Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

বেকিং সোডার চমৎকার ছয় ব্যবহার

বেকিং সোডার চমৎকার ছয় ব্যবহার
বেকিং সোডা, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

রান্না ও বেকিং এর অন্যান্য কমন উপাদানের মতো বেকিং সোডাও কমন একটি উপাদান।

পরিচিত এই উপাদানটি শুধু খাবার তৈরিতে নয়, ব্যবহার করা যাবে নিত্যদিনের গৃহস্থালি কাজে, শারীরিক সুস্থতা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায়ও। আজকের ফিচারে দেখে নিন সহজলভ্য ও পরিচিত এই উপাদানটির ছয়টি ভিন্ন ও উপকারী ব্যবহারের ধরন।

ডিমভাজি হবে আরও নরম

বেকিং এর ক্ষেত্রে বেকিং পাউডার থাকা আবশ্যক। কারণ বেকিং পাউডার খাবারকে নরম করতে ও খাবারে ফোলাভাব আনতে সাহায্য করে। তাই প্রিয় ডিমভাজিকে আরও একটি নরম করে তৈরি করতে চাইলে ব্যবহার করতে পারেন বেকিং সোডা। ডিম ফেটানোর সময় ১/৪ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিতে হবে। সাথে মনে রাখতে হবে বেকিং সোডা হালকা লবণের স্বাদ যোগ করে। তাই প্রয়োজনের চাইতে কম লবণ দিতে হবে ডিমে।

হাত থেকে দূর হবে মাছের গন্ধ

মাছ কাটাবাছার পর যতই সাবান দিয়ে হাত ধোয়া হোক না কেন, হাত থেকে মাছের আঁশটে গন্ধ কোনভাবেই দূর হতে চায় না। সেক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে বেকিং সোডা। কুসুম গরম পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে সেই মিশ্রণটি ব্যবহার করতে হবে হাতে। হাতের বাজে গন্ধ দূর হয়ে হালকা মিষ্টি গন্ধ দেখা দিবে এবং হাত তুলনামূলক অনেকখানি নরম বোধ হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/18/1555564935889.jpg
বেকিং সোডা হাত থেকে মাছের গন্ধ দূর করবে। 

 

মশার কামড়ের প্রভাব দূর করবে

শরীরে কোন অংশে মশা কামড়ালে চুলকানি ও জ্বালাপোড়ার সঙ্গে স্থানটি লালচেও হয়ে ওঠে। মশা কামড়ালে হাতের তালুতে এক চা চামচ পরিমাণ বেকিং সোডা নিয়ে কয়েক ফোঁটা পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্টটি আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখতে হবে কিছুক্ষণ। এতে করে ত্বকের সমস্যা ও লালচে ভাব উভয়ই দূর হবে।

পাত্রের পোড়াভাব তুলবে বেকিং সোডা

অসাবধানবশত কোন পাত্রের ভেতরের অংশ পুড়ে গেলে, কালচে পোড়া দাগ ওঠাতে বেগ পেতে হয় অনেক। কিছুক্ষেত্রে দাগ একেবারেই উঠতে চায় না। বেকিং সোডার সঠিক ব্যবহারে এই ঝামেলাটি সহজেই মিটিয়ে ফেলা যাবে। প্রথমেই পাত্রের ভেতর থেকে যতটা সম্ভব পোড়াভাব ও খাদ্যাংশ উঠিয়ে ফেলতে হবে। এবার পাত্রটির অর্ধেক অংশ পানি দিয়ে এতে আধা কাপ পরিমাণ বেকিং পাউডার দিয়ে দিতে হবে। চুলায় উচ্চতাপে পানি ফুটিয়ে জ্বাল বন্ধ করে সারারাতের জন্য রেখে দিতে হবে। পরদিন সকালে দেখা যাবে পানির সাথে কালচে অংশ উঠে এসেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/18/1555564972448.jpg
পেটের সমস্যা কমাতে কার্যকর বেকিং সোডা। 

 

কমাবে পেটের সমস্যা

হুট করেই পেটে গড়মিল দেখা দিচ্ছে? বেকিং সোডা ঘরে থাকতে চিন্তা কিসের! কফি, কমলালেবুর জ্যুস কিংবা টমেটো স্যুপের সঙ্গের এক চিমটি বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। বেকিং সোডা খাবার খাওয়ার পরে অ্যাসিডিক সমস্যা কমাতে কার্যকর। তবে পরিমাণে খুব বেশি মেশানো যাবে না। এতে পানীয় বা খাবারের স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে।

দূর হবে পায়ের বাজে গন্ধ

পায়ের বাজে গন্ধ, পায়ে চুলকানির প্রাদুর্ভাব, পায়ের চামড়া ওঠা, পায়ের আঙুলে ফাংগাল ইনফেকশনজনিত সমস্যাগুলোর সমাধান পাওয়া যাবে বেকিং সোডার কাছেই। ঠাণ্ডা পানিতে আধা কাপ বেকিং সোডা ভালোভাবে মিশিয়ে মিশ্রণে ১৫-২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখতে হবে। প্রতিদিন এক সপ্তাহের জন্য এই নিয়ম মেনে চলতে পারলে সহজেই পরিবর্তন দেখা দিবে।

আরও পড়ুন: ঘর থেকে সহজেই দূর হবে মাছের আঁশটে গন্ধ

আরও পড়ুন: বেক করতে ঘরোয়া তাপমাত্রার ডিম!

আপনার মতামত লিখুন :

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?
ছবি: সংগৃহীত

নিজের আশেপাশের সবকিছু তথা ঘর ও ঘরের জিনিসপত্র যতবেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে, নিজেকে ও পরিবারের সবাইকে ততবেশি সুস্থ রাখা সম্ভব হবে। শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রফুল্লতার সাথে সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সংযোগটা বহু পুরনো। এ কারণে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ছাড় দেওয়ার উপায় নেই।

পরিধেয় পোশাক কিংবা অপরিষ্কার থালাবাসন যে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়, সেটা নতুন করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ঘরে থাকা আয়না কতদিন পর পরিষ্কার করা প্রয়োজন সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না। তবে বাসার অবস্থান ও এলাকাভেদে জিনিসপত্রে ধুলাময়লা জমার ক্ষেত্রে রকমফের দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন আসবাবে ধুলা জমে থাকতে দেখলে দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে কিংবা ৩-৫ মাস অন্তর কোন জিনিসগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা বেশ অনেকটা সহজ হয়। যে কারণে আজকের ফিচারে খুব গুছিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা থেকে জানা যাবে কতদিন পর কোন জিনিসটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

প্রতিদিন যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123957938.jpg

১. বিছানা গুছিয়ে ঝাড়তে হবে।

২. নোংরা ও এঁটো থালাবাসন জমিয়ে রাখা যাবে না। প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩. খাবার টেবিল গুছিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

৪. বাথরুমের মেঝে ঝাঁট দিতে হবে।

৫. রান্নাঘরের থাক ও মেঝে মুছতে হবে।

৬. রান্নাঘরের সিংক পরিষ্কার করতে হবে।

৭ নোংরা পোশাক ধুতে হবে।

৮. ঘর ও বারান্দার মেঝে ঝাড়ু দিতে হবে। মুছতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

প্রতি সপ্তাহে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123762608.jpg

১. বিছানা ও বালিশের কভার বদলাতে হবে।

২. রান্নাঘর ও রেফ্রিজারেটরে থাকা পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফেলে দিতে হবে।

৩. ঘরের সকল আসবাবের আয়না মুছতে হবে।

৪. বুকশেফলে থাকা বইপত্র থেকে ধুলা ঝাড়তে হবে।

৫. শোকেসের জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে হবে।

৬. আসবাবপত্র থেকে ধুলাবালি সরাতে হালকা ভেজা কাপড়ের সাহায্যে মুছতে হবে।

৭. মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভেতরের ও বাইরের অংশ পরিষ্কার করতে হবে।

৮. গোসল করার লোফাহ বা স্পন্স পরিষ্কার করতে হবে।

প্রতি মাসে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123841141.jpg

১. ঘরের কোন ও ছাদের অংশের ধুলাময়লা ঝাড়তে হবে।

২. লাইট ও বাল্বে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।

৩ সোফার কভার ও দরজা, জানালার পর্দা পরিষ্কার করতে হবে।

৪. ডিশওয়াশার ও ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করতে হবে।

৫. ফ্রিজের ভেতর ও বাইরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

৬. টিভি থেকে ধুলাবালি সরাতে পরিষ্কার করতে হবে।

৭. দেয়াল ঘড়ি, ওয়ালম্যাট, বড় ছবির ফ্রেম নামিয়ে মুছে নিতে হবে।

৮. নিত্য ব্যবহারের ব্যাকপ্যাক ধুয়ে নিতে হবে।

৩-৫ মাস পরপর যা পরিষ্কার করতে হবে

১. আসবাবপত্রের নিচের অংশ থেকে ধুলাময়লা বের করতে হবে।

২. কার্পেট পরিষ্কার করতে হবে।

আরও পড়ুন: রোদ কিংবা বৃষ্টি, ছাতা হোক সঙ্গী

আরও পড়ুন: প্রয়োজন কিংবা ফ্যাশনে চাই রোদচশমা!

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক
টি ট্রি অয়েল

বিভিন্ন ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলের মাঝে টি ট্রি অয়েল সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচলিত একটি।

এই এসেনশিয়াল অয়েলের অসংখ্য উপকারিতার মাঝে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও সমানভাবে ব্যবহৃত হয় টি ট্রি অয়েল। এছাড়াও ডিওডরেন্ট, পোকামাকড় দূর করতে ও মাউথওয়াশ হিসেবেও কার্যকর এই এসেনশিয়াল অয়েল।

টি ট্রি অয়েল ব্যবহার বিধি

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কঠিন কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বকে বা চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করা যাবে না। ক্যারিয়ার তেল তথা নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে তবেই ব্যবহার করতে হবে এই এসেনশিয়াল অয়েল।

অনেকেই টি ট্রি অয়েল পরিমাণে অনেক বেশি নিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে ১-৩ ফোঁটা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অল্প পরিমাণ এসেনশিয়াল অয়েল থেকেও সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যাবে।

তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে অবশ্য। এই তেল চোখের আশেপাশের অংশ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এতে চোখের আশেপাশের অংশের ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। কারণ মুখমণ্ডলের এ অংশের ত্বক তুলনামূলক বেশি পাতলা হয়ে থাকে।

এছাড়া টি ট্রি অয়েল ব্যবহার পূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো, এই তেল ব্যবহারে ত্বকে কোন সমস্যা দেখা দেয় কিনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115011865.jpg

টি ট্রি অয়েলের উপকারিতা

এই এসেনশিয়াল অয়েলের বিবিধ উপকারিতার মাঝে মূল ও প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমায়

যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাদের জন্য টি ট্রি অয়েল খুব ভালো কাজ করবে। এই তেলটি শুষ্ক ত্বকের জ্বালাপোড়াভাব ও চুলকানির প্রাদুর্ভাব কমায়। বিশেষত এতে থাকা জিংক অক্সাইড শুষ্ক ত্বক ও একজিমার সমস্যা কমাতে কাজ করে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। একটি গবেষণা জানাচ্ছে,  সানস্ক্রিনের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশ্রিত থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা কমে যায় অনেকখানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115031078.jpg

ত্বকের প্রদাহ

উপকারী এই এসেনশিয়াল অয়েলের অ্যান্ট-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ত্বকের প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যাকে কমিয়ে এনে আরাম প্রদান করে। এমনকি ত্বকের কোন অংশ ফুলে গেলে বা ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিলে সেটা কমাতেও কাজ করে টি ট্রি অয়েল।

ক্ষত সারাতে টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম ত্বকের কাটাছেঁড়া ও ক্ষত সারাতে খুব চমৎকার কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে প্রতি ১০ জনের মাঝে ৯ জনের টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে ক্ষত দ্রুত ও অল্প সময়ের মাঝে ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: ত্বকের ফাটা দাগ কমাতে ক্যাস্টর অয়েল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র