয়ে
ভাঙাচোরা ডিঙি নৌকায়।

নিরালায় সন্ধ্যাকালে

যাও পাখি যাও
পরানবন্ধুরে গিয়া
স্মরণ করাও
দুঃখিনীরে একলা রাইখা
কী মজা সে পায়?
এবার নাগালে পেলে
রশি দিয়া বাইন্দা রাখব
সতত পঞ্চল বন্ধে
এইবার দেইখা নিব কীভাবে পলায়!
শরমের খেতা পুড়ি
ওরে পাইলে এই ঘুরি
উইড়া চলি পাতায় পাতায়
যাও পাখি বলো তারে
এবার সে আসতে পারে
দুই বন্ধু বসব গিয়া
পুরানা দীঘির পাড়ে
নিরালা সন্ধ্যায় কালে
প্রাচীন ঘাটলায়
ও বন্দু সারলী হাঁস
খুঁচিয়ে কী মজা পাস?
সবকিছু ছাইড়া ছুইড়া
নিজ গৃহে সোজা চইলা আয়!


গত্যন্তর নাই

বিশ্বাস ভেঙেছো তবু
তোমাকে বিশ্বাস করি
পুনরায় প্রতারিত হতে চাই
ক্ষতি আর কতটুকু হবে?
সর্বনাশ পোড়া ছাই
লানতের অন্ত নাই
তোমাদ্বারা সকলই সম্ভব
যদি অসম্ভব হয়
আমি তবে বেপথু নাচার
পথ খোলা নাই যে বাঁচার
আমার কী গতি হবে তবে?


আশাভঙ্গ

এতোটা পথ
পাড়ি দিলাম একা
ভেবেছিলাম
হয়তো পাবো দেখা।
জানতাম না অদর্শনই
এই কপালের লেখা।
ভেবেছিলাম সরল তুমি
এখন দেখি জটিল বক্ররেখা!


নৈকট্য তো ছিল না কপালে

ক.
খুঁজতে খুঁজতে একদিন
হয়তো পেয়ে যাবো
ভয় কিন্তু জাগরুক
পেলে পর নিশ্চিত হারাবো!

খ.
কাঁটা ও সংশয়
সমস্ত জীবনব্যাপী
ভিলেনের মতো জেগে রয়।

গ.
জারিজুরি সবই হলো ফাঁস।
জানতে না আমার হৃদয়মধ্যে
বাস করে অপরূপ আন্ধা সর্বনাশ?
আমি কিন্তু জানতাম
সে কারণে কাছে ঘেঁষতে
চাইতাম না মোটের উপর
নৈকট্য নিয়তি নয় জানা ছিল
কিন্তু করতে পারি নাই
তোমাকে ত্যাগের মতো ছিন্ন উপবাস।

 

;

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু



হাসিবুর রহমান
পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

পলাশি ট্রাজেডি ও সিরাজের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

 

কোন জাতির উত্থান-পতন, আবেগ, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মিশে থাকে ইতিহাসের  সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপাদান । কেউ ইচ্ছে করলেই তাকে যেমন বদলে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি আদর্শগত দিক থেকে কোন জাতিকে বিপথে চালিতে করতে পারে ভুল ইতিহাস। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে অষ্টাদশ শতকের বাংলা নানা কারণেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির সুনাম সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই সময়। শান্তি সমৃদ্ধির চূড়ান্ত এক পর্যায়ে ১৭৫৭ পলাশির অন্ধকার নেমে আসে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটনো হয়।

দ্বিসার্ধশত বছরের পলাশি যুদ্ধের বহুমাত্রিক আলোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে জনসমাজে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক গল্পও ছড়ানো হয়েছে । দেশী-বিদেশী ঐতিহাসিকরা তাঁকে লম্পট, দুশ্চরিত্র, কটুভাষী, হৃদয়হীন রূঢ়  চতুষ্পদ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্বভাবজাত বলে মিথ্যা ও কলঙ্কের অপবাদে মুড়ে দিয়েছেন। সমকালীন যুগের ফারসি ভাষার মুসলমান,  ইংরেজ লেখক কেউই তাঁর প্রতি সুবিচার করে কলম ধরেননি।

তবে, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, নিখিল নাথ রায় আধুনিক কালে সুশীল চৌধুরীর মতো ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিকরা  সিরাজউদ্দৌলার মত দেশপ্রেমিক নবাবকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে যেভাবে মূল্যায়ন করে বিপথগামী ইতিহাস চর্চার ধারাকে থমকে দিয়েছেন- এটাও ইতিহাসবেত্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। 

বর্তমানে অধিকাংশ ঐতিহাসিক পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিস্তর লেখালেখিতে আগ্রহী। কিন্তু তাঁরা দেখেন না, দেখতে চান না যে পলাশি হলো একটি  পরিণতি । ষড়যন্ত্র আর সামরিক আগ্রাসনের একটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল। তাঁরা পলাশি পরবর্তী সময়ে ইংরেজ কর্তৃক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বৈধতা দিতে সিরাজের বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যা যুক্তির জাল বুনেছিল, আসলে এছাড়া ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য কোন বৈধ উপায় তাঁদের হাতে অবশিষ্ট ছিল না।

মাত্র চৌদ্দ মাসের শাসনকালে অবাধ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔদ্ধত্যকে  দমন করতে সিরাজের দৃঢ়তা, সাহসিকতা, কঠোরতা দেখিয়েছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মাটিতে বিনা অনুমতিতে ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ, কিংবা কর্মচারীদের  অবাধ "ব্যক্তিগত বাণিজ্য" বন্ধ করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একজন স্বাধীন নবাবের চোখে সার্বভৌমিকতার প্রশ্ন এখানে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সিরাজের দুর্ভাগ্য তাঁর দরবারের পদস্থ বিশ্বাসী অমাত্য গোষ্ঠী, অনেকেই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের আশায় কোম্পানির ষড়যন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। জগৎ শেঠদের মতো দেশীয় বণিকরাও এই ষড়যন্ত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঘরে বাইরে শত্রু পরিবেশিত সিরাজ দৃঢ়তার সঙ্গে এই অশুভ শক্তির মোকাবেলায় সফল হননি বটে , কিন্তু তাঁর স্বদেশভূমি রক্ষার লড়াইকে হীন চোখে দেখা অনৈতিহাসিক। পলাশি নামক বিয়োগান্ত ঘটনার পর  তাঁকে  চরম অপমান আর অমর্যতার সম্মুখীন হতে হয়। যে নিষ্ঠুরতা তাঁর সঙ্গে পলাশির পর দেখানো হয়েছিল ইতিহাসে তা বিরল। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সিরাজুল ইসলাম লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে সমকালীন শাসকশ্রেণীর মানদণ্ডে সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক দৃঢ়তা, অত্যন্ত সাহসিকতা ও অসাধারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ বিস্ময়কর বটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সাম্প্রতিক কালেও ইংরেজদের ভারতবর্ষ দখলের বৈধতা দান করতে গিয়ে একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ সিরাজকে নিয়ে নতুন নতুন কাহিনী, উপাখ্যান ম্যানুফ্যাকচার করে ইতিহাস হিসাবে প্রচার করে চলেছেন। তাঁরা বলেন-- সিরাজের মৃত্যু কোন শহীদের মৃত্যু নয় । কারণ তিনি মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে লড়াই করেছিলেন মাত্র, যেখানে জনসমাজের সঙ্গে তাঁর কোন সম্বন্ধ ছিল না। অথবা একথা বলা হয় যে বাংলার নবাব হিসেবে কেন্দ্রীয় মুঘল শাসকদের দ্বারা কোন লিখিত বৈধ অনুমোদন তাঁর ছিল না ইত্যাদি।

সিরাজের মৃত্যু কোন শহিদের মৃত্যু কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক থাকা অকল্পনীয়। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ইতিহাস-বিরুদ্ধ। এছাড়া শাসনের বৈধতার দিক থেকে বাংলার নবাবরা নিয়মিত দিল্লি সম্রাটদের রাজস্ব প্রদান করতেন, সিরাজ ও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। দেশের অভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা বাংলাতেও চালু ছিল। কাজেই  অভিযোগকারীরা কি ধরনের 'দেশপ্রেম' ও 'জাতীয়তাবোধ' সিরাজের কাছে প্রত্যাশা করছেন তার কোন ইতিহাস সম্মত ব্যাখ্যা হয় না। দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করেননি এখানেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান।

সিরাজউদ্দৌলার নিরন্তর লড়াই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আপামর বাংলার মানুষের জীবন ভবিষ্যৎ। পলাশিতে যদি নবাবকে না হারতে হত তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত নিশ্চয়। দীর্ঘ দু'শো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণের জর্জরিত দেশবাসীর মনে হীনমন্যতাপদের জন্ম নিত না। স্বাধীনতার শত্রুদের সেদিন যথার্থভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। দেশপ্রেমিক নবাবের মৃত্যুকে কেবল ক্ষমতার হাত বদল বলেই ভেবেছিল একশ্রেণীর মানুষ। ক্ষমতাসীন নবাবের লাশকে সেদিন জনগণের ঘৃণা ও অপমানের বস্তু করে তুলেছিল। নবাবের অনুগ্রহে যাদের একসময় জীবন জীবিকা নির্ভর করত তারাই দেশপ্রেমিক সিরাজকে নির্মমভাবে হত্যা করল, মৃতদেহটি পশুর মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে দিয়েছিল। সমকালীন যুগের এই ঘৃণ্য প্রতিশোধ যেকোনো জাতির কাছেই বড় লজ্জার।

 

অথচ যে নবাব চরম বিপদের মুহূর্তে দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, কারোর প্রতি  শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, তাঁর সেই মহানুভবতা ও উদারতাকে কেউ মূল্যায়ন করতে চায় না। ম্যালেশন যথার্থই মন্তব্য করে করেছেন  যে, পলাশির আগে-পরে একমাত্র সিরাজের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না।

একথা সত্যি যে, বাংলার নবাবদের মধ্যে সিরাজই বোধহয় দেশকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলি খান, সুজাউদ্দিন, সরফরাজ বা আলিবর্দী খানের মতো গা ভাসিয়ে চলতে পারতেন তাহলে তাঁকে অন্তত অকালে প্রাণ দিতে হতো না। হতভাগ্য রাজ্যহারা নবাব জীবনের অন্তিম সময়ের প্রাণ ভিক্ষার জন্য প্রত্যেকের পদতলে লুটিয়ে পড়েছিলেন কিন্তু সেদিন তাঁর করুণ আর্তি শুনতে পাইনি কেউ। ফলে বাংলার ইতিহাসে চিরকাল কালো অধ্যায় হিসেবে ১৭৫৭ সালের ৩রা জুলাই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁকে জীবন ভিক্ষার পরিবর্তে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। নিষ্ঠুর, ঘৃণিত সেই হত্যাযজ্ঞ আজও মানুষের হৃদয়ে কম্পিত হয়। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে পরাজিত হয়েও মানুষের মনে তিনি চিরদিন স্বাধীনতার স্পৃহায় অমর হয়েই থাকবেন, এটাই অকালপ্রয়াত নবাবের জন্য  শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।

(প্রাবন্ধিক আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক।)

 সহায়ক তথ্যসূত্র :

১) যদুনাথ সরকার ,  বেঙ্গল নবাবস, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা ,১৯৫২

 ২) ডঃ সুশীল চৌধুরী, পলাশির অজানা কাহিনী, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩) ড: মোহম্মদ মোহর আলি,  হিস্টরি অব দ্য মুসলিমস অফ বেঙ্গল, ২খন্ড ,রিয়াধ ১৯৮৮।

৪) অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, কল্লোল, কলকাতা।

৫) ড : সিরাজুল ইসলাম , বাংলাদেশের ইতিহাস , খন্ড ১ম ( ১৭৫৭-১৯৭১) সম্পাদনা , এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০১৭ ।

৬) আ:কা: মো: যাকারিয়া, সিরাজউদ্দৌলা , প্রথমা , ঢাকা ।

;

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ফখরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মাননা পেলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ফখরুল হাসান। ২৩ জুন বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৬ লেখককে সম্মাননা, ‘শেখ হাসিনার জয় বিশ্বের বিস্ময়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি, ছড়া পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৈয়দ মাসুম, আর মজিব, এনাম আনন্দ, ফাহমিদা ইয়াসমিন, লুৎফর রহমান চৌধুরীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান মৃধা বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি অসীম সাহা, মারুফুল ইসলাম, তারিক সুজাত ও অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

কবিতা আবৃত্তি করেন জালাল উদ্দিন নলুয়া, ড. তপন বাগচী, শফিকুর রাহী, রিফাত নিগার শাপলা, আনতানুর হক, হানিফ খান, ইউসুফ রেজা, রোকশানা সাথী, জমশেদ ওয়াজেদ, মাসুদ আলম বাবুল, মাদবর রফিক, লুৎফর চৌধুরী, হাসনাইন সাজ্জাদী, গিয়াসউদ্দিন চাষা, হেনা খান, কৌমুদী নার্গিস, বোরহান মাসুদ, সৈয়দ একতেদার আলী, আলী নিয়ামত, মিহির কান্তি ভৌমিক, লুৎফা জালাল, তানিয়া মাহমুদ, শ্রাবণ রেজা, ইমরান পরশ, সৈয়দ তপু, মেরীনা সাঈদ, শাফিন প্রমুখ

;

সংশপ্তক শেখ হাসিনা



আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব

আবদুল হামিদ মাহবুব

  • Font increase
  • Font Decrease

 

সংশপ্তক শেখ হাসিনা

কাণ্ড অনেক করে

পদ্মা বুকে ‘পদ্মা সেতু’

ঠিক দিয়েছেন গড়ে।

 

কাণ্ড ওসব নয় সাধারণ,

ভুলতে কি আর পারি?

জয় বাংলা জোরসে হেঁকে

ঠিক তো দিলেন পাড়ি।

 

অপেক্ষাতে সবাই আছি

মনটা উচাটন

ওই দিনটা জানান দিয়ে

আসলো শুভক্ষণ!

 

বাংলাদেশের এমন জয়ে

বিশ্ব জানুক, কি সুখ?

সব বাঙালি বুকের পাতায়

সুখের গাথা লিখুক।

;