'করুণা ধারায় এসো'

  ‘এসো হে বৈশাখ’


ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চৈত্রের দাবদাহ পেরিয়ে বৈশাখে, নববর্ষের আবাহনে, শোনা যায় চির নূতনের ডাক এবং আশার প্রাণোচ্ছল ধ্বনি: "জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণা ধারায় এসো/সকল মাধুরী লুকায়ে যায়, গীতসুধারসে এসো।" আর এভাবেই ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চলে বিন্যস্ত বাঙালি যুক্তসাধনার মুক্ত প্রতীতিতে পুনরুজ্জীবন লাভ করে বাঙলা নববর্ষের মাহেন্দ্রক্ষণে।

বাংলা নববর্ষ তথা পহেলা বৈশাখ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক উৎসব। বাংলা নববর্ষ বাঙালি সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। ইংরেজি নতুন বছরের দিন শুরু হয় মধ্যরাতে। আর বাংলা সাল শুরু হয় ভোরে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে।

১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল বাংলা সনের প্রবর্তন। মোগল সম্রাট আকবরের আদেশে তাঁর রাজস্ব কর্মকর্তা ফতেহ উল্লাহ সিরাজি ‘সৌর সন’ এবং আরবি ‘হিজরি’ সালের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সন তৈরি করেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মক্কা থেকে মদিনা যাত্রা বা 'হিজরত'- এর সময়টিকে (৬২২ খ্রিস্টাব্দে) সূচনা বিন্দু ধরে অব্দের গণনা শুরু হয়। প্রথমে এই সালের নাম ছিল ‘ফসলি সন,’ পরে তা ‘বঙ্গাব্দ’ বা ‘বাংলা নববর্ষ’ নামে পরিচিত হয়। অনেকে মনে করেন, বঙ্গাব্দের গণনায় আকবরের রাজ্যাভিষেককেই সূচনা বলে ধরে নেওয়া হয়।

সম্রাট আকবরের বাংলা সন প্রবর্তনের সঙ্গে শুরু হয় ‘হালখাতার প্রথা’। হালনাগাদের খাতাটি হল বিগত বছরের যাবতীয় হিসাব বিবরণীর নথি। আজও ব্যবসায়ীরা লাল রঙের শালু কাপড়ের মলাটে মোড়ানো খাতাটি ব্যবহার করেন। নববর্ষের প্রথম দিন ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের হিসাবের হালখাতা অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ করেন। থাকে মিষ্টিমুখের আয়োজন।

পহেলা বৈশাখ শুধু একটি তারিখমাত্র নয়, বাঙালির উৎসবের দিন। আহারে-বিহারে সাজগোজে নিজস্বতার ছোঁয়া থাকে এই দিনটিতে। বাঙালির অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে হলে নিজস্ব সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে থাকতে হবে। চর্চা করতে হবে। মনে-প্রাণে তাকে লালন করতে হবে। এটাই জীবন্ত সংস্কৃতির জাগ্রত মানুষের জীবনাবেগ। কারণ, যে জাতি যত সংস্কৃতিমান, সেই জাতি তত উন্নত এবং সমৃদ্ধ।

নববর্ষ মানে বিগত বছরের সমস্ত জীর্ণতা ও মলিনতাকে মুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোরও দিন। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই, আমাদের ইতিহাসবোধ, সমকালবোধও, আজ আন্তর্জাতিক খ্রিস্টীয় কালপঞ্জির দ্বারা এতটাই নিয়ন্ত্রিত যে, বাংলা সন-তারিখ দেখলে একটু বিহ্বল বোধ করেন অনেকেই। কোথাও তারিখ হিসাবে বাংলা সন উল্লিখিত হলে সমস্যায় পড়তে 'শিক্ষিত' মানুষদেরও।

তাদের দ্বিধার কারণ হলো, কোন মাস ঠিকঠাক কী ভাবে বুঝব? কেননা, ইংরেজি বছরে ঢুকে থাকে দুইটি বাংলা সাল। ও দিকে ঐতিহাসিক পারম্পর্যের কাহিনিবিন্যাসটি খ্রিস্টাব্দের পরিপ্রেক্ষিতেই সাধারণ মানুষের মনোলোকে সাজানো আছে। আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত কালপঞ্জির প্রতি এত আগ্রহ কখনও আত্মপরিচিতির অজ্ঞতার কারণ হলে বিপদ। এই বিপদকে সঙ্গে করেই চলছে একবিংশ শতকের উত্তরাধুনিক বাঙালি জনগোষ্ঠী। পরিস্থিতি এমনই শোচনীয় হয়েছে যে, পহেলা বৈশাখ শেষ হলেই বাংলা মাসের নাম ও বাঙালিয়ানা গানে ও কবিতায় আশ্রয় নেয় আত্মরক্ষার্থে।

টি এস এলিয়ট লিখেছিলেন, ‘এপ্রিল ইজ় দ্য ক্রুয়েলেস্ট মান্থ'/‘এপ্রিল নিষ্ঠুর মাস। বিপরীতে ইংরেজি সাহিত্যের ডাকসাইটে ছাত্র সমর সেন লিখেছিলেন: ‘উজ্জ্বল, ক্ষুধিত জাগুয়ার যেন,/ এপ্রিলের বসন্ত আজ’। দৃষ্টান্তস্বরূপ, ‘চৈত্রে রচিত কবিতা’, ‘হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান’, ‘শরৎমেঘ ও কাশফুলের বন্ধু’, ‘কার্তিকের মাঠে’, শিরোনামগুলোয় গভীর হয়ে আছে নিজস্ব চিহ্ন। এমন পঙ্‌ক্তিতেও আছে শিহরণ: ‘আগত শরৎ অগোচর প্রতিবেশে;/ হানে মৃদঙ্গ বাতাসে প্রতিধ্বনি,/ মূক প্রতীক্ষা সমাপ্ত অবশেষে/ মাঠে, ঘাটে, বাটে আরব্ধ আগমনী।’ কিংবা ‘স্বপ্ন, একুশে ভাদ্র’ অথবা ‘আমাকে আমি ভুলেছি এই একুশে আশ্বিনে’। তাৎপর্য খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, দু’টিই যথাক্রমে কবিদ্বয়ের জন্মতারিখ। হায়! আমরা কয়জন জন্মদিনের, জন্ম তারিখের, বাংলা ভার্সান মনে রেখেছি?

মনে রাখে নি অধিকাংশই। বরং ‘পহেলা বৈশাখ’ এলেই হঠাৎ চারিদিকে উন্মত্ততা চাপিয়েছে। একদিনের বাঙালিয়ানার মচ্ছব চলছে। বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার নামে হুঙ্কার শোনা যাচ্ছে। সুপ্ত অপসংস্কৃতির তাণ্ডব কখনও দৃশ্যমান হচ্ছে। কেউ একজন একবার বলেছিলেন, "আমরা আসলে বেশি উদ্‌যাপন করেছি ক্ষণোন্মাদনার তীব্রতা, ধারণ করেছি কম। উদ্‌যাপন বাহ্যিক, ধারণ অভ্যন্তরীণ। প্রমিত তথা ‘স্ট্যান্ডার্ডাইজ়ড’ আন্তর্জাতিক হওয়ার অতি-আগ্রহে ভুলতে চেয়েছি আত্মপরিচয়ের প্রাতিস্বিক চিহ্ন।'

এসবই ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’। ‘হেজিমনি'। ‘গোলকায়নের ভবিতব্য'। সর্ববাঙালির সামনে আরেক বিপদ 'ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের কর্ণবিদারী ঢক্কানিনাদ'। যদিও বাঙালির সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয় নির্মাণ সীমান্তহীন, ধর্মনির্দিষ্টতাহীন, বহুস্বরিক, তার বহু শরিকও, তথাপি, আগ্রাসন একটা আছে। খুব বলশালী, ধূর্ত আর কৌশলী সেই আগ্রাসন।

আগ্রাসীরা বাঙালিকে একমাত্রিক একঢালা বানাতে চায়। বাঙালির বহুস্তরিক বর্ণালি ভাঙতে চায়। বহুস্বরিক কলকণ্ঠ স্তব্ধ করতে চায়। গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের আবহ মুছে দিতে চায়। ‘সংখ্যাগুরু’ ও ‘সংখ্যালঘু’ এবং ‘প্রতাপান্বিত’ ও ‘দুর্বল’-এর সম্মানজনক ভারসাম্যের বুনিয়াদ উপড়ে ফেলতে চায়।

নববর্ষে একদিনের বাঙালিয়ানায় এইসব আগ্রাসন রোধ করা অসম্ভব। চিরায়ত বাংলা ও সর্বজনীন বাঙালিত্বে শাশ্বত করুণা ধারায় হটানো সম্ভব ইত্যাকার যাবতীয় আগ্রাসন, আবিলতা, ক্লেদ, ক্লেশ, গ্লানি, হীনমন্যতা ও অবদমন।

কোটা আন্দোলনের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক গভীর ষড়যন্ত্র : শাজাহান খান



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা ২৪.কম মাদারীপুর
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেছেন, কোটা আন্দোলনকারীরা ভুল পথে আছেন। এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত রয়েছে। কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে অনেকেই বৈতরণী পাড় হতে চেষ্টা করছেন।

রবিবার (১৪ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান কালু খানের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

শাজাহান খান বলেন, ‘কুজো মানুষ যেমন কোনো কিছু ওপর ভর করে চলতে চান, তেমনি যারা রাজনীতিতে বুড়ো হয়ে গেছেন, তারা এই কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে পথ চলতে চান। এটার কোনো রাজনৈতিক ফল হবে না। ছাত্রদের ভুল বোঝাচ্ছেন তারা। সবাই এই আন্দোলন থেকে বিরত থাকবেন। উচ্চ আদালতের রায় সরকার মেনে নেবে।’

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান আরো বলেন, ‘যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করছেন, তাদের স্মরণ থাকতে হবে, এই কোটা দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত রাখার জন্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আছে, যেখানে যুদ্ধাপরাধীর সন্তানদের চাকরি হয় না। আমাদের দেশের এই কোটা বাতিলের বিষয়, আইনের মাধ্যমে হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে সরকার কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাজাহান খানের সহধর্মীনি সৈদয়া রোকেয়া বেগম, শাজাহান খানের জামাতা টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেন সেলিমসহ অনেকেই।

প্রসঙ্গত, বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসিবুর রহমান আসিব খান নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওবায়দুর রহমান কালু খান, শাজাহান খানের ছোটভাই। আর আসিবুর রহমান আসিব খান শাজাহান খানের বড় ছেলে।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;

শেবাচিমে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর হাতে হেনস্থার শিকার রোগী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম বরিশাল
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর হাতে হেনস্থার শিকার হয়েছেন এক রোগী।

রবিবার ( ১৪ জুলাই ) দুপুরে হেনস্থার শিকার হওয়া রোগী মিজানুর রহমানকে এ সময় চিকিৎসা না নিয়েই ফিরতে হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চর্ম ও যৌন রোগ বহিঃবিভাগের চিকিৎসকের সহকারি রাব্বি নামের একজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবর।

রোগী মিজানুর রহমান জানান, তিনি রবিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য শেবাচিমের বহিঃবিভাগ থেকে টিকিট সংগ্রহ করেন (যার সিরিয়াল নং ২৯২৮৩)। এর পর লাইনে দাঁড়ালে তাকে রাব্বি নামের এক ব্যক্তি এসে জানায়, এখন আর রোগী দেখা হবেনা।

টিকিট দেওয়ার পরেও কেন তাকে চিকিৎসা দেয়া হবেনা, এমন প্রশ্ন করলে তার উপর ক্ষেপে যায় রাব্বি নামের চতুর্থ শ্রেণির ওই কর্মচারী।

এ সময় তার কাছে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ডিআইজির ভাতিজা পরিচয় দেন এবং রোগী মিজানুর রহমানকে জোর করে বের করে দেন। রাব্বি এর পর লাইনে থাকা সব রোগীদের আজ নয় কাল চিকিৎসা দেওয়া হবে এমনটা বলে বের করে দেয় বলে জানান মিজানুর রহমান।

এরপর তিনি হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলামের কাছে অভিযোগ জানালে তিনি বিষয়টি সহকারী পরিচালককে অবহিত করার পরামর্শ দেন। সহকারী পরিচালকের সঙ্গে আলাপের পর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মিজানুর রহমান। ৩ দিন পরে অভিযোগকারীকে ডেকে ব্যবস্থ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে শেবাচিম কৃর্তপক্ষ।

হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চতুর্থ শ্রেণির ওই কর্মচারি রাব্বি এর আগেও একাধিকবার রোগীদের সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করেছে। তার খারাপ আচরনের জন্য এর আগে শিশু বিভাগ থেকে তাকে বদলি করা হয় চর্ম ও যৌন রোগ বহিঃবিভাগে। কিন্তু, এখানে এসেও প্রায়শই রোগীদের সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করে রাব্বি।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;

চবিতে হঠাৎ ‘রাজাকার রাজাকার’ শ্লোগান, ছাত্রলীগের হামলা



চবি করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪. কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বিষয়ক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মাঝরাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে(চবি) 'তুমি কে? আমি কে? রাজাকার- রাজাকার' শ্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল চলা অবস্থায় সেই মিছিলে হামলা করে চবি শাখা ছাত্রলীগ।

রবিবার (১৪ জুন) রাত ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, মিছিলটি নিয়ে শিক্ষার্থীরা জিরো পয়েন্ট থেকে কাটা পাহাড় রোড ধরে এগিয়ে গেলে শাখা ছাত্রলীগের কনকর্ড ও সিক্সটি নাইন উপগ্রুপের অনুসারীরা পেছন থেকে মিছিলে হামলা করে।

এ ঘটনায় ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মো সুমনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয় বলে জানা গেছে।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা 'চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার', 'তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার', শ্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চবির সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজকে যে কথাটা বলেছেন সেখানে যেটা মিন করা হয়েছে, তাতে বুঝা যায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছাড়া সবাই রাজাকার। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা রাত সাড়ে ১১টার দিকে জিরো পয়েন্টে যাই এবং মিছিলের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দুই তিন জন আহত হয়। তারপরে আমরা সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই।’

শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও কনকর্ড উপগ্রুপের নেতা ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবরার শাহরিয়ার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন করে আসছে এতে ছাত্রলীগ কোনো বাধা দেয়নি। কিন্তু, আমাদের নেত্রীকে নিয়ে আজ বাজে স্লোগান দেওয়ায় ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের প্রতিহত করেছে। শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আপসহীন।
নেত্রী সম্পর্কে কোনো উসকানিমূলক স্লোগানকে ছাত্রলীগ প্রশ্রয় দিবে না।’

উল্লেখ্য, রবিবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনর চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তাদের এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে না তো কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে? এটি দেশবাসীর কাছে আমার প্রশ্ন।’

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;

উত্তাল জাবি, মুখোমুখি অবস্থানে ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীরা



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জেরে 'তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার' স্লোগান দেওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ৪ শিক্ষার্থীকে ডাইনিংয়ে নিয়ে জেরা ও মোবাইল ফোন চেক করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে৷

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে আবাসিক হলটির প্রবেশপথ ঘেরাও করে বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া শহীদ তাজউদ্দীন হলেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে৷ রবিবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার সর্বশেষ তথ্যমতে, মুখোমুখি অবস্থানে আছে ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা৷

রবিবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১ টায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে-এমন তথ্য পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় জমায়েত করে একটি প্রতিবাদী বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে রবীন্দ্রনাথ হলের সামনে আসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর হল প্রভোস্ট ও প্রক্টর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসলে শিক্ষার্থীরা সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়৷

পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে শহীদ তাজউদ্দীন হল অভিমুখে রওনা হয়ে সেখানে কিছুক্ষন অবস্থান নিয়ে ভিসির বাসভবন হয়ে ছাত্রী হল হয়ে পুনরায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সম্মুখে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় হল থেকে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে আন্দোলনকারীদের পথ রোধ করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকে৷

এ সময় তারা ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘এই বাংলার মাটি-রাজাকারের ঘাটি’, 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্র কারো বাপের না', 'শেরেবাংলার মাটি, রাজাকারের ঘাটি', 'চাইলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার'-ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের হলেও এমন স্লোগান দেওয়ার পরিকল্পনা করে আবাসিক হলটির ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা৷

এমন সময় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মো. সাঈফ খান ৪৯ ব্যাচের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে একটি ম্যাসেজ দিলে হলের নিচ তলার ১২৪ নং কক্ষ থেকে স্লোগান পুরো হলে ছড়িয়ে পড়ে৷

শিক্ষার্থীরা সমস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করলে পলিটিকাল ব্লক থেকে ৪৮ ব্যাচের সিনিয়ররা এসে তাদের সবাইকে ডেকে ডাইনিংয়ে আসতে বলে। ১২৪ নং কক্ষ থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের কাউসার আলম আরমান, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আশিক ও ইংরেজি বিভাগের জাহিদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এ সময় ডাইনিং হলে উপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে জানা যায়, ডাইনিং হলে ডেকে আনার পর শিক্ষার্থীদের 'রাজাকার' স্লোগান দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা হয়।

এ সময় 'শিবির' সন্দেহে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে ম্যাসেঞ্জারের ম্যাসেজ চেক করা হয়৷ এসময় দীর্ঘসময় পর্যন্ত ডাইনিং হল থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পান হলের শিক্ষার্থীরা৷

পরে সন্দেহজনক কিছু না পেয়ে ছাত্রলীগের নেতারা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদারকে সেখানে নিয়ে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষমা প্রার্থনার জন্য চাপ দেওয়া হয়৷ এ সময় হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছে ক্ষমা চান। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে তাদের কোন প্রকার মারধর করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন তারা৷

এদিকে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কোটা পাবে না তো রাজাকারের নাতিপুতিরা কোটা পাবে? দেশের প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিপরীতে শিক্ষার্থীরা মর্মাহত হয়ে হলে হলে স্লোগান দিয়েছে। যেখানে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন করে যাচ্ছি সেখানে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে রাজাকারের বাচ্চা বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা আমাদের জন্যে লজ্জার। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা হলে হলে স্লোগান দিয়েছে এ জন্য ছাত্রলীগ কোন শক্তিতে তাদের জেরা করে!’

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘রাত ১১টায় আমরা খবর পাই আমাদের কয়েকজন আন্দোলনকারী সহযোদ্ধাকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা খবর পেয়ে সহকর্মীদের উদ্ধার করতে এসেছি। কোটা আন্দোলন সারাদেশের শিক্ষার্থীদের একটি যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। এ আন্দোলনে অংশ নিয়ে কেউ যদি নির্যাতনের শিকার হয় তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে৷’

এ সময় সামগ্রিক ব্যাপারে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘হলের সামনে শিক্ষার্থীদের মিছিলের কথা শুনে আমি কিছুক্ষণ আগে হলে এসেছি৷ তবে ঘটনা বিস্তারিত বুঝতে পারিনি। সম্ভবত কোনো স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে৷ আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি।’

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;