বাড়তে পারে ট্রেনের টিকিটের দাম

  বাজেট অর্থবছর ২০২২-২৩



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাড়তে পারে ট্রেনের টিকিটের দাম

বাড়তে পারে ট্রেনের টিকিটের দাম

  • Font increase
  • Font Decrease

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে ট্রেনের প্রথম শ্রেণির টিকিটের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভাড়ার ওপর বাড়তি ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত টাকা গুণতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) সার্ভিসের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির রেলওয়ে সেবার ওপর ১৫ শতাংশ মূসক আরোপের প্রস্তাব করছি। এর ফলে এসি টিকিটের পাশাপাশি ট্রেনের চেয়ার কোচের টিকিটেও বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে।

বাজেটের মূল স্লোগান কোভিডের অভিঘাত কাটিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন। যেখানে মূল লক্ষ্য সক্ষমতার উন্নয়ন। ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেটে আয় ও ব্যয়ের বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার ঘোষণার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সুরক্ষায় বিলাসবহুল পণ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করছে। ফলে বিলাসবহুল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও বাড়তি কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  বাজেট অর্থবছর ২০২২-২৩

জিওদার্নোর প্রিমিয়াম কোয়ালিটির পোশাক পাওয়া যাবে দারাজে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হংকং ভিত্তিক বৈশ্বিক লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড GIORDANO ‘জিওর্দানো’প্রিমিয়াম পণ্য দেশের জনপ্রিয় ই-কমার্স ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম দারাজে পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে জিওর্দানো বাংলাদেশ (“নীরা ইন্টারন্যাশনাল” বাংলাদেশে নিরঙ্কুশ মালিক) এবং দারাজ বাংলাদেশ লি: ঐক্যমতে পৌঁছেছে।

রোববার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানী আশফিয়া টাওয়ার দারাজ কর্পোরেট অফিসে জিওর্দানোর পণ্য বাজারজাতকরণ এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্রেতার হাতে সুলভ মূল্যে তুলে দিতে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জিওর্দানো বাংলাদেশ’র সিইও শাহ্ ইস্কান্দার আলী এবং দারাজ বাংলাদেশ লি:’র কমার্শিয়াল ডাইরেক্টর কামরুল হাসান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ সভায় নেতৃত্ব দেন। জিওর্দানো বাংলাদেশ ও দারাজ বাংলাদেশ লি: নিজেদের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে শীঘ্রই সারাদেশে জিওর্দানো পোশাক পরিবেশন ও উন্নত গ্রাহক সেবার কার্যক্রম শুরু করবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জিওর্দোনো’র তৈরি প্রিমিয়াম পণ্য পুরুষ মহিলা শিশুদের পোশাক, ঘড়ি, চশমা, জুতা, বেল্ট, ব্যাগ, ছাতাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে পরিচিত,সমাদৃত ও জনপ্রিয়।

প্রিমিয়াম কোয়ালিটির এসব পণ্য স্বল্প মুনাফায় দারাজে বাজারজাতকরণের এ উদ্যোগের শুরুতে জিওর্দানো পোশাক ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট অফার দেওয়া হবে বলে জানান জিওর্দানো বাংলাদেশ’র সিইও শাহ্ ইস্কান্দার আলী।

প্রসঙ্গত,  ১৯৮১ সালে হংকং এ প্রতিষ্ঠিত লাইফস্টাইল পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান GIORDANO ‘জিওর্দানো। প্রতিষ্ঠানটির মূল স্লোগান (World Without Strangers) ‘অপরিচিত বিহীন পৃথিবী। জিওর্দানো উন্নত মানের পণ্য ও গ্রাহক সেবা দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

GIORDANO’জিওর্দানো’র ব্যবসা সম্প্রসারণ ও পৃথিবীর মানুষকে সংযুক্ত ও পরস্পর পরিচিত করার সফলতার ইতিহাস এখন আমেরিকার হার্বার্ড ইউনিভার্সিটিতে কেইস স্টাডি হিসেবে ছাত্রদের পড়ানো হয়।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ১২টি দেশে সফল ব্যবসার জন্য দুবাই ভিত্তিক রিটেইল এম.ই এওয়ার্ডে ভূষিত হন জিওর্দানো মধ্যপ্রাচ্য ম্যানেজিং ডিরেক্টর ঈশ্বর চুগানী।

যৌথ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দারাজ বাংলাদেশ’র হেড অব এ্যকুইজিশন অপারেশন- কমার্শিয়াল সাইমুন সানজিদ চৌধুরী, হেড অব এ্যকুইজিশন পারফরমেন্স - কমার্শিয়াল মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, চিফ কমার্শিয়াল অফিসার সাব্বির হোসেন, অ্যাসিসন্টেন্ট ম্যানেজার অক্যুইজিশন-কমার্শিয়াল আফতাফ আহমেদ ,এক্সিকিউটিভ কমার্শিয়াল আহমেদ আল মোহাইমিন এবং জিওর্দানো বাংলাদেশ’র সেলস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ মামুন আহমেদ ও অনলাইন সেলস ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ আল সাকিব ।

  বাজেট অর্থবছর ২০২২-২৩

;

চলতি সপ্তাহে আরেক দফায় বাড়বে বিদ্যুতের দাম!



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্বাহী আদেশে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে তৎপরতা শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ দফায় গ্রাহকের পাশাপাশি পাইকারি পর্যায়েও দাম বাড়ানো হতে পারে। চলতি সপ্তাহেই নতুন আদেশ আসতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সুত্র জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আমরা বলেছি প্রত্যেক মাসেই দাম সমন্বয় করা হবে। আগামী মাসেই হতে পারে, আবার দেখা যাবে পরের মাসে দাম কমে যেতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেটি ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর করার কথা। স্পর্ট মার্কেটের এলএনজি আমদানি না করা পর্যন্ত দর কার্যকর না করার বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সুত্র জানিয়েছে, আগের মতোই ৫ শতাংশ হারে দাম বাড়তে পারে। গেজেট প্রকাশের জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ গত ১২ জানুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। নতুন দর জানুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর করা হয়। সে হিসেবে ৩ সপ্তাহের কম সময়ে আবারও দাম বাড়াতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

আবাসিকের লাইফলাইন গ্রাহকের (৫০ ইউনিট ব্যবহারকারি) ইউনিট প্রতি ১৯ পয়সা বাড়িয়ে ৩.৯৪ টাকা, প্রথমধাপে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারির ২১ পয়সা বাড়িয়ে ৪.৪০ টাকা করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ৭৬-২০০ ইউনিট পর‌্যন্ত ২৯ পয়সা হারে বাড়িয়ে ৬.০১ পয়সা, ২০১-৩০০ ইউনিট পর‌্যন্ত ৩০ পয়সা বাড়িয়ে ৬.৩০ টাকা, ৩০১-৪০০ ইউনিট ব্যবহারির বিল ৩২ পয়সা বাড়িয়ে ৬.৬৬ টাকা, ৪০১-৬০০ ইউনিট পর‌্যন্ত ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ১০.৪৪ টাকা এবং সর্বশেষ ধাপ ৬০০ ইউনিটের উর্ধে ব্যবহারকারিদের ১১.৪৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২.০৩ টাকা করা হয়েছে। উল্লেখিত দর নিম্নচাপ শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। মধ্যম ও উচ্চচাপের গ্রাহকদের জন্য পৃথক দর নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যমচাপে ৫০ কিলোওয়াট থেকে ৫ মেগাওয়াট পর‌্যন্ত গ্রাহকদের ফ্ল্যাট রেটে ৮.৮২ টাকা, অফ-পীকে ৭.৯৪ এবং পীকে ১১.০৩ টাকা ধরা হয়েছে।

কৃষি সেচের দর ২১ পয়সা বাড়িয়ে ৪.৩৭ টাকা। এই ধরণের গ্রাহকের মধ্যমচাপে (১১ কেভি) ফ্ল্যাট রেটে ৫.২৫ টাকা, অফ-পীকে ৪.৭৩ টাকা, পীকে ৬.৫৬ টাকা করা হয়েছে।

শিল্প গ্রাহকদের ফ্ল্যাট রেটে ৮.৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.৯৬ টাকা, অফ পীকে ৭.৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.০৬ টাকা, পীকে ১০.২৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০.৭৫ টাকা করা হয়েছে। শিল্পে মধ্যমচাপে (১১ কেভি) ফ্ল্যাট রেটে ৮.৯৮ টাকা, অফ-পীকে ৮.০৯ টাকা এবং পীকে ১১.২২ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চচাপ (৩৩ কেভি) গ্রাহকদের ফ্ল্যাট রেটে ৮.৮৭ টাকা, অফ-পীকে ৭.৯৯ টাকা এবং পীকে ১১.০৯ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষা, ধর্মীয়, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে নিম্নচাপে ৩০ পয়সা বাড়িয়ে ৬.৩২ টাকা, রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পে ৭.৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.০৯ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ও অফিসের বর্তমান দর ফ্ল্যাট রেটে ১০.৮২ টাকা, অফ-পীকে ৯,৭৩ টাকা, পীকে ১২.৯৮ টাকা করা হয়েছে।

অতি উচ্চচাপ (শিল্প) ২০ মেগাওয়াট থেকে ১৪০ মেগাওয়াট পর‌্যন্ত ফ্ল্যাট রেটে ৮.৭৮ টাকা, অফ-পীকে ৭.৯০ টাকা, পীকে ১০.৯৭ টাকা দর নির্ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাম বৃদ্ধির আবেদনের উপর গত ৮ জানুয়ারি শুনানি নেয় বিইআরসি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। শেষ পর‌্যন্ত তড়িঘড়ি করে নির্বাহী আদেশেই বাড়িয়ে দেওয়া হয় বিদ্যুতের দাম।

বিইআরসি প্রতিষ্ঠার পর আর কখনও নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নজীর নেই। বিইআরসি সর্বশেষ ২১ নভেম্বর বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১৯.৯২ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট ৫.১৭ টাকা বাড়িয়ে ৬.২০ টাকা নির্ধারণ করেছে।

  বাজেট অর্থবছর ২০২২-২৩

;

ইউনিয়ন ব্যাংকের পথচলায় যুক্ত হল আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর সেবা ফায়িদা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইউনিয়ন ব্যাংকের পথচলায় যুক্ত হল আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর সেবা ফায়িদা

ইউনিয়ন ব্যাংকের পথচলায় যুক্ত হল আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর সেবা ফায়িদা

  • Font increase
  • Font Decrease

শরী‘আহ ভিত্তিক ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড এর পথচলায় যুক্ত হল ফায়িদা হবে প্রতি মাসে এই স্লোগান নিয়ে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর বিশেষ সেবা।

সেবাটি হল- মুদারাবা মাসিক প্রদেয় বিশেষ নোটিশ হিসাব (ফায়িদা)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মুদারাবা মাসিক প্রদেয় বিশেষ নোটিশ হিসাব ফায়িদা এর শুভ উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ. বি. এম. মোকাম্মেল হক চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম এবং এসইভিপি গোলাম মোস্তফা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধান কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানগণ ও শাখা ব্যবস্থাপকবৃন্দ।

 

  বাজেট অর্থবছর ২০২২-২৩

;

গ্যাস, বিদ্যুতের পর নির্বাহী আদেশে বিতরণ চার্জ বাড়াতে তোড়জোড়



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
গ্যাস, বিদ্যুতের পর নির্বাহী আদেশে বিতরণ চার্জ বাড়াতে তোড়জোড়

গ্যাস, বিদ্যুতের পর নির্বাহী আদেশে বিতরণ চার্জ বাড়াতে তোড়জোড়

  • Font increase
  • Font Decrease

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির নির্বাহী ক্ষমতা যাচ্ছে তাই ব্যবহারের পথে হাঁটছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর এবার বিতরণ কোম্পানির চার্জ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রথম ধাপেই তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, সুন্দরবন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম কোম্পানি লিমিটেডের বিতরণ চার্জ এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ এর সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই চার্জ বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। আদেশ যাই আসুক ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা।

নির্বাহী আদেশে এমনটি করা হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা করছে ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্ট ড. শামসুল আলম। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, কোম্পানিগুলো অনেক গোজামিল দিয়ে দাম বাড়িয়ে নিতে চায়। বিইআরসির শুনানিতে কিছুটা হলেও যাচাই-বাছাই করা হতো। এখন সেই জায়গাটিও নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এতে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে।

গ্যাসের বিতরণ কোম্পানিগুলো অনেক বছর ধরেই মুনাফা করে চলছে। তাদের মুনাফার কিছুটা নজির পাওয়া যায় প্রফিট বোনাস প্রদানের হার থেকে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড তার ৩৮৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যেকটে ১৮ লাখ টাকা করে প্রফিট বোনাস দিয়েছে। যদিও তাদের বোনাস নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে রয়েছে নানা রকম প্রশ্ন। কোম্পানিগুলোর প্রফিট বোনাসে কিছুটা লাগাম টানার চেষ্টা করে চলেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

কেউ কেউ মনে করেন বিইআরসি ও কোম্পানির দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণও এটাই। যে কারণে আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম বাড়ানোর বিকল্প চালু করা হয়েছে। অনেকের ধারণা মুনাফায় লাগাম দেওয়ায় চটে গেছেন বিতরণ কোম্পানিগুলোর লোকজন। আর কোম্পানি চটে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে মন্ত্রণালয় ক্ষেপে যাওয়ার নামান্তর। কারণ যুগ্মসচিব থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত প্রত্যেকেই কোন না কোন কোম্পানির বোর্ডে রয়েছেন। কেউ কেউ একইসঙ্গে একাধিক কোম্পানির বোর্ডে রয়েছেন। খোদ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব রযেছে সবচেয়ে বড় দু’টি কোম্পানির (তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি) বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে। বহু বছর ধরেই এমনটি চলে আসছে, সচিব পদে ব্যক্তির রদবদল হলেও সচিবের জন্য নির্ধারিত থেকেই যাচ্ছে বোর্ড চেয়ারম্যান পদটি। যিনি সচিব হবেন তিনিই বোর্ড চেয়ারম্যান হবেন এটাই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

কোম্পানির কর্মকর্তারা যেহেতু মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন, তাই সহজেই কান ভারি করার সুযোগ পান। এমনকি বোর্ড সভায় বসেও তারা তাদের মতো করে ব্যাখ্যা দাঁড় করান। কর্তাও হয়তো তা তলিয়ে দেখার সময় সুযোগ পান না। গত ১৪ ডিসেম্বর আন্ত:মন্ত্রণালয় সভার কার্যপত্রে বিইআরসিকে নিয়ে চচ্চার আলামত পাওয়া গেছে। ওই সভায় জিটিসিএল এমডি বলেন, প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের সঞ্চালন চার্জ নির্ধারিত রয়েছে ৪৭ পয়সা। এরফলে গত অর্থ বছরে ২১৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৫৫০ কোটি টাকা লোকসান হবে। তিতাস গ্যাস এমডি হারুনুর রশীদ মোল্লাহ বলেন, তাদের কোম্পানি লোকসান দিচ্ছে, বিতরণ চার্জ বাড়ানো দরকার। তাদের এমন বক্তব্যের জবাবে জ্বালানি বিভাগের তৎকালীন সিনিয়র সচিব বলেন, “ সরকার, পেট্রোবাংলা কিংবা বিপিসি মুনাফা করার জন্য কখনই ব্যবসা করে না। তবে কোম্পানিগুলি যে পরিমাণ বিনিয়োগ করবে তা রির্টাণের সুযোগ থাকতে হবে। অন্যথায় কোম্পানিগুলি বিনিয়োগ করে ক্ষতির সস্মুখিন হবে, যা কাঙ্খিত নয়।”

তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাবি হচ্ছে বিতরণ চার্জ কম থাকায় তারা লোকসান দিচ্ছে। অথচ গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিইআরসি টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, রেট বেজের উপর রিটার্ন বিবেচনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে তিতাস গ্যাসের নীট রাজস্ব চাহিদা মাইনাস ১০ পয়সা। তিতাসের প্রতি ঘনমিটারের বিদ্যমান বিতরণ চার্জ ২৫ পয়সা হারে ( জুলাই ২০১৯ থেকে) বাতিল করা যেতে পারে।

অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী তিতাস গ্যাস ২০২০-২১ অর্থবছরে অন্যান্য পরিচালন আয় করেছে ২ হাজার ৬০৮ মিলিয়ন টাকা, অন্যান্য অপরিচালন আয় করেছে ১২৩ মিলিয়ন টাকা। একই বছরে ব্যাংকে জমা আমানতের সুদ থেকে আয় করেছে ২ হাজার ৫১১ মিলিয়ন টাকা। তিতাস ২০২০-২১অর্থবছরে অন্যান্য খাত থেকে সর্বোমোট আয় করেছে ১০ হাজার ৩৭১ মিলিয়ন টাকা।

বিতরণ চার্জ বিলুপ্ত করার পক্ষে বিইআরসি টেকনিক্যাল কমিটি তার ব্যাখ্যাও দিয়েছে। কমিটি বলেছে, তিতাসের রাজস্ব চাহিদায় অবচয় হার, ঋণের সুদ, রিটার্ণ অন ইক্যুইটি, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, সুদ আয় সিস্টেম লস বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ভবনের অবচয় ৩ থেকে ১০ শতাংশ, ফার্ণিচার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ, অফিস ইক্যুইপমেন্ট ১৫ শতাংশ অন্যান্য ইক্যুইপমেন্ট ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ যানবাহন ২০ শতাংশ, অন্যান্য সম্পদ ১০ থেকে ২০ শতাংশ অবচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ৫ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এতে তাদের বিতরণ চার্জ বিলুপ্ত করলে কোম্পানি মুনাফায় থাকবে।

শুনানিতে বিইআরসি টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্টে বলা হয় সবগুলো কোম্পানিই মুনাফায় রয়েছে। কোম্পানিগুলো পরিচালন বর্হিভূত আয় এতে বেশি, তাদের বিতরণ চার্জ আদায় না করলেও মুনাফায় থাকে। অর্থাৎ হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংক আমানত, নানা রকম মাশুল দিয়েই মুনাফায় থাকে কোম্পানি। এ কারণে শুধু কর্নফূলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বিতরণ চার্জ ২৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ৯ পয়সা করার সুপারিশ দেওয়া হয়। অন্যান্য বিতরণ কোম্পানির বিতরণ চার্জ বিলুপ্ত করার সুপারিশ দেওয়া হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে কোম্পানিগুলোর ব্যাংকে ফেলে রাখা উদ্বৃত্ত অর্থ নিয়ে গেছে সরকার।

অথচ এখন কোম্পানিগুলোর চার্জ বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। অবশ্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর টাকার হিস্যা পুনঃনির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। না হলে আকাশচুম্বি দামের ক্রিম চলে যাবে কোম্পানির পকেটে। বছর থেকে শেয়ার হোল্ডারদের ডিভিডেন্ট বাড়বে, কয়েকগুণ বাড়তে পারে প্রফিট বোনাস। বিদ্যমান ফর্মুলায় গ্যাস বিক্রির অর্থ বিভিন্ন খাতে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এখানে এলএনজি আমদানির কথা বলে যেভাবে দাম বাড়ানো হয়ে তার প্রতিফলন হওয়ার সুযোগ নেই।

বিইআরসির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমরা যা দিয়েছি সেটিকে ট্যারিফ বলা হয়। ট্যারিফ নির্ধারণের কতগুলো ভিত্তি রয়েছে। ফ্রি অর্থনীতির মধ্যেও ট্যারিমের মাধ্যমে কিছুটা হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নির্বাহী আদেশে যেভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে, সেখানে কোম্পানিগুলো মুনাফা ফুলে ফেপে উঠবে। পেট্রোবাংলার সুবিধা পাওয়ার কোন পথ উন্মুক্ত করা হয় নি। গেজেটে বলতে হতো, বাড়তি অর্থ পুরোটা পেট্রোবাংলা পাবে, তবেই প্রকৃত সফল পাওয়া যেতো। না হলে কর্নফুলী ১৮ লাখ প্রফিট বোনাস দিয়েছে পরের বছর এক কোটি করে দেবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই চার্জ পুনঃনির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। কোম্পানিগুলো চাপাচাপি করবে সে কারণে কিছুটা গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে।

  বাজেট অর্থবছর ২০২২-২৩

;