কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১৩)



জিনি লকারবি ।। অনুবাদ: আলম খোরশেদ
অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

অলঙ্করণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

  • Font increase
  • Font Decrease

মালুমঘাট থেকে পলায়ন

[পূর্বপ্রকাশের পর] বাংলাদেশের মালুমঘাটের মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতাল যতদিন থাকবে ততদিন বেকি ডেভি’র প্রথম ‘মেডিকেল ভুলের’ গল্পটি বলে যাওয়া হবে।

নার্সিং বিভাগের তূখোড় পরিচালকের সেই ঐতিহাসিক ভুলটি কী ছিল? যে-কোনোভাবেই হোক তিনি ডা. ডন কেচামকে একজন রোগীর কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলেন, যার স্পষ্টতই একটা অপারেশনের দরকার ছিল। দেশি নার্সরা যখন এটা বুঝতে পারলেন এবং তার অপারেশন শুরু হলো, তখন রাত বাজে সোয়া নয়টা। সার্জারি থেকে ফিরে, দরজা খুলে ঘরে ঢুকে, ঘুমুতে ইচ্ছা হচ্ছিল না বলে, সে রেডিও খোলে—যা সে কালেভদ্রে করে থাকে। সে ভয়েস অভ আমেরিকাকে ধরতে পারে না সহজে, কেবল সোয়া এগারোটার খবর শেষ করার আগে-বলা সংবাদ শিরোনামের অংশটুকু শুনতে পারে। বেকি সেই সংবাদ সারাংশে শুনতে পায়: “এবারে মালুমঘাটে অবস্থানরত আমেরিকানদের জন্য একটি বিশেষ ঘোষণা। মার্কিন সরকার জরুরি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ ছাড়া আর সবাইকে অতি সত্বর সড়কপথে বার্মা সীমান্তের দিকে রওনা হতে জোরালোভাবে পরামর্শ দিচ্ছে। চট্টগ্রাম দিয়ে দেশত্যাগের পথ বন্ধ। আবারও বলছি: মার্কিন সরকার জোরালোভাবে ...”

বেশ কয়েকমাস বাদে রিড আমাদেরকে এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটটি জানান।

“বিমানে করে দেশত্যাগ-করা দলটি চট্টগ্রামের ধ্বংসযজ্ঞ দেখে এতটাই বিচলিত হয়ে পড়েছিল যে, তারা জোর দিয়ে বলে, ‘আমাদের সমস্ত লোক যেন দেশ ছেড়ে চলে যায়’।”

“আমাদের আতঙ্ক আরো বেড়ে গেল যখন জানলাম, শহর থেকে পঁচিশ মাইল দূরে চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত ব্রিটিশ ব্যাপ্টিস্ট হাসপাতালটিকে কোনোপ্রকার সতর্কবাণী ছাড়াই মেশিনগানের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে। তাদের কুষ্ঠরোগীর বিভাগটায় একটা কামানের গোলা এসে আঘাত করে এবং তাতে এক রোগী নিহত হয়। চন্দ্রঘোনার আবাসিকেরা নিশ্চিত ছিল যে, যথেষ্ট আগে থেকে সতর্কবার্তা না দিয়ে মিলিটারিরা সেখানে আক্রমণ করবে না। তারা অপাত্রে বিশ্বাস স্থাপন করেছিল।”

“সেনারা হাসপাতালে এসেই প্রত্যেকটা শয্যা পরীক্ষা করে দেখছিল সেখানে কোনো আহত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে কিনা। হাসপাতালের কর্মীদেরকে ভয় দেখানোর জন্য তারা বেশ কজন বাঙালিকে হাসপাতাল ভবনের সামনে দাঁড় করিয়ে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে।”

“চট্টগ্রামে অবস্থানরত তাদের ব্রিগেডিয়ার সাহেব মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতালের কর্মীদের নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা দিতে রাজি হলেন না। যদি মুক্তিবাহিনীর কোনো সদস্য হাসপাতালের আসে তাহলে তারা তক্ষুনি সেখানে অভিযান চালাবে।”

“এটা ছিল একেবারে ভেতর পর্যন্ত কাঁপিয়ে দেওয়া একটা সংবাদ। এই খবরটা নিশ্চয়ই দ্রুততার সঙ্গেই মালুমঘাটে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের লোকেরা হয়তো হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেছে এতক্ষণে। তাহলে এই খবরটা তাদেরকে কিভাবে পৌঁছানো যায়? চন্দ্রঘোনা আক্রমণের আগে কোনো সতর্কবার্তা পায়নি, মালুমঘাটও একই বিপদের মুখোমুখি। তাছাড়া সেখানে তখন মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হারুন রয়েছেন!”

একটিই মাত্র উপায় রয়েছে—ভয়েস অভ আমেরিকা। তাদের সঙ্গে এমন ব্যবস্থা হয় যে, পরিস্থিতি দাবি করলে তারা আমাদের মিশনারিদের প্রতি যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ সকাল সাতটা ও সন্ধ্যা সাতটায় তাদের কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করবে আমাদের উদ্দেশে। এখনই সেই সময়। অবশ্য ভয়েস অভ আমেরিকা মালুমঘাটের লোকদের এই মুহূর্তের বিপদ সম্পর্কে কিছু জানে না। ইউএস এইডের সেই কর্মকর্তা আর আমি দুজনে মাথা খাটিয়ে একটা বার্তা তৈরি করি। তখন বিকাল চারটা বাজে। বিস্ময়করভাবে, তিনি ঢাকায় যাওয়ার বিমান পেয়ে যান। তিনি এই বার্তাটি ভয়েস অভ আমেরিকাকে পাঠিয়ে দেন এবং তারা সেটি সেদিন রাতেই প্রচার করে দেয়।

বেকি দৌড়ে এসে সবাইকে এই খবরটা দেয়। আমরা ওয়াল্শের বাড়িতে জমায়েত হই এবং মধ্যরাতের খবর শুনি, কিন্তু তখন সেটাকে আর পুনরাবৃত্তি করা হয় না। আমাদের সমস্ত আলোচনার মধ্যে এই প্রথম আমরা সবাই সহমত হই যে, এই নির্দেশনা মেনে আমাদের বার্মার পথে রওনা দেওয়া উচিত। আমাদের অরণ্যকেন্দ্র হেব্রনে যাওয়ার পরিকল্পনাটিকে প্রত্যাখ্যান ও বাতিল করা হয়।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়, ডা. ওল্‌সেন এবং ডা. ডন কেচাম থাকবেন এবং বাকিরা (সব মিলিয়ে ২৯ জন) চলে যাবে। এটাকে দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত হিসেবে লিখে রাখা হয়। অন্যদের অনুপস্থিতিতে ভিক ওল্‌সেনকে ফিল্ড কাউন্সিল চেয়ারম্যান ও ডনকে সেক্রেটারি নির্বাচন করা হয়। ডিকুকেরা, যারা সদ্য তাঁদের প্রয়োজনীয় দুটো ফিল্ড কাউন্সিল মিটিংয়ে যোগ দেওয়া সম্পন্ন করেছেন, প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পারেন।

সবাই বাড়ি ফিরে গোছগাছ করতে বসে। আশ্চর্যজনকভাবে, অন্যসময় রাত দশটা থেকে বারোটার মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে গেলেও, সেদিন প্রায় ভোর চারটা পর্যন্ত থাকে এবং ততক্ষণে আমাদের গোছানো হয়ে যায় (এমনকি বারান্দার সেইসব পুরনো কাপড় পর্যন্ত)।

একুশে এপ্রিল , বুধবার
তৈরি হবার জন্য খুব ভোরেই উঠে পড়ি। কেউ কি ঘুমিয়েছিল? ‘ভোয়া’র সকাল সাতটার সংবাদেও একই ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করা হয়। আমরা ঢাকার ঐ ভদ্রলোকের সঙ্গে এমন একটা ব্যবস্থা করি যেন আমাদের জন্য সকল ঘোষণাই সকাল ৭টা কিংবা সন্ধ্যা ৭টায় প্রচার করা হয়। প্রথমবার যে-ঘোষণাটা রাত এগারোটায় দেওয়া হয়েছিল সেটা এর গুরুত্ব অনুধাবন করে। আমরা শেষ পর্যন্ত সকাল ৯টায় মালুমঘাট ছেড়ে যাই।

দেশি ভাইবোনেরা এতটাই মন খারাপ করেছিল যে, আমাদের বিদায় নিতে কষ্ট হয়েছিল খুব। কেউ কেউ অবশ্য বুঝেছিল, আমাদের যাওয়া উচিত, তবে তাদের মনে হচ্ছিল পৃথিবীর তলাটা বুঝি খসে পড়ে গেছে। তাদের এতজন প্রভুর চাইতেও মনে হয় আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিল বেশি। হয়তো ঈশ্বর আমাদের সরিয়ে নিয়েছিলেন তাদেরকে এটাই বোঝাতে যে, তাদেরও কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত। আমরা যতদিন এখানে থাকতাম তারাও থাকত। কেউ কেউ ধারণা দিয়েছিল, তারা হেব্রনের উদ্দেশে রওনা করবে। অন্যেরা বার্মা কিংবা ভারতে আশ্রয় নেবার কথা ভাবছিল।

একটা মন-ছুঁয়ে-যাওয়া মুহূর্ত ছিল যখন বাঙালিদের ক্রোধ থেকে আমাদের লুকিয়ে রাখা সেই পশ্চিম পাকিস্তানি দারোয়ান, বদ্ধ ঘরের পর্দা তুলে আমাদের চলে যাওয়া গাড়িগুলোকে বিদায়ী সালাম জানিয়েছিল।

আমাদের চট্টগ্রামের শরণার্থীদের এক কিশোর, বাবলার কথা আমি কোনোদিন ভুলব না। সে ঠিক জানত না কী করবে। সে কি একটা ছোট ছেলে যে, এগিয়ে এসে গাড়ি থেকে মুখ বাড়িয়ে বিদায়-বলা আমাকে ছুঁতে পারবে, নাকি সে এতটাই বড় হয়ে গেছে যে, তাকে দূরত্ব বজায় রেখে ভদ্র আচরণ করতে হবে? সামনের মাসগুলোতে আমরা জানতে পারব, বাবলা মোটেও কোনো ছোট ছেলে নয়, বরং একজন শক্তিশালী, সাহসী মানুষ।

আমরা তিনটা ল্যান্ডরোভারে যাত্রা করি। আমরা যখন পথে নামি তখন গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল, কিন্তু টেকনাফ পৌঁছানো মাত্র মুষলধারে ঝরতে শুরু করে। ক্রন্দসী আকাশ যেন সেই সকালে আমাদের মনের অবস্থা ও আবেগেরই প্রতিচ্ছবি ছিল।

তবে মেঘ ও বৃষ্টি আবহাওয়াটাকে ঠান্ডা করে দিয়েছিল, তা নাহলে গাড়িতে ঠাসাঠাসি করা এতগুলো লোকের পক্ষে এই গরম সহ্য করা কঠিন হত।

এলিয়ানোর ওয়াল্‌শ বলেন, “প্রভু আমাদেরকে রাতের বিদ্যুৎ আর এই দিনের বেলার রোদের হাত থেকে আশ্রয় দিয়েছিলেন; আমাদের নিজস্ব অগ্নি ও মেঘের স্তম্ভ।”

কক্সবাজারের উপকণ্ঠে বার্মা যাবার রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। এই ব্যারিকেডটা আবার তালা দিয়ে আটকানো ছিল, আর তার চাবি যার কাছে ছিল তিনি তখন কক্সবাজার শহরে। জে সেটা আনতে গেলেন, আর ততক্ষণে আমরা একটা কফিবিরতি নিলাম। আমরা চিনির সন্ধান করছিলাম কিন্তু কোথাও চিনি পাওয়া গেল না। একজন দোকানি আমাদেরকে মাগনা কিছু দেশি গুড় এনে দেয়।

আমরা টেকনাফ যাওয়ার পথে বাইরে চমৎকার দৃশ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করি। টেকনাফে আমরা জোয়ার আসার জন্য তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করি যাতে করে সাম্পান ভাসতে পারে; সেই অবসরে বন্ধ দোকানের বারান্দায় বসে আমাদের ঝোলা খুলি। সেখান থেকে আমরা পর্ক ও শিমের বিচি, ভিয়েনার সসেজ, রুটি ও মধু-মাখন এবং সেই কে-রেশনের কিছু চকলেট ক্যান্ডি বার করে খাই।

পুরুষেরা সাম্পানে মাল তোলে, আর আমরা ঊনত্রিশজন সেই সাম্পানের খোলা তলদেশে পেতে রাখা বাঁশের বেঞ্চিতে বসে পড়ি। টেকনাফ থেকে ছয় মাইল দূরের মংদাউ যেতে নৌকাযাত্রায় দেড়ঘণ্টা লাগার কথা। আমরা খাঁড়ি ছেড়ে মূল নদীতে পড়ার সময় একটা সাইনবোর্ড দেখি যাতে লেখা, ‘টেকনাফ সীমান্তফাঁড়ি’।

ভালো বাতাস ছিল, তাই মাঝিরা পাল তোলার চেষ্টা করে। প্রথম চেষ্টায় একটা দড়ি ছিঁড়ে যায়, তবে গার্ল স্কাউট জোয়ান ওল্‌সেন সেগুলোকে গিঁট বেঁধে দেয় এবং দ্বিতীয় চেষ্টায় তারা সফল হয়। পাল তোলার পর দ্রুত এগুনো যায়, কিন্তু তারপরও সেটা অনেক লম্বা পথ ছিল। কয়েকবারই আমাদের বলা হয় মাথা নিচু করে বসে থাকতে, যাতে করে তীরবর্তী সীমান্তপ্রহরীরা আমাদের না দেখতে পায়। সন্ধ্যা নামলে তারা আমাদের একটু চুপ করতে বলে (অসম্ভব) যেন আমরা কোনো সন্দেহের উদ্রেক না করি। তাহলে মাঝিদেরকে আরো বড় অঙ্কের ঘুষ দিতে হবে।

মংদাউ তল্লাশি ফাঁড়ির ঘাটে আমরা ভিড়ি সন্ধ্যে সাড়ে সাতটার দিকে এবং ছোট্ট আরেকটি সাম্পানের ছাদের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে লাফ দিয়ে পিচ্ছিল কাদাভরা তীরে অবতরণ করি। সবাই নিরাপদে নামতে সক্ষম হয়। তারপর আমরা আবিষ্কার করি যে, ওল্‌সেনের স্লাইডগুলো নৌভ্রমণের পুরো তিনঘণ্টাই ছিল সাম্পানের তলায় জমে থাকা পানির ভেতর। আমরা পানির ওপর একটি খোলা বাঁশের ঘরে গিয়ে জড়ো হই। বাচ্চাদের আমরা পিনাট বাটার, রুটি, কিসমিস ও পানি খাইয়ে দিই। একটা বড় কুকুরও এসে সেই ভোজে যোগ দিতে চাইছিল। শেষ পর্যন্ত তারা আমাদেরকে একটা ডাকবাংলোয় নিয়ে গেল।

সেখানে আমরা পুরো বিল্‌স পরিবারকে আবিষ্কার করি; তাদেরকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল, রেঙ্গুন থেকে তাদের দেশ ছাড়ার ছাড়পত্র আসার অপেক্ষায়। তারা আমাদেরকে দেখে তেমন বিশেষভাবে বিস্মিত হয়নি। তারা যেন জানতোই যে, আমরাও এসে হাজির হব অচিরেই।

এখন তাহলে মোট চৌত্রিশজন হলাম আমরা। এই অতিথিনিবাসে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন, যারা রেঙ্গুনের ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করার কথা ভাবছিলেন। সেখানে মোট ছয়টা চারপেয়েসহ তিনখানা ঘর ছিল আমাদের সবার জন্য। পুরুষ ও ছেলেরা একটা ঘরে শুলো। মার্ক ওল্‌সেন তাঁর টেনিস শু’কে বালিশ বানিয়েছিলেন, আর জো ডিকুক এক তাড়া টয়লেট পেপারকে। রাতের মাঝখানে, মেল বিল্‌সের ঠান্ডা অনুভূত হলে তিনি একজোড়া দরজার পর্দা নামিয়ে নেন, তারপর গায়ে জড়িয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ছোট্ট বাচ্চা ও তাদের মায়েরা এক ঘরে এবং বড় মেয়েরা আরেক ঘরে ছিল।

তেরো বছরের বেকি কেচাম ভেবেছিল মিলিটারিরা এসে তাকে অত্যাচার করছে। সে সারা রাত খালি বলতে থাকে, উফ, উফ! সকাল বেলা আবিষ্কার করে, সে আসলে গায়ে একটা অসমাপ্ত সেলাইয়ের কাপড় জড়িয়ে ছিল, যেটার গায়ে তখনও পিনগুলো লেগে ছিল। ভাগ্য ভালো সেখানে কোনো ইঁদুর কিংবা মশা ছিল না—এবং বাঁদুড়গুলো দরজার বাইরেই অবস্থান করছিল। প্রধান অসুবিধা, রাতটা খুব ঠান্ডা ছিল। [চলবে]


কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১২)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১১)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ১০)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৯)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৮)

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;