জার্নি অভ দ্যা ম্যাজাই

টি. এস. এলিয়ট ।। অনুবাদ: আলমগীর মোহাম্মদ
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

“প্রতিকূল একটা সূচনা আমাদের
বছরের সবচেয়ে বাজে সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলাম আমরা
যাত্রার জন্য, এবং এমন দূরপাল্লার যাত্রার জন্য :
পথগুলো গহীন এবং আবহাওয়া খর,
শীতের ভয়াবহ রূপ।”

উটগুলো ক্ষতবিক্ষত, পা ফুলো, দুর্বশ,
শুয়ে পড়ে গলিত তুষারের ওপর।

একসময় আমাদের অনুশোচনা হলো

পাহাড়ের গায়ে অট্টালিকা দালানগুলো, চাতাল,
এবং শরবত নিয়ে আসা সুমার্জিত রমণী।

তখন উটের পিঠে চড়া ক্ষিপ্ত লোকটা অভিশাপ দেয়
এবং দৌড়ে চলে, এবং সুরা ও তাদের নারীদের চায়,

এবং নৈশ বাতি নিভে আসে, এবং আশ্রয়হীনতা,
এবং প্রতিকূল নগর, বন্ধনহীন শহর,
এবং গ্রামগুলো নোংরা ও সবকিছুর চড়া দাম,
আমরা এক বাজে সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলাম।
শেষমেশ আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম রাতভর হাঁটার,
ক্বচিৎ ঘুমিয়ে,
আমাদের কানে এক সুর বাজছিল,
ভুল সবই ভুল।
তারপর আমরা এক উষ্ণ উপত্যকায় এলাম,
স্যাঁতসেঁতে, তুষারপাতের নিচে, সবজি ক্ষেত
প্রবাহমান একটা নদী ও একটি পানির কল, অন্ধকার মাড়িয়ে,
নিচের আকাশে তিনটা গাছ,
এবং একটি শ্বেত-শুভ্র ঘোড়া টগবগিয়ে চলে যায় ঘাসবনে।
তারপর আমরা এলাম দরোজার গায়ে আঙুর পাতা ঝোলানো এক পানশালায়,
ছয়টি হাত রুপোর লোভে পাশাখেলায় ব্যস্ত,
এবং পা দিয়ে আঙুরের খোসা সরানোয় ব্যস্ত।
কিন্তু ওখানে কোনো খোঁজ নেই, অতএব আমরা পথ চলতে লাগলাম
এবং পৌঁছলাম ঠিক সন্ধ্যায়, এক মুহূর্তও আগে নয়
একটা জায়গা খুঁজে পেয়ে; এটা (আপনি বলতে পারেন) সন্তোষজনক।
এসব অনেক আগের ঘটনা, আমার মনে পড়ে,
এবং আমি এটা আবারও করতাম, কিন্তু আকস্মিক বাধা
এই আকস্মিক বাধা

এইটা : সারাটা পথ আমরা হেঁটেছিলাম
জন্ম না মৃত্যুর তরে? ওখানে জীবন ছিল, নিশ্চয়,
আমাদের হাতে প্রমাণ ছিল, নিঃসন্দেহে। আমি জীবন ও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলাম
কিন্তু ভেবেছিলাম তারা পরস্পর আলাদা : এই জন্ম ছিল
আমাদের জন্য কঠিন ও করুণ এক অভিজ্ঞতা, মৃত্যুর ন্যায়, আমাদের মৃত্যু।
আমরা ফিরে এলাম নিজেদের জগতে, এই রাজ্যে,
কিন্তু আগের সেই সুখ নেই, সেই পুরনো বিধান,
অপরিচিত লোকের ভিড় যারা ঈশ্বরকে আঁকড়ে আছে।
আমি দ্বিতীয় মৃত্যুর অপেক্ষায়।

আপনার মতামত লিখুন :