এক সপ্তাহ পরেই নির্বাচন, তৎপর ট্রাম্প ও বাইডেন

  মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
মার্কিন নির্বাচনে লড়ছেন ট্রাম্প-বাইডেন, ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নির্বাচনে লড়ছেন ট্রাম্প-বাইডেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকী। তারপরই বহুল আলোচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ছুটছেন দুই প্রার্থী, বর্তমান প্রেসিডেন্ট, রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্রেটিক পার্টির জো বাইডেন।

শেষ জরিপে বাইডেন বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ট্রাম্পের চেয়ে। ইয়াহু নিউজ/ইউগভ জরিপে দেখা যাচ্ছে, দুই প্রার্থীর মধ্যে ১২ পয়েন্টের ব্যবধান, যা বিগত ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের চেয়ে তৎকালীন প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের এগিয়ে থাকার চেয়ে 'চারগুণ' বেশি। তবে, জরিপের কথাই নির্বাচনের 'শেষকথা' নয়। মার্কিন নির্বাচনে জরিপকে ভুল প্রমাণিত করে দেখা গেছে নানা চমক। ফলে ঘরে বসে নেই কোনো প্রার্থীই।

ক্রমবর্ধমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বাইডেন চলে গেছেন জর্জিয়া রাজ্যে, ১৯৯২ সালের পর থেকে যে রাজ্য প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেট প্রার্থীকে সমর্থন করেনি। বাইডেন এখন জর্জিয়ার বিরূপ ভোটারদের মন গলাতে ব্যস্ত।

শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ছুটছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট, রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প

বার্তা সংস্থা এসোসিয়েট প্রেস (এপি) জানিয়েছে, চার বছর আগে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদে আসীন করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল জর্জিয়া। শুধু তাই নয়, গত তিরিশ বছর ধরেই জর্জিয়া রিপাবলিকানদের পক্ষে। জর্জিয়াকে নিজের দিকে আনতে পারলে ডেমোক্রেট বাইডেন নির্বাচনী লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকগণ।

বাইডেন যখন জর্জিয়া থেকে আইওয়া হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে যাচ্ছেন, তখন তার রানিংমেট, ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কমলা হ্যারিস ছুটছেন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি আরিজোনা ও টেক্সাসে, যেখানে রিপাবলিকানদের হারানোর রেকর্ড খুবই সামান্য এবং এ বৃহৎ রাজ্যের প্রভাব নির্বাচনে খুবই বেশি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পও বসে নেই। তিনি চষে বেড়াচ্ছে মিডওয়েস্ট অঞ্চলের রাজ্যগুলোতে, সেখানে নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। এ অঞ্চলের রাজ্যগুলো অপেক্ষাকৃত ডেমোক্রেট পার্টি ঘেঁষা বলে মনে করা হয়।

এক সপ্তাহ পরেই মার্কন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

অবস্থা দৃষ্টে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেষ মুহূর্তে উভয় প্রার্থীই প্রতিপক্ষের শক্ত দূর্গে হানা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যদিও আমেরিকান ভোটারদের মাইন্ডসেট বা মনোভাব বদলানো খুবই কঠিন কাজ। কেননা, সেখানকার নাগরিকগণ প্রথাগতভাবেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট শিবিরে বিভাজিত এবং ভাসমান বা সুয়িং ভোটারের সংখ্যা সব সময়ই কম।

নির্বাচনের শেষ দিকে টাকার ছড়াছড়ি ও প্রভাব বিস্তারের নানা তথ্যও শোনা যাচ্ছে। কোন দলের তহবিল কত বড়, সেটাও ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। রেডিও, টিভি, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি সকল মাধ্যমে উভয় দলের পক্ষ থেকে প্রচারণার ঝড় বইয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা।

বিভিন্ন ভোটার গ্রুপকে টার্গেট করে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রচারণার কৌশলও। বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও ভাষা গোষ্ঠীর মধ্যেও নিবিড়ভাবে কাজ করছে উভয় প্রার্থীর প্রতিনিধিগণ। প্রচারণার ঢেউ থেকে নাগরিকদের কোনো অংশকেই দূরে রাখা হচ্ছে না।

শেষ জরিপে বাইডেন বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন ট্রাম্পের চেয়ে

গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইলেক্ট্রোরাল কলেজ ও পপুলার ভোট মিলিয়েই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, যা বিশ্বের অনেক দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার চেয়ে জটিল ও ব্যতিক্রমধর্মী। তদুপরি দেশটিতে নির্বাচন হচ্ছে বৈশ্বিক মহামারির আতঙ্কের মধ্যে অতি সঙ্কুল পরিস্থিতিতে।

বৈশ্বিক মহামারির কোপ সবচেয়ে বেশি পড়েছে বর্তমানে নির্বাচনমুখী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। আক্রান্ত ও মৃতের পাশাপাশি বিপুল হারে দ্রুত সংক্রমণের নিরিখেও রেকর্ড করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অনেক রাজ্যেই হাসপাতালে বেডের সঙ্কটের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য সার্ভিসের নানা রকমের সীমাবদ্ধতার কথা জানা যাচ্ছে। করোনা মোকাবেলায় ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের সাফল্য ও ব্যর্থতার বিষয়িটও এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে পর্যবেক্ষকগণ মনে করছেন।

  মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন