Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কী রাখবেন সেহেরিতে?

কী রাখবেন সেহেরিতে?
সেহেরিতে থাকুক এমন স্বাস্থ্যকর খাবার, ছবি: বার্তা২৪
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

আজ দিবাগত রাতে সেহেরি খাওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাসের যাত্রা।

এবারে প্রায় পনের ঘণ্টার দীর্ঘ রোজা ও গরম আবহাওয়ায় নিজেকে সুস্থ ও কর্মক্ষর রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। তবে সেহেরি ও ইফতারিতে খাবারের মেন্যুর প্রতি যত্নশীল হতে পারলে সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ইফতারি তৈরির জন্য হাতে বেশ অনেকটা সময় পাওয়া গেলেও, সেহেরির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য হাতে থাকে খুবই অল্প সময়। এ সময়ের মাঝে স্বাস্থ্যকর খাবারের আয়োজন করা ঝামেলা ও কষ্টকর হতে পারে। তাই চেষ্টা করতে হবে রাতের খাবারের আয়োজনের সময়েই সেহেরির আয়োজনের বেশিরভাগ অংশ সেরে নিতে।

আমাদের দেশে সেহেরিতে ভাতের চল প্রাধান্য পায় সবচেয়ে বেশি। এরপর রুটি ও ফল খাওয়া হয়। ভাত লম্বা সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করলেও, ভাত ও তরকারি থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি পাওয়া সম্ভব নয়।

তাই সেহেরিতে মনে করে দুইটি বড় খেজুর রাখতে হবে অবশ্যই। এর সাথে ছোট এক গ্লাস দুধ। এছাড়া যাদের ওজনজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো খাবার হবে ওভারনাইট ওটস।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/06/1557154792142.jpg
খেজুর। 

 

দুধে ভিজিয়ে রাখা ওটসের সঙ্গে মধু ও ফলের মিশ্রণ খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনই স্বাস্থ্যকর। প্রতিদিন যদি ওটস খেতে ইচ্ছা না করে তবে রুটি অথবা হোল গ্রেইন পাউরুটির সাথে পিনাট বাটার ও কলা খাওয়া যেতে পারে। এই খাবার থেকে যথেষ্ট পরিমাণ শারীরিক শক্তি পাওয়া যাবে।

এছাড়া ডিমের কথা একেবারেই ভোলা যাবে না। সাধারণত প্রতিদিনের নাশতায় একটি ডিম রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। যেহেতু সকালের নাশতা খাওয়ার প্রশ্নই আসে না, সেহেরিতেই ডিম খাওয়ার পর্বটি সেরে নিতে হবে। সুপার ফুড ডিম থেকেই পাওয়া যাবে পর্যাপ্ত ক্যালোরি ও পুষ্টি।

এছাড়া যদি সম্ভব হয় তবে ফল, দই, দুধ ও ওটসের মিশ্রণে তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে স্মুদি। এই স্মুদি লম্বা সময় পেট ভরা রাখবে, শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করবে এবং শরীর সুস্থ রাখতে কাজ করবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/06/1557154849258.jpg
স্মুদি

 

ইন্সট্যান্ট নুডলস এড়িয়ে যাওয়া হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সহজে তৈরি করা গেলেও এই খাবারে খাদ্যমান, পুষ্টি ও উপকারিতা একেবারে নেই বললেই চলে।

সেহেরিতে পানি পানের প্রতিও সচেষ্ট হতে হবে। অনেকই খাবার খাওয়ার মাঝে পানি পানের বিষয়টি একেবারেই ভুলে যান। এ কাজটি করা যাবে না। খাবার যাই হোক না কেন, পানি পানের জন্য পেট কিছুটা খালি রেখে এরপর ধীরেসুস্থে পানি পান করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে অন্ততপক্ষে দুই গ্লাস পানি পান করার জন্য।

যদি পানি পান করতে অনীহা কাজ করে তবে লেবুর শরবত বা লেবুপানি তৈরি করে পান করতে হবে। সাথে ডাবের পানিও রাখা যেতে পারে।

পুরো রমজান মাস জুড়ে সুস্থভাবে রোজা পালন করাই সবার একমাত্র লক্ষ্য। সেটা তখনই পূরণ করা সম্ভব হবে, যখন নিজের প্রতি ও খাবার খাওয়ার প্রতি যত্নশীল হওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: যেভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে আপনার ক্ষুধা

আরও পড়ুন: ছুটির দিনে অস্বাস্থ্যকর খাবারে বাড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র