হু হু করে বিক্রি হচ্ছে ‘দ্য প্লেগ’ ও ‘উহান-৪০০’

  করোনা ভাইরাস



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

মহামারিতে অবরুদ্ধ মানুষদের দুঃসহ সময়কে উপজীব্য করে রচিত হয়েছিল আলবেয়ার কামুর কালজয়ী উপন্যাস ‘দ্য প্লেগ’। অবরুদ্ধ একটি জনপদ কিভাবে ধ্বংস হয়ে যায়, উপন্যাসের পাতায় পাতায় সেই ভয়াল বর্ণনা।

ফরাসি বংশোদ্ভূত আলজেরীয় সাহিত্যিক আলবেয়ার কামুর ১৯৪৭ সালে রচিত সেই উপন্যাস ৭০ বছরেরও বেশি সময় পরে আবারও পৃথিবীতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে! করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারি রূপ ধারণ করায় আজকের পাঠকরা গভীর অভিনিবেশে ঝুঁকে পড়েছেন দ্য প্লেগের পাতায়।

শুধু কামুর দ্য প্লেগ উপন্যাসই নয়, মহামারি নিয়ে রচিত কালজয়ী সব সাহিত্যকর্মের চাহিদা এখন আকাশচুম্বি। প্রকাশকরা জানিয়েছেন কামুর ‘দ্য প্লেগ’, স্টিফেন কিং-এর ‘দ্য স্ট্যান্ড’ এবং ডিন কুনৎস-এর ‘দি আইস অব ডার্কনেস’ বইয়ের চাহিদা বিপুল পরিমাণে বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, এসব উপন্যাসের ভেতর ষড়যন্ত্র তত্ত্বের গন্ধও পাচ্ছেন অনেকেই!

ষড়যন্ত্র তত্ত্ব! কেন নয়? মার্কিন লেখক ডিন কুনৎসের ‘আইস অব ডার্কনেস’ উপন্যাসটি ‘উহান-৪০০’ নামে একটি কাল্পনিক ভাইরাস নিয়ে রচিত। প্রকাশ হয়েছে সেই ১৯৮১ সালে। ‘এক দশকের মধ্যে চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক নতুন জৈব অস্ত্র’— উপন্যাসের এই ভয়াবহ প্লট স্বভাবতই পাঠকদের মাঝে আলোড়ন তুলেছে। আর স্বাভাবিকভাবেই এটি সম্প্রতি অ্যামাজনের চার্টে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে।

গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ই-বুকের বিক্রি ৩০০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রকাশনী হেডলাইন। ঔপন্যাসিক ডিন কুনৎসের অসাধারণ কল্পনাশক্তি ও গল্পের বলার কৌশলই বাজারে বইয়ের কাটতির আসল কারণ বলে জানিয়েছে প্রকাশনা সংস্থাটি।

একজন অনলাইন পর্যালোচক লিখেছেন: “এটি আজ ঘটে চলেছে এমন ঘটনার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার এবং আমার শিরায় প্রবাহিত রক্তকে বরফে পরিণত করেছে!”

আরেকজন বলেছেন: “কিভাবে একজন লেখক ১৯৮১ সালে মনুষ্যনির্মিত ভাইরাস সম্পর্কে লিখছেন, আর তার বইয়ে বর্ণিত উপায়েই মানুষকে হত্যা করছে ভাইরাসটি? দুর্দান্ত পাঠের অভিজ্ঞতা, কিন্তু আমি সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত।”

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনের উহান, ইতালির লম্বার্ডিসহ সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক শহর ও অঞ্চল আজ যেমন অবরুদ্ধ, তেমনই আলবেয়ার কামুর দ্যা প্লেগ উপন্যাসের উপনিবেশিত আলজেরিয়ার একটি শহর— ওরান। প্রাণঘাতী প্লেগে বিধ্বস্ত হওয়ায় শহরটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, আটকে পড়েন নগরবাসী।

কামুর দ্য প্লেগ উপন্যাসের চাহিদা পূরণের জন্য পেঙ্গুইন প্রকাশনী বইটির ইংরেজি অনুবাদ পুনরায় ছাপার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছে, অ্যামাজন জানিয়েছে— তাদের মজুদ শেষ হয়ে গেছে। পেঙ্গুইন জানায়, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহেই বইটির বিক্রি দেড়শ শতাংশ বেড়ে যায়।

বইটির বিক্রি ইতালিতে তিনগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে সাহিত্য পত্রিকা অ্যাকুয়ালিট্টি। দেশটির শীর্ষ দশ বেস্টসেলার বইয়ের মধ্যে দ্য প্লেগ একটি। দারুণভাবে বইটির বিক্রি ফ্রান্সে বেড়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বইয়ের পরিসংখ্যান ওয়েবসাইট এডিস্ট্যাট। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেই বইটি ১,৬০০ কপির বেশি বিক্রি হয়েছে, আগের বছরের চেয়ে বইটির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৩০০ শতাংশ।

পেঙ্গুইন ক্লাসিকের সম্পাদকমণ্ডলীর পরিচালক জেস হ্যারিসন বলেন, “যদিও এটি (দ্য প্লেগ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি দখলকৃত ফরাসি অভিজ্ঞতার রূপক হিসেবে বিবেচিত, বর্তমান সময়ের সঙ্গে খুব বেশি প্রাসঙ্গিক নয়।”

স্টিফেন কিং-এর ‘দ্য স্ট্যান্ড’ উপন্যাস, যাতে ‘ক্যাপ্টেন ট্রিপস’ নামে বিধ্বংসী একটি সুপারফ্লু দুনিয়াটাকে ধ্বংস করে দেয়। বইটির প্রকাশক জানান, অনলাইনে বইটির বিক্রি ১৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, ই-বুকের বিক্রি বেড়েছে ৫৮ শতাংশ।

মহামারি নিয়ে কেবল সাহিত্যকর্মের চাহিদাই বাড়েনি, একই সঙ্গে বিনোদনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ সংক্রান্ত কর্মের চাহিদা বেড়েছে। ২০১১ সালে মহামারি নিয়ে নির্মিত স্টিভেন সোডারবার্গের একটি সিনেমা ২০১৯ সালের তালিকায় ২৭০তম স্থান থেকে লাফ দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। সিনেমাটি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ নম্বরে এবং অ্যাপলের চার্টে যুক্তরাজ্যে ১৮ নম্বরে রয়েছে।

  করোনা ভাইরাস