এমআরআই মেশিন-সিটি স্ক্যান নষ্ট শুনতে আমারও খারাপ লাগে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: আনিসুজ্জামান দুলাল, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: আনিসুজ্জামান দুলাল, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে একটা এমআরআই মেশিন, সিটি স্ক্যান নষ্ট এটা শুনতেও আমার কাছে খুব খারাপ লাগে! আমি এই মেডিকেল কলেজের ছাত্র হিসেবে বলছি না, একজন চিকিৎসক, একজন মন্ত্রী হিসেবে বলছি!

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অবস্থান। এখানে যদি এই মেশিন নষ্ট থাকে, এটি ঠিক করা জরুরি। এর জন্য যা যা করা দরকার, আমি সেভাবেই আগাবো! আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন!

শনিবার (৬ জুলাই) সকাল ৮টটায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এসব কথা বলেন।

সভায় চিকিৎসকরা মন্ত্রীর কাছে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকটের কথা তুলে ধরেন। এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সাইট ও হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন।

সভায় বক্তব্যের শুরুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন বলেন, এতক্ষণ যেসব সমস্যার কথা আলোচনা হয়েছে, আমি কিন্তু সবই জানি! আমিও একজন সারাজীবন ডাক্তারি করে এসেছি। মন্ত্রী হয়েছি মাত্র ছয় মাস হলো।

এর আগে আপনাদের মতো আমিও অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি আর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ তো আমার জন্য একটি সেকেন্ড হোম। এখানে হাসপাতালের পরিচালক, কলেজের অধ্যক্ষ আছেন। আমি একটি অনুরোধ করবো, আপনারা আমাকে যদি একটি তালিকা করে যদি যে, কোন কাজটা আগে করতে হবে, কোনটা পরে, তাহলে খুব ভালো হয়!

হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখার বিষয়টি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমি কয়েকটা ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছি। ইউরোলজি ওয়ার্ডে গিয়ে আমি যে, রোগীর চাপ দেখেছি, আগে কোনোদিন তা আমি দেখিনি। হয়ত আশেপাশে এই বিভাগে চিকিৎসা নেই। কক্সবাজার, রাঙামাটি, নোয়াখালী এসব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগীরা এখানে এসেছেন। কিছুদিন আগে মন্ত্রণালয়ের ডিজিসহ আমরা প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছি। সেখানে আমরা প্রেজেন্টেশন আকারে নানা বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে খোলামেলাভাবে দেখিয়েছি।

চিকিৎসকদের পোস্টিং নিয়ে নীতিমালা হচ্ছে জানিয়ে সামন্ত লাল সেন বলেন, আপনাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রায়ই আমাকে আবেদন দেওয়া হয়, বিশেষ করে গাইনি বিভাগ থেকে প্রায় চিকিৎসকই ঢাকা চলে যেতে চান। গাইনি বিভাগ থেকে সবাই যদি চলে যেতে চান, তাহলে চলবে কী করে!

মন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এ নিয়ে একটি নীতিমালা করতে যাচ্ছি, যা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। আমি আপনাদের এটি একটু খুলে বলি- যদি আইনে বা নীতির মধ্যে থাকে, এরপরও কেউ যদি আসতে না চান বা যেতে না চান, তাহলে তাকে বলে দেবেন, চাকরি ছেড়ে দিতে। তাকে যেখানে পোস্টিং দেবে, সেখানে যেতে হবে।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, একটা সুন্দর নীতি অনুযায়ী আমি যাতে সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোস্টিং দিতে পারি, সেই কাজটা করছি, যেটা অনেক বড় কাজ।

আপনারা জানেন যে, আমি মনে মনে ঠিক করেছি, ঢাকায় বেশিদিন থাকবো না। মাত্র দুইদিন থাকবো আর বাকি দিন আমি বাইরে ঘুরে বেড়াবো। আজকের এই মিটিং শেষ করে আমি এখান থেকে কয়েকটি জায়গায় যাবো। আমি বলবো না, কোথায় যাবো!

মন্ত্রী দুঃখ নিয়ে বলেন, আমি খুব দুঃখের সঙ্গে বলছি, কয়েকটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আমি যা দেখেছি, তাহলো একটি সরকারি হাসপাতালেও বিকেল পাঁচটায় কাউকে পাইনি। আমার কাছে এরকম প্রমাণ আছে! আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনারা আমাকে সার্ভিস দিন। আমি বার বার বলেছি; এখনো বলছি, আপনাদের জন্য যা যা দরকার, তা আমি করবো।

চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে কাজ চলছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের জন্য আমি স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) মন্ত্রণালয়ে আমি মিটিং করেছি। আগামী পার্লামেন্টে এটি নিয়ে যাওয়ার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের সুরক্ষা, চিকিৎসকদের মান-সম্মান, এটা আমার ‘টপ প্রায়োরিটি’ (অগ্রাধিকার)।

আমি মনে করি, আমার চিকিৎসকদের আমি যদি ভালোভাবে রাখতে পারি, আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমাদের ডাক্তার ছেলে-মেয়েরা থাকে, আমি যদি তাদের থাকার বাসস্থান ঠিক রাখতে না পারি, তাহলে তো আমি কোনোদিন তাদের থেকে সার্ভিস আশা করতে পারি না। তাদের থাকার মতো ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের জন্য চিকিৎসার সমস্ত সাপোর্ট দিতে হবে। সেগুলো যদি দিতে পারি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা দিতে পারলে, ঢাকা শহরে তাহলে যে রোগীর চাপ, তা কমে যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আজকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে অবস্থা আমি দেখলাম, এটা তো সত্যি খুবই দুঃখজনক! এত রোগীর চাপ এখানে! যাই হোক, এখানে যত সমস্যা আছে, আমরা সেগুলো নোট নিয়েছি, কীভাবে সমাধান করা যায়! ঢাকায় গিয়ে প্রায়োরিটি হিসেবে আমি চেষ্টা করবো, যত দ্রুত সম্ভব, এগুলো সমাধান করার!

মন্ত্রী চিকিৎসকদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আমি কিন্তু একটা কথা খুবই বিশ্বাস করি। সেটা হলো- কথা কম, কাজ বেশি। বেশি কথা বলে আমি আপনাদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যাবো না। আমি যেটুকু পারবো, সেটুকুই বলবো। আমি একদিনে বা রাতারাতি কোনো সমাধান করতে পারবো না। এ সব সমস্যা সমাধান করতে আমার একটু সময় লাগবে! আপনারা আমাকে সহযোগিতা করলে আমার বিশ্বাস, আমি একটা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।

মন্ত্রী সংসদ সদস্যদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মানুষের আস্থা ফেরানোর কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাকে সংসদে গেলে প্রায়ই ডাক্তারদের সম্পর্কে বিভিন্ন কথা শুনতে হয়। আমি মাননীয় সংসদ সদস্যদেরকে প্রায় সময় অনুরোধ করি, আপনারা একটু আপনাদের হাসপাতালগুলোতে যান। আপনারা যারা সংসদ সদস্য কোনোদিন কি গিয়ে দেখেছেন! তারা যদি যে এলাকার সংসদ সদস্য, সেই এলাকার হাসপাতালে গিয়ে নিজেদের চেকআপ করান, তাহলে হাসপাতালের মান তো অনেক বাড়বে! এটা তো সত্যি যে, তারা যদি আস্থা প্রকাশ করতে পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। কেউ আর বিদেশ যাবেন না!

মন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আমি গাজীপুর বেগম ফজিলাতুন্নেছা হাসপাতালে কিছু পরীক্ষা করিয়েছি। এরকম আমাদের সবাইকে করতে হবে।

মন্ত্রী চিকিৎসকদের অনুরোধ করে বলেন, আমি আপনাদের কাছে একটা বিষয় অনুরোধ করছি, আমি কিন্তু কোনোদিন ‘অভিযান’ চালাইনি। আমি সাংবাদিক ভাইদের সবসময় বলি, এটি ‘অভিযান নয়, এটি হচ্ছে পরিদর্শন’। অভিযান বলতে তো জঙ্গি বাহিনীকে ধরার মতো অভিযান।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া শেষ পর্যায়ে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন

ছবি: সংগৃহীত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, মেডিকেল প্রফেশনাল এবং রোগীদের সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া তৈরির জন্য ইতোমধ্যে অনেকবার মন্ত্রণালয়ে সভা করা হয়েছে এবং বর্তমানে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজগুলো ডাক্তার তৈরি করে। মেডিকেল কলেজগুলোকে উন্নত ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে পারলে ও শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে আরো সুদক্ষ ডাক্তার পাওয়া যাবে। এজন্য আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোর সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়াতে হবে।

রোববার (১৪ জুলাই) দিনাজপুরে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এসব কথা বলেন।

এ সময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম ডাক্তারদের বিদ্যমান সব বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট (স্নাতকোত্তর) সম্পন্ন করার গুরত্ব তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনে ডাক্তারদের জন্য ‘সুপার নিউমারি’ পদ সৃষ্টির উদ্যোগের কথা বলেন।

এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ এফ এম নূরুউল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জাতীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

;

রথযাত্রায় আহতদের চিকিৎসার খরচ বহন করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রথযাত্রায় গুরুতর আহতদের দেখতে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, ছবি: সংগৃহীত

রথযাত্রায় গুরুতর আহতদের দেখতে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় রথযাত্রায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

সোমবার (৮ জুলাই) সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রথযাত্রায় গুরুতর আহতদের দেখতে গিয়ে এ কথা জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মর্মান্তিক এ ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এ সময় রথযাত্রায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, আহতদের যথাযথ ও সুষ্ঠু চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য বগুড়ায় সরকারি হাসপাতালের পরিচালক, সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিন সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রথযাত্রায় গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি দু’জন রোগীকে দেখতে যান। এ সময় তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। সেই সঙ্গে আহতদের আত্মীয়-স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়ার পাশাপাশি তাদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শনকালে এদিন অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, রোববার (৭ জুলাই) হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রার সময় বিদ‌্যুতা‌য়িত হয়ে ঘটনাস্থলে ৪ জন নিহত হন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এ দুর্ঘটনায় আরও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

;

পিপিডির রাষ্ট্রগুলির অংশীদারিত্বে জনসংখ্যা-উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত, পার্টনারস ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি)-র সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত, পার্টনারস ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি)-র সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, পিপিডির সদস্য রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করলে জনসংখ্যা ও উন্নয়নভিত্তিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

তিনি পিপিডির সদস্য দেশগুলোতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা দৃঢ় করারও আহ্বান জানান।

রোববার (৭ জুলাই) রাজধানী ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘পার্টনারস ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি)’-এর ৩৯তম নির্বাহী কমিটির সভা এবং ২৭তম বোর্ড কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘পার্টনারস ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, অংশীদারিত্ব, নেটওয়ার্কিং, যুগোপযোগী উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে উদ্ভূত নানা সমস্যায় সদস্য রাষ্ট্র একসাথে কাজ করলে সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, পিপিডির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রজনন স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা এবং উন্নয়নের সেরা দৃষ্টান্তগুলো আদানপ্রদান করা উচিত, যাতে একে অপরের কাছ থেকে শিখে পারষ্পরিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হওয়া উচিত যাতে জনগণ ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণপ্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আজিজুর রহমান, পিপিডি বোর্ডের সেক্রেটারি মোহাম্মদ দোয়াগি, চায়না স্বাস্থ্য কমিশনের উপমহাপরিচালক লি ওয়েইসহ ইন্দোনেশিয়া, বেনিন, তিউনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, পিপিডি একটি আন্তঃসরকারি সংগঠন যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার জনসংখ্যাজনিত ও উন্নয়নভিত্তিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করে থাকে। সভায় পিপিডির সদস্য রাষ্ট্রের ২৩টি দেশের মন্ত্রী ও সহযোগী সমন্বয়কারীরা অংশগ্রহণ করেন।

;

দেশে থ্যালাসেমিয়ার বাহক ১১ দশমিক ৪ শতাংশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪, পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে, দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক ১১.৪ শতাংশ

ছবি: বার্তা২৪, পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে, দেশে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক ১১.৪ শতাংশ

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে বর্তমানে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

থ্যালাসেমিয়া সার্ভে-২০২৪ প্রথমবারের মতো করেছে পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান- বিবিএস।

রোববার (৭ জুলাই) সকালে আগারগাঁও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ভবনে এ জরিপের তথ্য জানানো হয়। জরিপ কার্যক্রম উপস্থাপন করেন জরিপের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা লিজেন শাহ নঈম।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যিনি থ্যালেসিমায় রোগের বাহক তার সন্তানদের ‘থ্যালাসেমিয়া রোগী’ বলা হয়। সেই হিসাবে আট হাজার ৬শ ৮০ পরিবারের নমুনা সংগ্রহ শেষে ১১ শতাংশ লোকের মধ্যে এই রোগের বাহক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জরিপ কার্যক্রমে ১৪ থেকে ৩৫ বছর বয়েসি বিবাহিত ও অবিবাহিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে থ্যালাসেমিয়া বাহক নির্ণয় করা হয়।

এই রোগের বাহক বেশি রংপুর বিভাগে। কম রোগী সিলেট বিভাগে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. শহিদুজ্জামান সরকার, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, এনডিসি ও স্বাস্থ্য পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ওয়হিদুজ্জামান।

;