করোনাকালে সাধারণ রোগীর চিকিৎসার কী হবে?

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস


সাদিয়া কানিজ লিজা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রতীকী

প্রতীকী

  • Font increase
  • Font Decrease

“আমার ছোট চাচা গতকাল রাতে অসুস্থ হয়ে ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতাল/ক্লিনিক ঘুরে ডাক্তার না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় আজ রাত ১২টা ২০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন... তার এ মৃত্যুর জন্য কে দায়ী? করোনা? বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থা না কতিপয় দায়িত্বহীন ডাক্তার?”

নিজের ফেসবুক পোস্টে এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন নাসিম বানু শ্যামলী নামে এক ভুক্তভোগী।

শুধু তিনিই নন, যাদের অভিযোগ করার জায়গা নেই তারা অনেকেই ফেসবুকে এভাবে আক্ষেপ প্রকাশ করছেন। ভুক্তভোগ এসব মানুষ জানেন না এ ঘটনায় কাকে দায়ী করবেন। তবে সমন্বয়হীনতার কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। সেই সাথে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আর্তি জানিয়েছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ খানের এক বাসিন্দা জানান, তার মা জ্বর নিয়ে রাজধানীর ৭-৮টি বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকা মেডিকেলের আইসোলেশনে মারা যান। নমুনা সংগ্রহের ২৪ ঘণ্টা পর রিপোর্ট আসে নেগেটিভ। এর আগে ফোন দিয়েছেন অনেকগুলো হাসপাতালে কিন্তু কেউ কোন সারা দেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি মায়ের করুণ মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমি চাই না আমার মায়ের মতো আর কেউ এভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যাক। ঢাকা মেডিকেলে রোগীর প্রতি এত অবহেলা, এমন অব্যবস্থাপনা থাকতে পারে, সেখানে না গেলে জানতেই পারতাম না। নমুনা সংগ্রহের আগেই সেখানকার একজন ডাক্তার একেবারে নিশ্চিত হয়ে বলেছিলেন, আমার মা করোনায় আক্রান্ত। কিন্তু পরে রিপোর্ট নেগেটিভ এলো। কিন্তু ততক্ষণে আমার মা আর নেই।”

ঢাকা মেডিকেলের আইসোলেশনে মারা যাওয়া রোগীর করোনারভাইরাসের নেগেটিভ রিপোর্ট

এর আগে গত ২৯ মার্চ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে রাজধানীর ৫-৬টি হাসপাতাল ঘুরে মারা যান মুক্তিযোদ্ধা আলমাস উদ্দিন। করোনা সন্দেহে চিকিৎসা দিতে অপারগতা জানায় হাসপাতালগুলো। তার সন্তানেরা বাবাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সারাদিন ঘোরার পর শেষে উপায় না পেয়ে মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তি করার পরদিনই তার মৃত্যু হয়।

এমন উদাহরণ আছে আরো। চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

সারা বিশ্ব এখন করোনাভাইরাস আতঙ্কে ভুগছে। দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে আক্রান্ত আর মৃত্যুর মিছিল। অন্যান্য দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ২৯৪৮ জন।

করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে সাধারণ রোগী এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসা না পাওয়ার সমস্যা বেড়েই চলছে।

তবে স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক নির্দেশনা দিয়েছেন এমন ঘটনা রোধে যেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপরও প্রায় দিনই বিপাকে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা। সর্দি-কাশি বা জ্বর নিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে রোগী গেলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে অপারগতা জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। পরামর্শ দিচ্ছেন সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালেও নামমাত্র চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী একজনের ফেসবুক পোস্ট

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, করোনার যে উপসর্গের কথা আমরা বলছি সেটা কমন কিছু উপসর্গ। তবে আমরা টেস্ট করেই কনফার্ম হই রোগীর করোনা হয়েছে কিনা। তবে টেস্ট করে হয়তো উপসর্গ থাকলেও অনেক সময় নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি মানে কিন্তু এই সিজনে এটা ইন্ডিকেট করছে না যে রোগী করোনা আক্রান্ত হয়নি। দুই-তিনদিন পর আবার টেস্ট করলে অনেক সময় আবার পজিটিভ আসে। এই ধরনের কিছু বিভ্রান্তিকর বিষয় আছে।

তিনি বলেন, যাই হোক রোগীর যে উপসর্গ আছে তাতে করোনা না হলেও আমরা তাদের সিমটোমেটিক ম্যানেজমেন্ট দিচ্ছি। যেহেতু এখনো এর নির্দিষ্ট চিকিৎসা বের হয়নি। রোগীর যদি অবস্থা একটু ভালো থাকে তবে আমরা বাসায় রেখেই ট্রিটমেন্ট চালিয়ে যেতে বলি। অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে বলি।

করোনা আক্রান্ত না হলেও অনেকের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা হচ্ছে, এসব রোগীকে কিছু কিছু হাসপাতালে চিবিৎসা দেওয়া হচ্ছে না, এ ক্ষেত্রে করণীয় জানতে চাইলে ঢামেক পরিচালক বলেন, শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেশি হচ্ছে, এমন রোগীকে আমরা বলছি না বাড়ি চলে যেতে। এ্যাজমা, হার্টের সমস্যা হলেও অনেক সময় শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়, এটা ঠিক। শুরুতে আমরা তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে যেহেতু করোনা রোগী ভরে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে একটু জটিলতা হতে পারে তাকে সেখানে নেওয়া হবে কি না। কারণ, যে হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না সেখানে উপসর্গ আছে এমন রোগী নেওয়া হলে অন্য রোগীরাও সমস্যায় পড়তে পারে। তারপর হাসপাতালের বিভিন্ন স্টাফ, ডাক্তাররাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবেন।

সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন এটা আমাদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। কারণ, ওই রোগীর মাধ্যমে অন্য রোগী ইফেক্টেড হতে পারে। তাই আমাদের উপায় বের করতে হবে। একজন রোগীর জন্য যেমন আমরা অন্য রোগীর সমস্যা করতে পারি না, তেমনি সেই রোগীকেও ফেলতে পারি না। তবে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি ঢাকা মেডিকেলের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে সাসপেক্ট কেসগুলোকে আলাদাভাবে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হবে। সেটা নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছি। দুই একদিনের মধ্যেই হয়তো এই ধরনের রোগীদের ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

   

ঈদের ছুটির ৩ দিনে বরিশাল সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের ছুটির তিনদিনে বরিশালে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।

এর মধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার আটিপাড়া নামক এলাকায় বুধবার (১৯ জন) দুপুরে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সাথে গ্রেট বিক্রমপুর নামের পরিবহনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বৃষ্টি আক্তার (১৮) নামের এক কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঝালকাঠি থেকে বরযাত্রী নিয়ে মাইক্রোবাসটি গৌরনদীর বাটাজোরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো।


অপরদিকে একই উপজেলার নতুন শিকারপুর এলাকায় মঙ্গলবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে রাস্তা পারাপারের সময় বরিশালগামী সাকুরা পরিবহনের ধাক্কায় ইসমাইল ব্যাপারী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলা সদরের মুন্ডপাশা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ঘাতক বাস ও চালককে আটক করেছে।

নগরীর কাশিপুর এলাকায় গত রোববার (১৬ জুন) সকালে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ব্যাপারী পরিবহনের চালকের সহকারী মো. সোহাগ (১৯) ও কুমিল্লার বাসিন্দা অজ্ঞাতনামা সুপারভাইজার (৪০) নিহত হয়।

আহত আট যাত্রীকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একইদিন ভোররাতে বরিশাল-ঝালকঠি মহাসড়কের নলছিটি এলাকার শ্রীরামপুর বাজারে সাকুরা পরিবহনের বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালক আল-আমিন ও যাত্রী আলতাফ মুন্সী নিহত হয়েছেন।

অপরদিকে ১৫ জুন দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ব্রিজে দুইটি থ্রি-হুইলারের সংঘর্ষে স্বপ্না বেগম (৫০) নামের এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত চালকসহ দুইজনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

;

তিস্তায় দর্শনার্থীদের গলার কাটা জুয়ার আসর



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় তিস্তার পাড়ে পুলিশের সামনেই চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। জুয়ার আসরে বখাটেদের আনাগোনায় হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ পর্যটকরা।

বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জিয়া, লিটন, শাহিনসহ কয়েকজন যুবকের নেতৃত্বে বসেছে জমজমাট জুয়ার আসর। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে তিস্তা ব্যারেজ এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বসেছে ডাবু পিঠে খেলা তাসসহ বিশাল জুয়ার আসর। এতে করে ঘুরতে আসা তরুণ ও যুবকরা জুয়ার দিকে আসক্ত হচ্ছে। জুয়ার এই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

জানা যায়, পুলিশ প্রশাসনের সামনেই জুয়ার আসর চললেও নিরব ভূমিকা পালন করছে তারা। তিস্তা ব্যারেজ এলাকার দুই পাশেই জুয়ার আসর চললেও পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এতে করে ঘুরতে আসা দূর দূরান্তের পর্যটকরা চরম হয়রানি শিকার হচ্ছেন। জন সম্মুখে জুয়ার আসর তলায় সুশীল সমাজের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, বন্ধুদের নিয়ে তিস্তা বাড়িতে ঘুরতে এসেছি। এখানে জুয়া খেলা দেখে আমিও আগ্রহ হই। বাড়ি থেকে যে টাকা পয়সা নিয়ে এসেছিলাম সব জুয়ায় হারিয়েছি।

তিস্তা ব্যারেজে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা রকিবুল হাসান বলেন, জলঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে তিস্তা ব্যারেজে ঘুরতে এসেছি। এখানে প্রকাশ্যেই প্রশাসনের সামনেই চলছে জুয়া। এভাবে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় জুয়া চলতে থাকলে পর্যটকরা আসার আগ্রহ হারাবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানা অন্তর্গত দোয়ানী ক্যাম্প ইনচার্জ মুক্তা সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাইফুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, জুয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

;

১৫ লাখ টাকার ছাগল বিতর্ক

ইফাতের দাবি সাদিক এগ্রোর অনুরোধে ছবি তুলেছেন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
১৫ লাখ টাকার ছাগল বিতর্ক: ইফাতের দাবি সাদিক এগ্রোর অনুরোধে ছবি তুলেছেন

১৫ লাখ টাকার ছাগল বিতর্ক: ইফাতের দাবি সাদিক এগ্রোর অনুরোধে ছবি তুলেছেন

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদিক এগ্রো। কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সাদিক এগ্রোর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অন্যতম আলোচিত ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল বিক্রি।

ছাগলটির ক্রেতা হিসেবে রাজস্ব কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান ছেলে ইফাতের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক চলছে। তবে ইফাতের দাবি তিনি ছাগলটি কেনেননি, বরং সাদিক এগ্রোর মালিক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের অনুরোধে ছবি তুলেছেন।

বুধবার বিকেলে বিশ্বস্ত এক সূত্রের মাধ্যমে কথা হয় ইফাতের সঙ্গে। পারিবারিক নিষেধের কারণে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলেননি ইফাত। তবে একটি সূত্রের কাছে ঈদের আগে সাদিক এগ্রোতে যাওয়ার বিষয় মুখ খুলেছেন এই তরুণ।

তার দাবি, পূর্ব পরিচিত ইমরানের সাদিক এগ্রোতে কোরবানির পশু দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। তখন ইমরান তাকে ক্রেতা সাজিয়ে ছবি তুলতে অনুরোধ করেন। সেই সময়ে তিনি একটি ভিডিওতেও কথা বলেন।


এছাড়াও ইফাতের দাবি, ছাগলটি কেনার জন্য বুকিং বাবদ তিনি কোনো টাকা দেননি।

ইফাত বলেন, 'আমি ছোটবেলা থেকে পশুপাখি অনেক বেশি ভালোবাসি। সাদিক এগ্রোতে গরু দেখতে গিয়ে ছিলাম। সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরান ভাইয়ের সঙ্গে আমার আগে থেকে পরিচয় আছে। যেহেতু আমি অনেক দিন ধরে পাখি পালন করি। আমাদের পাখি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অতিথি হিসেবে তিনি আসেন। এইভাবে তার সঙ্গে আগে থেকে পরিচয় হয়। আমাকে ইমরান ভাই খাসিটি (ছাগল) নিয়ে ছবি তুলতে বলে। যেহেতু আমি ছাগলটি কিনছি না। আমার মাধ্যমে যদি তার উপকার হয় তাহলে তো আমার সমস্যা নেই। তার কথামতো ছাগলটির সঙ্গে ছবি তুলি। এবং বলি যে, খাসিটি আমি কিনছি। আসলে ছাগলটি আমার কেনা হয়নি। ছাগলটি বাসায় আনিনি। এখনো কিন্তু সেটি সাদিক এগ্রোতেই আছে।'

তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টা নিয়ে বাসা থেকে আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে, আমার পরিবারকে ছোট হতে হয়েছে। আসলে আমার একটা ভুলের কারণেই এটা হয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পোষা পাখি বাজিগরের জাত উন্নয়নে কাজ করছেন এই তরুণ। পাখিপ্রেমের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি দীর্ঘদিন ধরে খাঁচায় পোষা পাখি বাজিগরের জাত উন্নয়ন, মিউটেশন উন্নয়ন নিয়ে কাজ করি। এই কাজ করে আমি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। সাতবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন থেকেও নানা পুরস্কার ও সনদ পেয়েছি। ছোটবেলা থেকেই পাখি অনেক ভালোবাসি। কিন্তু ছাগল নিয়ে ছবি তুলতে বলায় আমি বাধ্য হয়ে কাজটি করেছি। কিন্তু তার কারণে আমাকে যে এই দিন দেখতে হবে তা কোনো দিন বুঝিনি।'


এদিকে ইফাতকে ছবি তুলতে অনুরোধের বিষয় জানতে সাদিক এগ্রোর মালিক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এর আগে ছাগল বিক্রির বিষয়ে বুধবার বিকেলে সাদিক এগ্রোর মালিক মো. ইমরান হোসেন বলেন, 'উনি (ক্রেতা) আসলেন, এক লাখ টাকা অ্যাডভান্স করলেন। এক লাখ টাকা একটা হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট। ১২ তারিখ নিয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু তিনি আসেননি।'

সাদিক এগ্রো ওই ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, '১১ তারিখ থেকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাকে ফোনে পাইনি।'

এ দিকে ইফাতের বাবা মতিউর রহমান গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইফাত নামের আমার কোনো ছেলে নেই। ছাগলের সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ছেলেটির সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় নেই। যারা আমার নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

;

বাঁশখালীতে বজ্রপাতে কলেজছাত্রের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বজ্রপাতে সজীব উদ্দিন (২১) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে৷

মঙ্গলবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার সময় উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মাইজপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম মো. সজীব উদ্দিন ওই এলাকার মো.ফজল কাদেরের ছেলে। তিনি নগরীর আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসির শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহরের কলেজে পড়ালেখা করার সুবাদে সেখানেই থাকতেন সজীব। ঈদের ছুটির লম্বা বন্ধে বাড়িতে আসেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভারি বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে স্থানীয় মাইজপাড়াস্থ দোকানে আটকা পড়েন। বৃষ্টি থামলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। কিন্তু বাড়িতে প্রবেশের একটু আগেই বিকট শব্দে বজ্রপাতের শিকার হয়ে রাস্তায় পড়ে যান তিনি।

এসময় তার পরনের পোশাক পুড়ে যায়। পরে তাকে পরিবারের লোকজন ও অন্যরা উদ্ধার করে গুনাগরি মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে নামাজে জানাজা শেষে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

;