Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চিনির বিকল্পে চার উপাদান

চিনির বিকল্পে চার উপাদান
কোকোনাট সুগার ও অন্যান্য, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

আমরা সকলেই জানি চিনিকে বলা হয়ে থাকে ‘সাদা বিষ’।

স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ চিনি গ্রহণে শুধু ওজন বৃদ্ধি নয়, দেখা দেয় হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ), ফ্যাটি লিভার, ডায়বেটিস ও অন্যান্য নানাবিধ শারীরিক সমস্যা। সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হল, চিনি গ্রহণে মেটাবলিজম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, যা পুরো স্বাস্থ্যের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর পরামর্শ অনুযায়ী প্রাপ্ত বয়স্ক থেকে শিশু, সবারই চিনি গ্রহণের মাত্রা একেবারেই কমিয়ে ফেলা উচিৎ। কারণ চিনি খুবই অ্যাডিক্টিভ (নেশাজাত) খাদ্য উপাদান। তবে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস থেকে চিনি সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে দেওয়া এতোটাও সহজ নয়। সরাসরি চিনি গ্রহণ করা না হলেও, মিষ্টিজাত বিভিন্ন খাবারের সাথে প্রতিনিয়তই চিনি গ্রহণ করা হয়।

ঘরে তৈরি কেক, পেস্ট্রি, শরবত, স্মুদি কিংবা অন্যান্য মিষ্টান্নতে ব্যবহার করতে হয় চিনি। তবে চিনির বিকল্প পণ্যের বিষয়ে জানা থাকলে খুব সহজেই কমিয়ে আনা সম্ভব চিনির ব্যবহার। জেনে নিন এমন চারটি উপাদান সম্পর্কে, যা মিষ্টি খাবার তৈরিতে খুব চমৎকার কাজ করবে।

মধু

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557898549845.jpg
মধু

 

চিনির বিকল্পের কথা উঠলে প্রথমে অবশ্যই বলতে হবে মধুর কথা। মধুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি উপাদান, যা শুধু সুস্বাস্থ্যের জন্য নয় ঘরোয়া নানা ধরনের সমাধানেও চমৎকার কাজে আসে। শরবত-স্মুদি তৈরিতে, চা তৈরিতে কিংবা মাফিন, কাপকেক তৈরিতে খুব সহজেই মিষ্টিভাব আনতে মধু ব্যবহার করা যাবে। মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে মধু থেকে পাওয়া যাবে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে ও হৃদরোগের প্রবণতা কমাবে।

কোকোনাট সুগার

এটা কোকোনাট পাম সুগার হিসেবেও পরিচিত। এটা তৈরি করা হয় নারিকেলের পানি থেকে। মিষ্টি এই উপাদানটি থেকে পাওয়া যাবে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, জিংক ও পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্ট-অক্সিডেন্ট। কোকোনাট সুগার ও কোকোনাট নেকটার- এই উভয় উপাদানে রয়েছে আঁশ। যা রক্তে গ্লুকোজ মিশ্রিত হওয়ার পদ্ধতিকে ধীর গতির করে দেয়। যাদের ডায়বেটিসজনিত সমস্যা রয়েছে তারা এই উপাদানটি গ্রহণ করতে পারেন। সাধারণ চিনি থেকে এর গ্লাইসেমিক্স ইনডেক্স অনেক কম।

স্টেভিয়া

বর্তমান সময়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই উপাদানটি ক্রমেই চিনির স্থান দখল করে নিচ্ছে। আমাদের দেশে যা জিরোক্যাল হিসেবে পরিচিত। উচ্চ ক্যালোরিচুক্ত চিনির বিকল্প হিসেবে স্বল্প ক্যালোরিযুক্ত স্টেভিয়া খুব সহজেই ব্যবহার করা যাবে। সবচেয়ে ভালো বিষয় হল, স্টেভিয়া রক্তে চিনির মাত্রায় কোন হেরফের করে না।

ম্যাপল সিরাপ

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557898513930.jpg
ম্যাপল সিরাপ

 

ঘন ও মিষ্টি এই সিরাপটি তৈরি করা হয় ম্যাপল গাছের রস থেকে। এতে থাকা মিনারেল, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম মধুর মতো ম্যাপল সিরাপকেও উপকারী প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। সবচেয়ে দারুণ বিষয় হচ্ছে, ম্যাপল সিরাপ থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ২৪ প্রকারের ভিন্ন ভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ।

আরও পড়ুন: কী রাখবেন সেহেরিতে?

আরও পড়ুন: খাবার খাওয়ার পর গ্রিন টি পানে কী হয়?

আপনার মতামত লিখুন :

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'
দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট ও কয়েকটি মেন্যু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বলা চলে, পুরোটাই অফিস পাড়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা কিংবা রাত- প্রতিনিয়তই চলছে কাজ। কিন্তু এই এলাকায় ছিল না ভালো কোনো খাবারের জায়গা। হাতেগোনা যে কয়টা রেস্টুরেন্ট আছে তার কোনোটাতে হয় দাম বেশি রাখা হয় কিংবা খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে তেজগাঁওয়ে শুরু হয়েছে 'দ্যা গ্যারাজ ফুডকোর্ট'।

তেজগাঁও শান্তা টাওয়ার মোড় বা ব্র্যাক ব্যাংক অনিক টাওয়ারে যেতে গলির মুখেই ২২২ নাম্বার হাউজে এই ফুডকোর্ট অবস্থিত। রয়েছে ২০০টির বেশি আসন। তবে ফুডকোর্টটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত না হলেও বড় বড় ফ্যানের মাধ্যমে ঠাণ্ডা বাষ্প দিয়ে জায়গাটি শীতল করার ব্যবস্থা আছে।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে এই ফুডকোর্টে জুসবারসহ প্রায় ১০টি দোকান আছে। এসব দোকানে নুডলস, বার্গার, দই ফুচকা, দোসা, রাজকচুরি, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন, লাঞ্চ আইটেম, চাপ, পরোটা, এগ রোল এবং চাপরোল পাওয়া যায়। আর বেভারেজ আইটেমের মধ্যে রয়েছে- কোল্ড কফি, হটকফি, এসপ্রেসো কফিসহ আনারস, আম ও সিজনাল নানা ফ্রুট জুস।

এখানে চিকেন ও বিফ চাপ ১৫০ টাকা, চিকেন চাপ প্যাকেজ মিল ১৮০ টাকা, পরোটা ২০ টাকা, চিকেন রোল ১০০ টাকা, বিফ রোল ১২০ টাকা, এগরোল ৪০ টাকা, বিফ তেহারি ১৫০ টাকা, চিকেন খিচুরি ও বেগুন ভাজি ১৮০ টাকায় পাওয়া যায়।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

এছাড়া দোসা এক্সপ্রেসে দোসা পাওয়া যাবে ১৮০–৩৫০ টাকায়।

'হাক্কা ঢাকায়' সেট মেন্যু ৩২৯–৫২৯ টাকা। এপিটাইজার আইটেমের পাওয়া যাচ্ছে ১৯৯-৩০০ টাকায়, যার মধ্যে রয়েছে চিকেন, প্রন ডাম্পলিং, হাক্কা চিকেন উইংস। রাইস এবং নুডুলস আইটেমের মধ্যে আছে চিকেন, প্রন এবং বিফ ফ্রাইড রাইস ও নুডুলস, যার দাম পড়বে ১৯৯-৩০০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে রাইস, চিকেন চিলি ও ফ্রাইড চিকেন এর একটি লাঞ্চ মেন্যু, যার দাম ধরা হয়েছে ১৯৯ টাকা।

তেজগাঁওয়ে 'দ্যা গ্যারেজ ফুডকোর্ট'

চিজ এক্সপ্রেসে স্লাইস পিজ্জার দাম পড়বে ১২৯ টাকা। এছাড়াও সর্বোচ্চ ১৬ ইঞ্চি পিজ্জা পাওয়া যাবে এক হাজার ২৪৯ টাকায়।

দ্যা গ্যারাজ কফিতে এসপ্রেসো কফি পাওয়া যাবে ১০০ টাকায়। এছাড়াও আমরিকানো ১৩০ টাকা, মকা ২২০ টাকা, ডেজার্ট আইটেম ১০০-২৫০ টাকা, হট ড্রিঙ্কস ২০০ টাকা, চা ৩৫ টাকা, আইসড কফি ১৫০-২৫০ টাকা, সিজনাল ফ্রুট জুস ১৩০ টাকা। রয়েছে জনপ্রিয় টেকআউট বার্গারের ফুড স্টলও।

ফুডকোর্টতির ইনচার্জ বদিউজ্জামান জানান, গত মে মাসে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুডকোর্ট খোলা থাকে।

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র