বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যের পরম্পরা



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম 
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মৃত্যুর শোকাবহ আবহ ঘিরে রেখেছে সদ্যপ্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে। নেতা, কর্মী, স্বজনের শতসহস্র স্মৃতির প্রদীপ আলো ছড়াচ্ছে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও উল্লেখযোগ্য কর্মের চারদিকে। ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিলে জন্ম নিয়ে ২০২০ সালের ১৩ জুন চিরবিদায় নেওয়া এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ৭২ বছরের সুদীর্ঘ জীবনের খণ্ড, বিখণ্ড বহু ঘটনা সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে।

যদিও শোকসন্তপ্ত পরিস্থিতি নৈর্ব্যক্তিক, বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের উপযুক্ত পরিবেশের নিশ্চয়তা দেয়না। সুদীর্ঘ জীবনকালের অনুপুঙ্খ পর্যালোচনাও শোক আর আবেগের তীব্রতার মধ্যে সম্পন্ন করা যায়না। ঘটনাবহুল জীবনের ভালো ও মন্দের মাঝ দিয়ে সঠিক মূল্যায়ন সময়সাপেক্ষ বিষয়। তথাপি বাংলাদেশের রাজনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্বাক্ষী ও অংশগ্রহণকারী নেতা মোহাম্মদ নাসিমের পরিপূর্ণ মূল্যায়ন তার দল ও সংশ্লিষ্টরা যথাসময়ে নিশ্চয় করবেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের উত্থানপতনের সত্যনিষ্ঠ পাঠ গ্রহণের প্রয়োজনেই মোহাম্মদ নাসিম ও তার মতো জাতীয় স্তরে তৎপর নেতাদের জীবন, কর্ম ও রাজনীতির নানাদিক লিপিবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে, বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান স্রোতধারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্দোলন, সংগ্রাম ও অর্জন সম্পর্কে জানতে হলে মোহাম্মদ নাসিমের মতো দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের সম্পর্কেও জানতে হবে। কারণ, তার পুরো জীবন ও কর্মের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ আজকে একটি সুদৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের ভেতর দিয়ে। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পাকিস্তানের শোষণ, নিপীড়ন, পরাধীনতা থেকে স্বাধীনতা লাভ ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গতিশীল পথযাত্রায় বঙ্গবন্ধু পেয়েছিলেন বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যের পরম্পরা, যেখানে শর্তহীনভাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল, তাজউদ্দীন, কামরুজ্জামান ও মনসুর আলী।

বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অব্যাহত সাফল্যের পেছনে অনেক কিছুর মতো সৌভাগ্যবশত কাজ করেছিল জাতীয় চার নেতার রক্ত ও ঐতিহ্য থেকে উৎসারিত বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যের পরম্পরা, মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন যার অন্যতম ধারক ও বাহক। একইভাবে আরো ছিলেন সৈয়দ আশরাফ এবং আছেন আরো অনেকেই।

পিতা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মনসুর আলী, যিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তার ভাবাদর্শের রাজনীতিই গ্রহণ করেন তিনি। আর তা ছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বস্ততায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য । বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে যে আনুগত্য নিঃশর্তে জ্ঞাপন করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি।    

মুক্তিযুদ্ধের পর মোহাম্মদ নাসিম ঢাকার জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন।গত শতকের ষাটের দশকে ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী নাসিম স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর কারাগারে মনসুর আলীকেও হত্যা করা হলে আওয়ামী লীগে সক্রিয় হন নাসিম। তখন কারাগারেও যেতে হয়েছিল তাকে। বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও রাজনীতির উত্তরাধিকার শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণকালে যারা পাশে ছিলেন, মোহাম্মদ নাসিম তাদেরও অন্যতম।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরাচার এরশাদ ও বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ঢাকার রাজপথে রক্তাক্ত হয়েছেন তবু সরে যাননি। এক নির্ভীক, লড়াকু যোদ্ধার মতো বিশ্বস্ততায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়েছেন তিনি।        

১৯৮৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাসিম। তখন সংসদে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপের দায়িত্বও পান তিনি। তখন তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক। পরে দলের সাংগঠিক সম্পাদক হন। আওয়ামী লীগের সাংগঠিক ভিত্তি বাড়ানোর কাজে  তিনি ছিলেন সদাতৎপর।

সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোহাম্মদ নাসিম দলীয় অনেক দায়িত্বশীল পদের পাশাপাশি সামলেছেন সরকারের বিভিন্ন পদ ও পদবী। স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়েও কাজ করেছেন তিনি।

শেষ দিকে সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে সরে গেলেও তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিকাশের কাজ করে গেছেন। তিনি ছিলেন আওয়ামী রাজনীতির পরীক্ষিত সহযোগী ১৪ দলের সমন্বয়ক। নিজের দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বন্ধু সংগঠনগুলোর সেতুবন্ধন রচনা করেছিলেন তিনি। 

রাজনীতিতে তিনি যেমন অনেক কিছু পেয়েছেন, তেমনি হারিয়েছেনও অনেক কিছু। হারিয়েছেন পিতাকেও। কিন্তু পিতার দেখানো পথ, রাজনৈতিক বিশ্বাস, মতাদর্শিক ঠিকানা হারাননি কখনোই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করেছেন সব সময়। আওয়ামী লীগকে ধারণ করেছেন জীবনভর। অবিচল ছিলেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি।

শাঠ্য ও ষড়যন্ত্রে পঙ্কিল তৃতীয় বিশ্বের ডিগবাজির স্বার্থান্ধ রাজনীতির অন্ধকারে মোহাম্মদ নাসিম নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যিনি পিতার রাজনৈতিক আত্মত্যাগের পথকে নিজের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যে আঁকড়ে ধরেছেন সর্বক্ষণ। দল, নেতৃত্ব ও আদর্শের প্রশ্নে থেকেছেন অটল। তার মৃত্যু অবশ্যই আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য এক বিরাট ক্ষতি। বাংলাদেশের রাজনীতির জন্যেও তার বিদায় বেদনাবহ। তবে মৃত্যুতেই তার অবদানের পরিসমাপ্তি ঘটবেনা। কারণ, আদর্শের প্রতি বিশ্বাস ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের যে পরম্পরা তিনি স্থাপন করেছেন, আওয়ামী রাজনীতির নেতা-কর্মীরা তা থেকে অনিঃশেষ অনুপ্রেরণা লাভ করবেন।

আরও পড়ুন: সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আর নেই

 সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম করোনায় আক্রান্ত

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অবস্থা সংকটজনক

   

মস্তিস্কেও ঢুকে যাচ্ছে প্লাস্টিক



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মস্তিস্কেও ঢুকে যাচ্ছে প্লাস্টিক

মস্তিস্কেও ঢুকে যাচ্ছে প্লাস্টিক

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান পৃথিবী প্লাস্টিকময়। ছোট বড় থকে প্রায় সবরকম কাজে প্লাস্টিকের ব্যবহারের আধিক্য। তবে এই প্লাস্টিক অজৈব পদার্থে তৈরি হওয়ার কারণে সহজে পচনশীল নয়। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকার কারণে এসব পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।  শুধু পরিবেশ নয়, হার্ট, মগজ, সব জায়গাতেই নাকি ঢুকে রয়েছে প্লাস্টিক। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনটাই জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, হার্টের নানা রোগ, মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার পিছনেও এই প্লাস্টিকগুলির অবদান রয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

সময়ের বিবর্তনে প্লাস্টিক বিভিন্ন আঘাতের কারণে ক্ষয় হয়ে ক্ষুদ্র আকার ধারণ করে। ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের প্লাস্টিককে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলে। দিন দিন পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে সমুদ্রে বিপুল পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ সৃষ্টি করেছে। পরিবেশের বিভিন্ন প্রাণী তাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে দিন দিন এই মাইক্রোপ্লাস্টিকের আধিপত্য বেড়েই চলেছে। এমনকি মানব শরীরেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। এক গবেষণায় মস্তিস্কে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে নিউ ম্যাক্সিকোর এনভয়রনমেন্টাল হেলথ পারসপেক্টিভ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় খাদ্য, পানি এমনকি বায়ুর মাধ্যমেও শরীরে প্রবেশ করে। এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা আমাদের স্নায়ুবিক নানান অনুভূতির উপরেও মাইক্রো প্লাস্টিক প্রভাব ফেলে।

রক্ত প্রবাহের কারণে তা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে বেড়ায়। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে তা জমা থেকে স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা প্রদান করে। বৃক্ক, লিভার, হৃদপিণ্ডের রক্তনালি ছাড়াও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মস্তিষ্ক। মাইক্রোপ্লাস্টিক এসব অঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। 

ডাক্তার ইয়াতিন সাগভেকার বলেন দৈনন্দিন নানা কাজের মধ্যেই শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করে। তবে পারে তা ত্বক, প্রশ্বাসের বায়ু বা ইনজেশনের মাধ্যমে।     

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র ২০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করতে পারার কথা। এছাড়া ১০ মাইক্রোমিটার আকারের গুলো মস্তিষ্কের সুক্ষ্ম কোষের ঝিল্লির অতিক্রম করতে সক্ষম হওয়া উচিত।

প্লাস্টিক পরিবেশ্ম প্রানি এমনকি মানুষের জন্যও অনেক ক্ষতিকর। তাই সকলের উচিত যতটা সম্ভব প্লাস্টিক বর্জন করা। পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি জিনিসের ব্যবহার বাড়ানো।

;

খাবারের পর প্লেট ধোয়া কষ্ট? তাহলে এই কৌশল আপনার জন্য!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

খাওয়ার বিষয়ে সবাই পটু। কিন্তু খাওয়ার পর থালা বাসন ধোয়াকে অনেকেই কষ্টকর কাজ মনে করেন। তাই দেখা যায় খাওয়ার পর অপরিষ্কার অবস্থায়ই থেকে যায় থালা বাসনগুলো। এবার এই কষ্ট কমাতে এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন এক ব্যক্তি।

সম্প্রতি এমন এক ভিডিও নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি। 

হর্ষ গোয়েনকা নামে ভারতের এক শিল্পপতি তাঁর এক্স হ্যন্ডেলে (সাবেক টুইটার) ভিডিওটি শেয়ার করেন। এতে দেখা যায়, থালাবাসন পরিষ্কারের কাজ এড়াতে এক ব্যক্তি মজার এক কৌশল নিয়েছেন। এতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি খাবার রান্না করছেন। খাবার আগে তিনি প্লাস্টিক দিয়ে প্লেট, চামচ ও পানির গ্লাস মুড়িয়ে নিচ্ছেন।

শেয়ার করে তিনি মজাচ্ছলে লিখেছেন, "যখন আপনার থালা-বাসন ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি থাকে না..."।

ভিডিওটি শেয়ার করার পর মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি অনেক বিনোদনের জন্ম দিয়েছে। যদিও কেউ কেউ প্লাস্টিকের মোড়ককে হাস্যকর মনে করেন এবং এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এক্স ব্যবহারকারী একজন লিখেছেন, 'পানি সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার করা হল মন্ত্র হল এমন কৌশল! তবে প্লাস্টিকের ব্যবহার নতুন করে ভাবাচ্ছে।'

অন্য একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'আমি আমার হোস্টেলের দিনগুলিতে এটি করেছি। আমাদের পানি সরবরাহ ছিল না এবং বারবার ধোয়ার কষ্টে এমন কৌশল নিয়েছি।'

আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে বেঙ্গালুরুতে পানি–সংকটের সমাধান হয়ে যাচ্ছে।’

;

জলদানব ‘লক নেস’কে খুঁজে পেতে নাসার প্রতি আহ্বান



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রহস্যময় জলদানব জলদানব ‘লক নেস’কে খুঁজে পেতে নাসার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে লক নেস সেন্টার। ২০২৩ সালের এই রহস্যময় প্রাণীর শব্দের উৎস ও একে খুঁজে পেতে হাইড্রোফোন ব্যবহার করা হয়েছিল।

স্যার এডওয়ার্ড মাউন্টেনের ৯০তম অভিযানের অংশ হিসেবে আগামী ৩০ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত এই ‘লক নেস মনস্টার’কে খুঁজে পেতে অনুসন্ধান চালানো হবে।

রহস্যময় এই ‘লক নেস মনস্টার’কে ১৯৩৪ সালে প্রথম দেখা যায়। এ পর্যন্ত ১ হাজার ১শ ৫৬ বার দেখা গেছে বলে লক নেস সেন্টার সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে লক নেস সেন্টারের এমি টোড বলেছেন, আমরা আশা করছি, এই রহস্যময় জলদানবকে খুঁজে পেতে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গবেষকেরা আমাদের সহযোগিতা করবেন। তারা আমাদের জলদানবকে খুঁজে পেতে যথাযথ নির্দেশনা দেবেন এবং এ বিষয়ে সব কিছু জানাতে সাহায্য করবেন।

তিনি বলেন, আমাদের অভিযানের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছি। আমরা আশা করছি, নাসার উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা জলদানব বিষয়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাবো।

রহস্যময় জলদানব খুঁজে পেতে স্বেচ্ছাসেবকের ভূপৃষ্ঠ থেকে যেমন নজর রাখবেন, তেমনি পানির ভেতরে অভিযান চালানোর বিষয়ে তাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। রহস্যময় জলদানবকে খুঁজে পেতে ১৯৭০ দশক ও ১৯৮০ দশকের যে সব তথ্যচিত্র লক নেসের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, সেগুলো যাচাই করে দেখা হবে।

তারপর জলদানব সম্পর্কে স্বেচ্ছাসেবকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন লক নেসের পরিচালক জন ম্যাকলেভারটি।

এ নিয়ে গবেষকদের নিয়ে একটি অনলাইন বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। যারা রহস্যময় এই জলদানবকে সচক্ষে দেখেছেন, তারাও এ লাইভ বিতর্কে অংশ নেবেন।

নেস হৃদ

যে হ্রদে জলদানব অবস্থান করছে বলে জানা গেছে, অভিযানের অভিযাত্রী দল নৌকায় করে সেখানে যাবেন। এসময় তাদের সঙ্গে থাকবেন গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানকারী দলের ক্যাপ্টেন অ্যালিস্টার মাথিসন। তিনি লক নেস প্রজেক্টে একজন স্কিপার হিসেবে কাজ করছেন। তার সঙ্গে থাকবেন ম্যাকেন্না।

অনুসন্ধান কাজে ১৮ মিটার (৬০ ফুট) হাইড্রোফোন ব্যবহার করা হবে। এটি দিয়ে রহস্যময় শব্দের প্রতিধ্বনি রেকর্ড করা হবে।

দ্য লক নেস সেন্টার ড্রামনাড্রোচিট হোটেলে অবস্থিত। ৯০ বছর আগে অ্যালডি ম্যাককে প্রথম রিপোর্ট করেছিলেন যে তিনি একটি জলদানব দেখেছেন।

লক নেস সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার পল নিক্সন বলেছেন, ২০২৩ সালে নেসিকে খুঁজে পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, জাপানসহ আরো অনেক দেশ অনুসন্ধান কাজে অংশ নিয়েছিল। এটি ছিল বড় ধরনের একটি অভিযান।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানের সময় যে অদ্ভুত শব্দ শোনা গিয়েছিল, সে শব্দের কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যায়নি। তবে আমরা এবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, জলদানব লক নেসের রহস্য উন্মোচন করতে পারবো।

এ বিষয়ে আমরা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করবো। এ রহস্যময় জলদানব লক নেস সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, তাদের সহযোগিতা নেওয়া হবে। পল নিক্সন আরো বলেন, এবার আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত যে, জলদানবকে খুঁজে পেতে নতুন ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করবো।

স্কটল্যান্ডের ইনভার্নেসের কাছে এক বিশাল হ্রদের নাম ‘নেস’। স্কটিশ গেলিক ভাষায় হ্রদকে লক (Loch) বলা হয়। আর উচ্চারণ করা হয় ‘লক’। গ্রেট ব্রিটেনের স্বাদুপানির সবচেয়ে একক বৃহত্তম উৎস এ হ্রদটির আয়তন ২২ বর্গ কিলোমিটার, গভীরতা ৮০০ ফুটেরও বেশি। এই হ্রদেই দেখা মিলেছিল সত্যিকারের জলদানব ‘লক নেসের’।

;

স্টেডিয়ামে খেলা দেখার জন্য অফিসে মিথ্যা বলা, শেষ রক্ষা হয়নি তার!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বহুল প্রত্যাশিত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরু হয়েছে ২২ মার্চ থেকে। বিশ্বের নামিদামী সব খেলোয়াড়ের উপস্থিতি থাকায় বিশ্বজুড়ে এই লীগের চাহিদা তুঙ্গে। তাই এর দর্শক সংখ্যাও কত হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়। যাদের সুযোগ সামর্থ্য থাকে তারা স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখেন আর যাদের সুযোগ না থাকে তারা টেলভিশনের পর্দায়ই বিনোদন খোঁজেন।

সম্প্রতি, এই লীগের একটি ম্যাচ স্টেডিয়ামে দেখতে গিয়ে অদ্ভুত এক কাণ্ডের জন্ম দিয়েছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরের নেহা নামে এক নারী ভক্ত। ওইদিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও লখৌন সুপার জায়ান্টসের মধ্যে ম্যাচ চলছিল। সেই খেলা মাঠে বসে দেখতে তিনি পারিবারিক সমস্যার কথা বলে আগেই অফিস থেকে বের হয়ে যান।

তারপর যথারীতি সে মাঠে বসে খেলা উপভোগ করছিল। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে অন্য জায়গায়। খেলা চলার এক পর্যায়ে তাকে টিভি স্ক্রিনে দেখতে পায় তার অফিসের বস।

পরে এই ঘটনাটির একটি ভিডিও তিনি তার ইন্সটাগ্রাম একাউন্টে শেয়ার করেন। সেখানে তিনি পুরো বিষয়টি নিয়ে খোলাসা করেন।

ওই ভিডিওতে নেহা বলেন, অফিস থেকে পারিবারিক সমস্যার কথা বলে মাঠে এসে খেলা দেখেছি। আমি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর একজন ভক্ত। কিন্তু টিভি স্ক্রিনে আমার বস আমাকে দেখে ফেলে। পরে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন আমি কোন দলের সমর্থক হিসেবে খেলা দেখছি। আমি বলেছি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

এরপর বস বলেন, তাহলে আপনি নিশ্চয় গতকাল খুব অসন্তুষ্ট ছিলেন। ওরা ফিল্ডিংয়ে একটি ক্যাচ মিস করার সময় আপনাকে খুব উদ্বিগ্ন চেহারায় দেখেছি। ১৬.৩ ওভারে যখন কিপার ক্যাচ মিস করলো, তখন।

হাতেনাতে ধরা পড়ে যাওয়ার পর নেহা স্বীকার করে নেন, ওটা তিনিই ছিলেন। বলেন, হ্যাঁ, অনুজ রাওয়াত ক্যাচ মিস করেছিল।

এরপর নেহার বস বলেন, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য ক্যামেরায় আপনাকে দেখিয়েছিল। আর তাতেই আমি চিনে ফেলেছি। তাহলে এটাই ছিল গতকাল দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার কারণ।

এরপর তিনি একটি হাসির ইমোজি দিয়ে কথপোকথন শেষ করেন।

ভিডিওটি শেয়ার করার পর রাতারাতি সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

পোস্টের নিচে অনেকেই নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

একজন লিখেছেন, এটা ঠিক আছে। ম্যানেজারের উচিত কর্মচারীকে স্বাধীনতা প্রদান করা। যাতে সে সত্য বলতে পারে বা নিজের জীবনকে স্বাধীনভাবে উপভোগ করতে পারে।

আরেকজন লিখেছেন, আপনাকে এর জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত করা উচিত। একে তো আপনি অফিস থেকে মিথ্যা কথা বলে বের হয়েছে আবার নিজেদের ব্যক্তিগত কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন।

;