বেঙ্গালুরুতে আটকেপড়া বাংলাদেশিরা খাদ্য সংকটে

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস


হাসান আদিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
বেঙ্গালুরুতে আটকে পড়া মেহেদী আরিফ ও তার পরিবার

বেঙ্গালুরুতে আটকে পড়া মেহেদী আরিফ ও তার পরিবার

  • Font increase
  • Font Decrease

“দিন গেলেই ৫৫০ রুপি লজ ভাড়া গুণতে হচ্ছে। খেতেও হচ্ছে নিজের টাকায়। টাকা শেষ, খাবার যা আছে টেনেটুনে দুই দিন চলবে। বাংলাদেশ হাইকমিশনে দফায় দফায় কল করছি, কিন্তু কেউ রিসিভ করছে না। পরবাসে ভাগ্যে কী আছে, কিছুই বুঝছি না!”

ফোনের ওপাড় থেকে এক নিঃশ্বাসে এভাবে কথাগুলো জানালেন ভারতের বেঙ্গালুরুতে আটকেপড়া বাংলাদেশি মেহেদী হাসান আরিফ। তার বাড়ি রাজশাহী মহানগরের সপুরা এলাকায়। গত ৩ মার্চ অসুস্থ মামা ও সঙ্গে মামিকে নিয়ে বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।

তার মামার ওপেনহার্ট সার্জারি হয়েছে। গত ২৭ মার্চ তাদের ট্রিটমেন্ট শেষ হয়। তবে ভারতে লকডাউন চলায় সেখানে আটকে পড়েছেন তারা। উঠেছেন বোম্মসান্দ্রা শিল্প এলাকায় অবস্থিত শান্তিনিকেতন গেস্ট হাইজে। মেহেদী আরিফের তথ্যমতে, ওই লজে আটকে পড়েছেন ১৫ জন বাংলাদেশি। সেখানে অজানা শঙ্কা মাথায় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।

বার্তা২৪.কমকে মেহেদী আরিফ বলেন, ২৯ তারিখে সবশেষ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছিল। তারা আমাদের সকলের তথ্য নিযে জানিয়েছিল— ১৪ তারিখে ভারতে লকডাউন উঠে গেলে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে। কিন্তু এরপর আর কোন খবর নেয়নি। আমরা কল করলেও রিসিভ করছে না।

তিনি বলেন, লজের আশেপাশে কোনো বাড়ি-ঘর নেই। পুরোটা শিল্প এলাকা। লজ থেকে বের হয়ে মূল রাস্তায় গেলেই তাড়া করছে পুলিশ। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনোমতে চাল-ডাল, শাক-সবজি কিনে গত ১৭ দিন কাটছে। যে দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রী কিনছিলাম, সোমবার (১৩ এপ্রিল) সেই দোকানিও জানালেন—আগামীতে আর চাল-ডাল নাও পাওয়া যেতে পারে।

লজে আটকে পড়েছেন দুই সহোদর মিজানুর রহমান ও মামুনুর রশিদ

লজে আটকে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মনাকষার দুই সহোদর মিজানুর রহমান ও মামুনুর রশিদ। চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন।

মিজানুর রহমান মোবাইলে বার্তা২৪.কমকে জানান, লকডাউনের পর লজ থেকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার কথা ছিল। দু’দিন দিয়েছিলও। পরে তারা খাবার দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

ভেলোরে যারা আছেন, তাদের লজ ভাড়া কমানো হয়েছে। সেখান থেকে খাবার দিচ্ছে বলেও শুনলাম। কিন্তু আমরা কিছুই পাচ্ছি না। দুই-তিন দিন পর খাবারও থাকবে না। কী যে করব, কিচ্ছু বুঝতে পারছি না, বলেই ঢুকরে কেঁদে ফেলেন মিজানুর রহমান।

মেহেদী ও মিজানুরের তথ্যমতে, লজে আটকে পড়া অন্যরা হলেন— রাজশাহীর শিরোইল কলোনির মোস্তফা কামাল, তার স্ত্রী সখিনা কামাল, শিবগঞ্জের মনাকষার মামুনুর রশিদ, চট্টগ্রামের শীতাকুণ্ডের আব্দুল হোসাইন ও তার পরিবারের দুই নারী সদস্য, খুলনার রায়পাড়ার শোয়েবুর রহমান এবং তার পরিবারের একজন নারী ও আরেকজন পুরুষ সদস্য, জামালপুরের মাদারগঞ্জের নিশ্চিন্তপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী এবং ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার সুনীল সাহা এবং তার পরিবারের একজন নারী সদস্য।

শান্তিনিকেতন গেস্ট হাইজের কাছাকাছি ¬¬স্বৈতা গেস্ট হাউজে আটকে পড়েছেন আরও ৪৫ বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে আতিকুল ইসলাম নামে একজন রাজশাহী নগরের বাসিন্দা।

তিনি বলেন, আমার ৭ মাস বয়সী বাচ্চার হার্টে ছিদ্র। চিকিৎসা করাতে গত ১২ মার্চ ভারতে এসেছি। নারায়ণা হাসপাতালে কোনো চিকিৎসা সেবা পাইনি। তারা এখন আমাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করছে।

চট্টগ্রামের আব্দুল হোসাইন ও তার পরিবার

আতিকুল আরও বলেন, গেস্ট হাউজে প্রতিদিন রুম ভাড়া ৮০০ রুপি। ভাড়ার টাকা বকেয়া হয়েছে। হাতে টাকা-পয়সা শেষ। গেস্ট হাউজের বেশ দূরে কাঁচাবাজার ও একটি মুদিখানা দোকান আছে। সেখানে খাবার কিনতে বের হলে পুলিশ বাধা দেয়।

তিনি আারও জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ৪৫ জন বাংলাদেশি স্বৈতা গেস্ট হাউজে আটকে পড়েছেন। সবাই রোগী নিয়ে এসেছিলেন। তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। হোটেল থেকে খাবারসহ কোনো সার্ভিস নেই। শুধু কোনমতে থাকার ব্যবস্থাটা হচ্ছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করছি। তারা কোনো সহযোগিতাও করছে না।

আতিকুল বলেন, এখানে আমরা প্রতারণার শিকারও হচ্ছি। এয়ার এশিয়ার লোকজন এসে বিমানের টিকিট দিয়ে গেছে। ৬৫ হাজার টাকার টিকিট নিয়েছি। কিন্তু ভারতে লকডাউন বাড়ানোয় তারা আর যোগাযোগ করছে না। বলছে— পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিমান চললে ব্যবস্থা করবে।

এদিকে, লকডাউন শেষে চেন্নাই হয়ে সিলেট ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন বেঙ্গালুরুর অন্য একটি লজে আটকে পড়া ১২ জন বাংলাদেশি। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে বেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাই ৩০০০ রুপি এবং চেন্নাই থেকে সিলেটে ১৯০০০ রুপি মূল্যে আগাম টিকিট সংগ্রহ করেন।

তবে টিকিট সংগ্রহের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। এসব তথ্যও জানিয়েছেন বেঙ্গালুরুর শান্তিনিকেতন লজে আটকেপড়া মেহেদী আরিফ। তবে তাদের নাম-পরিচয় বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি।

বেঙ্গালুরুতে আটকেপড়া খুলনার একটি পরিবার

জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন মোবাইলে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ভারতে আটকে পড়াদের বিষয়ে হাইকমিশন অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ নেবে। কিন্তু তাদের হাইকমিশনে টেলিফোন করে নাম-তথ্য দিয়ে তালিকাভুক্ত হতে হবে। পরিস্থিতি উন্নতি হলে দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনব আমরা।

খাদ্য সংকটে পড়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তারা যে সমস্ত হোটেলে থাকছেন, সেখান থেকে দুঃসময়ে খাদ্য সরবরাহ করার কথা। যদি তা না করে থাকে, সেটাও হাইকমিশনে হোটেলের নামসহ জানাতে হবে। হাইকমিশন থেকে সেইসব হোটেলের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সার্বিক বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মুম্বাইয়ে বাংলাদেশি সহকারী হাইকমিশন দফতরের প্রশাসনকি কর্মকর্তা শাহীন আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, আমাদের কাছে প্রতিদিনিই প্রচুর ফোন কল আসছে। আমরা তাদের নাম-পরিচয় ও তথ্য নিচ্ছি। তালিকাভুক্ত করে রাখা হচ্ছে। ভারতে লকডাউন শেষ হলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিকে সবাইকে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।

বেঙ্গালুরুতে আটকেপড়াদের যেসব নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে: +৯১৯৯৩০০৭৫০২৬ (মো. লুৎফর রহমান, সহকারী হাইকমিশনার, মুম্বাই), +৯১৯৮৩৩১৯৯৩০ (নাফিসা মনসুর, ফার্স্ট সেক্রেটারি, মুম্বাই) ও +৯১৯৬৫৩২৯৮৪ (শাহীন আলম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মুম্বাই)।

   

ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ শুনানি ১১ জুলাই



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষণার রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১১ জুলাই দিন ধার্য করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জেষ্ঠ্য বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৩ মে) এই আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও রিট আবেদনকারীদের পক্ষে সিনিয়র এডভোকেট মনজিল মোরসেদ উপস্থিত ছিলেন।

আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ২৭ নম্বর ক্রমিকে থাকা ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ আবেদনটি শুনানির জন্য রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতি আজ না থাকায় আগামী ১১ জুলাই দিন ধার্য করে শুনানি মূলতবি আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। এর বৈধতা নিয়ে করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। একই বছরের ৩ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতিতে আপিল খারিজ করে রায় দেন। ওই রায় রিভিউ চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এখন এই রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

;

ন্যায়বিচার পাওয়া দেশের প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার: প্রধান বিচারপতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, ন্যায়বিচার মানুষের মৌলিক অধিকার। প্রত্যেকটি মানুষ, প্রত্যেকটি নাগরিক যেন রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচার পায় সংবিধানে তা  স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকালে রংপুর জেলা জজশিপে বিচারপ্রার্থী ও সাক্ষীদের বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ শেডের উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রথম কাজটি করেন বিচারকগণ। কিন্তু বিচারকাজ চলার সময় বিচারপ্রার্থীদের যদি ডেকে পাওয়া না যায় তাহলে বিচারকাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়। সেজন্য বিচারপ্রার্থীরা যদি একটু আরামে, ভালোভাবে অবস্থান করতে পারেন তাই আজকের এই ন্যায়কুঞ্জ। দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে ন্যায়কুঞ্জ তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধান বিচারপতি।

মামলার দীর্ঘসূত্রিতা লাঘবে জেলা জজের নেতৃত্বে অন্য বিচারকগণসহ সংশ্লিষ্টরা যেন আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেন সেই আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি।

এ সময় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি একেএম সাইফুর রহমান, রংপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজির, বিভাগীয় শ্রম আদালতের বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফজলুল করিম, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুরুজ মিয়া, জেলা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান, জেলা পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরীসহ জেলা জজশিপের বিচারক ও আইনজীবী সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্ধোধন শেষে প্রধান বিচারপতি বিচারকদের বিভিন্ন এজলাস ঘুরে দেখেন। পরে চিফ জুডিসিয়াল আদালত ভবনের হলরুমে বিচারকদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন।

এক হাজার বর্গফুটের ন্যায়কুঞ্জে নারী-পুরুষদের আলাদাভাবে ৭২টি বসার স্থান, মাতৃদুগ্ধ পান কক্ষ, পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা বাথরুম, খাবার ক্যান্টিন, সুপেয় পানি এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

;

দেশের জন্য নদীর ভূমিকা মানুষের শিরা-উপশিরার মত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের জন্য জন্য নদীর ভূমিকা মানুষের শরীরের শিরা-উপশিরার মত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী  হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) দুপুরে জাতীয় নদী দিবস ঘোষণার দাবিতে নদী নিয়ে আন্দোলন করা সংগঠন নোঙর এর আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন।

মন্ত্রী বলেন, নদীগুলোর ভূমিকা হলো মানব দিকে দেহের শিরা-উপশিরার মত। দেহের মধ্যে শিরা-উপশিরা যেভাবে দায়িত্ব পালন করে, সেভাবে নদীগুলোও দেশের জন্য কাজ করে। মানুষের দেশের শিরা-উপশিরা যদি শুকিয়ে যায়, তাহলে মানুষ মরে যায়। আমাদের দেশের জন্য নদীগুলোও তেমন। নদী শুকিয়ে গেলে, নদী দখল হয়ে গেলে দেশের পরিবেশের উপর প্রভাব পড়ে।

তিনি আরও বলেন, হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদীগুলো হতে তেমন পানি আসছে না। ডিফরেস্টেশন একটি অন্যতম কারণ। এছাড়া শহরের নদী ক্ষমতাধরদের হাতে কুক্ষিগত করে নদীকে গিলে ফেলছে। বৃত্তের ক্ষমতায় নদী দখল করে আবার মিডিয়া পালে। যাতে কেউ কিছু করতে না পারে। ক্ষমতাবানরা নদী দখল করে। কর্ণফুলীতে বিভিন্ন সংস্থার দখল অনেক বেশি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র আর মেঘনা তিনটা রিভার বেসিনের উৎপত্তি দেশের বাইরে। ক্যাচমেন্ট এরিয়াও বাইরে। ফলে বাইরে নদীতে যাই করা হয়, প্রভাব আমাদের নদীতে এসে পড়ে। সবার জন্য সুষম পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিবেশীদের সহযোগিতা দরকার। যৌথ নদী কমিশনকে আরও কার্যকর করতে হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম করার প্রয়োজন আছে। আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা দাঁড় করানো গেলে সবাই উপকৃত হবে।

চলাচলের ক্ষেত্রে নদীর ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ আছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, রাস্তা, বিল্ডিং বানানোই উন্নয়ন নয়। নদী রক্ষা, পরিবেশ রক্ষায় কিছু করবার জন্য টাকা খরচ করতে দেয় না। নৌ পথ ব্যবহারে সচেতন থাকলে আজ এই পরিস্থিতি হতো না।

মেয়াদ উত্তীর্ণ নৌ যান, মালিকদের অতিরিক্ত লোভ, নৌ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, আনারের মরদেহ আনতে দুই দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিবিড় যোগাযোগ রেখে কাজ করছে। এটি তদন্তাধীন বিষয়৷ বেশি কিছু বলতে চাই না।

অনুষ্ঠানে নোঙর সংগঠনের সভাপতি সুমন সামস, সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খোকন ও ঢাকা ৪ আসনের সংসদ সদস্য আওলাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

;

মশা কেউ একা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪. কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা ছাড়া পৃথিবীর কেউ এককভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা ছাড়া পৃথিবীর কেউ এককভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আমরা মশা সম্পর্কে জনগণকে প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি। যেকোনো কাজ করতে হলে আমাদেরকে সমন্বয় করতে হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে যতগুলো মন্ত্রণালয় রয়েছে আমরা সবাই সমন্বয় করে কাজে করে যাচ্ছি।

মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ করা এবং মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সমবায় মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের সবাইকে জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য আমরা কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ এখন ৩৩তম অর্থনীতির দেশ।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন প্রমুখ।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

;